এই রমজানে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব খাবার

শুরু হয়ে মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান। রমজানে গ্রীষ্মের তাপদাহে থাকছে ডিহাইড্রেশনের ভয়। তবে আপনার খাদ্যাভাসে কয়েকটি খাবার যুক্ত করলে সেটি ভয় দূর করে আপনার ডায়েটকে করবে স্বস্তিদায়ক। তাহলে দেখে নিন এই গ্রীষ্মকালে আপনার খাবারে কী কী অন্তর্ভুক্ত করবেন-

পানি

কেবলমাত্র পিপাসা পেলেই পানি পান করবেন, বিষয়টা এমন নয়। ডিহাইড্রেশন বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বাঁচতে সারাদিন পানি পান করুন। এটি আপনার শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করবে।

ফ্রেশ জুস

গ্রীষ্মে ফলের রস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিই খুব উপকারি। ফলের রস গরমের তাপ থেকে স্বস্তি দিতে সহায়তা করে। তবে চিনিযুক্ত ফলের রস পান করা এড়িয়ে চলুন।

দই

প্রোটিন সমৃদ্ধ দই গরমে আমাদের স্বাস্থ্যের অনেক দিক থেকে উপকার করে। এতে থাকা প্রোটিন আমাদের ক্ষুধা কমায়, যার ফলে নোনতা এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত স্ন্যাকস খাওয়ার ইচ্ছা কমে। এর থেকে পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ব্যাকটেরিয়া প্রোবায়োটিকও মেলে।

তরমুজ

গ্রীষ্মকাল মানেই তরমুজের ছড়াছড়ি। গরমের তাপ থেকে স্বস্তি দেয় তরমুজ। এটি শরীরকে শীতল ও হাইড্রেট রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। এছাড়াও, তরমুজে লাইকোপিন রয়েছে যা ত্বকের কোষকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে।

টমেটো

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে। এ ছাড়াও, এতে লাইকোপিনের মতো উপকারি ফাইটোকেমিক্যালও রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগ বিশেষত ক্যান্সার নিরাময়ে সহায়তা করে।

ফল ও শাকসবজি

গরমে স্বস্তি পেতে ফল ও শাকসবজি বেশি করে খান। ফল এবং শাকসবজি সহজে হজম হয় এবং সাধারণত জলের পরিমাণ বেশি থাকে। টাটকা ফল ও ভেজিটেবল স্যালাড আপনাকে হাইড্রেট এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে।

শসা

গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফলের তালিকায় শসা অন্যতম। শসায় প্রচুর পরিমাণ পানি থাকার কারণে, এটি আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। এতে ফসফরাস, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও আরও কয়েকটি খনিজ পদার্থের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

পুদিনা

এক গ্লাস পুদিনা জলে দুই ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন, স্বাস্থ্যের অনেক উপকার হবে। এটি লিভার পরিষ্কার এবং বিপাককে শক্তিশালী করে।

খেজুরের বিস্ময়কর গুণ

খেজুর, চমৎকার উপকারি একটি ফল। দেশের বাজারে বছরভরই পাওয়া যায় এ ফল। অনেকেরই পছন্দের তালিকায়ও রয়েছে খেজুর। তবে খেজুর যারা পছন্দ করেন না তারা হয়ত জানেনই না যে এটি খেলে শারীরিকভাবে কী দারুণ উপকার মেলে।

খেজুরে রয়েছে এমিনো এসিড, প্রচুর শক্তি, শর্করা ভিটামিন ও মিনারেল। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। খেজুর শরীরের প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। খেজুরের গুণের কারণে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ডায়েট ফুড’। এবার খেজুরের যাবতীয় পুষ্টিগুণ জেনে নেওয়া যাক-

ইন্সট্যান্ট এনার্জি

বিজ্ঞানীরা খেজুরকে বলে থাকেন ইন্সট্যান্ট এনার্জির ভাণ্ডার। মানে নিমিষেই প্রাণশক্তি। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ফুড সায়েন্সেস এন্ড নিউট্রিশনের এক রিপোর্টে বলা হয়, কেউ যদি দুর্বল বা ক্লান্ত বোধ করে, তাহলে কয়েকটা খেজুর খেয়ে নেওয়ার পর পরই সে চাঙ্গা এবং প্রাণশক্তি অনুভব করবে। খেজুরে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করা এই ‘এনার্জি’র উৎস। তাই খাদ্যতালিকায় দুটো খেজুর রাখলে সারাদিন প্রাণবন্ত থাকা যাবে।

কোলেস্টেরল কমায় এবং ধমনীতে চর্বি জমতে দেয় না

মিষ্টি হলেও খেজুরে কোনো ফ্যাট নেই, নেই কোন কোলেস্টেরল। বরং খেজুরের ‘ক্যাটাচিনস’ নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং বাড়ায় ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ। তাছাড়া খেজুর ধমনীতে চর্বির স্তর জমতে দেয় না।

হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস

এই তিনটি রোগের বিরুদ্ধেই খেজুর লড়ে খুব সফলভাবে। খেজুরে আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েডস। মিশরের সুয়েজ ক্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরের ফ্ল্যাভোনয়েড উপাদানটি ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে উপকারী। এছাড়া খেজুরে আছে আইসোফ্ল্যাভন ও ক্যারোটেনয়েডস নামে আরও দুটি উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদান দুটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়া খেজুরের ফেনোলিক এসিড নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

রক্তচাপ কমায়

আমরা যেসব খাবার খাই এর অনেকগুলোতেই থাকে উচ্চমাত্রার লবণ। আর উচ্চ রক্তচাপের বড় কারণ হলো এটি। কিন্তু খেজুরে কোনো সোডিয়াম (লবণ) নেই। বরং আছে বেশ ভালো মাত্রার পটাশিয়াম, যা সোডিয়াম কমাতে সাহায্য করে। এ কারণেই বলা হয়, খেজুর হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রতিষেধক যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

হাড় মজবুত করে

খেজুরে আছে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি খনিজ উপকরণ। যা হাড়ের জন্যে উপকারি। ফলে অস্টিওপরেসিসসহ হাড়ের যে কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্যে খেজুর খাওয়া যেতে পারে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

খেজুরে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট ‘ক্যারোটানয়েডস’ যা দৃষ্টিশক্তির জন্য উপকারি। এমনকি বয়স হয়ে গেলে চোখের পেশীর সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা খেজুর প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

মস্তিষ্ককে উজ্জীবিত করে

অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। খেজুরে থাকা নানা ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্টই এ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া বয়স হয়ে গেলে ব্রেনের যে ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয় তাও চমৎকারভাবে প্রতিরোধ করে খেজুর। কারণ কর্টিসল এবং অক্সিডেন্ট উপকরণের অভাবে ব্রেনের ক্ষয় হয়। কিন্তু এই উপকরণ দুটি খেজুরে রয়েছে ভরপুর।

পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য

সাধারণত খাদ্যে ফাইবার বা আঁশের অভাবে পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোগগুলো হয়। খেজুরে যেহেতু প্রচুর আঁশ থাকে, তাই নিয়মিত খেজুর খেলে এ রোগগুলো আপনি সহজে প্রতিরোধ করতে পারবেন। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার মেডিকেল সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে মাত্র ২০-৩৫ গ্রাম খেজুর খেলেই কোষ্ঠকাঠিন্যকে প্রতিরোধ করা যায়।

ওজন রাখে নিয়ন্ত্রণে

খেজুরে আছে ভিটামিন বি, ভিটামিন কে, রিবোফ্লোভিন, নিয়াসিন এবং আরও অনেক ধরনের পুষ্টি উপকরণ। এসবের মিলিত ফসল হলো মেটাবলিজম বাড়ানো। অর্থাৎ শরীরে যতটুকু ওজনের প্রয়োজন হয় তা ধরে রাখে খেজুর। তাছাড়া খেজুর এমন একটি খাবার যা অল্প খেলেই তৃপ্তি হয়, ফলে বেশি খাওয়ার চাহিদা থাকে না। ফলে শরীরে ওজন আর বাড়ে না।

