দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে হতাশা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার


শাহজাদপুরে প্রখ্যাত ২ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর সংস্কারে অধ্যক্ষের বাধা

আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)  : অধ্যক্ষের বাধায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দুই সংগঠক, শাহজাদপুরে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলক ও রৌমারী যুব শিবিরের মুক্তিযুদ্ধের রিক্রুটিং ক্যাম্প ইনচার্জ, শাহজাদপুর কলেজ ছাত্র সংসদের তৎকালীন জিএ ও থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শাহিদুজ্জামান হেলাল এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ফরহাদ হোসেনের কবর সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে মাননীয় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্বেও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমতির দোহাই দিয়ে অধ্যক্ষ সরাসরি এ সংস্কার কাজ নাকচ করে দেয়ায় প্রখ্যাত দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে হতাশা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭২ সনের ৯ জুন শাহজাদপুর কলেজে একটি কৃষক সমাবেশ চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে দুষ্কৃতিকারীদের সশস্ত্র হামলায় ছাত্র নেতা ওই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৬ জন নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। হত্যাকান্ডের পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতার দাবির মুখে কলেজ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিদুজ্জামান হেলাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ হোসেনকে শাহজাদপুর কলেজে (বর্তমান সরকারি কলেজ) অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে সমাহিত করা হয়। সেই সময়ে ওই কবর দু’টি ইট-সিমেন্ট দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। এর প্রায় দীর্ঘ ৪৯ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় কবর দু’টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিদুজ্জামান হেলাল’র পরিবারের পক্ষ থেকে কবর দু’টি পূনঃনির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তারের নিকট অনুমতি চাওয়া হলে প্রথমে স্টাফ কাউন্সিলের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রæতি দিলেও পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংস্কারের বিষয়ে অসম্মতি জানান। এমতবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একটাই প্রশ্ন, দু’জন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার কবর দু’টি কী পূনঃনির্মাণ করা আদৌও সম্ভব হবে না?

এ বিষয়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘যেহেতু সরকারি কলেজ, সেহেতু সংস্কারের অনুমতি দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমতি ছাড়া আমার পক্ষে কবর সংস্কারের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়।’
এ বিষয়ে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আজাদ রহমান জানান, ‘এখানে তো নতুন কোন কবর দেয়া হচ্ছে না। কবর তো আছেই। কবরটি জরাজীর্ণ হওয়ায় তা সংস্কারে তো বাধা থাকার কথা নয়! যখন এই দুই মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়, তখন কলেজটি সরকারি ছিলো না। এখন কলেজটি সরকারি হলেও কবর দু’টি সংস্কারে বাধা দেয়া সমীচীন বলে মনে করি না। এটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।’

সুস্থ রয়েছে গাভী ও বাছুর


শাহজাদপুরে ৬ পা বিশিষ্ট বাছুরের জন্ম

আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি গাভী ৬ পা বিশিষ্ট একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। এই অদ্ভুদ বাছুরটি দেখতে প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছে শত শত মানুষ। গত মঙ্গলবার উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বড় ধুনাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জনৈক আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেনের পালিত একটি গাভী ৬ পা বিশিষ্ট একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক জনতা বাছুরটি দেখার জন্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে ভীড় করছে। স্থানীয় ডা: কোরবান আলী জানান, বাছুরটি জন্মের পর থেকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক রয়েছে। বাছুরটির মালিক আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন জানান, আমার পালিত একটি গাভী গত ১৫ জানুয়ারী অদ্ভুদ এ বাছুর প্রসব করেছে। প্রসবের সময় বাছুরটির একে একে ৬টি পা বেড়িয়ে আসে। আমি সহ উপস্থিত সবাই ঘটনাটি দেখে অবাক হয়ে যাই। এখন পর্যন্ত গাভী ও বাছুর সুস্থ্য রয়েছে।

আলোর জন্য বই, বইয়ের জন্য আমরা" এই শ্লোগানকে সামনে রেখে


শাহজাদপুরে অনলাইন বুক শপ ‘ দরিদ্র তারকা’র উদ্বোধন

“আলোর জন্য বই, বইয়ের জন্য আমরা” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘দরিদ্র তারকা’ নামে অনলাইন বুক যাত্রা শুরু করেছে।

