শাহজাদপুরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চান ইউটিউবার শাহরিয়ার

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের নাম মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। তবে এখানে ঘুরে দেখার মতো আকর্ষণীয় অনেক জায়গা রয়েছে সেটি অনেকেই জানেন না। শাহজাদপুরের ছেলে শাহরিয়ার সাজন ইতিমধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা। তিনি চান তার জন্মস্থানকে পর্যটনস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে।

শাহরিয়ারের ভ্রমণ জীবনের শুরু, শাহজাদপুর নিয়ে তার পরিকল্পনা ও ভালো লাগা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন শাহজাদপুর ডট কমের সঙ্গে-

ভ্রমণের শুরু কীভাবে?

ছোটবেলা থেকেই আমি ভীষণ চঞ্চল প্রকৃতির ছিলাম। ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগতো সব সময়। সুযোগ পেলেই পরিবারের সাথে বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে যাওয়া হতো। তখন থেকেই ভ্রমণের প্রতি ভালোবাসার জন্ম। নেশা খুব ক্ষতিকর, কিন্তু ভ্রমণ এমনই এক নেশা যা কখনো কোনো মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে না। ভ্রমণ করতে আমার পরিবারের সবাই অনেক ভালোবাসে। মূল অনুপ্রেরণা আসলে তাদের থেকেই পাওয়া। সেই সময় ফিল্ম ক্যামেরার যুগ ছিলো। মানুষের হাতে হাতে মুঠোফোন তখন ছিলো না। মাঝে মাঝে অ্যালবাম বের করে যখন ভ্রমণের ছবিগুলো দেখতাম তখন সেই সময়টাতে যেন আবার ফিরে যেতাম। যুগের সাথে সাথে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটেছে। এখন অনেক উন্নত মানের গ্যাজেটস আইটেমস বা ভালো মানের ক্যামেরা, মোবাইল কমবেশি সবার কাছেই আছে। তাই ভ্রমণের স্মৃতিগুলো আরো ভালোভাবে সংরক্ষণে রাখতেই মূলত ইউটিউবে আসা। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার ভ্রমণ ভিডিও মাঝে মাঝে মন চাইলে আমিই শুধু দেখবো অন্য কেউ দেখে সেগুলো এতো উপভোগ করবে তা কল্পনাও করিনি। কিন্তু একটা সময় যখন দেখলাম মানুষ এগুলো দেখে বেশ উপভোগ করছে এবং সুন্দর সুন্দর কমেন্টস করছে, তখন থেকে ইউটিউবিং এ আরো সিরিয়াস হই আর সেই থেকে শাহরিয়ার আফিসিয়াল নামে চ্যানেলটি পরিচিতি পায়।

 

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

আমার বেড়ে ওঠা শাহজাদপুরেই। মানুষের জীবনে চাঞ্চল্যকর যে সময়টি থাকে মানে ছোটবেলা সেটা এখানেই কেটেছে। ক্লাস ৫ পর্যন্ত এখানে পড়ার পর ঢাকায় চলে আসা। তারপর ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা।

শাহজাদপুরে দেখার মতো আকর্ষণীয় জায়গা ও এখানকার বাণিজ্য নিয়ে কিছু বলুন-

শাহজাদপুরের বিশেষ একটি ব্যাপার হচ্ছে এখানে যদি কেউ ঘুরতে আসে তাহলে একসাথে অনেকগুলো জায়গা দেখার সুযোগ পাবে। যেমন- শাহ মখদুম মাজার, রবীন্দ্রনাথের কাছারি বাড়ি, বাঘাবাড়ি সি-পোর্ট, বেলকুচির আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ, হাবিবুল্লাহ বাবার মাজার, করতোয়া নদীতে নৌ-ভ্রমণ, মিল্কভিটা, রেশমবাড়ি সহ আরো বেশ কিছু জায়গা তবে সেগুলোর নাম এখন বলবো না তাহলে ভিডিওর সারপ্রাইজটা নষ্ট হয়ে যাবে।


আমি জন্মের পর থেকেই দেখেছি আমার বাবা-দাদা সবাই কাপড়ের ব্যবসায়ী এবং আমাদের নিজস্ব কাপড়ের ফ্যাক্টরি “প্রথম আলো শাড়িঘড়” বেশ নামকরা ছিলো। তবে সময়ের সাথে সাথে তাঁতশিল্প এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। অনেকটাই বিলুপ্তর পথে। তাঁত বুনানোর সময় যে শব্দ হয় সেটা আগে প্রায় প্রতিটা অলিগলিতেই পাওয়া যেতো কিন্তু এখন হাতে গোনা কয়েকটি জায়গা ছাড়া আর পাওয়া যায় না। সপ্তাহে দুই দিন এখানে কাপড়ের হাট বসে। এখনও এটি শাহজাদপুরের ঐতিহ্যকে বহন করে। প্রতি হাটেই শত শত মানুষের ভিড় জমে এবং দূর দূরান্ত থেকেও তাঁতের শাড়ি,লুঙি কিনতে বা বিক্রি করতে এখানে মানুষ আসে।

ঢাকা থেকে শাহজাদপুরে কীভাবে আসা যায়?

দুইভাবে ঢাকা থেকে শাহজাদপুরে আসা যায়। এক, আরিচাঘাট হয়ে, দুই, সিরাজগঞ্জ রোড হয়ে। আরও কয়েকভাবে আসা যায় (শর্টকাট রাস্তা) তবে সেটি সবার জন্য আরামদায়ক নাও হতে পারে।

উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শাহজাদপুরে মত বিনিময়

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা পৌর সদরের শক্তিপুর নুরজাহানে বৃহস্পতিবার দুপুরে যুব সমাজের সাথে মত বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য সুমগ্ন করিম। সুমগ্ন করিম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতার একমাত্র সন্তান।

সুমগ্ন করিম বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য একটি সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। বর্তমান সরকার পদ্মা সেতু, কর্নফুলি টানেল, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল সহ যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তাতে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হবে ইনশাআল্লাহ। এসব মেগা প্রকল্পের মুল লক্ষ হল গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। এজন্য সবাইকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতার সভাপতিত্বে ও মনিরুল গনি চৌধুরী শুভ্রর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহবুবে ওয়াহিদ শেখ কাজল, নরিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রী, মুকুল আজাদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ফারুক হাসান কাহার, শফিকুল ইসলাম, আশিক, সুব্রত, মিলন প্রমুখ।

মতবিনিময় শেষে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর লেখা বিভিন্ন বই তরুনদের মাঝে বিতরন করা হয়।

 

উল্লাপাড়ায় করোনায় মৃত মায়ের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত ২ সন্তান

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স

সিরাজগঞ্জর উল্লাপাড়া পৌরসভা এলাকার পশ্চিমপাড়া মহল্লায় করোনায় মৃত গৃহবধূ আলেয়া খাতুনের সংস্পর্শে থাকা ছেলে রবিউলের (২২) নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পরেছে। আর মেয়ে লিজা (২০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জ বাকবাটি কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অপর ৩ জনের নেগেটিভ এসেছে।

জানা যায়, করোনায় মৃত আলেয়াকে গোপনে কবরস্থ করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গত ৫ মে আলেয়ার স্বামী, সন্তান ও নাতিসহ পরিবারের ৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পরীক্ষার ফলাফলে আলেয়ার ছেলে রবিউলের করোনা পজেটিভ এবং অপর ৩ জনের নেগেটিভ এসেছে। লিজা ও রবিউল দুজনেই সিরাজগঞ্জ বাকবাটি কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

অপরদিকে, উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামের হযরত আলী এবং পুলিশ সদস্য রাকিবুলের নমুনায় গত ২১ এপ্রিল করোনা পজেটিভ ধরা পড়ায় হযরত আলী হোম কোয়ারেন্টাইনে ও পুলিশ সদস্য রাকিবুলেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসলেসনে রাখা হয়। ১৮ দিন পর এদের দুই জনের নমুনা নিয়ে পুনঃরায় পরীক্ষা করলে ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আলামিন জানান, ডাক্তার ও পুলিশসহ আরো ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফলে তাদেরও নেগেটিভ এসেছে।

রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য, জাতীয় মঞ্চ ও মিউজিয়ামের দাবীতে মানববন্ধন

শামছুর রহমান শিশির, ঢাকা থেকে : আজ ৭ই মার্চ (বুধবার) দুপুরে জাতীয় রেসকোর্স ময়দান সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটি’র উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের একদল মুজিব সৈনিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ও টিএসসি চত্বরে পূর্ব ঘোষিত ৩ দফা দাবী আদায়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র জনসভায় লিফলেট বিলি করেছেন। দাবীগুলো হলো, (১) ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের যে স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই স্থানে বঙ্গবন্ধু’র স্বর্ণের ভাষ্কর্য তৈরি, (২) ১৯৭১ সালে রেসকোর্সের ৭ই মার্চের মঞ্চস্থলে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় মঞ্চ’ নির্মাণ, এবং (৩) সেই স্থানে বঙ্গবন্ধু’র নামে একটি মিউজিয়াম নির্মাণ।”
জাতীয় রেসকোর্স ময়দান সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি, সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল হাসান হিরোক ও কমিটির সাধারণ সম্পাদক, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সফল সাবেক জিএস আরিফুল ইসলাম পলাশ জানান, “হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যে স্থানে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণপূর্বক সেখানে বঙ্গবন্ধুর স্বর্ণখচিত ভাষ্কর্য, বঙ্গবন্ধু জাতীয় মঞ্চ ও বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম নির্মাণের ৩ গণদাবী পূরণ ও বাস্তবায়নে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। দেশের গণমানুষের, মুজিব সৈনিকদের ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির প্রানের এ ৩ দাবী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমীপে গত বছরগুলোর মতো গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের পক্ষ থেকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লার মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,বাঙালি সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য দর্শণা পৌরসভার মেয়র ও দর্শণা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান,সংগঠনের অন্যতম সদস, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, সংসদ গ্যালারী ২৪ ডটকম পত্রিকার সম্পাদক আসাদুল্লাহ তুষার, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবলীগ নেতা মীর আব্দুস সবুর খান, সহ-সভাপতি, শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জ্বল হোসেন মোফা, কৈজুরী ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি হারুনর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর বস্ত্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবুজ হোসেন রাজা, শাহাদৎ হোসেন, আবদুল ব্যাপারী, নাজমুল, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মোহাইমেন আজমল অন্তুসহ সংগঠনের সদসবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

“এটি অন্যায়, দূর্বৃত্যায়ন, অপসংস্কৃতি”

