ড. মযহারুল ইসলামের ৯২তম জন্মদিন আজ

জহুরুল ইসলাম : দেশবরেণ্য লেখক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফোকলোরবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও আরও বহুগুণে গুণান্নিত প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলামের ৯২ তম জন্মদিন পালন হলো শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়। দেশবরেণ্য এই মহান ব্যক্তির জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে স্মরণ সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহবুবে ওয়াহিদ শেখ কাজলের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের মণিরামপুর বাজারে নিরালা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ফারুক সরকার, যুবলীগ নেতা আব্দুল আওয়াল, সাবেক ছাত্রনেতা নেসারুল হক, আহাদ খান রাসেল, মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য দেশবরেণ্য এই মহান লেখক ১৯২৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার চরনবীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উপজেলার তালগাছী আবু ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৫ সালে এসএসসি পাশ করেন। সিরাজগঞ্জ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচ এস সি পাশ করেন। এরপর রাজশাহী সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অনার্স নিয়ে বিএ ক্লাশে ভর্তি হন। ১৯৪৯ সালে অনার্স পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫০ সালে অনুষ্ঠিত বাংলা এম এ প্রিভিয়াস পরীক্ষায় এবং ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত এম এ ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একই সঙ্গে তিনি গোল্ড মেডেলিষ্ট এবং কালীনারায়ণ স্কলারের গৌরব অর্জন করেন।

১৯৫২ সালের প্রথম দিকে তিনি ঢাকা কলেজে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে মেধার ভিত্তিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদানের সুযোগ লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের গোড়ার দিকে মযহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সিনিয়র লেকচারার পদে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৩ সালে মযহারুল ইসলাম তাঁর দ্বিতীয় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন আমেকিার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ডিগ্রি অর্জনের পর এক বছর তিনি আমেরিকার শিকাগো ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করেন।

১৯৬৪ সালে দেশে ফিরে এসে বাংলা বিভাগের প্রফেসর এবং বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে প্রফেসর ইসলাম কলা অনুষদের ডীন নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর পদে আমন্ত্রিত হন। হার্ভার্ডের মেয়াদ শেষ হবার পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি এ্যাট বার্কলীতে কিছুদিন ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রফেসর মযহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালযের বাংলা বিভাগের অধ্যাপনা এবং সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশপাশি দেশে বিদেশে অসংখ্য সেমিনা সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণ করেন।

ডঃ মযহারুল ইসলাম তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা একাডেমীর প্রথম মহাপরিচালক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এছারাও পৃথিবীর বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক সচেতন প্রফেসর মযহারুল ইসলাম মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

দেশবরেণ্য এই মহান কবি, শিক্ষাবিদ, পন্ডিত, গবেষক আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফোকলোরবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রফেসর মযহারুল ইসলাম ২০০৩ সালের ১৫ নভেম্বর সকালে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ১’শ তাঁতি ও শ্রমিককে অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ


করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র তাঁতী ও শ্রমিকদের পাশে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ

কোভিট-১৯ মহামারির কারণে দেশের তাঁতশিল্পর কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ১’শ তাঁতি ও শ্রমিককে অর্থসহায়তা প্রদান করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ। বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতি ও শ্রমিকদের হাতে জনপ্রতি ২ হাজার ৫’শ টাকা করে অর্থসহায়তা প্রদান করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান প্রমূখ।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগ


শাহজাদপুর ১ যুগেও সংস্কার হয়নি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক

প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র মণিরামপুর-দ্বারিয়াপুর বাজার সংলগ্ন স্বল্প দৈর্ঘের আঞ্চলিক সড়ক গত ১ যুগ ধরে সংস্কার না করায় হাজার হাজার এলাকাবাসীকে নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শাহজাদপুর পৌর মার্কেট ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন মণিরামপুর থেকে দ্বারিয়াপুর কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘ্যরে এ সড়কটি সংস্কার না করায় এ সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার এলাকাবাসী প্রতিদিন চলাচলে করতে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। সংস্করের অভাবে সড়কে পঁচা কাঁদা-পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও পরিবেশকে দূষিত করলেও দেখার কেউ নেই।
এলাকাবাসী জানায়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসা সফল উপজেলা শাহজাদপুরের দ্বারিয়াপুর বাজারে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাটসহ বহুমূখী কারণে প্রতিদিন দ্বারিয়াপুর বাজার ও মণিরামপুর বাজার এলাকায় ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। প্রতিদিন লোকসমাগমের পাশাপাশি অসংখ্য রিক্সাভ্যান চলাচলের ফলে বাজার এলাকার প্রধান সড়ক দিয়ে এলাকাবাসীর হাটা চলাফের করাই অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ কষ্ট লাঘবে ও জনদুর্ভোগ এড়াতে অনেকেই পৌর মার্কেট ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনের এ আঞ্চলিক সড়কটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু, গত প্রায় ১ যুগেও আঞ্চলিক এ সড়কটির সংস্কার না করায় সেই কষ্ট ও দুর্ভোগ কমেনি; বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। এছাড়া এ সড়ক দিয়ে চলাচলে শাহজাদপুর সরকারি বিশ^বিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও আমজনতাকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শাহজাদপুর উপজেলা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বিনয় কুমার পাল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সমনের জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কার করা হলে পৌর এলাকায় যানজট কমবে এবং হাজার হাজার এলাকাবাসীর চলাচলে বিরাজিত দুর্ভোগ লাঘব হবে।’
অন্যদিকে, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন জানান, ‘ইউজিআইআইপি প্রকল্পের থ্রি ফেজে ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক ওই সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।’

এলাকাবাসীর সাধুবাদ- বন্যার্তদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ


শাহজাদপুরে বন্যার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালো র‌্যাব-১২

রোববার (২৩ অাগষ্ট) দুপুরে র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-১২ এর উদ্যোগে শাহজাদপুরে দেড়শ বন্যার্ত পরিবারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের সার্বিক তত্তাবধানে শাহজাদপুর উপজেলার ভাটপাড়াসহ যমুনা তীরবর্তী দেড়শ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। এতে গুরুত্ব পায় এলাকার নানা বয়সী প্রতিবন্ধীরা। তাদের হাতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন এলিট ফোর্স র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা।
ভাটপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ আব্দুল জলিল এই খাদ্য সামগ্রী উপহার পেয়ে র‌্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এবারের বন্যায় খুব কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বাধের উপর আশ্রয় নিয়েছিলাম। কোন সহায়তা পাইনি। র‌্যাব ভাইয়েরা আমাদের ডেকে নিয়ে অনেক কিছু দিলেন। তারা যেমন দেশকে নিরাপদ রাখতে ভুমিকা পালন করছে। আবার বিপদে আমাদের মত মহা অসহায়দের পাশে দাঁড়াছে। তারা এভাবেই যেন ভালবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয় ও দেশসেবায় নিয়োজিত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বন্যায় গত কয়েক মাসে র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের উদ্যোগে বন্যা দুর্গত বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ, কাজিপুর, এনায়েতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমান খাদ্য সামগ্রী বন্যা দুর্গত অসহায় কয়েক সহ¯্রাদিক পরিবারের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি এমন মানবিক উদ্যোগ নেয়ায় র‌্যাব-১২ সদস্যদের সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে বন্যার্তরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ এখনো হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে দীপু মনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনই মুছে ফেলা যায়নি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর হারুন অর রশীদ। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি করেন বক্তারা।

ভাঙনের হুমকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নদীর চরিত্র বুঝতে হবে। জেনেশুনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। সব জায়গায় সবকিছু নির্মাণ করা যাবে না। ভাঙনের হুমকির মুখে থাকা নদীর পাড়ে নির্মিত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা অবিলম্বে সরিয়ে নিন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনির্ধারিত আলোচনাকালে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা শেরে বাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তন থেকে একনেক বৈঠকে অংশ নেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, আমরা যে নদীর পাড়ে ঘরবাড়ি বানাই, তখন কি আমরা চিন্তা করি কোথায় বানাচ্ছি? বানিয়ে চলে গেলেন, নদী ভেঙে নিয়ে গেলো। এটা ঠিক না। নদীর চরিত্র বুঝতে হবে। জেনেশুনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব জায়গায় সবকিছু নির্মাণ করা যাবে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুন্সিগঞ্জে টিনের বাড়ি দোতলা দেখা যায়। সুন্দর সুন্দর একতলা, দোতলা। কারণ তারা পদ্মার পাড়ে বাস করতো। পদ্মা ভাঙার সময় আসলে তারা উঠিয়ে আরেক জায়গায় বসিয়ে দিতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপনারা মডেল ডেভেলপ করেন। স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কলেজ যেগুলো হুমকির সম্মুখীন, সেগুলো আমরা যেন তাড়াতাড়ি সরিয়ে নিতে পারি। যাতে করে গোটা বিল্ডিং না খেয়ে ফেলে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে।

আজকের বৈঠকে নদী ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক প্রশস্তকরণ, সেতু নির্মাণ, মাছ আহরণ, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার বিষয়সহ নতুন সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এসব প্রকল্পে।

কানাডায় নতুন হাই কমিশনার শাহজাদপুরের সন্তান ড.খলিলুর রহমান

কানাডায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তিনি বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচের (পররাষ্ট্র) ক্যাডার। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও করোনাভাইরাস সেলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তিনি দিল্লি ও জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. খলিলুর রহমান। এছাড়াও তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) লিয়েনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে ছিলেন।

ড. খলিলুর রহমান পাবনা জেলা স্কুল থেকে এসএসসিতে রাজশাহী বোর্ডে এ প্লেস অর্জন করেন ও কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর খলিলুর রহমান প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ওপর মাস্টার্স ও এমফিল করেন। তিনি জনস্বাস্থ্যের ওপর দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অতিরিক্ত সচিব ও কানাডা অনুবিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ড. খলিলুর রহমানকে কানাডায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বর্তমান হাইকমিশনার মিজানুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

তিনি ১৯৬২ সালে ৩১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটী ইউনিয়নের ভুলবাকুটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৫ ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ড. খলিলুর রহমান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।

একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভীড়


শাহজাদপুরে ২২ বছর কারাভোগের পর সাবেক ছাত্রনেতা সবুজের মুক্তি

একটি মামলায় দীর্ঘ ২২ বছর কারাভোগের পর রোববার (১৬ আগষ্ট) সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারস সম্পাদক, ৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, শাহজাদপুর রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রিয় মুখ মোঃ আমির হোসেন সবুজ। সাবেক এই ছাত্রনেতা এদিন মুক্তি পেয়ে নিজ জন্মভূমি শাহজাদপুরে এসে পৌছলে তাকে এক নজর দেখার জন্য শতশত জনতা ভীড় জমায়। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রনেতা আমির হোসেন সবুজ বলেন, ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি মিথ্যা মামলায় ২২ বছর আমাকে কারাভোগ করতে হলো। তার পরেও আমার জন্মভূমি শাহজাদপুরের পবিত্র মাটিতে ফিরে আসতে পেরেছি, তাতেই আমার জীবন ধন্য।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা মাদক হতে দুরে থাকুন, মাদককে পরিহার করুন, সুস্থ্য থাকুন, আপনার পরিবার পরিজনকে ভাল রাখুন, শাহজাদপুর বাসীকে ভাল রাখুন এ প্রত্যাশাই করি।

১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি বনানীতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট অন্যান্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ শ্রদ্ধা জানান তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে বনানী কবরস্থানে মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে নিহত অন্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১৫ আগস্টে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন শেখ হাসিনা।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর তিনি এ মহান নেতার প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে ১৫ আগস্টে নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়

এরপর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।

এদিকে, মহান এ নেতার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের অন্যান্য নিহতের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর আর নেই

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর৷ শিল্পীর পারিবারিক বন্ধু আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এমআইসিইউ) ভর্তি করা হয় মুর্তজা বশীরকে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মুর্তজা বশীরের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান তিনি। একই কাজে স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের ‘দেয়াল’, ‘শহীদ শিরোনাম’, ‘পাখা’, ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামের চিত্রকর্মগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পেইন্টিং ছাড়াও ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন মুর্তজা বশীর। মুদ্রা ও শিলালিপি নিয়ে গবেষণা করেছেন, বইও লিখেছেন ৮৮ বছর বয়সী এ বরেণ্য চিত্রশিল্পী।