ধর্ষণ মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে ইতিহাসে টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে আট বছর আগে এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৫) গণধর্ষণের দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণাকালে দুইজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রি দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল (৩০)। পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)। রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার। আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিকটিমকে আইনি সহায়তা দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার জানান, ২০১২ সালে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসাছাত্রীর। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে এলেঙ্গা নিয়ে যায়।

সেখান থেকে মধুপুরে চারাল জানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে উঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়। পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে স্বজনরা এসে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

১৯ জানুয়ারি আসামি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গবি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ মামলার রায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিলো আদালত।

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী


শাহজাদপুরে ২ নারীর শ্লীলতাহানীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত

শামছুর রহমান শিশির ও মামুন রানা : পূর্র বিরোধের জেরে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চরবেলতৈল গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী হামলা, মারপিট, ছিনতাইসহ ২ নারীর শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় ৩ নারীসহ একই পরিবারের ৬ জন আহত হয়েছে। তন্মদ্ধে গুরুতর অাহত শাহিদা খাতুন (২৫) কে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পোতাজিয়াস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করলে তার শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহতরা হলেন, শফিউদ্দিন মোল্লা (৬০), তার মেয়ে বিলাসী খাতুন (৩৫), তাসলিমা (১৬), ছেলে জাকের ও মেহের। অাহতদের মধ্যে শফিউদ্দিন, বিলাসী, জাকের মেহেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকালে সন্ত্রাসীরা শাহিদা ও বিলাসীর শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে তাদের গলা থেকে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি গত রোববার বেলা ৪ টার দিকে ঘটেছে। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় শফিউদ্দিন মোলা বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেশ করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর বেলতৈল গ্রামের আনার (৫০), আফসার (৫২), হেলালের নেতৃত্বে কামরুল, হাচেন, সোহেল, শরিফ, সিরাজুলসহ ১৩/১৪ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শফিউদ্দিন মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৩ নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত করে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিল জানাস, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।’
এদিকে, ধর্ষণ ও নারীর শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদে সারাদেশ যেখানে প্রতিবাদ নিন্দার ঝর বইছে, ঠিক সেই মুহুর্তে শাহজাদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩ নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানীর ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝর বইছে। অবিলম্বে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্ত শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

‘এরপর কি? আমি?’

শাহজাদপুুরে ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড এবং চোখে কালো কাপড় বেধে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধন ও “ধর্ষকের ফাসি চাই” এই স্লোগান সামনে রেখে র‌্যালি করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) শাহজাদপুর সরকারি কলেজ থেকে র‌্যালী বের করে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে র‌্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহজাদপুর সরকারি কলেজে শেষ হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছাত্রীদের হাতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘এরপর কি? আমি?’

মানববন্ধন ও র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষনের মত জঘন্যতম আর ন্যক্কারজনক একটা অপরাধের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালী করতে হবে এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয়। দেশব্যাপী যেন ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটাই খবর ধর্ষণ আর ধর্ষণ। মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া বিষয় গুলো নিয়েই আমরা যত তোলপাড় করি কিন্তু অগোচরে রয়ে যায় আরো বহু ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের শাস্তি যেন মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তস্বরূপ তা কার্যকর করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এমন জঘন্যতম অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়।

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ভিডিও ফেসবুকে ; আটক ১

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে এক নারীকে (৩৬) সমস্ত শরীর বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে একদল যুবক। নির্যাতনকারীদের বারবার বাবা ডেকেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই নারীর।

আজ রোববার দুপুর থেকে নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হলে জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। টনক নড়ে প্রশাসনের। ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবদুর রহিম (২৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একলাশপুর থেকে আবদুর রহিমকে আটক করা হয়। তিনি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে। তিনি স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নির্যাতনকারী সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন নির্যাতিত নারী ও তার পরিবারের লোকজন। তার স্বজনদের কাছ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, গত তিন বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে আগের স্বামী ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে তার ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি দেখতে পায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং পর পুরুষের সাথে অনৈতিক কাজ করেছে বলে অভিযোগ এনে তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করা হয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, নির্যাতনকারীদের মধ্যে এক যুবক নারীর পরনে থাকা জামা কাপড় টেনে-হিঁচড়ে সম্পূর্ণ খুলে ফেলে। এ সময় ওই নারী বিছানার ছাদর, তোষক, খাটের ওপর থাকা বিভিন্ন কাপড় দিয়ে নিজের দেহ ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্যাতনকারীদের মধ্যে কয়েকজন চারদিক থেকে কাপড়গুলো টেনে সরিয়ে দেয়। এক যুবক নারীর মুখে বারবার লাথি মারে। একজন তার মুখ ও বুকের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। এক যুবক নারীর গোপনাঙ্গে বারবার হাত দেয় ও আঘাত করে। আরেক যুবক তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। নির্যাতনকারীদের বারবার বাবা ডেকেও রক্ষা পাননি ওই নারী।

ভিডিওটি দেখে একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বাদল, কালাম, সাইফুদ্দিন, রহিম ও সুমনসহ ৬-৭ ওই নারীর ওপর এ নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতনকারী দেলোয়ার ও তার বাহিনীর লোকজনের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিম নামের নির্যাতনকারী দলের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।’

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ নেক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।

মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। তিনি দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেন।

রবিবার রাতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে কনের বাড়ীতে সংগীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হন। তখন কনের বাড়ীতে কল্যাণপুর মধ্যপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী (১৫) এর সাথে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার রুপনাই গ্রামের তাত শ্রমিক (২৪) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বর ও কনের মামা প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন এবং কনের পিতাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বুঝালে তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং তার মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি থানার এএসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

বেলকুচিতে ৮ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় এক দিনে ৮জন স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান।

শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে বেলকুচি পৌরসভার চরচালা এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪), বিকাল ৫ টায় উপজেলার গাড়ামাসী এলাকার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১২), সন্ধ্যা ৬ টায় সূবর্ণসাড়া এলাকায় দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৫), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পেস্তকপাড়া গ্রামের সালাম মার্কেট এলাকায় দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪), রাত ৯ টায় চন্দনগাতী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী (১৩), রাত ৯ টায় চন্দনগাতী দক্ষিণপাড়া এলাকায় একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭), রাত ১০ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী (১২) এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পেস্তকপাড়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়। আটটি বাল্যবিবাহের ছয়টিতে কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও দুইটিতে বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর ও কনের বাবার কাছ থেকে বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

এসময় বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক রবিউল, সহকারী উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম, এ এসআই মোস্তাফিজ, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, বেলকুচি উপজেলার বর্তমান ইউএনও মোঃ আনিসুর রহমান সিরাজগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ও ইউএনও বেলকুচি হিসেবে কর্মকালীন সময়ে ইতোপূর্বে আরও তিনবার একদিনে ৭ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

একদিনে ৫স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন বেলকুচির ইউএনও

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় একই দিনে পাচ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়।

প্রথমে বিকাল ৪ টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩), বিকাল ৫ টায় পৌরসভার সোহাগপুর গোহাটা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী(১৩), সন্ধ্যা ৬ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে নবম শ্রেনীর ছাত্রী (১৪), রাত ৮ টায় দৌলতপুর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রগোপরেখী গ্রামে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৭) এবং রাত ৯ টায় ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে দশম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হতে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ গুলো বন্ধ করা হয়। পাচটি বাল্যবিবাহেই কনের অপ্রাপ্তবয়স্ক।বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রত্যেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ কাশ্মীর সুলতানা, পেশকার মোঃ হাফিজ উদ্দিন, বেলকুচি থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

মায়ের ওপর অভিমানের জের


শাহজাদপুরে ৪র্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আল আমিন হোসেন, শাহজাদপুর :  সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাথালিয়া পাড়া গ্রামে মায়ের ওপর অভিমান করে অন্তরা খাতুন (১১) নামের এক স্কুলছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিহত অন্তরা খাতুন পাথালিয়া পাড়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যাবসায়ী মোঃ আমিরুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় মাকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাথালিয়া পাড়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যাবসায়ী মোঃ আমিরুল ইসলামের মেয়ে অন্তরা খাতুন কে বাবার ভাত নিয়ে দোকানে  যেতে বলে তার মা। অন্তরা খাতুন ভাত নিয়ে যেতে গরিমসি করে, এতে অন্তরার মা তাকে গালাগালি করে। অন্তরা অভিমান করে তার চাচার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে বিকাল পর্যন্ত অন্তরার কোন সারাশব্দ না পেয়ে তার মা জানালা দিয়ে অন্তরার দেহ ঘরের ডাফের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে অন্তরার ঝুলন্ত দেহ নামায়। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পরে খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১১টায় শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলে আশিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজ বুধবার বাদ ফজর অন্তরার লাশ জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ফজলে আশিক জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হ‌ই। আমরা আরোও জানতে পারি মৃত অন্তরা খাতুন মানসিক অসুস্থ ছিল।

জনমনে প্রশ্ন, লম্পট নাজমুলের খুঁটির জোর কোথায় ?


শাহজাদপুরে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টাসহ নারীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী মন্ডলপাড়ার জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এর মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট লম্পট নাজমুলের একের পর ধর্ষন চেষ্টাসহ নারীদের শ্লীলতাহানীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে। সবশেষ ওই ক্লিনিকের যুবতী এক আয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এ ঘটনাও ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এ গত ২০১৮ তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলামকে মেডিকেল এ্যাসিষ্টেন্ট পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকেই নাজমুল নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে চিকিৎসাসেবা প্রদানের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছে ও বিভিন্ন সময়ে নারীদের নানাভাবে যৌন হয়রানী করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে জনতা ক্লিনিকে কর্মরত বাক্ষ্মণগ্রামের এক আয়াকে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ধর্ষনের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী আয়া এ ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানালে সালিসী বৈঠকে হাত-পা ধরে সেবারের মতো পার পান লম্পট নাজমুল। একই ভাবে বছর খানেক আগে খোকশাবাড়ি গ্রামের জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় লম্পট নাজমুল। বিষয়টি ভুক্তভোগীর অভিভাবকেরা জানতে পেরে বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিশে মোটা অর্থের বিনিময়ে আবারও ধামাচাপা পড়ে যায় নাজমুলের এ কুকর্ম। সর্বশেষ গত ১৮ আগষ্ট রাতে জনতা ক্লিনিক-২ এর এক আয়াকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে নাজমুল। নির্যাতনের শিকার ওই আয়া এর বিচার চাইলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মোটা টাকার বিনিময়ে এবারও ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রক্ষা পায় নাজমুল।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী আয়া আমার কাছে অভিযোগ করে প্রায়শই নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেয়ায় নাজমুল তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। নাজমুলের নানা কু-কর্ম বরাবরই অজ্ঞাত খুঁটির জোরে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে । তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল কর্তৃক হাসপাতালে কর্মরত ও চিকিৎসাসেবা নিতে নারীদের ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতহানীর অসংখ্য ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। লম্পট নাজমুলের নানা অপকর্মের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছেন সিভিল সার্জন।’

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘অভিযোগ পেলে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে এসব বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারন ঘটনা নিয়ে আয়ার সাথে সৃষ্ট মনমালিন্য মিমাংসা করে নেয়া হয়েছে।’

এদিকে, বহু নারী কেলেংকারির হোতা লম্পট নাজমুল একের পর এক নানা অপকর্ম ঘটিয়ে প্রতিবারই বেচে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে তার খুঁটির জোর কোথায় ? সেইসাথে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন এলাকাবাসী।

বিচার দাবী


যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের রুপনাই গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে দোলেনা খাতুন (৩৩) নামের এক গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত দোলেনা রুপনাই গ্রামের মামুন খানের স্ত্রী এবং খুকনী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী সুলতান হোসেনের মেয়ে। এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ১৩ বছর আগে উপজেলার রুপনাই গ্রামের কাদের খানের ছেলে যৌতুক লোভী মামুন খানের সাথে খুকনী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী সুলতান হোসেনের মেয়ে দোলেনার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ঘরে ৩ সন্তান রয়েছে। মামুন কাপড়ের ব্যবসা করতো। পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে জোর করে টাকা নিয়ে বিদেশে কাজের জন্য গিয়ে মাস খানেক থাকার পর দেশে ফিরে আসে। এরপর মামুন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা ব্যবসা করে ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ে । এজন্য মামুন টাকা ও গহনার জন্য স্ত্রী দোলেনা খাতুনকে মাঝে-মধ্যেই নির্যাতন করতো ও টাকার জন্য দোলেনার স্বজনদের ওপর চাপসৃষ্টি করতো। গত কোরবানীর ঈদের সময় মামুন ঢাকা থেকে বাড়ি এসে দাবীকৃত টাকা গহনা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর গৃহবধুর বাড়ির লোকজনে চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। এতেও গয়না টাকা না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে দোলেনা খাতুনকে শ^শুরবাড়িতেই পরিকল্পিতভাবে শ^াসরোধে হত্যা করা হয় বলে নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে নিহত দোলেনা খাতুনের বড়ভাই ইব্রাহীম হোসেন জানান, ‘বিয়ের পর থেকে দোলেনার স্বামী মামুনসহ শ^শুরবাড়ির লোকজন টাকা ও গহনার জন্য অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। টাকা গহনার জন্যই তাকে শ্বাসরোধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

অপরদিকে, এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’