বই মানুষের পরম বন্ধু আর এই বন্ধুকে কাছে পাবার সহজলভ্য উপায় হিসাবে রবিবার রাতে জানাক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ দরিদ্র তারকা’ নামের অনলাইন বুক শপ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী মাকসুদ রহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার সংবাদের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, মাই টিভির উপজেলা প্রতিনিধি জাকারিয়া মাহমুদ, সময়ের আলো প্রতিনিধি নয়ন আলী, সাংবাদিক আসাদুর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ‘দরিদ্র তারকা’ বুক শপ এর উদ্যোগক্তা মাকসুদ রহমান বলেন এই অনলাইন বুক শপের মাধ্যমে সকল প্রকার বই খুবই সহজে এবং ন্যায্য দামে পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন এই বইয়ের লাভ্যংশের কিছু অংশ হত দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী দের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাইটিভির শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাকারিয়া মাহমুদ,দৈনিক আমার সংবাদ শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, দৈনিক আমার সংবাদ এর এনায়েতপুর থানা প্রতিনিধি আসাদুর রহমান।

যমুনার দুর্গম চরে আলোর ছোয়া

যেখানে মানুষের চলাচলের জন্য নেই ভাল যাতায়াত ব্যবস্তা, নেই চিকিৎসা ব্যবস্তা, সেখানে সোলার বিদ্যুৎ এর আলোয় আলোকিত হয়েছে যমুনা চরবাসী। এই অসাধ্য সাধন করেছে রহিম আফরোজ রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেড। তাদের এই মহৎ উদ্দেগের কারনে চরবাসী আজ আলোকিত হতে পেরেছে। অন্ধকার আচ্ছন্ন চরবাসী পেয়েছে আলোর দেখা।

রাতের অন্ধকার কাটাতে এক সময় কুপি কিংবা হারিকেনের আলোই ছিল চরবাসীর মূল ভরসা। কিন্তু এখন তা অতীত হয়েছে। কারণ, দুর্গম চরে পৌঁছে গেছে সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ সংযোগ। আর সেই সংযোগে ঘরে ঘরে জ্বলছে আলো। ছাত্র-ছাত্রীতাছারা লেখা পড়া করতে আরো বেশি উৎসাহ পাচ্ছে। চর বাসী ডাকাতের ভয়ে থাকত এখন সোলার বিদ্যুৎ এর কারণে গ্রামে গ্রামে বাতি হওয়ায় আলোকিত চরে পরিণত হয়েছে ফলে চোর ডাকাতের উপদ্রুপ অনেকটাই কমেছে।

এ বিষয়ে প্রজেক্টট ইনচার্জ মুজাম্মেল হক জানান আমাদের এই প্রজেক্টটি ৮০ কিলো ওয়াট পিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।এখানে ২৫০ টি প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় এবং তিনটি ফেজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ৬ কিলো মিটার বিস্তৃত ২২০ টি পরিবার এই সেবার আওতায় রয়েছে এবং ২৫ বছরের প্রজেক্ট নিয়ে কোম্পানিটি কাজ করছে।সেবার আওতার গ্রাম গুলো হলো বাইনতিয়ার চর,গোরজান,নওহাটা।গ্রাহকদের প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে হয় এবং প্রিপেইড মিটারের আওতাদিন সকল সংযোগ।

নওহাটার গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা মোল্লা বলেন এই বিদ্যুৎ আমাদের এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান আমুল পরিবর্তন এনেছে। আগে আমরা মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পারতাম না,চার্জের জন্য নদীপার দিয়ে মোবাইল চার্জ দিতে হতো।এখন মোবাইল চার্জ টিভি,ফ্রিজ সব চালাতে পারি কোন সমস্যা হয় না।আমাদের অনেক উপকার হয়েছে এবং এলাকার মানুষ খুবই আনন্দিত।

বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন


শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রের তৈরী সার্চ ইঞ্জিনের জন্য ২ লাখ টাকা অনুদান

সার্চ বিডি নামক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সার্চ ইঞ্জিন তৈরীর জন্য শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া ছাত্র আবির আবেদীন খানের নামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছে।

তরুণ উদ্ভাবক আবির আবেদীন খান জানায়, জিজিটাল মেলা ২০২০ এ সিরাজগঞ্জ জেলায় তার সার্চ ইঞ্জিন প্রকল্পটি প্রথম স্থান লাভ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রকল্পে আবেদন করলে অনলাইনে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরেই তাকে জানিয়ে দেয়া হয় তার নামে ২ লাখ টাকা অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। 

শাহজাদপুর উপজেলা আইসিটি সহকারি প্রোগ্রামার মাহবুবা আলম বীথি আবির আবেদীন খানকে তার কৃতিত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মো: শামসুজ্জোহা বলেন, ‘আবির শুধু আমাদের শাহজাদপুরের গর্ব নয়, বাংলাদেশের গর্ব। বাংলাদেশ সরকার তার কাজের মূল্যায়ন করায় আমি অনেক খুশি।’ 

শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আবির আমাদের স্কুলের গর্ব। ওর কৃতিত্বের জন্য আমি স্কুল থেকে ওকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবো।’

আবির জানায়, www.searchbd.net এই ঠিকানায় গিয়ে সার্চ ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা যাবে। তার ইচ্ছা বড় হয়ে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তৈরী প্রথম সার্চ ইঞ্জিন পিপিলিকা।

শাহজাদপুরের গর্ব তরুণ উদ্ভাবক আবির আবেদীন খানকে অভিনন্দন জানিয়েছে প্রেসক্লাব শাহজাদপুরের সকল সদস্যবৃন্দ।

আবারও অসহায় বৃদ্ধা সোনাবানের পাশে প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা

স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ফারুক হাসান কাহার তার ফেসবুকে সোনাবানের জন্য কেউ একটি লেপ দিবেন এমন স্ট্যাটাস দিলে বিষারয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতার নজরে আসে। তিনি সোনাবানের সার্বিক খোজ নিয়ে তাকে জানাতে বলে কমেন্টস করেন।

বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার বাড়াবিল মধ্যপাড়া প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতার পক্ষ থেকে সাংবাদিক ফারুক হাসান কাহার ও মনিরুল গনি চৌধুরী শুভ্র লেপ, তোষক, চাদর, সোয়েটার, স্যান্ডেল, মোজা, চাল, ডাল, তেল, লবন, আপেল, কমলা, আঙ্গুর, ডালিম, ও নগদ অর্থ সোনাবানের কাছে তুলে দেন। তিনি গত রমজান মাসে ও করোনার শুরুতেও খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী মো. আলতাফ হোসেন, বরাত আলী সুমন, নাজমুল, আরিফ, রাসেল, হাসান, হাসেম প্রমুখ।

প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা বলেন-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাই আমাদের মানুষকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন। সোনাবান যতদিন বেচে থাকবে আমি তার পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

২০ বছর আগে স্বামী মারা যায় সোনাবান খাতুন ডুকলির। অন্যের বাড়িতে কাজ করে পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেকে বড় করেছেন। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলে তাঁত শ্রমিক বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকে। মায়ের কোনো খোঁজ নেয় না ছেলে।স্বামী মারা যাওয়ার পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার বাড়াবিল মধ্যপাড়া ভাইয়ের বাড়িতে একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করছেন সোনাবান।

সোনাবানের স্বামী মো. আয়নাল পেশায় ছিলেন তাঁত শ্রমিক। টিভি রোগে তিনি ২০ বছর আগে মারা যান। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে সোনাবানের কষ্টের জীবন।স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সোনাবান আশ্রয় নেন ভাইয়ের বাড়িতে । সেখানেই ছোট্ট একটি কুড়ে ঘরে তার বসবাস।

সুপ্ত প্রতিভা প্রস্ফুটিত হয়ে মানবিক গুণে ভরে উঠুক কচিকাঁচাদের জীবন'- শিক্ষক সুমাইয়া আক্তার


শাহজাদপুরে ‘মানবতার দেয়াল’র সাথে ছোট্ট সোনামণি সর্গও

শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মহান শিক্ষিক সুমনা আক্তার শিমু আলোকবর্তিকা সংগঠনের ব্যনারে মানবতার দেওয়াল নামের ব্যতিক্রমী ও সেবামূলক একটি পট উন্মোচন করে জনকল্যাণ করে চলেছেন। তার এ মহত উদ্যোগ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের আদলে এবারও নতুন উদ্যোমে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে দেয়ালের সাথে হ্যাঙ্গারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের কিছু দরিদ্র  শিক্ষার্থী তাদের প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে ব্যবহার করতে পারছে। বিদ্যালয়ের কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ওই দেয়ালে পোশাক রেখে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় সরবরাহের জন্য এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু মহৎ এ উদ্যোগ নিয়েছেন। মানবতার এই দেয়াল সবসময়ই চালু থাকবে বলে তিনি জানান।  এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই মানবিক আদর্শে উজ্জীবীত হতে পারবে। সেই সাথে কচিকাঁচাদের মধ্যে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভা প্রস্ফুটিত হয়ে মানবিক গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে – এ লক্ষ্যেই সংগঠনটি সৃষ্টি করেছেন শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু। তার এ ব্যতিক্রমি ও মহতী উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকেই সহযোগীতার হাত প্রসারিত করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিক কৃষ্ণা পৈইত ও ছোট্টমণি সর্গও মানবতার দেদিপ্যমান শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমুর হাতে অব্যবহৃত পোষাক তুলে দেন।

অপরদিকে, সংগঠনটির মহৎ উদ্দেশ্যগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং সচেতনমহলসহ এলাকাবাসী এ সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোঁধের বিকাশের লক্ষ্যেই 'আলোকবর্তিকা'


শাহজাদপুরে শীতার্তদের পাশে মহান শিক্ষক  সুমনা আক্তার শিমুর ‘মানবতার দেওয়াল’

জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি : ভেঙে পড়া সমাজ ব্যাবস্থায় মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব। যান্ত্রিকতার যুগে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে কেবল স্বর্থের। একবিংশ শতাব্দীতে আত্মিক সম্পর্ক এখন কল্পনা। মানবিক সংকটের এই কালেও কেউ কেউ মানবতার ছাতা ধরেন অসহায় মানুষদের মাথার উপর। এমনই একজন মানবিক গুণসম্পন্ন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু। কেবল মানবিক দায়িত্ব বোধ থেকেই তৈরী করেছেন মানবতার দেওয়াল! শুধু তাই নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেবাধর্মী মনোভাব তৈরি করে হারিয়ে যাওয়া নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছেন প্রাণপন। এই বিপর্যস্ত সময়ে আশার আলোর মত গড়ে তুলেছেন ‘আলোকবর্তিকা’ নামে শিক্ষা মূলক সংগঠন। শিশু-কিশোরদের চোখে স্বপ্ন বুনে দিতে, মানবিক গুণাবলি হৃদয়ে রোপন করতেই তিনি গড়ে তুলেছেন সংগঠনটি। আর এই সংগঠনের ব্যানারেই তিনি সৃষ্টি করেছেন ‘মানবতার দেওয়াল’! সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অর্থহীন জনমানুষ যেন এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাপড় ও শীতবস্ত্র বিনামূল্যে নিয়ে পরিধান করতে এবং সমাজের বিত্তবানেরা যেন তাদের অপ্রয়োজনীয় পোশাক ও শীতবস্ত্র অসহায়দের জন্য রেখে যায়;  সেই উদ্দেশ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘মানবতার দেওয়াল’!  এই প্রচেষ্টা তিনি গত বছর থেকেই চলিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছরের মত করে আরও নতুন উদ্যোমে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে দেয়ালের সাথে হ্যাঙ্গারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী তাদের প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে ব্যবহার করছে। বিদ্যালয়ের কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ওই দেয়ালে পোশাক রেখে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় সরবরাহের জন্য এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের মহান শিক্ষক ও মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তা সুমনা আক্তার শিমু বলেন, “বিদ্যালয়ের ধনী পরিবারের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা নতুন ও তাদের অব্যবহৃত পুরাতন স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় এই দেয়ালে টাঙিয়ে রাখবে। বিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীদের কাপড় প্রয়োজন ওই দেওয়াল থেকে তারা নিয়ে ব্যবহার করবে। সুবিধা বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় যোগান দিতেই এটি চালু করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিকশিত হবে।”

এটি সবসময়ই চালু থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ আরও জানান, “বর্তমান সময়ে মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট মানবিক বিপর্যয়। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত করাই ‘আলোকবর্তিকার’ প্রধান উদ্দেশ্য। এই সংগঠন শিক্ষার্থীদের  নির্ভিক, ন্যায়নিষ্ঠ, পরপোকারী, উদ্যোমী সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাধ্যবাধকতা নয়, উৎসাহ আর অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক গুণাবলীর বিকাশ এবং শিক্ষাগ্রহণ এর প্রতি মনোযোগী করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা গুলো যেন প্রস্ফুটিত হতে পারে সেই সুযোগ করে দিয়ে পরিশুদ্ধ মানুষ গঠণের লক্ষ্যেই সংগঠণটি সৃষ্টি করা হয়েছে।”
এদিকে, সংগঠনটির মহৎ উদ্দেশ্যগুলোকে স্বাগত জানিয়ে এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং সচেতনমহল সংগঠণটির উত্তরোত্তর প্রসার ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ‘উড়ন্ত’ স্পিডবোট যাত্রা শুরু

বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ‘উড়ন্ত’ স্পিডবোট যাত্রা শুরু করেছে। ‘ক্যান্ডেলা সেভেন’ নাম দিয়ে এটি উদ্ভাবন করেছে সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএআর বুটবাউ অ্যান্ড বুথান্ডেল এজি। একে উড়ন্ত স্পিডবোট বলার কারণ হলো, এটি ঢেউয়ের ওপর দিয়ে অনেকটা ভেসে চলতে পারে। খবর: রয়টার্স।  নৌযানটির নিচের একটি ধাতব কাঠামো বা ফয়েল এটিকে পানির স্তর থেকে কিছুটা ওপরে তুলতে পারে। এতে ধেয়ে আসা ঢেউ স্পিডবোটটির নিচ দিয়ে চলে যায়। উদ্ভাবকদের দাবি, নৌযানটিতে থাকা কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফয়েলের অবস্থান সমন্বয় করতে পারে। এতে দুলুনি লাগে অনেক কম। দুলুনি কম হওয়ায় দুই ধরনের সুফল পাওয়া গেছে। প্রথমত, দীর্ঘ যাত্রাজনিত অসুস্থতা কমে আসে। দ্বিতীয়ত, পানির সঙ্গে স্পিডবোটের নিচের পৃষ্ঠের ঘর্ষণ কম হওয়ায় শক্তির ব্যয় কম হয়।

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, ডিজেলচালিত স্পিডবোটের তুলনায় এ স্পিডবোটে শক্তির খরচ ৮০ শতাংশ কম হয়। শব্দও কম হয় এতে। এই ষ্পিডবোট ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত নৌযানের চেয়ে এটি বেশি দূরত্বও অতিক্রম করতে পারে।

ডব্লিউএআর বুটবাউ অ্যান্ড বুথান্ডেল এজির ওই স্পিডবোট এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডের লুসারনা হ্রদে ভাসতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান ভোগেল বলেন, যেহেতু স্পিডবোটে কোনো ঢেউ আঘাত করবে না, কাজেই কোনো দুলুনিও থাকবে না। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিদ্যুৎচালিত যত নৌযান উদ্ভাবিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হয় গতি, না হয় পাল্লার বিষয়টি ছাড় দিতে হয়েছে। কিন্তু ক্যান্ডেলা সেভেনে দুটোই পাওয়া যাবে। একেকটি স্পিডবোটের দাম পড়বে দুই লাখ ৯৬ হাজার ডলার।

বিলিভ ইউ অর নট ; এলাকায় চাঞ্চল্য


শাহজাদপুরে সম্পত্তির লোভে একই স্বামীকে ৩ বার বিয়ে!

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য যে শাহজাদপুরে অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে এক নারী কর্তৃক একই স্বামীকে ৩ বার বিয়ে ও ৩ বার বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি বারই বিয়ে ও বিচ্ছেদের সময় প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়াহ’কে লঙ্ঘন করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার মৃত শাহজাহান শেখের মেয়ে সোনা খাতুন তার ১ম স্বামী হারিয়ে বাবার বাড়ি রূপপুরে সন্তানাদী নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছিলো। এ কষ্ট লাঘবে কয়েক বছর আগে সোনা খাতুন হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের রতনকান্দি গ্রামের আলিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে বিবাহিত যুবক আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পরই সোনা কর্তৃক দেনমোহরের টাকা নিয়ে তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। আরও পরে সোনা তার সাবেক স্বামী আব্দুর রহমানের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে ফুসলিয়ে গত ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ২য় বার বিয়ে করে। এ বিয়ের পর আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ৩ শতক জমি নিজ নামে লিখে নেয় সোনা। উদ্দেশ্যে হাসিলের হওয়ায় গত ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল ফের তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ২য় বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চতুর সোনা জানতে পারে তার সাবেক স্বামী আব্দুর রহমানের আরও সম্পত্তি রয়েছে। সে সম্পত্তিও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানা ফাঁদ পাততে শুরু করে। যথারীতি আব্দুর রহমান ৩বারের মতো সেই ফাঁদে ফের পা দেয়। এবার রূপপুর নতুন পাড়া মহল্লার আনিছ হুজুর তাদের তওবা পড়িয়ে ফের ৩য় বারের মতো তাদের বিয়ে দেন। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তালাকনামা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ৩য় বিয়েরও বিচ্ছেদ ঘটে।
দেশে প্রচলিত আইনে তালাকপ্রাপ্ত একই স্বামী স্ত্রীর ২য় বিয়ে করতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে তালাকনামা প্রত্যাহার বা ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক হিল্লা বিয়ের পর কিছু নিয়ম কানুন মেনে বিয়ের বিধান থাকলেও আব্দুর রহমান ও সোনার পরপর ৩ বার বিয়ে ও বিচ্ছেদে তার কোনটাই মানা হয়নি। কেবলমাত্র স্বামী আব্দুর রহমানের সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যেই সোনা অনৈতিকভাবে ৩ বার বিয়ের পিড়িতে বসেছেন। এলাকাবাসী চতুর সোনার দৃষ্টাস্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, চতুর সোনার বিরুদ্ধে আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রী ও সন্তানদের হুমকি প্রদানেরও অভিযোগ উঠেছে।