এক বোয়ালের দাম ৩১ হাজার টাকা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে রুই, বাঘাইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ধরা পড়ার পর এবার আলম শেখ নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ১২ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাছটি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবসায়ী মো. শাজাহান শেখ ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ৩০ হাজার টাকায় কিনে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

এখন নদীতে প্রায়ই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। সেসব মাছ তিনিসহ ঘাটের অন্য ব্যবসায়ীরা কিনে সামান্য লাভে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, এর আগে সকালে একটি ১০ কেজি ওজনের রুই ১৭ হাজার টাকায় কিনে ১৮ হাজার ও ২৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় ২৫ হাজার টাকায় কিনে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

কোভিড-১৯ পজিটিভ? জেনে নিন কী করবেন

করোনাভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে যেন ভেঙেচুরে যাচ্ছে পুরো পৃথিবী। নিত্যদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই মরণব্যাধির সংক্রমণ। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের প্রধান হাতিয়ার মাস্ক, স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা ইত্যাদি।

তবে এতকিছুর পরও যদি প্রাণঘাতী এই ভাইরাস দেহে বিষাক্ত ছোবল বসায় তবে করণীয় কী? কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা গেলে বা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট এলে কী করা উচিত?

এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রচুর পানি পান, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল সেবনেরও পরামর্শ দিচ্ছেন।

সম্ভব হলে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান কিংবা ভিটামিন সি’র ওষুধ খান। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দশ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

চাইলে বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখতে পারেন। আর অক্সিজেন স্যাচুরেশন যদি ৯২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।

মুখে র‍্যাশ বেরনো করোনার নতুন উপসর্গ?

মুখে র‍্যাশ বেরনো করোনার নতুন উপসর্গ?

কভিড-১৯ ও সাধারণ ফ্লুয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত মুশকিল ৷ সাধারণ ফ্লুয়ের মতো করোনাভাইরাসের লক্ষণও জ্বর, সর্দি-কাশি, নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা৷ এছাড়াও কভিড- ১৯ এর যে লক্ষণ রয়েছে সেগুলো হল- কোনো জিনিসের গন্ধ না পাওয়া, মুখে কোনো স্বাদ না থাকা ইত্যাদি৷ তবে প্রতিনিয়ত এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উপসর্গ। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরো একটি।

নতুন যে লক্ষণ সম্পর্কে জানা গেছে, সেটা হচ্ছে মুখে র‍্যাশ বেরনো৷ তবে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে কিছু জানায়নি৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিচার্সও (আইসিএমআর) নতুন এই লক্ষণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কিছু জানায়নি এবং এটিকে করোনা লক্ষণের মধ্যে অন্তর্ভূক্তও করা হয়নি৷

মুখে র‍্যাশ হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন লক্ষণের মধ্যে সামিল করা হয়েছে ৷ স্পেনের এক চিকিৎসক এই বিষয়ে জানিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন তার কাছে এরকম একাধিক করোনা রোগী এসেছেন যাদের মুখের ভিতরে র‍্যাশের সমস্যা রয়েছে ৷ এই সমস্যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় ‘ইনানথেম’ বলা হয়ে থাকে৷

জামা ডার্মাটোলজিতে ১৫ জুলাই প্রকাশিত একটি রিসার্চে বলা হয়েছে, গত কিছু দিন ধরে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ জন রোগীর স্কিন র‍্যাশ ও ৬ জনের মাউথ র‍্যাশের সমস্যা ছিল৷ সূত্র : নিউজ ১৮

যেভাবে চিনবেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার

যেভাবে চিনবেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার

করোনাকালে কিছু জিনিসের চাহিদা এবং ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জিনিসটি হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সারা বিশ্বেই এর ব্যবহার, চাহিদা এবং বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে সব সময় তো আর হাতের কাছে সাবান পানি পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সফল বিকল্প অ্যালকোহলোযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এর সুযোগ নিয়েছেন। তৈরি করছেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। যা ভাইরাস প্রতিরোধ তো করেই না বরং স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই জেনে নিন কীভাবে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার চিনবেন-

টিস্যু পেপার টেস্ট

একটি টিস্যু পেপার নিয়ে তা সমতল জায়গায় রাখুন। এরপর একটি কলম দিয়ে এর মাঝে একটি বৃত্ত আঁকুন। ওই বৃত্তের ভেতরে কয়েক ফোঁটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢালুন। যদি কলমের কালি ম্লান হতে শুরু করে এবং ছড়িয়ে পড়ে তবে এর অর্থ হলো আপনার হ্যান্ড স্যানিটাইজারটি নকল। তবে যদি বৃত্তটি যেমন ছিল তেমনই থাকে এবং কাগজটি দ্রুত শুকিয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে স্যানিটাইজারটি আসল।

ময়দা বা আটা টেস্ট

আপনি ময়দা বা আটা ব্যবহার করেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পরীক্ষা করতে পারেন। একটি পাত্রে কিছুটা ময়দা নিন এবং এতে কিছুটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিন। এরপর ময়দাটি ভালো করে মাখুন। আপনি যদি খুব সহজেই স্যানিটাইজার দিয়ে ময়দা মাখতে পারেন, তবে ওই হ্যান্ড স্যানিটাইজারটি নকল।

হেয়ার ড্রায়ার টেস্ট

এই পরীক্ষাটি করার জন্য একটি হেয়ার ড্রায়ার এবং একটি ছোট বাটি লাগবে। একটি বাটিতে কয়েক ফোঁটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢালুন। এবার একটি হেয়ার ড্রায়ার নিন এবং স্যানিটাইজারটি শুকানোর চেষ্টা করুন। স্যানিটাইজারটি যদি আসল হয় তাহলে তা শুকাতে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না। আর যদি স্যানিটাইজার শুকিয়ে না যায়, তবে বুঝবেন এটি আসল নয়।

বাদাম খেলে জটিল রোগের ঝুঁকি কমে

বাদাম খেলে জটিল রোগের ঝুঁকি কমে

যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য বাদাম একটি স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। পুষ্টিগুন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে বাদাম খেতেও বেশ দারুন। বাদামে প্রচুর খাদ্য আঁশ, উপকারি তেল, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। বাদামের প্রোটিন দেহ গঠনে ও মাংসপেশি তৈরিতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খেলে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি কমে যায়। কাঁচা বাদাম কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার ও হার্টের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাছাড়া বাদামের ভিটামিন-ই এবং ক্যারোটিন ত্বক ও চুল সুন্দর রাখে।

বাদাম স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কারন এতে রয়েছে ভিটামিন বি৩ এবং রেসভেরাট্রল। এই দুটি উপাদান মস্তিষ্কে রক্ত চলাচাল বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে পাশাপাশি ব্রেন এর পাওয়ার বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এতে উপস্থিত নিয়াসিন উপাদান আলঝেইমার রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে বাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে উপস্থিত উপকারী তেল শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে বাদাম। বাদামে উপস্থিত পলিফেনোলিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট একাধিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে। বিশেষ করে কোলোন ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে বাদাম বেশ কার্যকরী।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে বাদাম। রাতে ১০-১৫ টি কাঁচা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বাদামে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন ই শরীরের হাড়গুলোকে শক্ত ও মজবুত করে।

বাদাম ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এক মুঠো বাদাম যুক্ত করে আপনি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

বাদামে টাইটোফন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরে নানাবিধ হরমোনের ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ডিপ্রেশন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেস কমাতে বাদামের কোন বিকল্প হয় না বললেই চলে।

গর্ভবতী নারীদের জন্য এই খাবারটি দারুন উপকারী। এতে উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড গর্ভবতী মায়েদের শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাদামে উপস্থিত ভাটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে সচল ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। তাই শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন বাদাম খাবেন।

এছাড়াও বাদাম ঠাণ্ডা, কাশি, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, খাওয়ার অরুচি, নিদ্রাহীনতা এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট

মহামারির মাঝে পেস্তা বাদাম খেলে মিলবে যত উপকার

ছোট্ট আণুবীক্ষণিক জীব নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারিতে রূপ নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে পুরো বিশ্বে। সংক্রমণের এই সময়ে সুস্থ থাকতে পুষ্টিগুণে ভরপুর পেস্তা বাদাম খেতে পারেন নিয়মিত। ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে ৫৬২ ক্যালোরি ছাড়াও প্রচুর প্রোটিন, আঁশ, মিনারেল এবং ভিটামিন বি থাকে। জেনে নিন নিয়মিত পেস্তা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে-সুস্বাস্থ্য বজায়ে সহায়ক

