শাহজাদপুরের সেই শিশুকে উদ্ধার করলো পুলিশ

আসমাউল হোসনার বাবার বাড়ী লালমনিরহাটে। পারিবারিকভাবে বিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে।স্বামী শামীম হোসেন গত রোববার ৭ মার্চ আসমাউল হোসনাকে মারপিট করে ১৫ মাসের দুধের শিশু বাচ্চাকে রেখে বাড়ী থেকে বের করে দেন । বুকের ধনকে হারিয়ে চটফট করেছিলেন ঐ মা।নারী দিবসে ঐ সন্তান হারা মায়ের কান্নার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পরে। এমতাবস্থায় আসমাউল হোসনা তার শিশু বাচ্চাকে উদ্ধারের জন্য আদাতের দ্বারস্থ হলে আদালত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চাটিকে উদ্ধারের জন্য শাহজাদপুর থানার ওসিকে আদেশ প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (৯মার্চ) দুপুরে শাহজাদপুর পারিবারিক জজ আদালতের বিচারক কিশোর দত্ত এ আদেশ দেন।
এ্যাডভোকেট মোঃআনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশ মোতাবেক বুধবার(১০মার্চ) বিকেলে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খানের নির্দেশনায় শাহজাদপুর থানার উপ পরিদর্শক এসআই আঃ মান্নান ও এসলাম আলীসহ শাহজাদপুর থানার একটি পুলিশ টিম আসমাউল হোসনাকে নিয়ে শাহজাদপুরের চড়াচিথুলিয়া অভিযুক্ত শামীমের বসতবাড়ী থেকে ঐ শিশু বাচ্চাকে উদ্ধার করে। এসময় আসমাউল হুসনা তার শিশু বাচ্চাকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত ও কান্নায় ভেঙে পরেন।
এসআই আঃ মান্নান জানান ঐ শিশুটি বর্তমান তার মায়ের সাথে থানা হেফাজতে আছে বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর পারিবারিক আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

বিশ্ববাজারে তাঁতবস্ত্রের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি


শাহজাদপুরে নারী উদ্যোক্তাকে ৬ তাঁতী সংগঠনের সংবর্ধনা

ঐহিত্যবাহী তাঁতশিল্পের কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ ও বিন্দু শাহজাদপুরে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় নারী উদ্যোক্তা সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতিসহ ৬ তাঁতী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে লোপাকে এ সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, তাঁতবস্ত্র উৎপাদন ও বিপননকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা তার নিজের ডিজাইন ও প্রস্তুতকৃত গামছা, থ্রি-পিছ, শাড়িসহ সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিতকরণে তাঁতে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার দেশে ও বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে বাজার সৃষ্টিতে দীর্ঘদিন করে কাজ করে যাচ্ছেন । women and e-commerce forum (WE) এর সহযোগীতায় জান্নাত লোপা নিজস্ব ডিজাইনের তাঁতের থ্রি-পিছ, গামছা, শাড়িসহ শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লীতে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র সরবরাহ ও রফতানি করছেন। সেইসাথে তিনি ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নিয়ে কাজ করা নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন এবং করোনাকালীন সময়ে সংকটে পতিত তাঁতশিল্পের প্রসার ও পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতি, উপজেলা তাঁতবস্ত্র ব্যবসায় সমিতি, শাহজাদপুর কাপড় হাট কাপড় ব্যবসায়ী সমিতি, তাঁত শ্রমিক ইউনিয়ন, উপজেলা তাঁতী লীগ ও তাঁত বোর্ডের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড মাধ্যমিক তাঁতী সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

এদিন সকালে শাহজাদপুরে উপজেলা শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস এন্ড পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক কোরবান আলী লাভলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু, প্রেস ক্লাব, শাহজাদপুরের সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকি, তাঁতী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা আল মাহমুদ, আলমাছ আনছারী, টিপু সুলতান, আবু শামীম সূর্য্য, হায়দার আলী, খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘জান্নাত লোপা দেশে বিদেশে তাঁতবস্ত্রের বাজার সৃষ্টিতে যে ভূমিকা পালন করছেন যা ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের চরম সংকটময় মুহুর্তে প্রসংশার দাবী রাখে। তার এ কর্মপ্রচেষ্টা শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে বিশেষ ভুমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে women and e-commerce forum (WE) এর মেম্বার ও সাবসক্রাইবার সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা বলেন,‘ WEএর সহযোগীতা ও তার স্বামী সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোকের অণুপ্রেরণায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্র বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কাজে তিনি সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করেন।’

