বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ‘উড়ন্ত’ স্পিডবোট যাত্রা শুরু

বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ‘উড়ন্ত’ স্পিডবোট যাত্রা শুরু করেছে। ‘ক্যান্ডেলা সেভেন’ নাম দিয়ে এটি উদ্ভাবন করেছে সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএআর বুটবাউ অ্যান্ড বুথান্ডেল এজি। একে উড়ন্ত স্পিডবোট বলার কারণ হলো, এটি ঢেউয়ের ওপর দিয়ে অনেকটা ভেসে চলতে পারে। খবর: রয়টার্স।  নৌযানটির নিচের একটি ধাতব কাঠামো বা ফয়েল এটিকে পানির স্তর থেকে কিছুটা ওপরে তুলতে পারে। এতে ধেয়ে আসা ঢেউ স্পিডবোটটির নিচ দিয়ে চলে যায়। উদ্ভাবকদের দাবি, নৌযানটিতে থাকা কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফয়েলের অবস্থান সমন্বয় করতে পারে। এতে দুলুনি লাগে অনেক কম। দুলুনি কম হওয়ায় দুই ধরনের সুফল পাওয়া গেছে। প্রথমত, দীর্ঘ যাত্রাজনিত অসুস্থতা কমে আসে। দ্বিতীয়ত, পানির সঙ্গে স্পিডবোটের নিচের পৃষ্ঠের ঘর্ষণ কম হওয়ায় শক্তির ব্যয় কম হয়।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, ডিজেলচালিত স্পিডবোটের তুলনায় এ স্পিডবোটে শক্তির খরচ ৮০ শতাংশ কম হয়। শব্দও কম হয় এতে। এই ষ্পিডবোট ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত নৌযানের চেয়ে এটি বেশি দূরত্বও অতিক্রম করতে পারে।

ডব্লিউএআর বুটবাউ অ্যান্ড বুথান্ডেল এজির ওই স্পিডবোট এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডের লুসারনা হ্রদে ভাসতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান ভোগেল বলেন, যেহেতু স্পিডবোটে কোনো ঢেউ আঘাত করবে না, কাজেই কোনো দুলুনিও থাকবে না। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিদ্যুৎচালিত যত নৌযান উদ্ভাবিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হয় গতি, না হয় পাল্লার বিষয়টি ছাড় দিতে হয়েছে। কিন্তু ক্যান্ডেলা সেভেনে দুটোই পাওয়া যাবে। একেকটি স্পিডবোটের দাম পড়বে দুই লাখ ৯৬ হাজার ডলার।

বিলিভ ইউ অর নট ; এলাকায় চাঞ্চল্য


শাহজাদপুরে সম্পত্তির লোভে একই স্বামীকে ৩ বার বিয়ে!

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য যে শাহজাদপুরে অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে এক নারী কর্তৃক একই স্বামীকে ৩ বার বিয়ে ও ৩ বার বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি বারই বিয়ে ও বিচ্ছেদের সময় প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়াহ’কে লঙ্ঘন করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার মৃত শাহজাহান শেখের মেয়ে সোনা খাতুন তার ১ম স্বামী হারিয়ে বাবার বাড়ি রূপপুরে সন্তানাদী নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছিলো। এ কষ্ট লাঘবে কয়েক বছর আগে সোনা খাতুন হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের রতনকান্দি গ্রামের আলিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে বিবাহিত যুবক আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পরই সোনা কর্তৃক দেনমোহরের টাকা নিয়ে তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। আরও পরে সোনা তার সাবেক স্বামী আব্দুর রহমানের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে ফুসলিয়ে গত ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ২য় বার বিয়ে করে। এ বিয়ের পর আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ৩ শতক জমি নিজ নামে লিখে নেয় সোনা। উদ্দেশ্যে হাসিলের হওয়ায় গত ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল ফের তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ২য় বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চতুর সোনা জানতে পারে তার সাবেক স্বামী আব্দুর রহমানের আরও সম্পত্তি রয়েছে। সে সম্পত্তিও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানা ফাঁদ পাততে শুরু করে। যথারীতি আব্দুর রহমান ৩বারের মতো সেই ফাঁদে ফের পা দেয়। এবার রূপপুর নতুন পাড়া মহল্লার আনিছ হুজুর তাদের তওবা পড়িয়ে ফের ৩য় বারের মতো তাদের বিয়ে দেন। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ৩য় বিয়েরও বিচ্ছেদ ঘটে।
দেশে প্রচলিত আইনে তালাকপ্রাপ্ত একই স্বামী স্ত্রীর ২য় বিয়ে করতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে তালাকনামা প্রত্যাহার বা ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক হিল্লা বিয়ের পর কিছু নিয়ম কানুন মেনে বিয়ের বিধান থাকলেও আব্দুর রহমান ও সোনার পরপর ৩ বার বিয়ে ও বিচ্ছেদে তার কোনটাই মানা হয়নি। কেবলমাত্র স্বামী আব্দুর রহমানের সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যেই সোনা অনৈতিকভাবে ৩ বার বিয়ের পিড়িতে বসেছেন। এলাকাবাসী চতুর সোনার দৃষ্টাস্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, চতুর সোনার বিরুদ্ধে আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রী ও সন্তানদের হুমকি প্রদানেরও অভিযোগ উঠেছে।

আজ ২৪ জুলাই : ইতিহাসের পাতা থেকে

আজ ২৪ জুলাই : ইতিহাসের পাতা থেকে

পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন অনেক জ্ঞানী-গুণিজন। একের পর এক রচনা করেছেন এবং করছেন ইতিহাসের পাতা। উন্মোচিত হয়েছে জগতের নতুন নতুন দিগন্ত। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই ইতিহাস চিন্তা, চেতনা ও প্রেরণার উৎস। যারা জন্মেছিলেন কিংবা চলে গেছেন আজকের এই দিনে। আবার বহু ঘটনাই রয়েছে ফেলে আসা সময়ের পথে। যেসব ঘটনা এনেছিল প্রশান্তি কিংবা রচনা করেছে অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃস্বপ্নে নীলকাব্য। যা ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা-

ইতিহাস

১২০৬ – কুতুবুদ্দিন আইবেক সিংহাসনে আরোহণ করেন।

১৫৩৪ – ফরাসি অভিযাত্রী কানাডায় তরী ভিড়িয়ে সেটিকে ফ্রান্সের অঞ্চল বলে ঘোষণা করেন।

১৮১৪ – ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮২৩ – চিলিতে দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়।

১৮৬১ – নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের দায়ে পাদ্রি জেমস লং কারারুদ্ধ হন।

১৮৬৮ – মার্কিন বিজ্ঞানী ও গবেষক ‘জন ওয়েসলি হিট’ প্লাস্টিক তৈরীর জন্য নতুন ধরণের উপাদান তৈরী করতে সক্ষম হন।

১৮৭৯ – মি. ফিউরি কলকাতায় প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি প্রদর্শন করেন।

১৯১১ – মার্কিন অভিযাত্রী পেরুর ষোড়শ শতকের ইনকা সভ্যতার অন্যতম প্রতীক মাচু পিচু শহর আবিষ্কার করেন।

১৯২১ – ফিলিস্তিন, ইরাক, ও পূর্ব জর্দান বৃটিশদের অধীনে এবং সিরিয়া ও লেবানন ফরাসী সরকারের অধিনে চলে আসে।

১৯৩২ – কলকাতায় রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়।

১৯৩৩ – ২৭ বছর ধরে ধারাবাহিক প্রচারিত নাটক ‘দ্য রোমাঞ্চ অব হেলেন ট্রেন্ট’-এর প্রথম পর্ব প্রচারিত হয়।

১৯৪৪ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বৃটিশ বিমান বাহিনী জার্মানীর হামবুর্গ বন্দরে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বোমা বর্ষণ করে।

১৯৪৬ – সমুদ্র তলদেশে প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

১৯৭৬ – ঢাকায় প্রেসিডেন্টের গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৮৫ – অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওয়াল্ট ডিজনির ‘দ্য ব্ল্যাক কলড্রন’ সিনেমা হলে মুক্তি পায়।

১৯৮৬ – এডিনবয়ায় কমনওয়েলথ গেমস শুরু। ৩১ টি দেশের ক্রিড়া বর্জন।

জন্ম

১৭৮৩ – ভেনেজুয়েলার মুক্তি সংগ্রামী সিমন্ বোলিভার।

১৮০২ – আলেক্সাঁদ্র দ্যুমা, বিখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক।

১৮৯৮ – ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৭৫ – অরুণাচল বসু একজন বাঙালি কবি এবং অনুবাদক।

১৮৫৭ – ডেনমার্কের নোবেলজয়ী লেখক হেইনরিখ পন্টোপিডান।

১৯৬৯ – মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ।

মৃত্যু

১৮৭০ – কালীপ্রসন্ন সিংহ, ঊনবিংশ শতকের একজন সাহিত্যকার।

১৯৭৪ – নোবেলজয়ী ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্যার জেমস চ্যাডউইক।

১৯৮০ – উত্তম কুমার, বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তম নায়ক।

১৯৮০ – সমাজবিজ্ঞানী ও সাহিত্য-সমালোচক বিনয় ঘোষ।

১৯৮৬ – নোবেলজয়ী মার্কিন জীবরসায়নবিদ ফিৎস লিপম্যান।

১৯৯১ – নোবেলজয়ী সুইডিশ ঔপন্যাসিক আইজাক সিঙ্গার।

১৯৯৯ – আটত্রিশ বছর শাসনের পর মরোক্কোর বাদশাহ হাসান।

২০০০ – আহমাদ সামলো, তিনি ছিলেন ইরানি কবি ও সাংবাদিক।

২০১২ – জন আটা মিলস, তিনি ছিলেন ঘানার আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রেসিডেন্ট।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অমূলক


শাহজাদপুরে ত্রাণের দাবীতে লকডাউন ভেঙ্গে রাজপথে অসহায়দের বিক্ষোভ

শামছুর রহমান শিশির ও আল-আমিন হোসেন : করোনা ভাইরাস জণিত কারণে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের চরকৈজুরী গ্রামের কর্মহীন শতাধিক অসহায় মানুষেরা ত্রাণের দাবীতে লকডাউন অগ্রাহ্য করে রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সেইসাথে মানববন্ধনের মাধ্যমে ওই গ্রামের অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। ত্রাণ না পেয়ে চরকৈজুরী গ্রামের দুঃস্থ, অসহায়, অভাবী আমজনতা মঙ্গলবার এ বিক্ষোভ করেছে বলে তারা জানিয়েছে। এ ঘটনায় ওই গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৩ টি বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ‘কেবলমাত্র ত্রাণের দাবীতেই কর্মহীন ওইসব গ্রামবাসী রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হলেও একটি বিশেষ মহল ‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাঁড়ে’ চাপানোর মতই ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের উদ্দেশ্যে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম বা ত্রাণের চাউল আত্মসাতের অমূলক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।’
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে কৈজুরী ইউনিয়নের পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামের আব্দুল হামিদ মন্ডলের ছেলে মোরশেদ (৫০), মৃত ছাত্তার মোল্লার ছেলে খলিল মোল্লা (৬৫), কৈজুরীর আব্দুল কাদেরের স্ত্রী আলেয়া (৪৫), আলী আব্বাসের ছেলে ইসমাইল (৪০), জয়পুরা মহল্লার সিদ্দিকের স্ত্রী তারু (৫৫) সহ নাম প্রকাশ না করার চরকৈজুরী গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের জানান, ‘করোনা ভাইরাস জণিত কারণে চরকৈজুরী গ্রামের মেহনতী শ্রমজীবী কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়া কার্যক্রম চলমান থাকলেও চরকৈজুরী গ্রামের অসহায় মানুষের হাতে এখনও পর্যন্ত ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছানোর কারণে তারা ত্রাণের দাবীতে লকডাউন ভেঙ্গে রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ত্রাণ প্রাপ্তির দাবী জানানো হয়েছে; কিন্তু আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়নি।’
কৈজুরি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসেন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য চাঁন প্রামানিক জানান, ‘চরকৈজুরি গ্রামের শতাধিক কর্মহীন মানুষ খাদ্যাভাব সইতে না পেওে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ পাবার লক্ষ্যে লকডাউন ভেঙ্গে চরকৈজুরি বাজারে সমবেত হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। বিক্ষোভ শেষে ৩টি বাড়ি ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।’
এ বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনর রশিদ বলেন, ‘ওই গ্রামের সিংহভাগ তাঁত কারখানা বন্ধ থাকায় তাঁতী ও শ্রমিকেরা বেকার হয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন যাপন করছে। কর্মহীন ওই সব মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যাভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কৈজুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১১ মেট্রিকটন চাল ত্রাণ দেয়া হলেও চরকৈজুরী গ্রামের মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এজন্য তারা ত্রাণের দাবীতে এ আন্দোলন করেছে। ঘটনাস্থলে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাকে কটাক্ষ করে গণমাধ্যমে নানা বিবৃতি দিয়েছে।’
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান বলেন, ‘শুনেছি ত্রাণের দাবীতে কিছু লোক বিক্ষোভের চেষ্টা করে। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সটকে পড়ে। ওই গ্রামে হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটেনি।’
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মাসুদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ত্রাণ নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অপরদিকে, কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে এবং শাহজাদপুরের গণমানুষের নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি মহোদয়ের সার্বিক তত্বাবধানে সরকারি বরাদ্দ ১১ মেট্রিকটন চাউল ৩ ধাপে কৈজুরীর বিভিন্ন এলাকায় সুষ্ঠুভাবে বন্টন করার পাশাপাশি বুধবার ব্যক্তি উদ্যোগে অবদা’র আশপাশের ৬’শ অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ বিতরণ করেছি ও আজ ২’শতাধিক অসহায় কর্মহীন মানুষের হাতে নগদ অর্থ বিতরণ করেছি। চাহিদানুযায়ী সরকারি বরাদ্দ অপ্রত‚ল থাকায় একসাথে ইউনিয়নের সকল গ্রামে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৈজুরী ইউনিয়নের চরকৈজুরীসহ যেসব গ্রামে এখনও ত্রাণ দেয়া হয়নি; পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা বিতরণ করা হবে। এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহবান জানাচ্ছি।’এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় আ.লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম।

অসহায় মহল্লাবাসীদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ


শাহজাদপুরে ৪’শ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন শিল্পপতি আজাদ

বিশেষ প্রতিবেদক : আজ (শুক্রবার) রাতে শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর পুরাতন পাড়া মহল্লার নিজ বাসভবনে বিশিষ্ট শিল্পপতি কেএম খসরুজ্জামান আজাদ এলাকার প্রায় ৪’শতাধিক কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। উপজেলার রূপপুর পুরাতন পাড়া, রূপপুর দক্ষিণ পাড়া, চুনিয়াখালী পাড়া, পাঠান পাড়াসহ বেশ কয়েকটি মহল্লার অসহায় মানুষের হাতে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত ত্রাণের মধ্যে ছিলো ৫ কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, ১ কেজি মিষ্টি আলু ও দেড় কেজি আলু। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অসহায়দের মাঝে এ ত্রাণ তুলে দেয়া হয়। এ মহতী কাজে অংশ নেন উপজেলা বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রূপপুর গ্রাম উন্নয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক হাজী আনোয়ার হোসেন, শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খসরুজ্জামান খসরু, প্রফেসর কেএম খালেকুজ্জামান লাভলু, জহুরুল ইসলামসহ অনেকেই।
এদিকে, করোনা ভাইরাসজনিত কারণে এলাকার কর্মহীন অসহায় ৪’শতাধিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় উদ্যোক্তা বিশিষ্ট শিল্পপতি কেএম খসরুজ্জামান আজাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন অসহায় মহল্লাবাসী।

ইউনিয়ন ৪টি হলো কৈজুরী, গালা, পোরজনা ও হাবিবুল্লাহ নগর


শাহজাদপুরের ৪ ইউনিয়ন লক ডাউন!

শামছুর রহমান শিশির : আজ শুক্রবার বিকেলে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নকে লক ডাউন ঘোষণা করেছেন। ইউনিয়ন ৪টি হলো কৈজুরী, গালা, পোরজনা ও হাবিবুল্লাহ নগর। আজ শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ আদেশ সংবলিত একটি জরুরী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
জানা গেছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সড়ক ও নৌপথে অসংখ্য গার্মেন্টস কর্মী শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, গালা, পোরজনা ও হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নে আগমন করায় এবং অদ্যাবধি বিভিন্ন উপায়ে ওই ৪ ইউনিয়নে আসা যাওয়া বন্ধ ও জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনাপূর্বক এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে এ লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই ৪ টি ইউনিয়নে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়। জারিকৃত ওই গণবিজ্ঞপিপ্ততে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ ৪টি ইউনিয়নে সব ধরণের গণপরিবহন, জনসমাগম পূর্বের মতো বন্ধ থাকবে। তবে জরুরী পরিসেবা যেমন- চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ লক ডাউনের আওতার বাইরে থাকবে। সেইসাথে এ ৪ ইউনিয়নে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পূর্বের সকল নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

‘সামাজিক দুরত্ব’ বজায় রেখে এলাকার দুঃখী মানুষের হাতে রাতের আঁধারে গোপনীয়তা বজায় রেখে সাধ্যমতো কিছু তুলে দেয়ার চেষ্টা


রাতের আঁধারে দুস্থদের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ালেন এ্যাড. এসএ হামিদ লাবলু ও রাজীব শেখ

আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির : করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাতের আঁধারে শাহজাদপুর উপজেলার শতশত আসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন শাহজাদপুরের দুই জনদরদী নেতা। গতকাল বুধবার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শাহজাদপুর পৌর এলাকার ১, ২, ও ৭, ৮ নং ওয়ার্ড এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল গালা ও সোনাতুনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিলেন মিল্কভিটা’র ভাইস চেয়ারম্যান, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু), জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাদপুরের জনদরদী নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ শাহজাদপুর উপজেলা শাখার সাবেক আহবায়ক ও তরুণ সমাজের অহংকার রাজীব শেখ। উপজেলার গরিব মানুষদের জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যক্তিগত উগ্যোগের এই সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে। বিতরণ করা ত্রাণের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল,আলুসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এ ত্রাণ বিতরণ কালে অন্যানের মধ্যে শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবু শামীম সূর্য, নুরূল ইসলাম, হাবিবুল্লাহসহ দলীয় নেতাকর্মী অংশ নেন।
ত্রাণ পেয়ে পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ড রূপপুর নতুন পাড়া মহল্লার বিধবা মিনা (৪৫), সেরাজ সরদার (৭০), আমজাদ হোসেন (৮৫), হারান (৬০) সহ উপজেলার বেশ কয়েকজন অসহায় দুঃস্থরা আবেগøাপুত হয়ে পড়েন এবং উদ্যোক্তাদের জন্য দোয়া করেন। সেইসাথে লোক চক্ষুর আড়ালে রাতের আঁধারে তাদের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে ডেকে তুলে তাদের মতো অসহায়দের হাতে ত্রাণ তুলে দেয়ায় তারা আল্লাহপাকের নিকট শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘আমাদের কথা কেউ মনে রাখে না। যাক! তাও যে লাবলু ভাই রাজীব ভাই আমাদের কথা মনে রেখেছেন।’
এদিকে, এ বিষয়ে শাহজাদপুরের জননন্দিত নেতা এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘সামাজিক দুরত্ব’ বজায় রেখে এলাকার দুঃখী মানুষের হাতে রাতের আঁধারে গোপনীয়তা বজায় রেখে সাধ্যমতো কিছু তুলে দেয়ার চেষ্টা করেছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ শাহজাদপুর উপজেলা শাখার সাবেক আহবায়ক ও তরুণ সমাজের অহংকার রাজীব শেখ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে যেভাবে জনসমাগম করে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, যেটা আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য মারাত্বক ঝূঁকি বহন করে। বর্তমানে এলাকার অনেকেই অসহায়, বিপদগ্রস্থ্য কিন্তু ভিক্ষুক নয়। অন্ততঃ চলমান ক্রান্তিকালে ওইসব দুঃখী মানুষকে নিয়ে ফটোসেশনের রাজনীতি পরিহার করে তাদের গোপনে পাশে দাঁড়াতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

পর্যায়ক্রমে এ উদ্যোগ আশেপাশের গ্রামে নেয়া হবে


শাহজাদপুরে গ্রামকে জীবাণুমুক্ত করতে স্বেচ্ছাশ্রমের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

শামছুর রহমান শিশির ও সাগর বসাক : আজ সোমবার সকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার ব্যস্ততম এলাকা রূপপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসীর উদ্যোগে গ্রামকে জীবাণু মুক্ত করতে গ্রামে জমে থাকা ময়লা- আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করলো রূপপুর গ্রামবাসী। শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরূল ইসলাম এবং উপজেলা বণিক সমিতির নেতা আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনের আহবানে রূপপুর গ্রামবাসী এদিন সকাল থেকেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে গ্রামের প্রধান সড়ক, অলি-গলি ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জীবাণুনাষক স্প্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়। সেই সাথে এসব স্থানে জমে থাকা ময়লা আবর্জনাও অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে গ্রামবাসীকে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়। এ মহতী কাজে অন্যান্যের মধ্যে গ্রাম প্রধান আতিয়ার রহমান, শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খসরুজ্জামান খসরু, হাজী আজাদ, জহুরুল ইসলামসহ গ্রামের যুবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে এ উদ্যোগ আশেপাশের গ্রামে নেয়া হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

করোনা আক্রান্ত ৮০ বছর বয়সী ব্যক্তি সুস্থ হয়েছেন: আইইডিসিআর

ডেস্ক রিপোর্ট : গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ইতিমধ্যে আক্রান্ত আরও ৪ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছর। অন্য দুজনের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫৩ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার এ তথ্য জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা । তিনি আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
মীরজাদী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ইতিমধ্যে আক্রান্ত আরও ৪ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এঁদের মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছর। অন্য দুজনের বয়স ৬০ বছরের ওপরে।
মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, সর্বশেষ সুস্থ হওয়া চার ব্যক্তির কারও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছিল। এরপরও তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে যাকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁর বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আজ পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন পাঁচজন। মীরজাদী জানান, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টিনে থাকা ৩৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৭২৫টি কল এসেছে আইইডিসিআরে।
মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত দুই দিন কোনো শনাক্ত না থাকায় কেউ হয়তো মনে করছেন বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছে। আমরা ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছি, তা বলা যাবে না। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। যত দিন সারা বিশ্বে শূন্যের কোটায় না আসবে, তত দিন প্রতিটি প্রতিরোধ কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।
জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, আপনাদের সকলের অংশগ্রহণ অনুরোধ করছি। আপনাদের ঘরের ভেতর থাকা অত্যন্ত জরুরি। সরকার যেসব আদেশ-নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো পালন করুন। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে বের হোন।
৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। তখন বলা হয়, এই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের কাছ থেকে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত দেশে পাঁচজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ১৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ( তথ্যসূত্র- দৈনিক প্রথম আলো )

ধৈর্য ধারণ করে শান্তিপ্রিয় শাহজাদপুরবাসীর প্রতি ক্রান্তিকাল মোকাবেলার আহবান


‘করোনা প্রতিরোধে শাহজাদপুরবাসী সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবে বলে বিশ্বাস করি!’ – হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : ‘অতীতেও আমরা শাহজাদপুরের শান্তিপ্রিয় জনগণকে সাথে নিয়ে নানা বিপদ-আপদ, সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেছি। এলাকার গরিব, দুঃখী খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষদের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাঁসি ফোঁটানোর চেষ্টা করেছি। ঠিক তেমনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে শাহজাদপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি করোনার সংক্রমন এড়াতে বহুমুখী কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের এই ক্রান্তিকালেও করোনা ভাইরাসকে ভয় না পেয়ে শান্তিপ্রিয় শাহজাদপুরবাসী সচেতন হয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন- সেজন্য শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। শাহজাদপুরবাসী অতীতের মতোই ধৈর্য ধারণ করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি সব ধরনের নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
আজ রোববার বিকেলে একান্ত এক সাক্ষাতকারে শাহজাদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন স্থানীয় এমপি, সাবেক শিল্প-উপমন্ত্রী, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধ আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ দেশের সকল সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বপ্রথম শাহজাদপুরে আমরাই দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এলাকায় ৩ হাজার সচেতনতামূলক লিফলেট, ৩ হাজার মাস্ক ও ৩ হাজার সাবান বিতরণ করি এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে অধিক হারে এলাকায় লিফলেট, মাস্ক, সাবান বিতরণ করা হচ্ছে যা চলমান রয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় আ.লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা শাহজাদপুরের বিভিন্ন সড়কে ও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ওজু খানায় জীবাণুনাষক স্প্রে করছেন ও সাবান বিতরণ করছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে শাহজাদপুরের খেটে খাওয়া অভাবী কর্মহীন মানুষের কষ্ট লাঘবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খুঁজে বের করে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে অভাবী ওইসব মানুষের হাতে দ্রæত গতিতে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল, করোলা, বেগুণ, পটলসহ পুষ্টিযুক্ত নানা সবজি পৌঁছে দিতে পৌর এলাকাসহ ১৩ টি ইউনিয়নের সকল জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত কার্যক্রমও দ্রæততার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে এবং এলাকার গরীব দুঃখীদের ঘরে ঘরে গিয়ে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করে তাদের হাতে খাবার প্যাকেট তুলে দেয়ার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সেইসাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারি অনুদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থায়নে যেনো এলাকার গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়ায়- সে নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। গরীব দুঃখী মানুষের মাঝে সুষ্ঠু খাবার বন্টনে প্রস্তুতকৃত তালিকা আমি নিজেই নিয়মিত তদারকি করছি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আ.লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাটের সামনে একেক জনের অবস্থানের স্থল বক্স আকারে অংকন করে সামাজিক দুরত্ব (১ জন থেকে অন্য জনের দুরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট) বজায় রেখে চলাচল নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যেনো কেউ বৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করতে এবং বিদেশ ও ঢাকা থেকে যারা শাহজাদপুরে এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনকেও কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত যে কোন খবর, অনিয়ম আমাকে জানাতে তাৎক্ষণিক আমার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) গোকূল কুমার বিশ্বাস ( ফোন নং-০১৭১৩-৯১২০৬৪), উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান (ফোন নং-০১৯১৮-৩৪৯৯৩০), ইউএনও শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা (ফোন নং-০১৭৩৩-৩৩৫০৪২), থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান ( ফোন নং- ০১৭১৩-৩৭৪০৩৯), উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ( ফোন নং-০১৮২৪-১৮৯৩১০), উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আশিকুল হক দিনার ( ফোন নং-০১৭১৭-৬৭৩০৬৭), যুগ্ম-আহবায়ক কামরুল হাসান হিরোক ( ফোন নং-০১৭১৬-৪৩৩৫২৩), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন ( ফোন নং-০১৭১১-০৪৭৯২১) ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রাসেল ( ফোন নং- ০১৭৬০-৮৬১৫৩১) এর ফোন নাম্বারে জানাতে সর্বসাধারণকে জানানো যাচ্ছে।
পরিশেষে, এ ক্রান্তিকালে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে শাহজাদপুরের শাস্তিপ্রিয় জনগণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করবে বলে শাহজাদপুরের গণমানুষের নেতা আলহাজ¦ হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।