যমুনার আগ্রাসনে বিলীন হলো মসজিদ

শত চেষ্টা করেও মসজিদটি রক্ষা করা গেল না। যমুনার তীব্র স্রোতে শনিবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী গ্রামের মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত জুলাই মাসে মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় বালুর বস্তা ফেলে মসজিদটি রক্ষায় চেষ্টা করা হয়েছিল। এদিকে, তিন দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। কাজীপুর পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে যমুনার তীব্র স্রোতে মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।’


গত জুলাইয়ে বন্যায় সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ১৫০ মিটার শিমলা স্পার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে শতাধিক ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও গাছপালা মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়। সে সময়ই ভাঙনের মুখে পড়ে মসজিদটি।

উপজেলার প্রায় ৮০ টি মন্দির কমিটি ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন


শাহজাদপুরে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

বৈশ্বিক করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির দিক নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষে শাহজাদপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হলরুমে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বিনয় কুমার পাল। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির ২৬ টি দিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক বিমল কুন্ডু। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির দিক নির্দশনার আলোকে পূজায় মাইক, সাউন্ড সিষ্টেম, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরিহার করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও শারিরিক দুরত্ব বজায় রেখে অনাড়ম্বরভাবে আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনের সর্বসন্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সভায় পৌরসভা সহ উপজেলার প্রায় ৮০ টি মন্দির কমিটি ও পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ১৮০০ মাদ্রাসা পাচ্ছে নতুন পাকা ভবন

মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের ১৮শ’ মাদ্রাসায় পাকা ভবন নির্মাণ করা হবে। খুব শীঘ্রই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কায়সার আহমেদ।

তিনি জানান, আমরা এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনছি। আমাদের অফিসাররা সর্বদা মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন। ভবন নির্মাণের এই প্রকল্পের আওতায় পাকা ভবন পাবে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মাদ্রাসাগুলো। এই বিষয়ে কাজ করছে অধিদপ্তর।

অবস্থা বুঝে একতলা, দুইতলা ও চারতলা ভবন নির্মাণ হবে বলেও তিনি জানান।

হজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ওমরাহ নিয়ে ভাবনা সৌদির

ছবি: ইন্টারনেট

করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে এবার সম্পন্ন হয়েছে ব্যতিক্রমী হজ। সদ্য সমাপ্ত হজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিগগিরই ওমরাহ কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাত্র ‍দুই সপ্তাহের মধ্যে এবার হজের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে কাজে লাগাতে চায় দেশটি।

এ বিষয়ে হজ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. হোসেইন আল-শরিফ সৌদি গেজেটকে জানান, শিগগিরই তার মন্ত্রণালয় ওমরাহ মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি শেষ হওয়া অভূতপূর্ব হজের অভিজ্ঞতাকে তারা মূল্যায়ন করবেন। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

আল-শরিফ বলেন, হজযাত্রীদের অবশ্যই সাত দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে তারা কোথাও যেতে পারবেন না। পুরো বিষয়টি নজরদারি করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রবিবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে মক্কায় হজযাত্রীদের তাদের আবাসনে নেওয়া হয়। এর পর তারা বিমান ও সড়ক পথে বাড়ি ফেরেন। পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করে হজ মন্ত্রণালয়।

চলতি মৌসুমে যারা হজযাত্রীদের নানাভাবে সেবা দিয়েছেন তাদের সবার প্রশংসা করেন আল-শরীফ। জানান, আয়োজকদের কারণে এবার হজের আনুষ্ঠানিকতা সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা

আজ শনিবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করবে।

মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুয়ায়ী পশু কোরবানি করবেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকেই যাবেন কবরস্থানে। তারা চিরবিদায় নেওয়া তাদের স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে এই আনন্দের দিনে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাবেন।

তবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই এসেছে এবারের ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা এবার ম্লান করে দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কভিড ১৯) ও দেশব্যাপী ভয়াবহ বন্যা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবার ঈদের ছুটি ৩ দিন ঘোষণা করেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে শুক্রবার ৩১ জুলাই, ১ আগস্ট শনিবার ঈদের দিন ও ২ আগস্ট রবিবার ছুটি থাকবে।

এবারের ঈদের ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে থাকতে হবে। তারা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

করোনা মোকাবেলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ঈদুল ফিতরের মতো এই ঈদেও সরকারের নির্দেশনায় খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হবে এলাকার মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে; কোলাকোলি এবং হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবার পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ-নিজ দায়িত্বে বাসা থেকে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