পরে ৬ তাঁতী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দ স্ব-স্ব সংগঠনের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

শাহজাদপুরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মামুন রানা : শাহজাদপুরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসদরের দ্বারিয়াপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেনের শিশু পুত্র আবীর (২) নীজ বাড়িতে টিউবয়েল পার বালতি ভর্তী পানিতে খেলা করতে গেলে বালতির ভিতরে পরে যায়।পরে মাতা আঞ্জু বেগম (৩০) পানি আনতে টিউবয়েলে গেলে বালতিতে পরা শিশু পুত্রকে দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশু আবীরকে স্থানীয় শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

দুঃস্থ মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে সেলাই মেশিন বিতরণ করলেন মেরিনা জাহান কবিতা

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৪জন নারীর আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করলেন আলয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পৌরসদর শক্তিপুর নুরজাহান মহলে সেলাই মেশিন বিতরনের উদ্ধোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সুমগ্ন করিম।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমাহারের নির্বাহী পরিচালক সালেহা বেগম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাক আহমেদ, নরিনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রী, মনিরুল গনী চৌধুরী শুভ্র, ফারুক হাসান কাহার, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারীর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও কর্মবান্ধন পরিবেশ সৃষ্টি অত্যাবশ্যক। তাই সমাজের মূল শ্রোতধারায় নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শাহজাদপুরের দুস্থ নারীদের মাঝে এইসব সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ


সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলী মল্লিকা গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জে শিশু গৃহকর্মীকে অমনবিক নির্যাতনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের লেকচারার শিউলী মল্লিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরের ফজলখান রোড ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বাহা উদ্দিন ফারুকী জানায় ,গত ৭ জানুয়ারী শিউলি মল্লিকা গৃহকর্মী শিশু মিনতি খাতুন (১০) হারিয়ে গেছে মর্মে সিরাজগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেন।

এরপর ৯ জানুয়ারী সন্ধায় শিশু মিনতিকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাবাদে জানাযায় শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকা অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং মিনতির শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রতিদিন এই শিশুকে নির্যাতন করা হতো বলে মিনতি জানায়। মিনতির বাবা মক্কা ও মা মমতা মারা গেছে মিনতির ৬মাস বয়সে।

সে গৃহকর্মী নানী রহিমা খাতুনের কাছে বড় হয়। নানীর অভাবের সংসারে খাবার না পেয়ে ৯ বছর বয়সে গৃহকর্মীর কাজে আসে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ২৫০ শয্যাহাসপাতালের ডাক্তার নুরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকার শহরের ফজল খান বোডের বাসায়। গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগদানের মাস খানেক পর থেকেই শিউলি মল্লিকা শিশু মিনতির উপর অমানবিক নির্যাতন করতো।

এক পর্যায়ে গত ৭ জানুয়ারী শিউলির নির্যাতন সইতে না পেরে এতিম মিনতি বাসা থেকে বের হয়ে যায়। অসুস্থ্য শরীর আর চোখের পানি দেখে সন্ধায় কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামের জাহানারা নামে এক মহিলা মিনতিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও খাবার দেয়।

পরে পুলিশকে খবর দিয়ে মিনতিকে পুলিশের কাছে বুঝে দেয়। খবর পেয়ে মিনতির অভিভাবক খালু আবুল কাশেম বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষনিক শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকাকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরো জানান, শিউলির স্বামী ডাঃ নুরুল ইসলাম পুলিশকে তার স্ত্রী শিশু মিনতিকে প্রতিনিয়তই নির্যাতন করতো বলে স্বীকার করলেও স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়াতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

অপরদিকে নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মি মিনতিকে উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম তাকে চিকিৎসা সেবা,শীতের পোষাকসহ ধরনের সহযোগিতা দিয়ে পুলিশি নিরাপত্তায় রাখার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রেফতার ১


শাহজাদপুরে ৪র্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৪র্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ১ ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের কালামের ৪র্থ শ্রেণি পড়ুয়া শিশুকন্যাকে একই মহল্লার আলহাজের ছেলে ইউসুফ (১৬), মিন্টু প্রামাণিকের ছেলে জীবন (১৩) ও মানিকের ছেলে ফয়সাল (১৪) এ ৩ জন মিলে ফয়সালের বাড়িতে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার সকালে ধর্ষিতার পিতা কালাম বাদী হয়ে ৩ ধর্ষককের বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক ইউসুফকে গ্রেফতার করে। বাকী ২ ধর্ষক পলাতক রয়েছে। শাহজাদপুর থানার এসআই আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বগুড়ায় সিআইডির হাতে দুলালী হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

সিআইডি বগুড়া জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের দিক নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হাসান শামীম ইকবালের তত্বাবধানে সিআইডি’র একটি বিশেষ টিম দির্ঘদিন পলাতক থাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এজাহারনামীয় আসামীকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে শিবগঞ্জ থানা এলাকার তার নিজ বসত বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাইদুল আলম সিআডি’র একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে শিবগঞ্জ থানার মামলা নং ৫২ তারিখ ২৪/১০/২০১৯ খ্রিঃ ধারা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ক/৩০ এর প্রধান আসামী মোঃ আইয়ুব আলী ফকির (৩৪) পিতা মৃত জোব্বার ফকির গ্রাম রায়নগর থানা শিবগঞ্জ জেলা বগুড়া-কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী তার স্ত্রী দুলালী বেগম (২৪)-কে কৌশলে হত্যা করে দির্ঘদিন পলাতক ছিল।
এদিকে, দীর্ঘদিন পরে হলেও দুলালী হ্ত্যা মামলার প্রধান আসামী সিআইডির হাতে ধরা পড়ায় বাদীপক্ষ ও এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ধর্ষণ মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে ইতিহাসে টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে আট বছর আগে এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৫) গণধর্ষণের দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণাকালে দুইজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রি দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল (৩০)। পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)। রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার। আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিকটিমকে আইনি সহায়তা দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার জানান, ২০১২ সালে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসাছাত্রীর। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে এলেঙ্গা নিয়ে যায়।

সেখান থেকে মধুপুরে চারাল জানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে উঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়। পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে স্বজনরা এসে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

১৯ জানুয়ারি আসামি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গবি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ মামলার রায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিলো আদালত।

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী


শাহজাদপুরে ২ নারীর শ্লীলতাহানীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত

শামছুর রহমান শিশির ও মামুন রানা : পূর্র বিরোধের জেরে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চরবেলতৈল গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী হামলা, মারপিট, ছিনতাইসহ ২ নারীর শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় ৩ নারীসহ একই পরিবারের ৬ জন আহত হয়েছে। তন্মদ্ধে গুরুতর অাহত শাহিদা খাতুন (২৫) কে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পোতাজিয়াস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করলে তার শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহতরা হলেন, শফিউদ্দিন মোল্লা (৬০), তার মেয়ে বিলাসী খাতুন (৩৫), তাসলিমা (১৬), ছেলে জাকের ও মেহের। অাহতদের মধ্যে শফিউদ্দিন, বিলাসী, জাকের মেহেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকালে সন্ত্রাসীরা শাহিদা ও বিলাসীর শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে তাদের গলা থেকে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি গত রোববার বেলা ৪ টার দিকে ঘটেছে। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় শফিউদ্দিন মোলা বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেশ করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর বেলতৈল গ্রামের আনার (৫০), আফসার (৫২), হেলালের নেতৃত্বে কামরুল, হাচেন, সোহেল, শরিফ, সিরাজুলসহ ১৩/১৪ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শফিউদ্দিন মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৩ নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত করে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিল জানাস, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।’
এদিকে, ধর্ষণ ও নারীর শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদে সারাদেশ যেখানে প্রতিবাদ নিন্দার ঝর বইছে, ঠিক সেই মুহুর্তে শাহজাদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩ নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানীর ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝর বইছে। অবিলম্বে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্ত শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

‘এরপর কি? আমি?’

শাহজাদপুুরে ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড এবং চোখে কালো কাপড় বেধে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধন ও “ধর্ষকের ফাসি চাই” এই স্লোগান সামনে রেখে র‌্যালি করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) শাহজাদপুর সরকারি কলেজ থেকে র‌্যালী বের করে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে র‌্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহজাদপুর সরকারি কলেজে শেষ হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছাত্রীদের হাতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘এরপর কি? আমি?’

মানববন্ধন ও র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষনের মত জঘন্যতম আর ন্যক্কারজনক একটা অপরাধের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালী করতে হবে এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয়। দেশব্যাপী যেন ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটাই খবর ধর্ষণ আর ধর্ষণ। মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া বিষয় গুলো নিয়েই আমরা যত তোলপাড় করি কিন্তু অগোচরে রয়ে যায় আরো বহু ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের শাস্তি যেন মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তস্বরূপ তা কার্যকর করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এমন জঘন্যতম অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়।