ত্বক সুন্দর করে

নিয়মিত খেজুর খেলে আপনার ত্বক হবে সতেজ, পরিচ্ছন্ন এবং প্রাণবন্ত! খেজুরে আছে প্রচুর ভিটামিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট। যেমন- ভিটামিন ‘সি’ ত্বকের নমনীয়তা বাড়ায়। ভিটামিন ‘ডি’ বাড়ায় কমনীয়তা। অধিকন্তু খেজুর দেহের মেলানিনের মাত্রা কমিয়ে বয়সের চিহ্নকে দূরীভূত করে।

চুল পড়া বন্ধ করে

খেজুরে আছে প্রচুর আয়রন। যা রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ায়। আর চুলসহ গোটা শরীরেই তা ভারসাম্যপূর্ণভাবে পৌঁছায়। ফলে চুল পড়া যেমন কমে, তেমনি নতুন চুল গজায়ও।

রক্তশূন্যতার সমস্যা

রক্তশূন্যতায় ভুগলে অবসাদ, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা- ইত্যাদি সমস্যাগুলো দেখা দেয়। রক্তশূন্যতার রোগীরা খেজুর খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। কারণ খেজুরে আছে প্রচুর আয়রন। তাছাড়া খেজুর রক্ত পরিষ্কারও করে।

প্রসবকালীন জটিলতা কমায়

গর্ভবতী মায়েদের জন্যে দরকার বাড়তি ক্যালরি। আর খেজুরের চেয়ে উপকারি সমৃদ্ধ ক্যালরির উৎস খাবার কমই আছে। জর্ডানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসবের চার সপ্তাহ আগ পর্যন্ত যে মায়েরা পর্যাপ্ত খেজুর খেয়েছেন, প্রসবকালীন জটিলতা তাদের কম হয়েছে। সন্তানসম্ভবা মায়েদের জরায়ুর পেশী মজবুত করেছে খেজুর, সে প্রমাণও পাওয়া গেছে এই গবেষণায়।

বাড়তি ভিটামিনের প্রয়োজন নেই

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, নিয়মিত খেজুর খেলে বাড়তি ভিটামিন খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। খেজুরে আছে ২৩টি অ্যামাইনো এসিড। যা আপেল, কমলা, কলার মতো জনপ্রিয় ফলেও নেই। এই অ্যামাইনো এসিড ‘কার্সিজেনিক’ নামের টক্সিনকে দেহের বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে।

খেজুর যেহেতু একটি মিষ্টি ফল এবং এতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি, তাই এটি পরিমিত খাওয়াই উত্তম। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা খেজুরের এই উপকারগুলো পাওয়ার জন্যে দিনে দুটি খেজুরই যথেষ্ট বলে মনে করেন।

পা ঘেমে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির উপায়

গরমের দিনে ঘামের সমস্যা হয় অনেকেরই। এদিকে জুতার সঙ্গে মোজা পরলে ঘামের কারণে ভীষণ দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা থেকে এমনটা হয়ে থাকে। বাড়িতে ফিরে জুতা খুললেই দুর্গন্ধ পুরো ঘরে ছড়িয়ে যায় যেন। এমন অবস্থায় পড়তে হয় অস্বস্তিতে।

গরমে আমাদের অনেকরই এই পা ঘামার সমস্যা হয়ে থাকে। পা ঘামে ভিজে থাকলে সেখানে দ্রুতই ব্যাকটেরিয়ার বংশ বিস্তার হতে পারে। সেকারণে দেখা দেয় দুর্গন্ধ। অনেকে এই সমস্যা থেকে বাঁচতে মোজায় সুগন্ধি বা পাউডার ব্যবহার করেন। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয় না। তবে এই সমস্যার সমাধান খুব একটা কঠিন নয়। গরমের সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা দূর হবে।

লবণ-পানিতে মুক্তি

লবণ ও পানির ব্যবহার করে পায়ে যেকোনো ধরনের ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করা সম্ভব। আপনি যদি নিয়মিত লবণ-পানি ব্যবহার করেন তবে পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। সেজন্য আপনাকে প্রতিদিন ঘরে ফিরে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে অন্তত পনের মিনিট পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এতে পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা কমবে। সেইসঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাবে আপনার পা।

বেকিং সোডায় মিলবে উপকার

বেকিং সোডা প্রায় সব বাড়িতেই থাকে। পা ঘেমে দুর্গন্ধ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেকিং সোডা। এতে আছে অ্যাসিডিক উপাদান যা পা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফলে পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে না। অতিরিক্ত ঘেমে পায়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় না। বেকিং সোডা ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর পায়ে ঘষে নিন সামান্য বেকিং সোডা। এভাবে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম হবে না। প্রয়োজনে জুতার ভেতরেও খানিকটা বেকিং সোডা ছড়িয়ে নিতে পারেন। এতেও মিলবে উপকার।

আরও যা করতে পারেন

পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচতে ব্যবহার করুন সুতির মোজা। আপনার যদি ঘন ঘন পা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা থাকে তবে খুব বেশি চা কিংবা কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সেইসঙ্গে এড়িয়ে চলুন অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া বা মশলাদার খাবার। যেসব জুতা ব্যবহার করেন সেগুলো মাঝেমাঝে রোদে দিতে হবে। নিয়মিত পায়ের যত্ন নিতে হবে।

১৫ হাজার মানুষের দূর্ভোগ লাঘব


শাহজাদপুরে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ

দৈনিক দেশ রূপান্তর সহ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পুঠিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের হুরাসাগর খালের উপর ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ মাস আগে নির্মিত ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কংক্রিট সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে। কয়েকটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নজরে আসামাত্র তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই দিনই জমির মাপ জরিপ সম্পন্ন করে লাশ নিশান দিয়ে সড়ক নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে দেন। সোমবার সকালে থেকে ওই স্থানে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক মাটিকাটার কাজ করে সড়কটি সৃশ্যমান করে তোলেন। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসি বাঁধভাঙ্গা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন।  এ সড়ক দিয়ে তখনই যাতায়াত করা গেলেও পুরোপুরি কাজ শেষ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে।

গত ২০১৯-২০ইং অর্থ বছরে শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডি বিভাগ ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ ৬ মাস আগে শেষ করে। এ ছাড়া দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ১ মাস আগে সম্পন্ন করে। বাঁধার মুখে উত্তর পাশের ২০০ গজ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ স্থগিত হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার প্রায় ১২টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াতে দূর্ভোগ শুরু হয়। গ্রাম গুলি হল,পুঠিয়া উত্তরপাড়া,পুঠিয়া দক্ষিণপাড়া,বাঐখোলা,ক্ষিদ্র পুঠিয়া,ডায়া,ডায়া নতুনপাড়া,কাকুরিয়া উত্তরপাড়া,কাদাই বিলপাড়া,ধূলাউড়ি মল্লাপাড়া,বড় মহারাজপুর,ফরিদপাঙ্গাসী ও বাজিয়ারপাড়া। জমির মালিকানা দাবী করে ওই গ্রামের মো:আজিমুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ওই সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমির মূল্য দাবী করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়। ফলে সেতুটি এলাকাবাসি সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে যাতায়াতে দূর্ভোগে পরে। মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে এ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের,শাহীন সরকার,আব্দুল বাছেদ,স্বপন মির্জা বলেন,আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাটি দূর হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি। গ্রাম জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
এ বিষয়ে ওই সেতু নির্মাণ কাজের সাব-ঠিকাদার আব্দুস সোবাহান ডাবলু বলেন,কাজটি সুষ্ঠ্যুভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমি খুবই খুশি হয়েছি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডি বিভাগের প্রকৌশলী আহমেদ রফিক বলেন,বিষয়টি নজরে আসা মাত্র শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো: শামসুজ্জোহা ও শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ হোসেন মহোদয়কে সাথে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এরপর মাপজরিপ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমি লালপতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে দেই। ঠিকাদার দ্রুত শ্রমিক লাগিয়ে সড়কটি সৃশ্যমান করে তোলে। ফলে এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের সমস্যাটি লাঘব হয়।

সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।

শাহজাদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারানো স্ত্রী প্রতিবন্ধী ২ ছেলে নিয়ে বিপাকে

‘একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ ঠিক এমনটাই বাস্তবায়িত হলো শাহজাদপুরের অসহায় একটি পরিবারের উপর। শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিসিক রোড সংলগ্ন শক্তিপুর মহল্লার অটল দাস (৩০) নামে এক রিকশাচালককে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক পৃষ্ট করে রেখে যায়। তার মৃত্যুতে গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২ টি ছেলে সন্তান ও তার স্ত্রী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেনু দাস জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ৭ টা নাগাত আমার স্বামী অটল দাস রিকশা চালিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে আসার সময় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুরের হালুয়াঘাটি নামক স্থানে তাকে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক তাকে পৃষ্ট করে চলে যায়। কোন ঘাতক এ কাজটি করলো আমরা জানি না। আমার ২ টি ছেলে লাল (১৩) ও উদ্দোব দাস (১০) অনেকটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এখন আমি কি করে এই সংসার চালাবো। আমার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছে। আমার স্বামী অন্যের বাড়ীতে থাকে। বাড়ীর মালিক বুদ্ধুবালা দাস জানান, আমি ছোটবেলা থেকে অটলকে নিজের সন্তানের মত করে মানুষ করেছি। আমার ছেলে সন্তান না থাকায় অটলই ছিল আমার একমাত্র সন্তান। আটলের বয়স যখন ৬ মাস উপজেলার নরিনা গ্রাম থেকে তখন আমি তাকে দত্তক এনেছিলাম। ওর বাবা-মা কে সেটাও আমার এখন মনে নাই। ঘাতক পরিবহন তার প্রাণ কেড়ে নেয়ায় সে সন্তানটাও আমি হারালাম। এখন আমি কি করবো। কে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দায়ভার বহন করবে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি আনন্দ কুমার দাস জানান, অটল দাস নিহত হওয়ায় আমরা তার শ্রাদ্ধ করার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলছি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনয় কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর আমরা তার পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এই পরিবারটা একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো। এই পরিবারের দিকে তাকালে অনেকেই তাদের দৃশ্য দেখে তারা যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলে। কে করবে এই পরিবারকে তাদের জীবন-জীবিকার সহযোগিতা।

দুঃখী মানুষের কথা....


সকলের সহযোগীতায় রাজমিস্ত্রি ফরিদ বাঁচতে চায়!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া সরকারপাড়া মহল্লার সাত্তার প্রামাণিকের ছেলে রাজমিস্ত্রি ফরিদ প্রামাণিক (৩৫) এর দিন ভালোই চলছিলো। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে প্রায় ৫ বছর পূর্বে পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামের জনৈক মানিকের বিল্ডিংয়ের ৫ তলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃৃষ্ট হয়ে কোনমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাকে হারাতে হয় বা হাত, বা পায়ের সবগুলো আঙ্গুল ও ডান পায়ের ৩ টি আঙ্গুল। পোতাজিয়া সরকারপাড়া মহল্লার আজাদের বাড়িতে আশ্রিত ফরিদ এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তার স্ত্রী, ১ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনযাপন করে আসছে। দুর্র্ঘটনার পর থেকেই অসহায় ফরিদকে দৈনিক আড়াই’শ টাকার ওষুধ খেতে হচ্ছে এবং প্রতিমাসে নিয়মিত একবার ঢাকায় চেকআপের জন্য যেতে হচ্ছে। পরিবারের ভরণপোষণের ব্যয় বহনই যেখানে ফরিদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করতে না পারায় বর্তমানে তার দুটি পা ক্রমশঃ ফুলে যাচ্ছে এবং বা পায়ে পঁচন ধরেছে। এজন্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার পঁচন ধরা বা পায়ে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। জরুরী ভিত্তিতে ফরিদের পা অপারেশন করা না গেলে পঁচন থেকে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি পুরো পা কেটে ফেলা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন। অর্থাভাবে অসহায় ফরিদ অপারেশনসহ চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে অক্ষম হওয়ায় তিনি দেশ বিদেশের বিত্তবান ও সুহৃদের নিকট সাহায্যের মানবিক আবেদন জানিয়েছে। ফরিদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ০১৯৩৯-০৪৮১৫৬ (বিকাশ পার্সোনাল) নাম্বারে সে আর্থিক সহযোগীতার দাবী জানিয়েছে। সকলের সহযোগীতায় সে ফরিদ বাঁচতে চায়!

এক বোয়ালের দাম ৩১ হাজার টাকা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে রুই, বাঘাইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ধরা পড়ার পর এবার আলম শেখ নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ১২ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাছটি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবসায়ী মো. শাজাহান শেখ ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ৩০ হাজার টাকায় কিনে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

এখন নদীতে প্রায়ই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। সেসব মাছ তিনিসহ ঘাটের অন্য ব্যবসায়ীরা কিনে সামান্য লাভে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, এর আগে সকালে একটি ১০ কেজি ওজনের রুই ১৭ হাজার টাকায় কিনে ১৮ হাজার ও ২৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় ২৫ হাজার টাকায় কিনে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

কোভিড-১৯ পজিটিভ? জেনে নিন কী করবেন

করোনাভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে যেন ভেঙেচুরে যাচ্ছে পুরো পৃথিবী। নিত্যদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই মরণব্যাধির সংক্রমণ। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের প্রধান হাতিয়ার মাস্ক, স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা ইত্যাদি।

তবে এতকিছুর পরও যদি প্রাণঘাতী এই ভাইরাস দেহে বিষাক্ত ছোবল বসায় তবে করণীয় কী? কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা গেলে বা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট এলে কী করা উচিত?

এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রচুর পানি পান, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল সেবনেরও পরামর্শ দিচ্ছেন।

সম্ভব হলে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান কিংবা ভিটামিন সি’র ওষুধ খান। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দশ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

চাইলে বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখতে পারেন। আর অক্সিজেন স্যাচুরেশন যদি ৯২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।

মুখে র‍্যাশ বেরনো করোনার নতুন উপসর্গ?

মুখে র‍্যাশ বেরনো করোনার নতুন উপসর্গ?

কভিড-১৯ ও সাধারণ ফ্লুয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত মুশকিল ৷ সাধারণ ফ্লুয়ের মতো করোনাভাইরাসের লক্ষণও জ্বর, সর্দি-কাশি, নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা৷ এছাড়াও কভিড- ১৯ এর যে লক্ষণ রয়েছে সেগুলো হল- কোনো জিনিসের গন্ধ না পাওয়া, মুখে কোনো স্বাদ না থাকা ইত্যাদি৷ তবে প্রতিনিয়ত এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উপসর্গ। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরো একটি।

নতুন যে লক্ষণ সম্পর্কে জানা গেছে, সেটা হচ্ছে মুখে র‍্যাশ বেরনো৷ তবে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে কিছু জানায়নি৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিচার্সও (আইসিএমআর) নতুন এই লক্ষণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কিছু জানায়নি এবং এটিকে করোনা লক্ষণের মধ্যে অন্তর্ভূক্তও করা হয়নি৷

মুখে র‍্যাশ হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন লক্ষণের মধ্যে সামিল করা হয়েছে ৷ স্পেনের এক চিকিৎসক এই বিষয়ে জানিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন তার কাছে এরকম একাধিক করোনা রোগী এসেছেন যাদের মুখের ভিতরে র‍্যাশের সমস্যা রয়েছে ৷ এই সমস্যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় ‘ইনানথেম’ বলা হয়ে থাকে৷

জামা ডার্মাটোলজিতে ১৫ জুলাই প্রকাশিত একটি রিসার্চে বলা হয়েছে, গত কিছু দিন ধরে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ জন রোগীর স্কিন র‍্যাশ ও ৬ জনের মাউথ র‍্যাশের সমস্যা ছিল৷ সূত্র : নিউজ ১৮