প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এটি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগলেসেরিড নিয়ন্ত্রণ করে যা হৃদরোগের আশংকা কমায়। সুগার লেভেলও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

শিশুদের জন্য উপকারী

স্ন্যাকস হিসেবে শিশুদের দিতে পারেন পেস্তা বাদাম। এতে প্রচুর প্রোটিন, পুষ্টি উপাদান লুটেইন, আঁশ ও ফসফরাস থাকে।  মস্তিষ্ক ও চোখের উন্নতির জন্য লুটেইন উপকারী। পেস্তায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে যা শক্তি জোগায়। হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী সুস্থ রাখে পেস্তা বাদাম।

এনার্জি বাড়ায়

পেস্তায় থাকা প্রোটিন এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

ফ্রেঞ্চ গবেষকদের মতে প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে শরীরের ওজনে কোনও পরিবর্তন হয় না। এমনকি একটু বেশি পরিমাণে পেস্তা খেলেও ওজন বাড়ে না। তাই স্ন্যাকস হিসেবে পেস্তা খেলে ওজন বৃদ্ধির জন্য কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও বন্ধ হয়।

বিকালের নাস্তায় রাখুন মচমচে ডালপুরি

বিকালের নাস্তায় বানিয়ে ফেলতে পারেন মচমচে ডালপুরি। হাতের কাছে থাকা কিছু উপকরণে খুবই সহজেই এটি বানিয়ে নিতে পারবেন। জেনে নিন মচমচে ডালপুরি তৈরির রেসিপি-উপকরণ

* ময়দা- ২ কাপ
* লবণ- স্বাদ মতো
* তেল- ১ টেবিল চামচ

পুর তৈরির উপকরণ

* মসুরের ডাল- ১ কাপ
* ধনেপাতা- প্রয়োজন মতো
* শুকনা মরিচ- কয়েকটি (টেলে নেওয়া)
* টেলে নেওয়া জিরার গুঁড়া- ১/৪ চা চামচ
* শুকনা মরিচের গুঁড়া- সামান্য

যেভাবে তৈরি করবেন মচমচে ডালপুরি

প্রথমে টেলে নেওয়া শুকনা মরিচ গুঁড়া করে নিন। এরপর অল্প পানি ও লবণ দিয়ে ডাল সেদ্ধ করে নিন। পানি প্রায় শুকিয়ে গেলে জিরার গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও ধনিয়া পাতা দিয়ে নেড়ে নিন। পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

এবার ময়দার সঙ্গে তেল ও পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ডো একদম নরম করবেন না, খানিকটা শক্ত থাকবে। আধা ঘণ্টার জন্য রেখে দিন তৈরি ডো। এরপর অল্প অংশ ছিঁড়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে নিন। ১ চামচ ডালের পুর দিয়ে চারপাশ থেকে ডো টেনে সিল করে দিন। চারদিক থেকে বেলবেন না, যেকোনো একদিকে বেলে নিন পুরি। তেল গরম করে ভেজে তুলুন।

ব্যাস, গরম গরম পরিবেশন করুন মচমচে ডালপুরি।

চেনা মশলার অচেনা গুণ, এতেই জব্দ করোনা?

করোনা রুখতে কি সত্যিই কোনও নির্দিষ্ট দাওয়াই রয়েছে? একটি বিশেষ মশলা রান্নায় ব্যবহারের কথা বারবার উঠে আসছে নানা আলোচনায়। কিন্তু সেটি কি আদৌ করোনা রুখতে সক্ষম। কোভিড সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোয় জোর দিতে বলছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, পুষ্টিকর ও সুষম আহার খেতে। কিন্তু কোনও মশলা কি সংক্রমণ রুখতে পারে?

কিং অব স্পাইস বলা হয় এই মশলাকে। সারা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৫০-৬০ শতাংশই মেলে ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে। এটি হল চিরচেনা গোলমরিচ। সারা বিশ্বে মোট ৮০ রকম প্রকারের গোলমরিচ পাওয়া যায়। জার্নাল অব ক্রিটিকাল রিভিউস ইন ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশনের গবেষণায় প্রকাশ এই মশলায় অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং গ্যাস্ট্রো-প্রোটেক্টিভ ক্ষমতা রয়েছে। জার্নাল অব ইমিউনোটক্সিকোলজি বলছে, এই মশলার অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যের কথা। কিন্তু কিং অব স্পাইস অর্থাৎ চিরচেনা গোলমরিচ কি সত্যিই কোভিড সংক্রমণ রুখতে সক্ষম?
ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের গবেষণা বলছে, গোলমরিচে থাকে পিপেরিন। থাকে উদ্বায়ী তেল, ওলিওরেজিন এবং অ্যালকালয়েড। গোলমরিচের ফ্রি-র‌্যাডিকাল ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতার কথা সম্প্রতি অন্য একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। টিউমারের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেটি, দেখা গিয়েছে এমনই। এ ছাড়াও পিপার নাইগ্রামের অ্যালকালয়েড অর্থাৎ পিপেরিন হজম শক্তি বৃদ্ধিতে এবং স্নায়ুর কাজে সাহায্য করে। এটি সাহায্য করে প্রদাহ নাশ করতেও। কিন্তু ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে পারে গোলমরিচের ব্যবহার, এমন কোনও তথ্য গবেষণায় উঠে আসেনি।

গোলমরিচ বা এ জাতীয় কোনও মশলা রান্নায় ব্যবহার কি করোনা রুখতে পারে? এই প্রসঙ্গে মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, করোনা রুখতে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছেন। প্রতিষেধকের বিষয়টি সংক্রান্ত কোনও কিছুই এখনও মেলেনি নিশ্চিতভাবে। কোনও খনিজ পদার্থ বা কোনও বিশেষ মশলার সঙ্গে করোনা প্রতিরোধের সম্পর্কের কথা জানা যায়নি। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

আয়ুর্বেদে গোলমরিচের কথা রয়েছে। কণ্ঠস্বর ভাল হয় কাঁচা গোলমরিচ চিবিয়ে খেলে, উল্লেখ রয়েছে এ কথাও। এই প্রসঙ্গে আয়ুর্বেদ চিকিৎসক বাদল জানা বলেন, ‘শরীরের চ্যানেলগুলো পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে গোলমরিচ। শরীরের মাইক্রো ও ম্যাক্রো চ্যানেলগুলি পরিষ্কার রাখে গোলমরিচ। কিন্তু করোনা সংক্রান্ত কোনও কিছু জানা যায়নি।’ অতএব রান্নায় স্বাদ আনতে, কণ্ঠস্বরের সমস্যা হলে কিংবা হজম শক্তি বাড়াতে গোলমরিচ খাওয়া যেতেই পারে। তবে করোনা প্রতিরোধের সঙ্গে গোলমরিচের কোনও সম্পর্ক নেই, নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ওজন কমাবে চালকুমড়া

সঠিক খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চা করা- এই দু’টি হলো ওজন কমানোর মূল নিয়ম। এগুলো যেকোনো একটি বাদ দিলে আপনি ওজন কমাতে পারবেন না এবং সঠিক মাপে পৌঁছাতেও ব্যর্থ হবেন।ওজন কমানোর কোনো শর্টকাট উপায় না থাকায় এটি রাতারাতি অর্জন করা যায় না। তবে কিছু ছোট ছোট টিপস এবং কৌশল রয়েছে যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এরকম একটি উপায় হলো চালকুমড়ার রস খাওয়া। এটি আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে। এমনটাই প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চালকুমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

চালকুমড়া আমাদের দেশে পরিচিত একটি সবজি। এর স্বাদ হালকা, অনেকটা শসার মতো। এটি নানা রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই সবজির কিছু আশ্চর্যজনক ঔষধি গুণও রয়েছে, যার কারণে এটি আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

চাল কুমড়া নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। ৯৬ শতাংশ পানি দিয়ে গঠিত এবং এতে ফাইবার বেশি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম চাল কুমড়ায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ১৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৪ গ্রাম,শর্করা ৩ গ্রাম, ফাইবার ২.৯ গ্রাম,চর্বি ০.২ গ্রাম,ভিটামিন সি ১০.১ মিলিগ্রাম,পটাশিয়াম ১৫০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৬ মিলিগ্রাম।

চালকুমড়া এবং ওজন হ্রাস
ফাইবার এবং বেশিরভাগ অংশ জলীয় হওয়ার কারণে চালকুমড়া আমাদের হজমে উন্নতি করতে এবং কার্যকরভাবে ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। এটি দ্রবণীয় ফাইবারের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা হজম প্রক্রিয়া হ্রাস করে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখতে পারে।

কীভাবে খেলে ওজন কমবে
চালকুমড়ার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট অংশে কেটে নিন। ভেতেরর বীজগুলো ফেলে দিন। একটি মিক্সার বা ব্লেন্ডারে চালকুমড়ার টুকরোগুলো দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ছাকনিতে রসটুকু ছেকে নিন।। গন্ধের জন্য আপনি লেবুর রস অথবা ২-৩টি পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন।

কার্যকর ফলের জন্য খালি পেটে প্রতিদিন সকালে এই রস পান করুন।

জেনে নিন অতিরিক্ত আম কেন খাওয়া উচিত নয়

অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন মৌসুমী ফল আম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য অধিদপ্তর (USDA) এর তথ্য অনুযায়ী এক কাপ (১৬৫ গ্রাম) আমের মধ্যে রয়েছে ক্যালরি – ৯৯ কিলো ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ২৪.৭ গ্রাম, সুগার – ২২.৫ গ্রাম, ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ ২.৬ গ্রাম
প্রোটিন – ১.৪ গ্রাম, ফ্যাট ০.৬ গ্রাম। তাছাড়াও আমের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং মিনারেলস।

তবে আপনি যদি এর স্বাদে মজে গিয়ে অতিরিক্ত আম খেয়ে ফেলেন তবেই ঘটে যেতে পারে বিপত্তি। তাই আসুন আম খাওয়ার আগে জেনে নেই অতিরিক্ত আম খেলে আপনি কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন-

১. ব্লাড সুগার লেভেল বৃদ্ধি পেতে পারে।
২. ডায়রিয়া হতে পারে।
৩. যেহেতু আমে সুগার রয়েছে, তাই অতিমাত্রায় গ্রহণের ফলে বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন।
৪. অতরিক্ত আম খাওয়ার ফলে অনেকের এলার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৫. আমের মধ্যে (Urisol) নামক রাসায়নকি পদার্থ রয়েছে, যে কারণে অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে ত্বকের ক্ষতি এবং ত্বকে জ্বালা-পোড়া অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে।

অর্থাৎ অতিরিক্ত আম খেলে আপনি বেশকিছু শারিরীক সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু যদি পরিমিত পরিমাণে আম খান তাহলে কী কী উপকার পাবেন? সাধারণভাবে অনেকেই অনেক উপকারের কথা জানেন। চলুন আরো একবার জেনে নেই আমের উপকারিতা।

১. পাকা আম উচ্চ এন্টিঅক্সিডেন্ট সম্পন্ন, যা ফ্রি রেডিক্যাল দ্বারা কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধ করে।
২. আমে ম্যাঙ্গোফেরিন নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা Oxidative stress and Apoptosis রোধে সহায়তা করে।
৩. আমের এমাইলেজ এনজাইম পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও এতে র্পযাপ্ত পরমিাণে পানি এবং Dietary Fiber রয়েছে যা পরিপাকজনিত সমস্যা যেমন- ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে।
৪. এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা চোখের স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
৫. এতে খুব ভালো পরিমাণে ভিটামিন- সি রয়েছে যা ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক।
৬. এতে রয়েছে পলিফেনল যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭. কোলেস্টেরল লেভেল কমায়।

অনেকেরই ধারণা আমে যেহেতু সুগারের পরিমাণ বেশি, তাই ডায়াবেটিস রোগীরা হয়তো আম খেতে পারবেন না। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল। আমরা জানি, আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হচ্ছে ৪১-৬০ এবং যার গড় ৫১। আমরা জানি গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫ এর নিচে হলে তা Low GI food. তাই ডায়াবেটিকসে আক্রান্তদের আম খেতে কোন বাধা নেই।

লেখক: পুষ্টিবিদ
সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন