সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন


শাহজাদপুরে মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর ওরশ সোমবার

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শাহজাদপুরের দরগাহপাড়ায় হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) ও হযরত মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী (রহ.) এর মহান ওস্তাদজী শাহানশাহে তরিকত আউলিয়াকুল শিরমণি জগৎ বরেণ্য সুফী সাধক হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী উক্ত ওরশ শরীফে প্রধান অতিথি করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন ছাহেবকে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে উক্ত ওরশ শরীফে প্রধান বক্তা হিসেবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ওয়াজ নসিহত করবেন হযরত মাওলানা হাফেজ জুনায়েত হোসেন ফারুকী ছাহেব, ময়মনসিংহ। ছদরে মাহফিল খাদেমে মিল্লাত সৈয়দ গোলাম ওয়ারেছ শাহ্ ওয়ারেছী পীর ছাহেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান স্পেশাল পিপি এসএ হামিদ লাবলু, পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নাজমুল হোসেন প্রমূখ।

উক্ত ওরশ শরীফ উপলক্ষে কাল রোববার বাদ আছর গিলাফ মিছিল ও বাদ এশা গিলাফ চড়ানো অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর উক্ত বাৎসরিক ওরশ শরীফে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান করবেন মখদুমিয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর ছাহেব, সহকারী ইমাম মাওলানা সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক ছাহেব, হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম ছাহেব, হাফেজ মাওলানা শাহাদৎ হোসেন মুক্তারী ছাহেবসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগন।

মহান ওস্তাদজীর উক্ত বাৎসরিক ওরশ শরীফের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ওরশ শরীফ এন্তেজামিয়া কমিটি। ইতমধ্যেই উক্ত ওরশ শরীফ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তগন শাহজাদপুরে আসতে শুরু করেছেন।

শাহজাদপুরে প্রয়াত যুবলীগ নেতা মিঠুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জ -০৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প-উপমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন সাহেবের ভাগ্নে, শাহজাদপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মরহুম সহ-সভাপতি ও প্রয়াত যুবলীগ নেতা মো: নূরুল ইসলাম মিঠুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের রূহের মাগফেরাত ও পরিবারের কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য ২রা ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বাদ এশা পৌর এলাকার খঞ্জনদিয়ার মহল্লার ওয়ারেছিয়া জামে মসজিদে উক্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম জুলফিকারের আয়োজনে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

মরহুম নূরুল ইসলাম মিঠুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন পৌর এলাকার ইসলামপুর (রামবাড়ী) মহল্লার খাদেমুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোঃ শাহিদুল।

উক্ত দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতে ওয়ারেছিয়া জামে মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা শেখ মোঃ শাহাজাদাসহ এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিগণ অংশ নিয়ে প্রয়াত যুবলীগ নেতা নূরুল ইসলাম মিঠুর পরকালের জীবনে শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহ সুবহানু তায়ালার নিকট প্রার্থনা করেন এবং মরহুমের শিশুকন্যা রোদোশী, শিশুপুত্র আরাফাতসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভবিষ্যত কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।

উল্লেখ, গত বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি রাতে হৃদযন্তক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই অকাল মৃত্যর কোলে ঢলে পড়েন নূরুল ইসলাম মিঠু।

শাহজাদপুরে আলকোরআন প্রেমী হোসনেআরা ও সমাজসেবী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সংবর্ধনা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আল কোর আন প্রেমী মহিয়সী নারী মোছাঃ হোসনে আরা ও শাহজাদপুরের জনদুর্ভোগ নিয়ে কাজ করায় ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে শাহজাদপুর পৌরসদরের দ্বারিয়াপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম- আহবায়ক ও সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোকের কার্যালয়ে তাদেরকে এ গুনী সংবর্ধনা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় ।

শাহজাদপুর সবুজ বিপ্লবের উদ্দোক্তা ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক কামরুল হাসান হিরোক আয়োজিত এ গুনী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, শাহজাদপুর নবনির্বাচিত পৌর মেয়র মনির আক্তার খান তরুলোদী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ লিয়াকত, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাক আমিরুল ইসলাম শাহু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কে এম নাছির উদ্দিন প্রমূখ।

উল্লেখ্য, মাটিতে পরে থাকা পোষ্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল থেকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আল্লাহ্ আকবর ও আল্লাহ সর্বশক্তিমান সহ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহ্ তাআলার বিভিন্ন নাম ছিড়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবৎ সংরক্ষণ করে চলেছেন মোছাঃ হোসনে আরা (৪০) নামের এই মহীয়সী নারী। তার এই কোরআন প্রেম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ভাইরাল করেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তাদের এই দৃষ্টান্তের জন্য আজ তাদেরকে গুনী সংবর্ধনা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় । সেই সাথে এ উপজেলায় বিনা মুল্যে কোরআন শিক্ষা দেয়ায় ৩ জন নারী ও বিনামূল্যে ২০ বছর ধরে কবর খোড়ায় একজন পুরুষকেও পুরস্কৃত করা হয়।

দীর্ঘ ২০ বছর রাস্তায় ঘুরে পোস্টার থেকে আল্লাহর নাম সংগ্রহ করেন হোসনে আরা

মাটিতে পরে থাকা পোষ্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল থেকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আল্লাহ্ আকবর ও আল্লাহ সর্বশক্তিমান সহ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহর আল্লাহ্ তাআলার বিভিন্ন নাম ছিড়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবৎ সংরক্ষণ করে চলেছেন হোসনে আরা (৪০) নামের এক মহীয়সী নারী।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের চুনিয়াখালী পাড়ার বাসিন্দা ফুটপাতের কাপড় ব্যাবসায়ী গোলাম মাওলার স্ত্রী হোসনে আরা (৪০) আনুমানিক ২০০০ সাল থেকে আবর্জনা, ড্রেন, নর্দমা, খানাখন্দ ও মাটিতে পড়ে থাকা পোষ্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল থেকে আল্লাহর নাম লেখা ও পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের অংশ ছিড়ে নিজের কাছে সংরক্ষণ করে। পরে সেগুলো নদীতে ফেলে দেন তিনি।

ইতিমধ্যেই ড্রেন ও আবর্জনা থেকে এগুলো সংগ্রহ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির ফেসবুকে পোস্ট ভিত্তিতে দেখা যায় একজন বোরকা পরিহিত নারী আবর্জনা এবং ড্রেন থেকে কিছু সংগ্রহ করছেন।
পরে সেই নারীকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি ড্রেন থেকে কি সংগ্রহ করছেন ? উত্তরে নারীটি পোস্টার থেকে ছিড়ে নেওয়া বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম অংশটি দেখিয়ে বলে এগুলো পবিত্র আয়াত ও লেখা।

মাটিতে পরে এসকল আয়াত ও আল্লাহ্ তাআলার নামের অবমাননা হচ্ছে তাই এগুলো দেখে আমার কষ্ট হয়। তাই আমি প্রায় বিশ বছর যাবৎ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এগুলো সংগ্রহ করি এবং পরে নদীতে ফেলে দেই। সরেজমিনে চুনিয়াখালী পাড়ার আবু সাঈদের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন হোসনে আরার ও কার স্বামী।

হোসনে আরা জানান, ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ভাবে আমি ধর্মিয় শিক্ষা গ্রহণ করেছি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মাটিতে পরে থাকা পোস্টারে বা অন্যান্য কাগজে আল্লাহর নাম ও পবিত্র কুরআনের আয়াত দেখে মনে কষ্ট অনুভব করতাম।
একসময় নিজেই সিদ্ধান্ত নেই যে আমার চোখে যেগুলো পরবে সেগুলো আমি সংরক্ষণ করবো। আর এখন প্রতিদিন আমি নিজেই এগুলো সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরি।

জানা যায়, হোসনে আরা ও তার স্বামী গোলাম মাওলা নিঃসন্তান । তাদের একটি সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থাতেই নষ্ট হয়ে যায়। তাদের বাড়ি পাবনা জেলার চাটমোহর থানার সাইকোলা ইউনিয়নের লাঙ্গল মোড়া গ্রামে। হোসনে আরা বাবার বাড়ি বরগুনায়, তার পিতা নুর মোহাম্মদ মৃধা ছিলেন কৃষক তার মায়ের নাম নুরজাহান খাতুন।

হোসনে আরা জানানা, আমার জীবনের একটি ইচ্ছা সেটা হলো পবিত্র হজ্ব পালন ও নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা মোবারক জিয়ারত করা।

দেশবাসী ও সমগ্র মুসলিম জাহাণের কল্যাণে বিশেষ দোয়া


শাহজাদপুরে ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত

গতকাল রোববার রাতে উপজেলার শেলাচাপড়ী পশ্চিমপাড় গ্রামের পূর্ব উত্তরপাড়া মহল্লার ‘মাশয়ারিল হারাম’ জামে মসজিদের উন্নতিকল্পে বিরাট ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্টিবিউটর এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন বাঘাবাড়ী ঘাট শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আঃ মান্নান শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইসলামী জালসায় প্রধান বক্তা হিসেবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ওয়াজ নসিহত করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোফাচ্ছেরে কোরআন- আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ মোখলেছুর রহমান বাঙালি ছাহেব-কুষ্টিয়া। উক্ত ইসলামী জালসায় অন্যান্যের মধ্যে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান করেন শাহজাদপুরের দরগাহপাড়াস্থ মখদুমিয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম কাজী আলহাজ্ব হাফেজ মাওঃ মোঃ আলী আকবর ছাহেব, পীরজাদা মাওঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম নূরী আল কাদরী ছাহেব-দ্বাবারিয়া ও মাশয়ারিল হারাম মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মাওঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম ছাহেবসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ।

ওয়াজ শেষে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় এবং দেশবাসী ও সমগ্র মুসলিম জাহাণের কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান বক্তা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোফাচ্ছেরে কোরআন- আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ মোখলেছুর রহমান বাঙালি ছাহেব। মোনাজাত শেষে নেওয়াজ বিতরণ করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আব্দুস সালাম, হাফেজ মোঃ সজীব আহমেদসহ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীগণ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

করোনাকালে ৩হাজারের অধিক ইসলাম গ্রহন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে

করোনাভাইরাসের মধ্যেই এ বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত তিন হাজার ১৮৪ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে আমিরাতের মোহাম্মদ বিন রশিদ সেন্টার ফর ইসলামিক কালচার।

দুবাই ভিত্তিক ইংরেজি সংবাদ পত্রিকা খালিজ টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ধর্মান্তরের সব আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হয়।

সেন্টারটির পরিচালক হিন্দ মোহাম্মদ লুতাহ বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ইসলাম সম্পর্কে সঠিক বার্তা প্রদান অব্যাহত রাখবে এবং দুবাইয়ে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং ধর্ম বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে এর ভালো নীতিগুলি ছড়িয়ে দেবে।
এদিকে ধর্মান্তরিত হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে সেন্টারটি। এসময় তাদের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন সেবা সরবরাহ করে থাকে তারা।

আজ মহানবমী, আনন্দের মাঝে বিষাদের সুর

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আজ মহানবমী। কাশফুলের ঝাঁকে আজ মন খারাপের হাওয়া, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে বাজতে শুরু করেছে বিষাদের সূর। আর মাত্র এক দিন পরেই মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চার দিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার দিনের অশ্রু। তাই বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের মনে আজ একটাই আকুতি- না পোহায় যেন এই নবমী নিশি।

সন্ধিপূজার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে মহাঅষ্টমী। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার মহানবমী, দেবীকে প্রাণ ভরে দেখার দিন। কারণ পরদিন ভক্তদের কাঁদিয়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী। এবার দেবী ফিরবেন গজে চড়ে, এসেছিলেন দোলায় করে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সোমবার (২৬অক্টোবর) শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।

আজ সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিহিত পূজার মাধ্যমে পালিত হচ্ছে মহানবমী। সনাতন ধর্মমতে এই নবমী পূজার আছে বিশেষ মাহাত্ম্য। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। শাস্ত্র অনুযায়ী মহানবমী তিথি অন্যান্য তিথির তুলনায় ‘শুভ’। তাই এই তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে পূণ্য লাভ হয়। নবমীর পূণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে পৃথিবীতে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটান দেবী দুর্গা। নবমী তিথি শুরু হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। পুরাণ মতে, অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী শুরুর ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। আর এই সন্ধিক্ষণেই আয়োজিত হয় সন্ধি পুজো। এই সময়ই নাকি চিন্ময়ী দুর্গা পূজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভূজা চামুণ্ডারূপে। কারণ ঠিক ওই সময় দেবী দূর্গার ললাট থেকে জন্ম নেওয়া চামুণ্ডা, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত আছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সন্ধিপুজোর রীতি বহু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে।

উল্লেখ্য করোনা মহামারীর কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এবছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বিধায় এবারের দুর্গোৎসবকে ‘দুর্গাপূজা’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পূজামন্ডপ। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা। জনসমাগমের কারনে সাস্থ্যবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই দুর্গা পূজায় আগেই প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবার।

চন্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিহিত পূজার মাধ্যমে মহানবমী পূজা এবং সোমবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী আজ

আজ শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী।

চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গতকাল ছিল মহাষষ্ঠী। দেবীর আগমনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীর দিন দেবী আসনে আসীন হয়েছেন। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দেবী দুর্গার আগমনের ক্ষণগণনা। এবার দেবী এসেছেন দোলায়, যাবেন হাতিতে চড়ে।

আজ মহাসপ্তমী। আজ বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীবিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। তাই শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকেই শুরু হয় মহাসপ্তমীর পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পঞ্জিকামতে, গতকাল দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে সপ্তমী শুরু হয়ে আজ বেলা ১১টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই সময়ে দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তমী পূজা শুরু করে সম্পন্ন করতে হবে। আজ হবে প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা। এবার দেবীর আগমন ঘটছে দোলায়। অর্থাৎ পৃথিবীতে মড়ক দেখা দেবে বলে বিশ্বাস সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

শুরুতেই বিশেষ রীতি মেনে স্নান করানো হয় মা দুর্গাকে। এসময় দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান সেরে, বস্ত্র ও নানা উপচারে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ত্রিনয়না দেবীর তৃতীয় চক্ষুদান করা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে দেবীর মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি। উপোস রেখে মায়ের পায়ে ফুলের অঞ্জলি দিয়ে চরণামৃত পান করে দিনের শুরু করবেন ভক্তরা।

ষষ্ঠীতে দেবীর অধিবাস ও আবাহনের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এখন পূজার ধুম। রংবেরঙের পোশাক পরে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আসছেন মন্ডপে মন্ডপে। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে উৎসবে ভাটা পড়েছে। মাস্ক পরে মন্ডপে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেওয়া হবে পূজামন্ডপ। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা।

করনা ভাইরাসের কারণে সরকার  ঘোষিত নিয়ম নীতি ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবছর অনানুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে এ পুজা।

অন্যদিকে মন্দির গুলোতে প্রবেশ করতে হলে মাস্ক পড়ে প্রবেশ করার নির্দেশ জারি করেছে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। মাস্ক ছাড়া কেও যেন মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি মন্দির কতৃপক্ষ।

এ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৮২টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দেবী দূর্গার আগমন উপলক্ষে সাজসজ্জায় ব্যস্ত শাহজাদপুরের মন্ডপগুলো

নীলাকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুল জানান দেয় শরৎ বিরাজমান। জানান দেয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তার। যদিও এবার দেবী দুর্গা আসছেন হেমন্তে। শরতের আকাশে ভাসছে সাদা মেঘের ভেলা, প্রকৃতির সবুজের সমারোহে সাদা হয়ে কাশফুল দুলছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় সাজসজ্জায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শাহজাদপুরের মন্ডপগুলো।