প্রত্যেককে নিজ-নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসবেন এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

জামাতে আসা মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মুসল্লিরা মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করতে পারবেন না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানানো হয়েছে, শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করবেন না।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবার ঈদের ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক ফাউেন্ডশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি ঈদ জামাত। সকাল ৭টায় হবে প্রথম জামাত। এরপর পর্যায়ক্রমে ৭টা ৫০, ৮টা ৪৫, ৯টা ৩৫, ১০টা ৩০ এবং ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ঈদ জামাত।

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদুল আজহা’র জামাত সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ- মসজিদুল জামিআয় অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতীব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এবারের ঈদ জামাত আয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষ থেকে খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না। তবে সরকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় খোলা মাঠে কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মেয়র আতিকুল ইসলামও নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সরকারি সংস্থাসমূহের প্রধানগণ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উদযাপন করবেন।

ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার ও সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রক্ষার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কোরবানিকৃত পশুর রক্ত বা বর্জ্য পদার্থ দ্বারা যাতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয় সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। ঈদুল আজহার পূর্ববর্তী জুমার খুৎবায় এ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)’কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত।

সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারা দেশের মুসলিম সম্প্রদায় শনিবার দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। তবে এবার করোনা ও বন্যার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কোরবানির ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুঃস্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় এই উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানগুলোতে পশু কোরবানির জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে উভয় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববাসী এমন হজ আগে দেখেনি

ছবি: ইন্টারনেট

পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের হজ। শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করেন হাজিরা। করোনা সতর্কতায় এবার হজের প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। করোনা মহামারীতে বদলে যাওয়া সময়ে অনুষ্ঠিত হলো এবারের পবিত্র হজ। আনুষ্ঠানিকতার প্রতিটি ধাপই ছিল নিয়ন্ত্রিত। শুক্রবার জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর পশু কোরবানি দেন হাজিরা।

লাখো মুসল্লির পদচারণায় প্রতিবছর মুখর থাকলেও এবার মসজিদুল হারাম এলাকায় ছিল একেবারেই ভিন্ন চিত্র। এমন হজ আগে আর কখনো দেখেনি বিশ্ববাসী। এবারের হজে অংশ নিতে পেরেছেন কেবল সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসল্লিরা। সর্বমোট এক হাজার মানুষ এবার হজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

কোভিড ঊনিশ থেকে সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয় সৌদি সরকার। হজের জন্য মনোনীতদের প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করানো হয়। হজ শুরুর আগে দুই ধাপে কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়া, সব আনুষ্ঠানিকতায় হাজিদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ছিলো।

সংক্রমণ রোধে জমজমের পানি সরবরাহ করা হয়েছে প্লাস্টিকের প্যাকেটে। সেই পানিই পান করতে হয়েছে সবাইকে।

এছাড়া জামারাহ্তে শয়তানকে পাথর ছোঁড়ার আনুষ্ঠানিকতাতেও ছিল নতুনত্ব। এবার সর্বোচ্চ ৫০ জন হাজি এক সঙ্গে পাথর নিক্ষেপ করেছেন। সে পাথরও হাজিরা সংগ্রহ করেননি। জীবাণুমুক্ত পাথর সরবরাহ করা হয় আগেই।

‘করোনাভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করুন’

ফাইলঃ ইন্টারনেট

‘হে আল্লাহ, করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সুস্থতা দান করুন। আপনি এই ভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করুন, আমাদের মাফ করুন। সারা পৃথিবীর মানুষকে ক্ষমা করে দিন। সারাবিশ্বকে করোনামুক্ত করে দিন। আমিন’।

শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত শেষে জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান এভাবেই মোনাজাতে আকুতি করেন।

মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে সবার গুনাহ মাফ ও মৃত ব্যক্তির কবরের আজাব মাফ চাওয়া হয়েছে। বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।

এছাড়াও এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার নিহত পরিবারের রুহের মাগফিরাত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

সদ্য প্রয়াত ধর্মমন্ত্রী অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মাগফিরাত এবং জামাতে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া করা হয়। মোনাজাত শেষ হয় ৭টা ২৬ মিনিটে।

এর আগে, সকাল থেকেই মাস্ক পরে মুসল্লিরা দলে দলে বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাতে অংশ নেয়ার জন্য যোগ দেয়। নির্ধারিত সময় সকাল ৭টায় নামাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৭টা ৮ মিনিটে।

মসজিদে ঢোকার আগে আগতদের মাস্ক চেক করে গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। নামাজের জন্য মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে বসতে দেখা যায়। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ হচ্ছে না।

এদিকে, গত ১৪ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঈদের জামাত নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। প্রত্যেকে মুসল্লি নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু ও বৃদ্ধসহ অসুস্থ ব্যক্তি বা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নেবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

মন খারাপের দিনগুলোতে নবীদের জীবন থেকে শিক্ষা

জীবন ফুলশয্যাময় নয়। সুন্দর এ পৃথিবীতে কেউ চিরসুখী নয়। কারণ দুনিয়া প্রকৃত সুখ ও ভোগের জায়গা নয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে কষ্টনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আল-বালাদ, আয়াত : ৪)

কারো আনন্দ-শোক বা হাসি-কান্না তার আয়ত্তাধীন নয়। এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। তিনিই কারণ সৃষ্টি করেন এবং কারণাদিকে ক্রিয়াশক্তি দান করেন। তিনি ইচ্ছা করলে মুহূর্তের মধ্যে ক্রন্দনকারীর মুখে হাসি ফোটাতে পারেন এবং হাস্যরতদের কাঁদিয়ে দিতে পারেন। জীবনের ভাঙা-গড়ার এ দর্শন যে উপলব্ধি করতে পারে, সাময়িক আনন্দকে সে চূড়ান্ত জ্ঞান করে না। সুখ ও ভোগে গা ভাসিয়ে দেয় না। আবার দুঃখের দিনে আশাহত হয় না। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। আসুন, নবীদের জীবনের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিই।

১. আপনি অবরুদ্ধ, ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। মন ভীষণ খারাপ? কত দিন ধরে? তিন মাস? চার মাস? এক বছর? আপনি কি জানেন আমাদের প্রিয় নবী (সা.) তিন বছর পর্যন্ত শুআবে আবু তালেবে কাফিরদের দ্বারা অবরুদ্ধ-বেষ্টিত ছিলেন। একসময় খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। এমনও হয়েছে, তিনি ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা খেয়েছেন। আপনার দুঃখ-কষ্ট কি এর চেয়েও বেশি?

২. যখন রক্তসম্পর্কীয় কেউ আপনার সঙ্গে প্রতারণা করে, ভেঙে পড়বেন না। মনে রাখবেন, ইউসুফ (আ.) নিজ ভাইদের দ্বারা প্রতারিত ও গভীর কূপে নিক্ষিপ্ত হয়েও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

৩. মাতা-পিতা থেকে কষ্ট পেলে মন খারাপ করবেন না। ইবরাহিম (আ.) নিজ পিতার দ্বারাই আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।

৪. ঘোর বিপদে চারদিকে অন্ধকার দেখলেও হতাশ হবেন না। ইউনুস (আ.) সাগরে মাছের পেটের অন্ধকার প্রকোষ্ট থেকেও উদ্ধার হয়েছিলেন।

৫. আপনার বিরুদ্ধে অপবাদ ও গুজব রটলে ভেঙে পড়বেন না। আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধেও অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করেছেন।

৬. তীব্র অসুস্থতায় হতাশ হবেন না। আইয়ুব (আ.) আপনার চেয়ে হাজার গুণ বেশি অসুস্থ ছিলেন। পরে তিনি সুস্থ হয়েছেন।

৭. যখন আপনি নির্জন ও একাকিত্বে ভোগেন, ভেঙে পড়বেন না। আদম (আ.)-কে, প্রথমে একাকী সঙ্গীবিহীন সৃষ্টি করা হয়েছিল। অথচ তিনিই এ পৃথিবীকে আবাদ করেছেন।

৮. পরিবার ও সন্তানকে সৎপথে আনার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলেও হতাশ হবেন না। চেষ্টা চালিয়ে যান। নুহ (আ.) সাড়ে নয় শ বছর দাওয়াত দিয়ে মাত্র ৮০ জনকে হেদায়েতের পথে আনতে পেরেছিলেন। কিন্তু তিনি তো আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবেন।

৯. মানুষ আপনাকে নিয়ে বিদ্রুপ করলে ভেঙে পড়বেন না। আমাদের নবীসহ যুগে যুগে সব নবীকে নিয়ে অজ্ঞ ও অবিশ্বাসীরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল, কিন্তু পরিশেষে নবীরাই সফল হয়েছেন।

১০. একের পর এক বিপদে হতাশ হবেন না। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বেশি বেশি পরীক্ষায় ফেলেন। নবী-রাসুলদের তিনি সর্বাধিক পরীক্ষা করেছেন। পরিশেষে তাঁদের উদ্ধার করেছিলেন।

কাজেই আসুন, আমরা আল্লাহমুখী হই, সব দুঃখ মুছে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

এ বছর হজ করতে পারবে সর্বোচ্চ ১ হাজার জন

করোনাভাইরাস সংকটের কারণে এবার সীমিত পরিসরে হজ হবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরের দিন লোকসংখ্যাও নির্ধারণ করে দিলো সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হজ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এবার সর্বোচ্চ ১ হাজার জন হজ পালনে অনুমতি পাবেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদেরকে সৌদি আরবের হজ মন্ত্রী মোহাম্মাদ বেনতেন এ তথ্য দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

তিনি বলেন, “সংখ্যাটা হবে ১,০০০ জনের মতো। এর কমও হতে পারে, এর চেয়ে কিছু সংখ্যক কম হতে পারে।”

“এ বছর হাজিদের সংখ্যাটা কোনোভাবে এক হাজারের বেশি হবে না।”-যোগ করেন বাতেন। তবে যাদের হজ পালনের সুযোগ দেওয়া হবে তাদের কিভাবে নির্বাচন করা হবে এ ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়াহ জানান, জুলাইয়ের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় এবারের হজে যাদের অনুমতি দেওয়া হবে তাদের বয়স ৬৫ বছরের নিচে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

পবিত্র মক্কায় পৌঁছানোর আগে হাজিদের করোনাভাইরাস টেস্ট করা হবে। হজ শেষে ফিরে যাওয়ার পর তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

প্রতি বছর কুরবানির ঈদের সময় প্রায় সোয়া কোটি মুসলমানদের অংশগ্রহণে সৌদি আরবে পালিত হয় ইসলাম ধর্মের অন্যতম ‘ফরজ’ হজ।

সোমবার হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, করোনা মহামারির কারণে এবারের বছর বৃহৎ পরিসরে হজ আয়োজন হবে না।

করোনা সংকটের কারণে মার্চে ওমরাহ হজসহ মক্কা-মদিনায় অনেক ধর্মীয় কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সৌদি আরব। বার্ষিক হজের পরিকল্পনা না নিয়ে ধৈর্য ধরতে মুসলিম উম্মার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল দেশটির হজ কর্তৃপক্ষ।

করোনা মহামারির কারণে এবার সৌদি আরবে জনসমাগম করে ঈদের জামাতও অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় এরই মধ্যে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস আক্রান্তে অন্যতম সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি। প্রাণ গেছে ১ হাজার ৩০৭ জনের।

এবিএন/মমিন/জসিম

এবার হজে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশিদের

সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিরা ছাড়া অন্য কেউ এবার হজ পালন করতে পারবেন না। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ এবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এবার হজে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশিদের।

বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর অনেক মানুষ হজ পালন করতে যান। বাংলাদেশ থেকে ২০২০ সালে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হজে যাওয়ার কোটা ১ লাখ ৩৭ হাজার।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত খুবই সীমিত সংখ্যক মানুষ এবার হজ পালনের সুবিধা পাবেন।

প্রতি বছর হজ মৌসুমে আনুমানিক প্রায় ২০ লাখ মানুষ হজ পালন করেন।

এর আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার হজ বাতিল করতে পারে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মুসলমানদের জন্য হজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সৌদি আরবে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের সীমিত সংখ্যক মানুষ নিয়ে এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন।

একমাত্র এভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে কর্তৃপক্ষ বলছে।

সৌদি আরবে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩০৭ জন মানুষ মারা গেছেন।

এর আগে সুরক্ষার জন্য মার্চের শুরুতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন ও ধর্মীয় সব কর্মকাণ্ড বন্ধের বিরল ঘোষণা দিয়েছিল সৌদি আরব।

এর কয়েকদিন পর সৌদি নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্যেও ওমরাহ হজ সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। মসজিদে নামাজ পড়া এমনকি ঈদের জামাতের উপরেও বিধিনিষেধ ছিল।

একই সময়ে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে দেশটি। সেখানে বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি ছিল। সৌদি আরব মাত্র কয়েকদিন আগে দেশব্যাপী লকডাউন প্রত্যাহার করে।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হজ। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সামর্থ্য থাকলে এবং শরীর সুস্থ থাকলে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ অবশ্য পালনীয়। বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হজ করা যায়।

খবর বিবিসি