দেশে প্রথমবারের মতো ২ প্রিমিয়াম ল্যাপটপ আনলো হুয়াওয়

বৈশ্বিক বাজারে দারুণ সাফল্যের পর বাংলাদেশের বাজারে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির দুইটি ল্যাপটপ আনার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

শনিবার (৮ আগস্ট) এক অনলাইন ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হুয়াওয়ে মেটবুক ১৩ ও মেটবুক ডি ১৫ বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ দিন থেকে মেটবুক ১৩ ও মেটবুক ডি ১৫ এর প্রি-বুকিং শুরু হয়ে চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত।

হুয়াওয়ে মেটবুক ১৩ এর প্রি-বুকিংয়ে উপহার হিসেবে থাকবে হুয়াওয়ে ফ্রিলেস ও ব্যাকপ্যাক এবং হুয়াওয়ে মেটবুক ডি ১৫ এর প্রি-বুকিংয়ে উপহার হিসেবে মিলবে হুয়াওয়ে ফ্রিলেস ও মিনি স্পিকার।

বাংলাদেশের বাজারে হুয়াওয়ে মেটবুক ১৩ এর দাম পড়বে ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। হুয়াওয়ে মেটবুক ডি ১৫ কিনতে পাওয়া যাবে ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকায়। রায়ান্স কম্পিউটারস, স্টারটেক ছাড়াও হুয়াওয়ের নির্দিষ্ট কিছু শো-রুম থেকে ল্যাপটপ দু’টি কিনতে পাওয়া যাবে এবং প্রি-বুকও করা যাবে।

অনলাইন ব্রিফিংয়ে হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্রুপের (বাংলাদেশ) জিটিএম ডিরেক্টর ঝেং বেনইয়াং বলেন, আমাদের অল-সিনারিও স্ট্র্যাটেজির ক্ষেত্রে নোটবুক প্রাইমারি স্ক্রিন হিসেবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্মার্ট ডিভাইস ও ল্যাপটপের আন্তঃসংযোগের ফলে গ্রাহকরাও সত্যিকার অর্থেই অনবদ্য ইউজার অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে নিয়ে আসা হুয়াওয়ে মেটবুক ১৩ ও মেটবুক ডি ১৫ ল্যাপটপ দু’টি ডিজাইন, ডিসপ্লে এবং পারফরমেন্সে গ্রাহকদের সুন্দর অভিজ্ঞতা দেবে।

হুয়াওয়ে মেটবুক ১৩ এবং হুয়াওয়ে মেটবুক ডি ১৫ মডেলের প্রিমিয়াম ল্যাপটপ দু’টি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে।

হুয়াওয়ে মেটবুক ১৩ ল্যাপটপটিতে মাল্টিটাচ স্ক্রিনসহ ১৩ ইঞ্চির ফুলভিউ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ২কে রেজ্যুলেশনের ভিউ পাওয়া যাবে। ১৬ জিবি র‌্যামের এ ল্যাপটপটিতে ১০ম জেনারেশনের কোর আই ফাইভ সিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে ৫১২ জিবির স্টোরেজ।

মেটবুক ১৩ ল্যাপটপটি ১৪.৯ মিলিমিটার পাতলা এবং ১.৩ কেজি ভারী। ব্যবহার করা হয়েছে কুইক চার্জিং প্রযুক্তি। মেটাল চেসিসের এ ল্যাপটপটির স্ক্রিন টু বডি অনুপাত রাখা হয়েছে ৮৮ শতাংশ। রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

অপরদিকে ৮ জিবি ডিডিআর ফোর র‌্যামের মেটবুক ডি ১৫ ল্যাপটপটিতে ১ টেরাবাইট ও ২৫৬ জিবির স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এএমডি রাইজেন ৫ ৩৫০০ ইউ মডেলের প্রসেসর।

হুয়াওয়ে মেটবুক ডি ১৫ ল্যাপটপটি ১৬.৯ মিলিমিটার পাতলা এবং ১.৫৩ কেজি ভারী। এতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়ার বাটন ও কুইক চার্জিং প্রযুক্তি। ১৫.৬ ইঞ্চির ফুলভিউ ডিসপ্লের ল্যাপটপটিতে রয়েছে ১৯২০ ও ১০৮০ রেজ্যুলেশন। এর স্ক্রিন টু বডি অনুপাত রাখা হয়েছে ৮৭ শতাংশ।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

টানা ৩৪ দিন চার্জ সুবিধার ‘হট ৯ প্লে’ মোবাইল এখন বাজারে

একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ৩৪ দিনের বেশি থাকবে ‘হট ৯ প্লে’ স্মার্টফোনটিতে। ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির এ মোবাইলটি বাজারে এনেছে ইনফিনিক্স।

প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (৫ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘হট ৯ প্লে’ মডেলের ফোনটিতে থাকছে ৬.৮২ ইঞ্চির সিনেমেটিক ডিসপ্লে, যা দেবে দুর্দান্ত ভিউইং অভিজ্ঞতা। স্মার্টফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ১০ এর সঙ্গে এক্সওএস৬ ব্যবহার করা হয়েছে।

চমৎকার ফটোগ্রাফির জন্য স্মার্টফোনটির সামনে ফ্ল্যাশলাইটসহ ৮ মেগা পিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা এবং পেছনে ট্রিপল এলইডি ফ্ল্যাশলাইটসহ ১৩ মেগা পিক্সেলের এআই লেন্স যুক্ত করা হয়েছে।

শক্তিশালী ব্যাটারিটি একবার সম্পূর্ণ চার্জ করে নিলে ৩৪ দিনেরও বেশি স্ট্যান্ডবাই থাকবে। সিনেমেটিক ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি অধিকক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় গ্রাহকদের দেবে মুভি, গেমিং ও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে দুর্দান্ত ভিউইং অভিজ্ঞতা।

বুধবার (৫ আগস্ট) অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজে নতুন এ স্মার্টফোনটিতে উন্মোচন করা হয়েছে। ৪ জিবি/৬৪ জিবি ডেডিকেটেড মাইক্রো এসডি কার্ডের সংস্করণটির মূল্য ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৯৯০ টাকায়। এছাড়া ২ জিবি/৩২ জিবির সংস্করণটির মূল্য ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৯৯০ টাকা। আগ্রহী গ্রাহকরা দারাজে ৮ আগস্ট ১৪ আগস্টের মধ্যে প্রি-বুকিং করতে পারবেন।

ইনফিনিক্স বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং মনজুরুল কবির এ বিষয়ে বলেন, ফোনটি বাজারে আনতে পেরে আমরা আনন্দিত। কারণ এটি বাংলাদেশের গ্রাহকদের এই দামের মধ্যে বাজারে থাকা অন্য ফোনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

টাকা লাগতে পারে টুইটার ব্যবহারে

টাকা লাগতে পারে টুইটার ব্যবহারে

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝে সাবসক্রিপশন মডেল চালুর কথা ভাবছে টুইটার। এতে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করে সামাজিক যোগাযোগের এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক ডরসি সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠানের প্রান্তিক আয় জানানোর সময় সাবসক্রিপশন মডেল চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অর্থের বিনিময়ে টুইটার ব্যবহার করার একটি মডেলের এখনো প্রাথমিক অবস্থায় আছেন তারা।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্যাক ডরসি বলেন, ‘টেকসই আয় বাড়ানোর লক্ষ্য স্থির করেছি। আমাদের বিভিন্ন দিক থেকে আয় বাড়াতে হবে। তবে বেশি গুরুত্ব পাবে আমাদের বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিপূরক কোনো আয়ের পথ পেলে। আমরা সাবসক্রিপশনকে পরিপূরক মডেল হিসেবে দেখছি।’ ডরসি আরও বলেন, মানুষকে অর্থ দিয়ে টুইটার ব্যবহার করতে বললে একে তেমনই একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

তবে কবে নাগাদ এই সাবসক্রিপশন মডেল চালু হতে পারে, সে ব্যাপারে টুইটারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে ডরসি বলেছেন, এ বছরেই কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন তিনি। এই পরীক্ষা চালাতে ইতোমধ্যেই ছোট একটি দল তৈরি করা হয়েছে এবং এই দলের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