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ৪৪ বছর পুর্তি হবে। ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। এর মাঝে নানা চড়াই উৎরাই করে আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধীনত্বা দিবসের ৪৩ বছর পার হয়ে গেছে। বাংলাদেশ নামক এ স্বাধীন ভূখন্ডে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির জীবনমানের পরিবর্তন তথা দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও শিক্ষা-সাংস্কৃতিক উন্নয়ণ কতটুকু ঘটেছে ? এ প্রশ্নে প্রজন্ম পর প্রজন্ম কি ভেবেছে এর সমাধানে তারা কি পদক্ষেপ গ্রহন করেছে ? এ বিষয়ে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয় না। অতীত ইতিহাসের নানা কর্মকান্ড থেকে শিক্ষা গ্রহন করাই জ্ঞানীর কাজ। য়ে আশা আকাংখা ও চেতনা নিয়ে বাঙ্গালি জাতি জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে ৩০ লাখ মানুষের আত্মাহুতি ও ২ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বিজয় অর্জন করেছিল। সেই আকাংখা ও চেতনার সাথে সঙ্গতি রেখে রচিত হয়েছেল দেশের সংবিধান। এই সংবিধানে ৪ টি মৌলিক কাঠামো রচিত হয়েছিল। এর একটির নাম ‘গণতন্ত্র’- দ্বিতীয় হলো-‘সমাজতন্ত্র’ – তৃতীয়টি ছিল ‘ধর্মনিরক্ষেতা’- চতুর্থ টি ছিল- ‘বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ’। জাতির সেই মুল আকাংখা ও চেতনার কতটুকু বাস্তবায়ন ঘটেছে এর হিসাব নিকাশ মিলিয়ে জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়ে এটাই নিয়ম। প্রজন্ম পর প্রজন্ম সেটাই করেট থাকে আমাদের দেশেও এর ব্যাতিক্র নেই। আমরা চিন্তার জগতে শিক্ষা সংস্কৃতিতে কতটুটু মানবীয় মূল্যবোধের জায়গায় অগ্রসর হতে পেরেছি এর ওপর নির্ভর করেই বিশ্বব্যপি পরিচিতি মিলবে আমাদের জাতীয় মানদন্ডের। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আামাদেরকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন দেশের ৪৩ বছর পার করার পর জনআকাংখার পরিপুরক এ ৪ মৌলিক কাঠামোর কোন অবস্থানে আমরা রয়েছি এর হিসেব-নিকেশ মিলিয়ে নেবার দায়িত্ব তৃতীয় প্রজন্মের। সবাই দেশ নিয়ে ভাবেন এটি যেমন ঠিকনা, তেমনি দেশ নিয়ে সামান্যতম চিন্তা করেন না এমন ব্যাক্তি খুঁজে পাওয়াও দুস্কর। আমরা একটি ভৌগলিক সীমারেখার গন্ডির মধ্যে বসবাস করলেও দেশের আলো-বাতাশ-মাটি, জলবাবু, প্রকৃতি-পরিবেশ, সমাজ-সংস্কৃতি, রাজনীতি-অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কোনরূপ বিরুপতা, অসাঞ্জস্যতা দেখা দিলেই দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির ওপর নানা ধরনের খারাপ প্রভাব ফেলে। খুব বেশী খারাপ হলে গৃহযুদ্ধের আশংকা দেখা দেয়। সমাজ টিকে থাকেনা। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ভঙ্গুরতা দেখা দেয়। সে কারনে জ্ঞানী ব্যাক্তিদের ভাবনায় সবসময় সত্যটা বলার চেষ্টা করে জণস্বার্থে রাষ্ট্রের স্বার্থে এটা কোন অপরাধ নয়। আমরা স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করে লক্ষপ্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা লাভ করেছি। জাতীর এই ত্যাগ ফেলনা নয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তি পরবর্তী ৪৪ বছর পুর্তিও উষালগ্নে তৃতীয় প্রজন্ম কি ভাবছে সেটাই বড় কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আমাদের রজনৈতিক ও অর্থনেতিক সংস্কৃতি হচ্ছে লুটপাটের। রাজনীতির নামে আমরা লুটপাট করছি। ভূমি দস্যূতায় লিপ্ত হয়েছি। সেবার নামে জনগনের সাথে অহরহ প্রতারণা করছি। নানা অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছি। যা পাচ্ছি আস্ত গিলে খাচ্ছি। চিবানোর সময় নেই। রাজনীতিবিদ-আমলা-ব্যবসায়ী সবাই মিলে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এটাই দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তোমরা ভোট দেবে আমরা চেটেপুটে খাবো।
photoএ বিষয়ে তৃতীয় প্রজন্ম কি ভাবছে ? এ প্রশ্নের আলোকে নানা কথামালা নিয়ে আমরা তৃতীয় প্রজন্মে চিন্তার কথা লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই। খাবার খেতে যেমন পাত্রের দরকার তেমনি লেখনি প্রকাশের জন্যও পাত্রের প্রয়োজন। এ পাত্র হিসেবে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে আমরা “শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম” নামক একটি পাত্রের ব্যবস্থা করেছি। এ ধরনের একটি ডিজিট্যাল পাত্র নিয়ে যিনি স্বার্থহীন ভাবে এগিয়ে এসেছেন তিনি হলেন, তিনি হলেন, মোঃ শরীফ সরকার। তার বাড়ী প্রত্যন্ত অঞ্চল শাহজাদপুর উপজেলার চরবেলতৈল গ্রামে। ঐ গ্রামের আবু হেনা সরকারের যোগ্য সন্তান তিনি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসুরি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনা বাস্তবায়নে তিনি কাজ শুরু করেছেন। তার মুল বক্তব্য হলো, দেশব্যাপী তৃতীয় প্রজন্ম মুক্তি ও স্বাধীনতা প্রশ্নে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। তারা বলছে- বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। এটি অন্যায়, দূর্বৃত্যায়ন, অপসংস্কৃতি ।

প্রধান সম্পাদক