গত ১ সেপ্টেম্বরে মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। মহালয়ার সময় ঘোর অমাবস্যা থাকে। মহাতেজের আলোয় সেই অমাবস্যা দূর হয়। প্রতিষ্ঠা পায় শুভশক্তি। দুর্গাপূজার দিন গণনা এ মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়। শাস্ত্রমতে প্রতি বছরই মা কোনো না কোনো বাহনে চড়ে আসেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছর দেবী আসছেন ‘দৌলায়’ চড়ে আর যাবেন ‘গজে’ চড়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। এই ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা উৎসব শুরু হবে আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে।

আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে রাতভর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৈরি করছে প্রতিমা। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন শাহজাদপুরের প্রতিমা শিল্পীরা। তুলির আঁচরে মূর্ত হয়ে উঠছে দেবীর রূপ। এখন দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্পীদের।

শাহজাদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বিমল কুন্ডু বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার বাকি আর মাত্র এক দিন। এ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৮২টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। পূজা উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জার প্রস্তুতি। এবার করোনার কারণে পূজা মণ্ডপগুলোতে ছাব্বিশটা বিধিমালা তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সেই নিয়ম অনুযায়ী এবার শাহজাদপুর উপজেলায় পূজা পালন করা হবে।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তাদের এ ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখছে। প্রতিটি পুজা মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও পুলিশ ও আনছার সদস্য থাকবে। এখনো পর্যন্ত উপজেলায় কোন মন্দিরে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায় নি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কিছুটা নিয়মের মধ্যে দিয়ে মাতৃবন্দনা করবেন সনাতন ধর্মালম্বীরা বলে জানা গেছে।

শাহজাদপুরে বৌদ্ধ পরিবারের ৪ জনের ইসলাম গ্রহণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী দক্ষিণ পাড়ে এক বৌদ্ধ পরিবারের দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষসহ মোট চারজন ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম সাহেব তাদের কালেমা পাঠ করান। এর আগে নোটারী পাবলিক মোকাম সিরাজগঞ্জের মাধ্যমে তারা হলফনামায় স্বাক্ষর করেন। নেপালী বংশদ্ভূত এই বৌদ্ধ পরিবারের ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীগণ হচ্ছেন, মোঃ নজরুল ইসলাম (নন্দ বাহাদুর) মোছাঃ খাদিজা খাতুন ( সুমিতা রানী) মোছাঃ নুরজাহান (পিংকি রাণী) আবুল কালাম আজাদ (কালু বাহাদুর)।

এ ব্যাপারে নুরজাহান খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এই ধর্মের মাধ্যমেই পরকালীন জীবনে মুক্তি সম্ভব। আমরা মুসলমানদের সাথে মিশে তাদের আচার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে এ ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়েছি। খাদিজা খাতুন (সুমিতা রাণী) জানান, আমাদের পূর্বপুরুষ নেপালে বাস করছেন। আমার স্বামীর বাড়ি নেপালের কাঠমুন্ডু। অনেকদিন ধরেই আমরা ইসলামের প্রতি আসক্ত। ফলে আলাপ আলোচনা করে স্বপরিবারে ইসলাম কবুল করে ভাল লাগছে। এখানকার সবাই আমাদের সহযোগিতা করছেন।

এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ী দক্ষিণপাড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি হাজী সোলায়মান হোসেন জানান, বৌদ্ধ পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন। তারা স্ব-ইচ্ছায় ইসলাম কবুল করায় আমরা তাদের পাশে সাধ্যমত থাকার চেষ্টা করছি।

অন্যান্যদের এই নও মুসলিমদের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিৎ। নও মুসলিম পরিবারের বিকাশ নং ০১৭৮৯৩৯৮১৮৫ এ সহযোগিতার জন্য দেওয়া হল।