টুইটার সম্প্রতি চলতি বছরে তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিক, অর্থাৎ, এপ্রিল থেকে জুন মাসের আয়ের হিসাব ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে ৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। একই সময় টুইটারের বিজ্ঞাপন আয় কমেছে ২৩ শতাংশ।

এ ব্যাপারে টুইটার কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি তৈরির কাজ শেষ করেছে। এতে আরও দ্রুত টুইটারের উন্নয়নের কাজ করা যাবে। এছাড়া অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বেশ কিছুদিন ধরে নানা কর্মকাণ্ডে আলোচিত টুইটার। গত সপ্তাহজুড়ে প্রযুক্তি জগতে আলোচিত ঘটনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রথী-মহারথীদের টুইটটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা। প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মার্কিন ডলার হারিয়েছেন এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুসারীরা। হ্যাকড ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী জো বাইডেন।

ধনকুবেরদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, আমাজনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ও ধনকুবের মাইক ব্লুমবার্গ। আরও রয়েছেন টিভি তারকা কিম কার্ডাশিয়ান, তার স্বামী ও র‍্যাপ সংগীতশিল্পী কেনি ওয়েস্ট। একযোগে এই অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করা হয়েছে।

তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি অক্ষত রয়েছে। আরও তালিকায় রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও বিশ্বব্যাপী রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবারের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট। এই হ্যাকের ঘটনাটি তদন্ত করছে টুইটারের অভ্যন্তরীণ টিম।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সব ধরনের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করেছে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার। এ ব্যাপারে জ্যাক ডরসি বলেন, ‘যদিও ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তবে এটি রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি নিয়ে আসে। এই ধরনের বার্তা অর্জিত হবে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়োপোলিসে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার পর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘লুটপাট চালালে গুলি শুরু হবে’। টুইটটি সহিংসতায় উসকানিমূলক উল্লেখ করে টুইটার কর্তৃপক্ষ সেটি সতর্কবার্তা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে ‘সেন্টার অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে ‘সেন্টার অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’

তরুণদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘সেন্টার অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গবেষণা করে প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শুধু বাংলাদেশের সমস্যাই সমাধান করবে না, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মিলনায়তনে সোমবার অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জুনাইদ আহেমদ পলক এসব কথা বলেন। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনসহ আরো অনেকে।

ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার

ম্যাসেঞ্জারে যোগ হলো নতুন প্রাইভেসি ফিচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে দুটি নতুন প্রাইভেসি ফিচার চালু করা হয়েছে। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে ম্যাসেঞ্জার এখন অনেকটাই সুরক্ষিত- এমনটাই দাবি করেছে মার্ক জুকারবার্গের মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন ফিচারের একটির মাধ্যমে কে কে ব্যবহারকারীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যাবে। আর অপর ফিচারের মাধ্যমে মুঠোফোনের ম্যাসেঞ্জার অ্যাপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ অ্যাপলক ফিচার জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ম্যাসেঞ্জার যোগ করা অ্যাপলক ফিচারটি, মুঠোফোনের সিকিউরিটি লকের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করার ইন্টারফেস তৈরি করেছে ফেসবুক।

ব্যবহারকারীর ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসলক বা অন্যান্য সিকিউরিটি ব্যবহার করে প্রাইভেসি ফিচারটি ব্যবহারকারীর জন্য বাড়তি সুরক্ষা এনে দেবে। ফলে গ্রাহক ব্যতীত অন্য কেউ মুঠোফোনটি ব্যবহার করে ম্যাসেঞ্জার প্রবেশ করতে পারবে না।

ফিচারটি বর্তমানে আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের জন্য দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও এটি চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া ফেসবুকেও যোগ করা হচ্ছে আরও নতুন কয়েকটি প্রাইভেসি ফিচার। যার মাধ্যমে ফেসবুকের অ্যাপ্লিকেশনেও অ্যাপলক ফিচার, ব্লকিংয়ের আধুনিক ফিচারসহ আরও কয়েকটি ফিচার থাকবে।

ফিচারটি ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারী নিজে থেকে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন কার কল বা বার্তা আসবে এবং আসলেও কোথায় আসবে কিংবা আসবেই না।

এছাড়াও ম্যাসেঞ্জারে আরও একটি ফিচার নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ চলছে। ফিচারটির মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী Message Requests ফোল্ডারে আসা অপরিচিত জনের বার্তাগুলোর ছবি ব্লার বা ঘোল অবস্থায় দেখতে পাবেন। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিত কিংবা স্ক্যাম এড়াতে সুবিধাজনক হবে ব্যবহারকারীর জন্য।

বিশ্বের সব থেকে বড় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কাছে ২০০ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষা না দিতে পারার কারণে একাধিকবার সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। বিশেষত ‘ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা স্ক্যান্ডাল’র পরে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকের।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার ঘটনায় প্রায় ৮ দশমিক ৭ কোটি ব্যবহাকারীর তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করে ফেসবুক। এছাড়া গত বছর লক্ষাধিক ইন্সটাগ্রাম পাসওয়ার্ড প্লেইন টেক্সট হিসেবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা কিনা শুধু অ্যাকাউন্টের গ্রাহকের কাছে থাকার কথা। এমনকি ফেসবুক অনুমতি ছাড়াই ১৫ লাখের বেশি গ্রাহকের ই-মেইলের তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল কয়েক বছর ধরে।

পূর্ণাঙ্গ ইকো-সিস্টেম নিয়ে শক্ত অবস্থানের পথে ইভ্যালি

ঢাকা: ই-কমার্স ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ইকো-সিস্টেম নিয়ে দেশের বাজারে শক্ত অবস্থান অর্জনের পথে রয়েছে ইভ্যালি ডট কম ডট বিডি। প্রায় ৩৫ লাখ নিবন্ধিত গ্রাহক, ১০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিক্রেতা এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্য নিয়ে স্বনির্ভর মার্কেটপ্লেস হিসেবে গড়ে উঠছে দেশিয় প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়, বাংলাদেশের বাজারে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ইভ্যালি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা কিংবা আমাজনের মতো বাংলাদেশের বাজারে প্রতিষ্ঠিত এবং শক্ত অবস্থান অর্জন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ই-কমার্স ভিত্তিক ইকো-সিস্টেম তৈরির পথে ইভ্যালি কাজ করছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ইভ্যালি এক্সপ্রেস

করোনাকালের শুরুতেই বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটি চালু করে ইভ্যালি এক্সপ্রেস শপ। গ্রোসারি পণ্যের পাশাপাশি পরে এতে যুক্ত হয় মাছ, মাংস এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মতো পণ্যও। রাজধানী ঢাকার বাইরে ৩০টিরও বেশি জেলায় এবং কিছু কিছু জেলার ইউনিয়ন পর্যায়েও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে ইভ্যালি।

ইভ্যালি ফুড এক্সপ্রেস

পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সেবা চালুর অংশ হিসেবে ইভ্যালি নিয়ে আসে বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবা। ইভ্যালি ফুড এক্সপ্রেস বা ই-ফুডের মাধ্যমে রাজধানীর বিখ্যাত সব রেস্টুরেন্টের খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ই-ফুডের যাত্রা শুরুর প্রথম মাসেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রায় ৫০ হাজার ডেলিভারি সফলভাবে গ্রাহকদের অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ই-বাজার

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যেন ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে পণ্য কেনাবেচা করতে পারেন তার জন্য ই-বাজার নামক আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান চালু করেছে ইভ্যালি। আসছে ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু বিক্রেতারাও এখান তাদের পশু বিক্রি করতে পারবেন। কেনা-বেচার এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে বিনামূল্যে। গ্রাহক এবং বিক্রেতার উভয়ের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই পেমেন্ট পদ্ধতিও রাখা হয়েছে ই-বাজারে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার বার করে ডাউনলোড হচ্ছে অ্যাপটি।

