সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।

শাহজাদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারানো স্ত্রী প্রতিবন্ধী ২ ছেলে নিয়ে বিপাকে

‘একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ ঠিক এমনটাই বাস্তবায়িত হলো শাহজাদপুরের অসহায় একটি পরিবারের উপর। শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিসিক রোড সংলগ্ন শক্তিপুর মহল্লার অটল দাস (৩০) নামে এক রিকশাচালককে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক পৃষ্ট করে রেখে যায়। তার মৃত্যুতে গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২ টি ছেলে সন্তান ও তার স্ত্রী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেনু দাস জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ৭ টা নাগাত আমার স্বামী অটল দাস রিকশা চালিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে আসার সময় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুরের হালুয়াঘাটি নামক স্থানে তাকে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক তাকে পৃষ্ট করে চলে যায়। কোন ঘাতক এ কাজটি করলো আমরা জানি না। আমার ২ টি ছেলে লাল (১৩) ও উদ্দোব দাস (১০) অনেকটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এখন আমি কি করে এই সংসার চালাবো। আমার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছে। আমার স্বামী অন্যের বাড়ীতে থাকে। বাড়ীর মালিক বুদ্ধুবালা দাস জানান, আমি ছোটবেলা থেকে অটলকে নিজের সন্তানের মত করে মানুষ করেছি। আমার ছেলে সন্তান না থাকায় অটলই ছিল আমার একমাত্র সন্তান। আটলের বয়স যখন ৬ মাস উপজেলার নরিনা গ্রাম থেকে তখন আমি তাকে দত্তক এনেছিলাম। ওর বাবা-মা কে সেটাও আমার এখন মনে নাই। ঘাতক পরিবহন তার প্রাণ কেড়ে নেয়ায় সে সন্তানটাও আমি হারালাম। এখন আমি কি করবো। কে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দায়ভার বহন করবে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি আনন্দ কুমার দাস জানান, অটল দাস নিহত হওয়ায় আমরা তার শ্রাদ্ধ করার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলছি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনয় কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর আমরা তার পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এই পরিবারটা একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো। এই পরিবারের দিকে তাকালে অনেকেই তাদের দৃশ্য দেখে তারা যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলে। কে করবে এই পরিবারকে তাদের জীবন-জীবিকার সহযোগিতা।

দুঃখী মানুষের কথা....


সকলের সহযোগীতায় রাজমিস্ত্রি ফরিদ বাঁচতে চায়!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া সরকারপাড়া মহল্লার সাত্তার প্রামাণিকের ছেলে রাজমিস্ত্রি ফরিদ প্রামাণিক (৩৫) এর দিন ভালোই চলছিলো। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে প্রায় ৫ বছর পূর্বে পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামের জনৈক মানিকের বিল্ডিংয়ের ৫ তলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃৃষ্ট হয়ে কোনমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাকে হারাতে হয় বা হাত, বা পায়ের সবগুলো আঙ্গুল ও ডান পায়ের ৩ টি আঙ্গুল। পোতাজিয়া সরকারপাড়া মহল্লার আজাদের বাড়িতে আশ্রিত ফরিদ এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তার স্ত্রী, ১ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনযাপন করে আসছে। দুর্র্ঘটনার পর থেকেই অসহায় ফরিদকে দৈনিক আড়াই’শ টাকার ওষুধ খেতে হচ্ছে এবং প্রতিমাসে নিয়মিত একবার ঢাকায় চেকআপের জন্য যেতে হচ্ছে। পরিবারের ভরণপোষণের ব্যয় বহনই যেখানে ফরিদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করতে না পারায় বর্তমানে তার দুটি পা ক্রমশঃ ফুলে যাচ্ছে এবং বা পায়ে পঁচন ধরেছে। এজন্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার পঁচন ধরা বা পায়ে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। জরুরী ভিত্তিতে ফরিদের পা অপারেশন করা না গেলে পঁচন থেকে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি পুরো পা কেটে ফেলা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন। অর্থাভাবে অসহায় ফরিদ অপারেশনসহ চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে অক্ষম হওয়ায় তিনি দেশ বিদেশের বিত্তবান ও সুহৃদের নিকট সাহায্যের মানবিক আবেদন জানিয়েছে। ফরিদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ০১৯৩৯-০৪৮১৫৬ (বিকাশ পার্সোনাল) নাম্বারে সে আর্থিক সহযোগীতার দাবী জানিয়েছে। সকলের সহযোগীতায় সে ফরিদ বাঁচতে চায়!

এক বোয়ালের দাম ৩১ হাজার টাকা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে রুই, বাঘাইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ধরা পড়ার পর এবার আলম শেখ নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ১২ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাছটি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবসায়ী মো. শাজাহান শেখ ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ৩০ হাজার টাকায় কিনে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

এখন নদীতে প্রায়ই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। সেসব মাছ তিনিসহ ঘাটের অন্য ব্যবসায়ীরা কিনে সামান্য লাভে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, এর আগে সকালে একটি ১০ কেজি ওজনের রুই ১৭ হাজার টাকায় কিনে ১৮ হাজার ও ২৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় ২৫ হাজার টাকায় কিনে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

কোভিড-১৯ পজিটিভ? জেনে নিন কী করবেন

করোনাভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে যেন ভেঙেচুরে যাচ্ছে পুরো পৃথিবী। নিত্যদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই মরণব্যাধির সংক্রমণ। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের প্রধান হাতিয়ার মাস্ক, স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা ইত্যাদি।

তবে এতকিছুর পরও যদি প্রাণঘাতী এই ভাইরাস দেহে বিষাক্ত ছোবল বসায় তবে করণীয় কী? কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা গেলে বা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট এলে কী করা উচিত?

এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রচুর পানি পান, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল সেবনেরও পরামর্শ দিচ্ছেন।

সম্ভব হলে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান কিংবা ভিটামিন সি’র ওষুধ খান। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দশ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

চাইলে বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখতে পারেন। আর অক্সিজেন স্যাচুরেশন যদি ৯২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।

মুখে র‍্যাশ বেরনো করোনার নতুন উপসর্গ?

মুখে র‍্যাশ বেরনো করোনার নতুন উপসর্গ?

কভিড-১৯ ও সাধারণ ফ্লুয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত মুশকিল ৷ সাধারণ ফ্লুয়ের মতো করোনাভাইরাসের লক্ষণও জ্বর, সর্দি-কাশি, নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা৷ এছাড়াও কভিড- ১৯ এর যে লক্ষণ রয়েছে সেগুলো হল- কোনো জিনিসের গন্ধ না পাওয়া, মুখে কোনো স্বাদ না থাকা ইত্যাদি৷ তবে প্রতিনিয়ত এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উপসর্গ। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরো একটি।

নতুন যে লক্ষণ সম্পর্কে জানা গেছে, সেটা হচ্ছে মুখে র‍্যাশ বেরনো৷ তবে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে কিছু জানায়নি৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিচার্সও (আইসিএমআর) নতুন এই লক্ষণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কিছু জানায়নি এবং এটিকে করোনা লক্ষণের মধ্যে অন্তর্ভূক্তও করা হয়নি৷

মুখে র‍্যাশ হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন লক্ষণের মধ্যে সামিল করা হয়েছে ৷ স্পেনের এক চিকিৎসক এই বিষয়ে জানিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন তার কাছে এরকম একাধিক করোনা রোগী এসেছেন যাদের মুখের ভিতরে র‍্যাশের সমস্যা রয়েছে ৷ এই সমস্যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় ‘ইনানথেম’ বলা হয়ে থাকে৷

জামা ডার্মাটোলজিতে ১৫ জুলাই প্রকাশিত একটি রিসার্চে বলা হয়েছে, গত কিছু দিন ধরে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ জন রোগীর স্কিন র‍্যাশ ও ৬ জনের মাউথ র‍্যাশের সমস্যা ছিল৷ সূত্র : নিউজ ১৮

যেভাবে চিনবেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার

যেভাবে চিনবেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার

করোনাকালে কিছু জিনিসের চাহিদা এবং ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জিনিসটি হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সারা বিশ্বেই এর ব্যবহার, চাহিদা এবং বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে সব সময় তো আর হাতের কাছে সাবান পানি পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সফল বিকল্প অ্যালকোহলোযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এর সুযোগ নিয়েছেন। তৈরি করছেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। যা ভাইরাস প্রতিরোধ তো করেই না বরং স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই জেনে নিন কীভাবে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার চিনবেন-

টিস্যু পেপার টেস্ট

একটি টিস্যু পেপার নিয়ে তা সমতল জায়গায় রাখুন। এরপর একটি কলম দিয়ে এর মাঝে একটি বৃত্ত আঁকুন। ওই বৃত্তের ভেতরে কয়েক ফোঁটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢালুন। যদি কলমের কালি ম্লান হতে শুরু করে এবং ছড়িয়ে পড়ে তবে এর অর্থ হলো আপনার হ্যান্ড স্যানিটাইজারটি নকল। তবে যদি বৃত্তটি যেমন ছিল তেমনই থাকে এবং কাগজটি দ্রুত শুকিয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে স্যানিটাইজারটি আসল।

ময়দা বা আটা টেস্ট

আপনি ময়দা বা আটা ব্যবহার করেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পরীক্ষা করতে পারেন। একটি পাত্রে কিছুটা ময়দা নিন এবং এতে কিছুটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিন। এরপর ময়দাটি ভালো করে মাখুন। আপনি যদি খুব সহজেই স্যানিটাইজার দিয়ে ময়দা মাখতে পারেন, তবে ওই হ্যান্ড স্যানিটাইজারটি নকল।

হেয়ার ড্রায়ার টেস্ট

এই পরীক্ষাটি করার জন্য একটি হেয়ার ড্রায়ার এবং একটি ছোট বাটি লাগবে। একটি বাটিতে কয়েক ফোঁটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢালুন। এবার একটি হেয়ার ড্রায়ার নিন এবং স্যানিটাইজারটি শুকানোর চেষ্টা করুন। স্যানিটাইজারটি যদি আসল হয় তাহলে তা শুকাতে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না। আর যদি স্যানিটাইজার শুকিয়ে না যায়, তবে বুঝবেন এটি আসল নয়।

বাদাম খেলে জটিল রোগের ঝুঁকি কমে

বাদাম খেলে জটিল রোগের ঝুঁকি কমে

যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য বাদাম একটি স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। পুষ্টিগুন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে বাদাম খেতেও বেশ দারুন। বাদামে প্রচুর খাদ্য আঁশ, উপকারি তেল, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। বাদামের প্রোটিন দেহ গঠনে ও মাংসপেশি তৈরিতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খেলে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি কমে যায়। কাঁচা বাদাম কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার ও হার্টের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাছাড়া বাদামের ভিটামিন-ই এবং ক্যারোটিন ত্বক ও চুল সুন্দর রাখে।

বাদাম স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কারন এতে রয়েছে ভিটামিন বি৩ এবং রেসভেরাট্রল। এই দুটি উপাদান মস্তিষ্কে রক্ত চলাচাল বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে পাশাপাশি ব্রেন এর পাওয়ার বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এতে উপস্থিত নিয়াসিন উপাদান আলঝেইমার রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে বাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে উপস্থিত উপকারী তেল শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে বাদাম। বাদামে উপস্থিত পলিফেনোলিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট একাধিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে। বিশেষ করে কোলোন ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে বাদাম বেশ কার্যকরী।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে বাদাম। রাতে ১০-১৫ টি কাঁচা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বাদামে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন ই শরীরের হাড়গুলোকে শক্ত ও মজবুত করে।

বাদাম ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এক মুঠো বাদাম যুক্ত করে আপনি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

বাদামে টাইটোফন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরে নানাবিধ হরমোনের ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ডিপ্রেশন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেস কমাতে বাদামের কোন বিকল্প হয় না বললেই চলে।

গর্ভবতী নারীদের জন্য এই খাবারটি দারুন উপকারী। এতে উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড গর্ভবতী মায়েদের শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাদামে উপস্থিত ভাটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে সচল ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। তাই শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন বাদাম খাবেন।

এছাড়াও বাদাম ঠাণ্ডা, কাশি, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, খাওয়ার অরুচি, নিদ্রাহীনতা এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট

মহামারির মাঝে পেস্তা বাদাম খেলে মিলবে যত উপকার

ছোট্ট আণুবীক্ষণিক জীব নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারিতে রূপ নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে পুরো বিশ্বে। সংক্রমণের এই সময়ে সুস্থ থাকতে পুষ্টিগুণে ভরপুর পেস্তা বাদাম খেতে পারেন নিয়মিত। ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে ৫৬২ ক্যালোরি ছাড়াও প্রচুর প্রোটিন, আঁশ, মিনারেল এবং ভিটামিন বি থাকে। জেনে নিন নিয়মিত পেস্তা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে-সুস্বাস্থ্য বজায়ে সহায়ক

প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এটি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগলেসেরিড নিয়ন্ত্রণ করে যা হৃদরোগের আশংকা কমায়। সুগার লেভেলও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

শিশুদের জন্য উপকারী

স্ন্যাকস হিসেবে শিশুদের দিতে পারেন পেস্তা বাদাম। এতে প্রচুর প্রোটিন, পুষ্টি উপাদান লুটেইন, আঁশ ও ফসফরাস থাকে।  মস্তিষ্ক ও চোখের উন্নতির জন্য লুটেইন উপকারী। পেস্তায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে যা শক্তি জোগায়। হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী সুস্থ রাখে পেস্তা বাদাম।

এনার্জি বাড়ায়

পেস্তায় থাকা প্রোটিন এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

ফ্রেঞ্চ গবেষকদের মতে প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে শরীরের ওজনে কোনও পরিবর্তন হয় না। এমনকি একটু বেশি পরিমাণে পেস্তা খেলেও ওজন বাড়ে না। তাই স্ন্যাকস হিসেবে পেস্তা খেলে ওজন বৃদ্ধির জন্য কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও বন্ধ হয়।

বিকালের নাস্তায় রাখুন মচমচে ডালপুরি

বিকালের নাস্তায় বানিয়ে ফেলতে পারেন মচমচে ডালপুরি। হাতের কাছে থাকা কিছু উপকরণে খুবই সহজেই এটি বানিয়ে নিতে পারবেন। জেনে নিন মচমচে ডালপুরি তৈরির রেসিপি-উপকরণ

* ময়দা- ২ কাপ
* লবণ- স্বাদ মতো
* তেল- ১ টেবিল চামচ

পুর তৈরির উপকরণ

* মসুরের ডাল- ১ কাপ
* ধনেপাতা- প্রয়োজন মতো
* শুকনা মরিচ- কয়েকটি (টেলে নেওয়া)
* টেলে নেওয়া জিরার গুঁড়া- ১/৪ চা চামচ
* শুকনা মরিচের গুঁড়া- সামান্য

যেভাবে তৈরি করবেন মচমচে ডালপুরি

প্রথমে টেলে নেওয়া শুকনা মরিচ গুঁড়া করে নিন। এরপর অল্প পানি ও লবণ দিয়ে ডাল সেদ্ধ করে নিন। পানি প্রায় শুকিয়ে গেলে জিরার গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও ধনিয়া পাতা দিয়ে নেড়ে নিন। পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

এবার ময়দার সঙ্গে তেল ও পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ডো একদম নরম করবেন না, খানিকটা শক্ত থাকবে। আধা ঘণ্টার জন্য রেখে দিন তৈরি ডো। এরপর অল্প অংশ ছিঁড়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে নিন। ১ চামচ ডালের পুর দিয়ে চারপাশ থেকে ডো টেনে সিল করে দিন। চারদিক থেকে বেলবেন না, যেকোনো একদিকে বেলে নিন পুরি। তেল গরম করে ভেজে তুলুন।

ব্যাস, গরম গরম পরিবেশন করুন মচমচে ডালপুরি।