দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম


যাকাতুল ফিৎরের পরিমাণ

যাকাতুল ফিৎর হিসাবে কি পরিমাণ খাদ্যশস্য দিতে হবে তার স্পষ্ট বর্ণনা হাদীছে এসেছে,

فَرَضَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيْرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ، وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى، وَالصَّغِيْرِ وَالْكَبِيْرِ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ-

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাকাতুল ফিৎর হিসাবে মুসলমানদের ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং স্বাধীন-দাস প্রত্যেকের উপর এক ছা‘ খেজুর অথবা এক ছা‘ যব ফরয করেছেন।[1]

অতএব প্রত্যেক মুসলিমকে যাকাতুল ফিৎর হিসাবে এক ছা‘ খাদ্যশস্য প্রদান করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে অর্ধ ছা‘ ফিৎরা প্রদানের যে প্রচলন রয়েছে তা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। সর্বপ্রথম মু‘আবিয়া (রাঃ) কোন এক প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র গমের ক্ষেত্রে অর্ধ ছা‘ ফিৎরা আদায়ের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। আর এটা ছিল মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর ইজতিহাদ যা আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) সহ অন্যান্য ছাহাবায়ে কেরাম প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। হাদীছটি নিম্নরূপ-

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ إِذْ كَانَ فِيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيْرٍ وَكَبِيْرٍ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوْكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيْبٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِيْ سُفْيَانَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكَلَّمَ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ فِيْمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ أَنْ قَالَ إِنِّيْ أُرَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ. قَالَ أَبُوْ سَعِيْدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَمَا كُنْتُ أُخْرِجُهُ أَبَدًا مَا عِشْتُ-

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় প্রত্যেক ছোট-বড়, স্বাধীন-দাস এক ছা‘ করে খাদ্যবস্ত্ত অথবা এক ছা‘ পনির অথবা এক ছা‘ যব অথবা এক ছা‘ খেজুর অথবা এক ছা‘ কিশমিশ ‘যাকাতুল ফিৎর’ হিসাবে আদায় করতাম। আমরা এরূপভাবেই (যাকাতুল ফিৎর) বের করতাম। এমন সময় মু‘আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হজ্জ বা ওমরাহ উপলক্ষে মদ্বীনায় এলেন। (তাঁর সঙ্গে সিরিয়ার গমও এল)। তিনি মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে জনগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আমি মনে করি সিরিয়ার দুই মুদ (অর্ধ ছা‘) গম (মূল্যের দিক দিয়ে) মদ্বীনার এক ছা‘ খেজুরের সমতুল্য। অতঃপর লোকজন তা গ্রহণ করল। তখন আবুসাঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, ‘আমি যতদিন দুনিয়ায় বেঁচে থাকব ততদিন তা (অর্ধ ছা‘ গমের ফিৎরা) কখনোই আদায় করব না। বরং (রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায়) আমি যা দিতাম তাই-ই দিয়ে যাব’।[2]

একদা আবুসাঈদ খুদরী (রাঃ) যাকাতুল ফিৎর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,

لاَ أُخْرِجُ إِلاَّ مَا كُنْتُ أُخْرِجُ فِيْ عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه و سلم صَاعَ تَمْرٍ أَوْ صَاعَ شَعِيْرٍ أَوْ صَاعَ أَقِطٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنَ القَوْمِ : لَوْ مُدَّيْنِ مِنْ قَمْحٍ؟ فَقَالَ : لاَ تِلْكَ قِيْمَةُ مُعَاوِيَةَ لاَ أَقْبَلُهَا وَلاَ أَعْمَلُ بِهَا-

অর্থাৎ আমি রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় যেমন এক ছা‘ খেজুর অথবা এক ছা‘ যব অথবা এক ছা‘ পনির হতে যাকাতুল ফিৎর বের করতাম, কখনোই এর ব্যতিক্রম বের করব না। তখন গোত্রের কোন এক ব্যক্তি বললেন, যদি অর্ধ ছা‘ গম দ্বারা হয়? তিনি বললেন, না; এটা মু‘আবিয়া (রাঃ) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য। আমি তা মানব না এবং তার উপর আমলও করব না।[3]

বুখারীর ভাষ্যকার হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,

فِيْ حَدِيْثِ أَبِيْ سَعِيْدٍ مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنْ شِدَّةِ الِاتِّبَاعِ وَالتَّمَسُّكِ بِالْآثَارِ وَتَرْكِ الْعُدُوْلِ إِلَى الِاجْتِهَادِ مَعَ وُجُوْدِ النَّصِّ وَفِيْ صَنِيْعِ مُعَاوِيَةَ وَمُوَافَقَةِ النَّاسِ لَهُ دَلَالَةٌ عَلَى جَوَازِ الِاجْتِهَادِ وَهُوَ مَحْمُوْدٌ لَكِنَّهُ مَعَ وُجُوْدِ النَّصِّ فَاسد الإِعْتِبَارِ-

অর্থাৎ উল্লিখিত হাদীছে নাছ বা দলীলের উপস্থিতিতে ইজতিহাদ বর্জন করার মাধ্যমে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর হাদীছ ধারণের দৃঢ়তা ও পূর্ণ ইত্তিবা প্রমাণিত হয়। আর মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর ইজতিহাদ এবং মানুষের তা গ্রহণ করার মাধ্যমে ইজতিহাদ জায়েয হওয়া প্রমাণ করে যা প্রশংসনীয়। কিন্তু যেখানে দলীল উপস্থিত সেখানে ইজতিহাদ অগ্রহণীয়।[4]

মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম মুহিউদ্দ্বীন নববী (৬৩১-৬৭৬ হিঃ) বলেন,

وَلَيْسَ لِلْقَائِلَيْنِ بِنِصْفِ صَاع حُجَّة إِلَّا حَدِيْثَ مُعَاوِيَةَ-

‘যারা অর্ধ ছা‘ গমের কথা বলেন, তাদের মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর এই হাদীছ ব্যতীত কোন দলীল নেই।[5]

অতএব স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, অর্ধ ছা‘ গম দ্বারা ফিৎরা আদায় করা মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর নিজস্ব রায় মাত্র, রাসূল (ছাঃ)-এর উক্তি নয়। যাকে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) সহ অন্যান্য ছাহাবায়ে কেরাম প্রত্যাখ্যান করে রাসূল (ছাঃ)-এর উক্তি ও আমল এক ছা‘ খাদ্যবস্ত্ত দ্বারা ফিৎরা আদায়ের উপর অটল ছিলেন। কেননা দলীল মওজূদ থাকতে ‘ইজতিহাদ’ বাতিল বলে গণ্য হয়। তাছাড়া হাদীছে যেসব খাদ্যদ্রব্যের নাম এসেছে তার সবগুলির মূল্য এক ছিল না। বরং মূল্যে পার্থক্য ছিল। তা সত্ত্বেও সকল খাদ্যদ্রব্য থেকে এক ছা‘ করে যাকাতুল ফিৎর আদায় করতে বলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের প্রতি দৃকপাত না করে তার পরিমাণ বা ওযনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিপরীতে স্বয়ং রাষ্ট্রীয় আমীরের হুকুমকে ছাহাবায়ে কেরাম অগ্রাহ্য করেছেন শুধুমাত্র হাদীছের সার্বভৌম অধিকারকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। অনুরূপভাবে আমাদেরও উচিৎ হবে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের সার্বভৌম অধিকারকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাথা পিছু এক ছা‘ ফিৎরা আদায় করা।

[1]. বুখারী হা/১৫০৩, ‘যাকাত’ অধ্যায়, ‘ছাদাকাতুল ফিৎর’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/৩৮৪; মিশকাত হা/১৮১৫।

[2]. বুখারী হা/১৫০৮; মুসলিম হা/৯৮৫।

[3]. ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/২৪১৯; মুস্তাদরাক হাকেম হা/১৪৯৫; আল-আ‘যামী, সনদ হাসান।

[4]. ফাতহুল বারী ৩/৩৭৪ পৃঃ, ১৫০৮ নং হাদীছের ব্যাখ্যা।

[5]. শারহু মুসলিম, ইমাম নববী (রহঃ) ৩/৪৪৭ পৃঃ, ৩৮৪ নং হাদীছের ব্যাখ্যা।

রমজান ঐতিহাসিক যেসব ঘটনার সাক্ষী

ইসলামে রমজান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। রমজান মাস ইসলাম ও মুসলিম জীবনে ব্যাপক পরিবর্তনের মাস। এই মাসে মুসলিমরা যেমন আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভ করে তেমনি করে বাহ্যিক পরিশুদ্ধিও লাভ করে।

এই মাস যেমন করে মুমিন অন্তরে শান্তি কল্যাণের বার্তা দেয়, তেমন করে এই মাস ইসলাম রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি ও কল্যাণের বার্তা দেয়। এই মাসে মুমিনরা আল্লাহর শক্তি অর্জন করে তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লাফিয়ে পড়ে। এই মাসে মুসলমান অন্য মাসের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কেননা এই মাসে মুসলমানরা আল্লাহর অধিক নিকটে চলে যায়। এই মাসেই সাধিত হয় ইসলাম ও মুসলমানদের বড় বড় বিজয়গুলো। যদিও এই মাস উপবাস করার মাস।

কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে এই মাসে সবচে বেশি যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে এবং বড় বড় বিজয়গুলো এই মাসেই অর্জিত হয়েছে। এই মাসে বড় বড় বিজয় কিভাবে অর্জিত হয়েছে? এর সুন্দর ও সহজ উত্তর হলো এই মাসে মুসলমান আল্লাহর দিকে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি প্রত্যাবর্তন করে, আর বান্দা যখন আল্লাহমুখী হয়ে যায় তখন বিজয় অবধারিত। এই রকম কয়েকটি যুদ্ধ যা রমজান মাসে সংগঠিত হয়েছে তার বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাল্লাহ!

বদর যুদ্ধ
ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ও প্রধানতম যুদ্ধ। যেই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে ইসলাম স্থিরতা পায়। যে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাগুত ও বেঈমান শক্তি চেয়ে ছিল ইসলামের নাম নিশানা দুনিয়া থেকে মুছে দিতে। কিন্তু ঘটনা ঘটলো উল্টো। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে স্থায়ীভাবে স্থাপিত হলো ইসলাম ও মুসলমান। বদর যুদ্ধের বিজয় দিয়েই ইসলামের বিজয় যাত্রা শুরু। আর এ বিজয় যাত্রা শুরু হয়েছিল এই রমজান মাসেই। শুধু বদর নয়, পর্যায়ক্রমে আমরা রমজানে সংঘটিত যুদ্ধগুলো আলোচনা করবো।

বদর যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২য় হিজরির ১৭ই রমজান এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবুয়াতি প্রাপ্তির পর থেকে মক্কার কাফের সম্প্রদায়ের সীমাহীন জুলুম নির্যাতন সহ্য করতে থাকেন রাসূল (সা.) ও তার সাথীবর্গ। কাফেরদের নির্যাতন সইতে না পেরে সাহাবিরা রাসূলের (সা.) আদেশে হিজরতের পথ বেছে নেন। তারপরও রাসূলের (সা.) ওপর মক্কার কাফেরদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছিল না। একদিন রাসূলও (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। কিন্তু মক্কা ছেড়ে মদিনায় রাসূল (সা.) থেতু হবার পরও তাদের সন্ত্রাসমূলক অপতৎপরতা বন্ধ ছিল না। তাই ১ম হিজরিতে আল্লাহ মুসলমানদের অস্ত্রধারণ করা ও হামলা প্রতিরোধ করার অনুমতি দান করেন। এরই প্রেক্ষিতে ১ম হিজরির মাস থেকেই মদিনার বাইরে নিরাপত্তা টহল জোরদার ও বিভিন্ন ফৌজ প্রেরণ করতেন। এভাবে একবছর পর্যন্ত অব্যহত। অতঃপর দ্বিতীয় হিজরিতে বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে জিহাদকে ফরজ করা হয়।

দ্বিতীয় হিজরির ১৩ রমজান রাসূল (সা.) খবর পেলেন আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কোরাশদের একটি ব্যবয়াসী কাফেলা মদিনার নিকটবর্তী হাওরা নামক স্থান দিয়ে অতিক্রম করবে। এই কাফেলার এক হাজার উট বোঝাই পঞ্চাশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা। এই বিশাল সম্পদ যদি মক্কার কাফেরদের হাতে পৌঁছে তাদের তারা আরো সীমালঙ্গন করবে। মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেবে। সেই অত্যাসন্ন বিপদ ও মক্কায় মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধের কথা চিন্তা করে রাসূল সেই কাফেলাকে আটকে দেয়ার সিন্ধান্ত নিলেন। এদিকে ব্যবসায়ী দলপতি আবু সুফিয়ান এই খবর পেয়ে মক্কায় খবর পাঠায়। মক্কার অলিতে গলিতে আবু জাহেল ছড়িয়ে দেয় মুহাম্মাদ আমাদের ব্যবসায়ী কাফেলায় হামলা করেছে এখনই তাকে প্রতিহত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আবু জাহেলের নেতৃত্ব রণসাজে সজ্জিত ১৩শ সৈন্যের বিশাল বাহিনী রওয়ানা হয়ে যায়। তবে মক্কার বাহিনী পৌঁছার পূর্বেই আবু সুফিয়ান সাগর সীমান্ত দিয়ে নিরাপদ এলাকায় প্রবেশ করেন। তাই তিনি আবু জাহেলকে বলেন আমরা নিরাপদ। বাহিনী নিয়ে মক্কার ফিরো!

এই সংবাদে সবাই মক্কায় ফিরতে রাজি হলেও বেঁকে বসেন আবু জাহেল। সে অহংকার আর দম্ভভরে বলে উঠলো আমরা এখানে তিনদিন থাকবো, আমাদের শক্তি শৌর্যবীর্য প্রকাশ করবো। অতঃপর সতেরই রমজান রোজ শুক্রবার উভয় বাহিনী বদর প্রান্তে এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। একপক্ষে অস্ত্রশস্ত্রের অভাব নেই, আরেক পক্ষে অস্ত্রশস্ত্রের নাম গন্ধও নেই। মুসলিম বাহিনীর নিশ্চিত পরাজয় জেনেই মক্কার জাহেলরা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের জয় পরাজয়ের ফয়সালা তো জমিনে হয় না। হয় আসমানে। মুসলিম বাহিনী সেই আসমানের মালিকের ওপর ভরসা করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুসলিম বাহিনীর বিজয় খবর নিয়ে আকাশ থেকে নেমে আসে ফেরেস্তারা। সেই ঘটনার বিবরণ আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন পাক কোরআনে-

وَلَقَدۡ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ بِبَدۡرٖ وَأَنتُمۡ أَذِلَّةٞۖ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ
অর্থ : আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে হীনবল। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায়, তোমরা শোকরগুজার হবে। (সূরাতুল আলে ইমরান, আয়াত নম্বর : ১২৩)।

ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধের তাৎপর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পরাজয় বরণ করলে হয়তো পৃথিবীর ইতিহাস থেকে নামনিশানা মুছে যেতো। এই যুদ্ধে আবু জাহেলসহ ৭০ জন জাদরেল কাফের নিহত হয়।

মক্কাবিজয়
মক্কাবিজয় ইসলামের ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যেই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসলাম চির উন্নতের খেতাব পেয়েছে। সেই মক্কাবিজয়টি হয়েছে এই রমজানুল মোবারকে। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ৬ষ্ঠ হিজরির হুদায়বিয়ার সন্ধিতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তিতে আরবের খুজআ গোত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিত্র গড়লো। ওদিকে কোরেশদের সঙ্গে বনু বকর গোত্র মিত্র গড়লো। বনুখুজয়া আর বনুবকরের মাঝে ছিল পুরানো দ্বন্ধ। সন্ধির ফলে কিছু দিনের জন্য সেই অন্যায় জিগাংসা বন্ধ ছিল। কিন্তু বনু বকর সন্ধির সময়কে মহাসুযোগ মনে করে রাতের আঁধারে বনু খুজয়ার ওপর হামলা করলো। এই হামলার ক্ষেত্রে কোরেশরা পর্যাপ্ত পরিমাণ সাহায্য করলো। ইকরিমা ইবনে আবি জাহাল সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া, সুহাইল ইবনে আমর মুখোশ পড়ে বনু বকরের পক্ষে যুদ্ধ করলো। বনু খুজয়া অনন্যোপায় হয়ে হেরেমে আশ্রয় নিলো কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। হেরেমের ভেতরই বনু খুজয়ার লোকদের হত্যা করলো। এই হামলা ও হত্যাকাণ্ড ছিল সন্ধির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই, খুজআ রাসূলের (সা.) কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।

রাসূল (সা.) তাদেরকে তিনটি শর্ত দিলেন। এই অন্যায় হামলায় মারা গেছে তাদের রক্তপণ দিতে হবে ২. কোরাইশরা বনু বকরের সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে, অথবা ৩. ঘোষণা করে দেয়া হোক যে ‘হুদাইবিয়ার’ সন্ধিচুক্ত ভঙ্গ করা হলো। কোরেশদের পক্ষে কুরতাহ ইবনে ওমর ঘোষণা করলো তৃতীয় শর্তটি মেনে নিলাম। সেই লক্ষ্যে ৮ হিজরির ২০ রমজান হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় দশহাজার সৈন্যসহ মক্কার দিকে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে আরবের অন্যান্য গোত্রও যোগ দিতে থাকে। বিশাল বাহিনী পরিণত হয় রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মক্কাভিযানের কাফেলা। অতঃপর বিনা রক্তপাতে মুসলমানরা মক্কা বিজয় করে। ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল রক্তপাতহীন মহাবিজয়। যদিও কোরআন হুদায়বিয়ার সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলে ঘোষণা দিয়েছে। মূলত হুদায়বিয়ার বিজয়ের পূর্ণতা ছিল মক্কাবিজয়। মক্কাবিজয়ের মধ্য দিয়ে আরবের অন্যান্যগোত্রগুলো ইসলামের সুশীতল ছায়া তলে আসে। বাইতুল্লাহ থেকে চিরতরে সরিয়ে দেয়া হয় দেবদেবির মূর্তি ও প্রতিমাগুলো।

স্পেনে ইসলামী শাসনের শুভসূচনা
৯১ হিজরির ১ম রমজান আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসাইর নির্দেশে একটি ক্ষুদ্রদল তারিফ বিন মালিকে নেতৃত্বে সিউটা দ্বীপ থেকে জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে স্পেন লাগোয়া একটি ছোট্ট দ্বীপে পৌঁছে। আজো সেই দ্বীপের নাম তারিফ উপদ্বীপ। তারিফ বিন মালিক অল্পদিনের মধ্যই স্পেন সম্পর্কে জেনে দ্রুত ফিরে আসে। তাদেরকে পাঠানোই হয়েছিল স্পেনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। এই পর্যবেক্ষণ বাহিনী ফিরে আসার পরই মুসা বিন নুসাইর তারিক বিন যিয়াদের নেতৃত্বের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। অতঃপর ৯২ হিজরির ২৮ রমজান জিব্রাল্টার উপদ্বীপে স্পেনের খৃস্টান সম্রাট রডানিকের ১ লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনীর মোকাবিলায় সিংহের মতো দাঁড়িয়ে যান ২১ বছরের তাগড়া যুবক তারিক বিন যিয়াদ (রহ.)। তিনি মাত্র ১২ হাজার ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে রাজা রডানিকের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। কিন্তু তারেকের ক্ষুদ্রবাহিনী যখন আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে তরবারি উঁচু করলো এমনেই ধরাশয়ী হয়ে গেলো রডানিকের বিশাল বাহিনী। পরাজয়বরণ করলো খৃস্টানবাহিনী। সম্রাট রডানিক পালায়ন করলো। বিজয়ের হাসি হাসলো মুসলিমরা। সময়টা ছিল ৯২ হিজরির ২৮ রমজান। ক্রমান্বয়ে পুরো স্পেনে উড্ডীন হলো কালিমার পতাকা।

তুরের যুদ্ধ
তুরের যুদ্ধ। অনেকের কাছে এই যুদ্ধের কাহিনী অজানা। এই যুদ্ধকে আরবিতে মা’রিকাতি বালাদিশ শুহাদা’ তথা শহিদদের রাজপ্রাসাদ নামে উপস্থাপন করা হয়। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দির প্রথম দিকের কথা। তখন স্পেনে মুসলিম শাসনের যৌবনকাল। ইউরোপের অভ্যন্তরে মুসলমানদের বিজয় অভিযান পুরোধমে এগিয়ে চলছে। কারো সাহস নেই মুসলিম বাহিনীর সামনে বুকটান করে দাঁড়াবে। চতুর্দিকে খৃস্টান বাহিনীর দম্ভচুর্ণ করার শব্দ। এরই এক পর্যায়ে ১১৫ হিজরিতে ফ্রান্সের দক্ষিণে অবস্থিত তুর ও পোয়াতিয়া শহরের কাছে তৎকালীন স্পেনের আমির আবদুর রহমান গাফিকির নেতৃতে মুসলিম বাহিনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তুরযুদ্ধে প্রতিপক্ষ ছিলো ইউরোপের খৃস্টানদের সম্মিলিত বাহিনীপ্রধান চার্স মাল্টিল। তুরে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে প্রথমদিকে মুসলিম বাহিনী অসীম বীরত্বে খৃস্টান বাহিনীকে পরাজয় করেন। কিন্তু পেছন দিক থেকে খৃস্টানদের গোপন একটি বাহিনী হঠাৎ করে আক্রমণ করে বসে। এই অতর্কিত হামলায় মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। দিশেহারা হয়ে পড়ে পুরোবাহিনী। ফলে অগণিত মুসলিমসৈন্য শাহাদতবরণ করেন।

সেনাপতি আমির আবদুর রহমান গাফিকির অবস্থা বেগতিক দেখে শাহাদতের তামান্নায় নিজেই তরবারি নিয়ে ঢুকে পড়েন শত্রুবাহিনীর সেনাশিবিরে। হাজার হাজার খৃস্টানকে যুদ্ধের স্বাদ দিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। তারপর নিজের শরীরের হাজারো তীর নেজা ও তরবারির আঘাত নিয়ে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে বেহেস্তে চলে যান। নেতৃত্বশূন্য মুসলিম বাহিনী ব্যর্থ মনোরথে স্পেন ফিরে আসে। তুরযুদ্ধে কতজন মুসলিম সৈন্য শাহাদতবরণ করেছিল তার কোনো হিসেব নেই। মুসলিম বাহিনী শাহাদাতের পৃথিবীতে ঢুকে যান। এই কারণেই ইতিহাসবিদরা এই যুদ্ধের নাম দিয়েছে- মা’রিকাতি বালাদিশ শুহাদা’ তথা শহিদদের রাজপ্রাসাদ। ইতিহাসবিদরা লেখে- যদি তুরের যুদ্ধে খৃস্টানবাহিনী পরাজয় বরণ করতো তাহলে ইউরোপ থেকে চিরদিনের জন্য খৃস্টানদের নামনিশানা মুছে যেতো। এরপর বহুবার মুসলিম বাহিনী ফ্রান্স আক্রমণ করলেও তেমন কোনো ফল পায়নি।

ঐতিহাসিক তাবুক যুদ্ধ
নবম হিজরির রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু তাবুক যুদ্ধের কিছু ঘটনা সংঘটিত হয় নবম হিজরির রমজান মাসে। (আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু: ৩/১৬২৭)এছাড়া হিজরতের দুই বছর পূর্বে রমজান মাসে উম্মুল মো’মিনীন হজরত খাদিজা (রা.) এবং নবীজি (সা.) এর মেয়ে হজরত রুকাইয়া (রা.) ইন্তেকাল করেন।

হজরত হাসান ইবনে আলী (রা.) তৃতীয় হিজরির রমজান মাসে জন্ম গ্রহণ করেন এবং চতুর্থ হিজরিতে নবীজি (সা.) হজরত যায়নাব বিনতে খুযাইমা (রা.) কে বিয়ে করেন। ১১ হিজরির রমজানে নবীজি (সা.) সবচেয়ে আদরের মেয়ে, জান্নাতী নারীদের সরদারনী, হজরত ফাতিমা (রা.) এবং ৪০ হিজরিতে শেরে খোদা হযরত আলী (রা.) ইন্তেকাল করেন।

আমুরিয়ার যুদ্ধ
একজন মুসলিম বোন চিৎকার করে বলেছিল ইয়া মু’তাসিমাহ! তোমার বোন খৃস্টানদের হাতে লাঞ্ছিত! এই কথা শুনে আব্বাসি খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ স্থির থাকতে পারলেন না। তৎক্ষণাত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যুদ্ধে রওয়ানা হন। সেই যুদ্ধকেই আমুরিয়ার যুদ্ধ বলে। সময়কালটা আব্বাসীদের। আব্বাসী খলিফা মু’তাসিম বিল্লার সঙ্গে বিদ্রোহ করে বাবুক খুররাম নাম একটি মুসলিম সেনাপ্রধান। এই বাবুক খুররাম আব্বাসীদের ধূলিস্যতা করে দেয়ার জন্য নোমান সম্রাট নওফিল বিন মিকাইলকে তাগাদা দিতে থাকেন। নওফিল বিন মিকাইল যখন দেখলো বিশ্বাসঘাতক সহযোগী পাওয়া গেছে- তখন সুযোগের সদ্ব্যবহার করলো। নওফিল একলক্ষ সৈন্যের একটি বিশাল বাহিনী নিয়ে মুসলিম ভূণ্ডের বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ পরিচালনা করে। এরই এক পর্যায়ের তুরস্কের মালাতিয়া ও সিরিয়ার জিবিত্রা সীমান্তে বর্ণনাহীন রক্তপাত ঘটায়। নওফিলের এই অতর্কিত হামলায় অনেক নিরীহ ও সাধারণ মুসলমান শাহাদতবরণ করে। গোলকিবহীন গোলাবারের মতো শুধু গোল করতেই থাকে। এই সময় শতশত মানুষকে শাহাদাত করে দেয় এবং নারী ও শিশুদের বন্দি করে ইউরোপ নিয়ে যায়।

তাদের অত্যাচারের এতোটাই সীমা ছাড়িয়ে গেল যে, আর সহ্য করার ছিল না। তখনই এক মুসলিম বোন ‘ইয়া মু’তাসিমাহ’! বলে চিৎকার করলো। এই চিৎকারের সংবাদ শুনে খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে ওইদিকে মার্চ করলো। কিন্তু খলিফা পৌঁছার পূর্বেই নওফেল বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করে পালিয়ে যায়। খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ স্থানীয়দের সান্তনা দেয়। জানতে চান নোমানদের শক্তঘাঁটি কোনটি? জবাবে স্থানীয়রা জানায় আমুরিয়া। আমুরিয়া হলো বর্তমান তুরস্কের আঙ্কারার আপশাশের একটি এলাকা। তৎসময় যা কনস্টেন্টিপলের অধীনস্থ ছিল। অতঃপর খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ তার বিশাল বাহিনী নিয়ে ২২৩ হিজরির ৬ই রমজান মাসে আমুরিয়া আক্রমণ করেন। মুর্হর্তেই খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহর বাহিনীর সামনে আমুরিয়ার রাজপ্রাসাদ ধূলিস্যাত হয়ে যায়। আমুরিয়ার জুড়ে ধ্বংসের জোয়ার উঠে। কোনো খৃস্টান সৈন্য সেই আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারেনি। খলিফা মুসলিম বোনের প্রতিশোধ তীব্রতায় প্রায় পাগলপারা হয়ে যান। তিনি রাগে ক্ষোভে পুরো আমুরিয়া শহরটিকে জ্বালিয়ে দেন। নোমান সম্রাট নওফেল কোনো মতে পালিয়ে সেই বারের মতো বেঁচে যায়। তখন থেকে আমুরিয়ায় বুকে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়।

আজকে রমজান আসে, মুসলিম বোনেরা নির্যাতিত হয়। কোনো মু’তাসিম বিল্লাহ নেই। রমজান বিজয়ের মাস। আমাদের শপথ নিতে হবে। আমাদের সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে জয়ের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আল্লাহ আমাদের রমজানকে সেইভাবেই আদায় করার তাওফিক দান করুন আমিন।

তিন সন্তানসহ মায়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়ে বরিশালের বানারীপাড়ায় এক বিধবা নারী তিন সন্তানসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এর আগে তার আরেক সন্তানও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলতা গ্রামের আবাসনে বসবাসরত প্রয়াত সতিশ চন্দ্র বৈদ্য’র স্ত্রী গিতা রানী বৈদ্য (৪০) তার তিন সন্তান নিয়ে সম্প্রতি বরিশালে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামায় নিজের নাম গিতা রানীর পরিবর্তে মুন্নি বেগম, মেয়ে সাথী বৈদ্য’র নাম পরিবর্তন করে সাথী আক্তার, ছেলে সৌরভ বৈদ্য’র নাম শুভ হাওলাদার ও সবুজ বৈদ্য’র নাম আরিফ আহমেদ রেখে ভালোবেসে ধর্মান্তারিত হন।

ধর্মান্তরিত মুন্নী বেগম গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত জানান, ‘আমি স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে কলেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছি। তাছাড়া কয়েক বছর আগে আমার বড় ছেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আমরা পরিবারের পাঁচজনই এখন মুসলমান।

মসজিদে সবোর্চ্চ ২০ জন নিয়ে নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এক মসজিদে সবোর্চ্চ ২০ জন নিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন মুসল্লি ও ইসলামি চিন্তাবিদরা। মসজিদের আয়তন অনুসারে জামাতে মুসল্লির সংখ্যা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

করোনা অতিমারির ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন চলাকালীন মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত ও তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মুসল্লিসহ সর্বোচ্চ ২০ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবে বলে নির্দেশনা জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মুসল্লিদের দাবি, ঢালাওভাবে এমন সিদ্ধান্তে জামাতে নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। মুসুল্লিরা বলছেন, মসজিদের ধারণক্ষমতা বিবেচনা না করে সব আয়তনের মসজিদের জন্য মুসল্লির একই সংখ্যা নির্ধারণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেক মসজিদে পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

এ প্রসঙ্গে মুসল্লিরা বলেন, রমজান মাসে মানুষ তো মসজিদে আসবেই। সেখানে ২০ জনের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। কোন ২০ জন নামাজ পড়বে এ নিয়ে মারামারিও লেগে যাচ্ছে অনেক সময়। সবাই মাস্ক নিয়ে নামাজ পরবে এই নিয়ম করে দিলেই সবচেয়ে বেশি ভাল হতো।

মসজিদের আয়তন অনুসারে মুসল্লির সংখ্যা নির্ধারণের দাবি তাদের।

তারা বলেন, ৩ ফুট দূরুত্বে নামাজ পরা আর মসজিদের আয়তন অনুযায়ী সংখ্যা নির্ধারণ করাটাই বেশি ভাল হতো। এভাবেই আমাদেরকে নামাজ পড়তে দেওয়া উচিত।

ইসলামি চিন্তাবিদরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় দাবি করে তা পুনঃবিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

ইসলামি চিন্তাবিদ মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। সব মসজিদের আয়তন সমান নয়। বাইতুল মোকাররমে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। চাইলে স্বাস্থবিধি মেনে মুসল্লিদের নামাজ পড়তে দেওয়া যেতে পারে। এটা আরও আলোচনা করা উচিত ছিল।

এছাড়া রমজানে রোজাদারদের ইবাদতে আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি মুসল্লি ও ইসলামি চিন্তাবিদদের।

প্রতিবাদে মহাশ্মশান কমিটির ৪ সদস্যের পদত্যাগ


শাহজাদপুর মহাশ্মশানের শতবর্ষী বৃক্ষ কেটে ফেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার

শাহজাদপুর মহাশ্মশানের শতবর্ষী বটগাছটি কেটে ফেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এর প্রতিবাদে মহাশ্মশান কমিটির ৪ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
জানা গেছে, ঘটা করে বহু আগেই শাহজাদপুর মহাশ্মশানের যুগলবন্দী বট-পাকুড়ের বিয়ে দেয়া হয়েছিল । এরপর থেকে এ বট-পাকুড় যুগলবন্দী গাছ দুটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয়ভাবে সমাদৃত হয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করেই মহাশ্মশান কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রতীপ কুমার পোদ্দার এ গাছের ঐতিহ্যের কথা না বুঝে আলোচনা ছাড়াই গাছটি কেটে ফেলে। প্রাচীন এ গাছটি কেটে ফেলায় এর প্রতিবাদে শাহজাদপুর মহাশ্মশান কমিটির অন্যতম সদস্য রতন বসাক, রাম বসাক, ভরত বসাক ও পবিত্র কুমার কুন্ডু একযোগে পদত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘কারো মতামত ছাড়াই মহাশ্মশান কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কুমার পোদ্দার অতি সম্প্রতি একক সিদ্ধান্তে যুগলবন্দী বট-পাকুড়ের বট গাছটি কেটে ফেলায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর মহাশ্মশান কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কুমার পোদ্দারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দম্ভোক্তির সাথে বলেন, ‘যা ইচ্ছা তাই লেখেন। আমার কিছুই করতে পারবেন না।’

অপরদিকে, এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। তবে গাছটি অমূল্য সম্পদ ছিল। বন বিভাগ ব্যবস্থা নিলেও নিতে পারতো।’

আজ পবিত্র শবে বরাত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ সোমবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকে মুসলমানরা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন।

মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকবেন। অনেকে রোজা রাখেন, দান-খয়রাত করেন। অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবেন মুসলমানরা।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর মসজিদে না গিয়ে মুসল্লিদের ঘরে বসে ইবাদত করার আহ্বান জানিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে এবার এমন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

২ দিনের ওই ওরশ শরীফ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা গ্রহণ


শাহজাদপুরে মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে আগামীকাল

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়ায় ইয়ামেন শাহাজাদা হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) এর মসজিদ ও মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে ২ দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ শরীফ শুরু হচ্ছে। কাল বাদ ফজর খতমে কোরআন, সকালে ইসলামের ঝাঁন্ডা (নিশান) ওড়ানোর মধ্য দিয়ে ২ দিনব্যাপী ওই বাৎসরিক ওরশ শরীফের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। এদিন বুধবার বাদ যোহর গেলাপ ফাতেহা, বাদ আছর গেলাপ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ও বাদ এশা রওজা মোবারকে গেলাপ চড়ানো হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর ফাতেহা পাঠ, বাদ মাগরিব জিকির আসগর ও বাদ এশা ওয়াজ মাহফিল ও নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ নসিহত করবেন আলহাজ্ব মাওঃ ড. আশরাফ আলীমুল্লাহ সিদ্দিকী ছাহেব বগুড়া। আগামী শুক্রবার বাদ আছর অনুষ্ঠিতব্য ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ওয়াজ নসিহত করবেন বরেণ্য ইসলামী আলোচক ডাঃ কে. এম. আব্দুল মমিন সেরাজী ছাহেব ঢাকা। সারা রাত ওয়াজ মাহফিল শেষে পরদিন শনিবার বাদ ফজর আখেরী মোনাজাত ও নেওয়াজ বিতরণের মধ্য দিয়ে ২ দিনব্যাপী ওই বাৎসরিক ওরশ শরীফের পরিসমাপ্তি ঘটবে। এদিকে, ওরশ শরীফে যোগদানের জন্য ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য আশেকান, জাকেরান, ভক্তবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা শাহজাদপুরে আসতে শুরু করেছেন। ২ দিনের ওই ওরশ শরীফ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইয়ামেন শাষণকর্তা মোয়াজ ইবনে জাবাল এর বংশধর, শাহজাদা হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) ১২৯২-৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) ও ১২ জন সুফী সাধকসহ পানিপথে জাহাজ যোগে এ অঞ্চলে আগমন করে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ওই সময়ে এ অঞ্চলের অমুসলিম অধিপতি রাজা বিক্রম কেশরীর একজন গুপ্তচর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হযরত মখদুম শাহদৌলার অতি নিকটে স্থানলাভ করেন এবং রাজা বিক্রম কেশরীর সৈন্যদের সাথে শেষ ধর্মযুদ্ধ চলাকালীন আছরের নামাজ আদায়রত অবস্থায় ওই গুপ্তচর তাঁর মস্তক মোবারক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে সুরে বিহারের রাজধানী মঙ্গলকোট মতান্তরে মহলকোটে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে এ অঞ্চলের নামকরণ হয় শাহজাদপুর।

পবিত্র শবে বরাত ২৯ মার্চ

দেশের আকাশে কোথাও রোববার সন্ধ্যায় পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য সোমবার (১৫ মার্চ) রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

আজ রোববার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম।

শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৯ মার্চ (সোমবার) দিবাগত রাতই শবে বরাতের রাত। শবে বরাতের পরের দিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। ফলে এবার এ ছুটি পড়েছে ৩০ মার্চ (মঙ্গলবার)।

শাবান মাস শেষেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আনন্দ বারতা নিয়ে শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজান।

‘ভাগ্য রজনী’ হিসেবে পরিচিত লাইলাতুল বরাতের পুণ্যময় রাতটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন


শাহজাদপুরে মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর ওরশ সোমবার

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শাহজাদপুরের দরগাহপাড়ায় হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) ও হযরত মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী (রহ.) এর মহান ওস্তাদজী শাহানশাহে তরিকত আউলিয়াকুল শিরমণি জগৎ বরেণ্য সুফী সাধক হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী উক্ত ওরশ শরীফে প্রধান অতিথি করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন ছাহেবকে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে উক্ত ওরশ শরীফে প্রধান বক্তা হিসেবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ওয়াজ নসিহত করবেন হযরত মাওলানা হাফেজ জুনায়েত হোসেন ফারুকী ছাহেব, ময়মনসিংহ। ছদরে মাহফিল খাদেমে মিল্লাত সৈয়দ গোলাম ওয়ারেছ শাহ্ ওয়ারেছী পীর ছাহেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান স্পেশাল পিপি এসএ হামিদ লাবলু, পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নাজমুল হোসেন প্রমূখ।

উক্ত ওরশ শরীফ উপলক্ষে কাল রোববার বাদ আছর গিলাফ মিছিল ও বাদ এশা গিলাফ চড়ানো অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর উক্ত বাৎসরিক ওরশ শরীফে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান করবেন মখদুমিয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর ছাহেব, সহকারী ইমাম মাওলানা সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক ছাহেব, হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম ছাহেব, হাফেজ মাওলানা শাহাদৎ হোসেন মুক্তারী ছাহেবসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগন।

মহান ওস্তাদজীর উক্ত বাৎসরিক ওরশ শরীফের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ওরশ শরীফ এন্তেজামিয়া কমিটি। ইতমধ্যেই উক্ত ওরশ শরীফ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তগন শাহজাদপুরে আসতে শুরু করেছেন।

শাহজাদপুরে প্রয়াত যুবলীগ নেতা মিঠুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জ -০৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প-উপমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন সাহেবের ভাগ্নে, শাহজাদপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মরহুম সহ-সভাপতি ও প্রয়াত যুবলীগ নেতা মো: নূরুল ইসলাম মিঠুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের রূহের মাগফেরাত ও পরিবারের কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য ২রা ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বাদ এশা পৌর এলাকার খঞ্জনদিয়ার মহল্লার ওয়ারেছিয়া জামে মসজিদে উক্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম জুলফিকারের আয়োজনে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

মরহুম নূরুল ইসলাম মিঠুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন পৌর এলাকার ইসলামপুর (রামবাড়ী) মহল্লার খাদেমুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোঃ শাহিদুল।

উক্ত দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতে ওয়ারেছিয়া জামে মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা শেখ মোঃ শাহাজাদাসহ এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিগণ অংশ নিয়ে প্রয়াত যুবলীগ নেতা নূরুল ইসলাম মিঠুর পরকালের জীবনে শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহ সুবহানু তায়ালার নিকট প্রার্থনা করেন এবং মরহুমের শিশুকন্যা রোদোশী, শিশুপুত্র আরাফাতসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভবিষ্যত কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।

উল্লেখ, গত বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি রাতে হৃদযন্তক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই অকাল মৃত্যর কোলে ঢলে পড়েন নূরুল ইসলাম মিঠু।