ই-খাতা

ইকমার্স বা যেসব ব্যসায়ীদের ব্যবসায় এখন পর্যন্ত প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি তাদের জন্য ‘ই-খাতা’ নামক ইনভেনটরি এবং অ্যাকাউন্টিং সলিউশন রয়েছে ইভ্যালির। এর মাধ্যমে ই-কমার্সের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হতে পারবেন ট্র্যাডিশনাল ব্যবসায়ীরা। অটোমেশনের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য এবং লেনদেনের হিসাব রাখা যাবে ই-খাতায়। এতে কমবে ব্যবসা পরিচালন ব্যয়।

ইভ্যালি সম্পর্কে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমরা প্রযুক্তি নির্ভর, স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ই-কমার্স ইকো-সিস্টেম গড়ে তুলতে চাইছি। এটি হবে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে সব ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়া যাবে। আমাদের সঙ্গে এই মুহূর্তে বসুন্ধরা গ্রুপের টগি সার্ভিসেস, ওয়ালটন, স্যামসাং, এমআই, টিভিএস, বাজাজ, হোণ্ডা, পারটেক্স, ব্রাদার্স ফার্নিশার্স, বেঙ্গল গ্রুপের মতো স্বনামধন্য এবং জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড যুক্ত আছে। খাবার আইটেমের কথা বললে গ্লোরিয়া জিনস বাংলাদেশ, বিএফসি, সিক্রেট রেসিপি, শেফস টেবিল, কোকা কোলার মতো প্রতিষ্ঠানের খাবার ও বেভারেজ পণ্য সরবরাহ করছি। ফুড ডেলিভারি সেবা এবং ডেলিভারি বিভাগ ই-লজিস্টিক্সে স্থায়ী এবং ফ্রিল্যান্স ভিত্তিতে অন্তত তিন হাজার ‘ইভ্যালি হিরো’ তথা রাইডারের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিভিন্ন খাতের ওপর আলাদা আলাদা ওয়েব এবং স্মার্টফোনের জন্য অ্যাপ ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। ই-বাজার চালু হওয়ার মাত্র ১৬ দিনে ৬০ হাজার গ্রাহক এতে যুক্ত হয়েছেন। গেল জুন মাসের গুগল ট্রাফিক এবং ট্রেন্ডসের হিসাব মতে, বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ই-কমার্স সাইটগুলোর মধ্যে আমরাই এখন শীর্ষে। এই মাসে মোট ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৬ বার গুগলে ‘ইভ্যালি’ সরাসরি সার্চ করা হয়েছে। বিভিন্ন রেফারেল লিঙ্ক থেকে ইভ্যালি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫২৮ বার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ট্রাফিক এসেছে ১২ লাখ এক হাজার ৪১৬টি।

ব্যবসায়িক গ্রোথ এবং বিনিয়োগ নিয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমরা এই মুহূর্তে মাসে প্রায় ১০ লাখ অর্ডার নিয়ে কাজ করছি। ই-কমার্সে বিদেশি বিনিয়োগ আসতেই পারে। যেমন আমাদের ই-খাতায় ভারতের ‘খাতাবুক’ এর মতো গ্রোথ হতে পারে। জিও’তে যেমন ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আছে। আমরাও ইভ্যালিতে এমন বিদেশি বিনিয়োগ আশা করছি। ইতোমধ্যে আমরা দেশি-বিদেশি শীর্ষ এয়ারলাইন্স টিকিটিং পার্টনার এবং হোটেল চেইনগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। তবে প্রতিষ্ঠান দেশিয় না হলে টেলিকম খাতের মতো ই-কমার্স খাতও বিদেশিদের দখলে চলে যেতে পারে। আমরা দেশের জনগণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক সাহায্য পাচ্ছি। এখনই সময় দেশিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্ত অবস্থান অর্জনে আরও বেশি সমর্থন ও সাহায্য করার ।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নতুন ফোরজি পকেট রাউটার আনল গ্রামীণফোন

করোনাভাইরাস মহামারীকালে বাসায় বসে বা অফিসের বাইরে থেকে যাদের কাজ করতে হচ্ছে, তাদের সুবিধার জন্য গ্রামীণফোন বাজারে এনেছে চীনা কোম্পানি জেডটিইর তৈরি ফোরজি পকেট রাউটার।

গ্রামীণফোন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এমএফ৯২৭ইউ মডেলের এই পোর্টেবল রাউটারে প্রতি সেকেন্ডে ১৫০ মেগাবিট ডেটা ডাউনলিঙ্ক, ৫০ মেগাবিট আপলিঙ্ক করা যাবে। একসঙ্গে দশজন ব্যবহারকারী ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
২০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার/ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি থাকায় এ রাউটারে টানা ৮ ঘণ্টা কাজ করা যাবে বিদ্যুৎ সংযোগে যুক্ত না থেকেও। এ রাউটারে থাকছে দুই বছরের ওয়ারেন্টি, দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৯ টাকা।

গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হাসিব বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারী আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, একই সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে আমাদের অনেক বেশি সক্রিয় করেছে।

“এ ডিভাইসের মাধ্যমে একেবারে প্রত্যন্ত জায়গা থেকেও একাধিক গ্রাহক একইসাথে আমাদের বিস্তৃত ফোরজি এলটিই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্যের দিকে যাত্রায় এ ডিভাইস আমাদের সহায়তা করবে।”’

৭৮x৭৮x১৪.৫ মিলিমিটার মাপের এই ফোরজি রাউটার সহজেই বহনযোগ্য এবং যে কোনো জায়গায় ব্যবহারযোগ্য বলে জানিয়েছে গ্রামীণফোন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসের প্রশিক্ষণ দিবে নেটিজেন আইটি লিঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল ১৪ জুলাই সকাল ১১.০০টায় সিরাজগঞ্জ জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটির কারিগরি সহযোগিতা করেন নেটিজেন আইটি লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ। মতবিনিময় সভায় সভাপতি হিসেবে যুক্ত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফি উল্লাহ এবং অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা।

উক্ত সভায় নেটিজেন আইটি লিমিটেড এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, অনলাইন এক্সাম ও অনলাইনে ফিস পেমেন্ট সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্ত এই করোনাকালীন দিনে চুক্তিবদ্ধ ছাড়াই বিনামূল্যে স্কুল কলেজের শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস নেওয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, অনলাইন এক্সাম ও অনলাইনে ফিস পেমেন্ট এর বিষয়ে স্ক্রিন শেয়ারিং এর মাধ্যমে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়।

অনলাইন মতবিনিময় সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিউল্লাহ ও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা মতবিনিময় সভায় নেটিজেন আইটি লিমিটেড এর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নেটিজেন আইটি লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ।

তথ্যপ্রযুক্তি ফাইভ-জি প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করার প্রস্তুতি সম্পন্ন

ঢাকা: ২০২১ সালে ফাইভ-জি প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ সোস্যাইট ফর হিউম্যান রিসোর্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল জব ফেস্টিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০২১ সালে ফাইভ-জি প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মার্চে করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার সময় চ্যালেঞ্জ ছিল আমরা সারা দেশে মানুষকে নেটওয়ার্ক দিতে পারবো কিনা। আমরা পৃথিবীর সমানতালে ডিজিটাল যাত্রা চালিয়ে যেতে পেরেছি। বিশ্বের শ্রেষ্ঠটি আমরা দিতে পারিনি সত্য, কিন্তু জীবন যাত্রা চালিয়ে নিতে পেরেছি।

দেশের মোবাইল অপারেটরসমূহকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ৪জি সংযোগ সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পাঠ গ্রহণ করছেন।

করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শতগুণ বেড়ে যাবে বলে সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের আগের সময়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি দুর্যোগে সুযোগও সৃষ্টি হয়। আমাদের সামনে প্রযুক্তির অসীম সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯১-৯৬ সালে তো কাজ করেছেনই, এখন গত ২০০৯ সাল থেকে কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা মোবাইল উৎপাদন করছি, কম্পিউটার উৎপাদন করছি এবং বিশ্বের ৮০টি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছি। নাইজেরিয়া ও নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশ মেড ইন বাংলাদেশ কম্পিউটার আমদানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে মোবাইল রপ্তানি হচ্ছে।

গত একযুগের বাংলাদেশ এক অভাবনীয় বাংলাদেশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের তিন হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৭৭৭টি দুর্গম অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। দুর্গম চরাঞ্চল ও দ্বীপে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, কায়িক শ্রমের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করাটা ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য অপরিহার্য। সেটি না পারলে দেশে এবং দেশের বাইরে কায়িক শ্রমে নিযুক্ত মানুষগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকা খুবই কঠিন হবে।

দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির ঘাটতি পূরণে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির জন্য উচ্চ শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দেশের ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ বেগবান করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ট্রেডবডিসমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ট্রেডবডিসমূহের প্রত্যেকেই ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রণী সৈনিক।

অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, বিসিএস সভাপতি শহিদুল মনির, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ, সেক্রেটারি তৌফিক আহমেদ ও ড্যাফোডিল পরিবারের স্কিল জব বিষয়ক প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বক্তব্য দেন।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা উত্তরে ‘স্মার্ট ল্যাম্প পোল’ চালু করলো ইডটকো

ঢাকা: দেশের প্রথম ‘স্ট্রিট ফার্নিচার’ স্থাপন করলো সমন্বিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবা কোম্পানি ‘ইডটকো বাংলাদেশ’।

স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় দেশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক এই ‘স্মার্ট সিটি ফিচার’ চালু করা হলো।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সোমবার (১৩ জুলাই) ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিকি স্টেইন এ সময় যুক্ত ছিলেন।

এছাড়াও মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহতাব উদ্দিন আহমদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ফাইবার অ্যাট হোম, সেবা (আইএসপি) ও অন্যান্য টেলিকম অপারেটরদের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে দেশের নাগরিকদের নির্বিঘ্ন নেটওয়ার্ক সংযোগ ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমুখী ‘স্মার্ট ল্যাম্প পোল’ স্থাপনের এটিই প্রথম সম্মিলিত প্রয়াস।

সমন্বিত এই সল্যুশনটি বিনামূল্যে ওয়াইফাই পরিষেবা, নিরাপত্তা নজরদারি (ঐচ্ছিক), আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্মার্ট বিন, রিয়েল টাইম এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং দেওয়া ছাড়াও কমিউনিটি মেসেজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ডিজিটাল সাইনেজ’ হিসাবে কাজ করবে, যা মূলত আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকাকে ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রথমবারের মতো এ ধরনের স্মার্ট সিটি সল্যুশন গড়ে তোলার মাধ্যমে সামাজিক এবং বেসামরিক সেবার ক্ষেত্রে নগরবাসীকে একটি নতুন এবং উন্নত প্ল্যাটফর্ম দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।

মেয়র বলেন, পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগটি সফল হলে ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা উত্তরজুড়ে আরও প্রায় ২০০-২৫০টি জায়গায় আমরা এ ধরনের স্মার্ট সল্যুশন স্থাপন করবো। চমৎকার নেটওয়ার্ক সংযোগ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করায় এই উদ্যোগটির লক্ষ্য। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে আমাদের এই উদ্যোগটি একটি আদর্শ উদাহরণ বলে আমি বিশ্বাস করি। এর ফলে টাওয়ার কোম্পানিটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের খালি বা অব্যবহৃত জায়গাতে টাওয়ার স্থাপন করে সেটি মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে এবং এর বিনিময়ে তারা নগরবাসীর জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই, আলো, এয়ার কোয়ালিটি রিপোর্ট, সচেতনতামূলক বার্তা, স্মার্ট বিন-ইত্যাদি নানান সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিকি স্টেইন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তাবায়ন প্রক্রিয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ইডটকো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য পূরণে আগামীতেও আমরা দেশবাসীর পাশে থাকতে চাই। সবার জন্য নির্বিঘ্ন, স্থিতিশীল এবং দ্রুততর সংযোগ নিশ্চিতকরণের দিকে মনোনিবেশের পাশাপাশি স্মার্ট সিটি সল্যুশনের মতো পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫-জির জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।

বাংলাদেশে এখন নিজস্ব মালিকানায় ১০ হাজারেরও বেশি টেলিকম টাওয়ার পরিচালনা করছে ইডটকো বাংলাদেশ। টেকসই ও শেয়ারযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিক বিনিয়োগের পাশাপাশি উদ্ভাবন প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে কোম্পানিটি।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম