অভিভাবকহীন করতোয়া চলছে দখল ভরাট!

শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুন পাড়া ও উরিরচরে করতোয়া নদীর বুকে বালির বাঁধ দিয়ে করতোয়া নদীর বৃহৎ একটি অংশ ভরাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও তীরবর্তী কতিপয় বসতিদের বিরুদ্ধে। বৃহৎ ওই অংশের কোথাও নেই সীমানা চিহ্ন বা পিলার। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কোনো গরজ পরিলক্ষিত না হওয়ার ইচ্ছেমতো চলছে ভরাট ও দখলের কাজ। ঘটনার এখানেই শেষ নয়! ঈদগাহ, কবরস্থান, স্কুল আঙ্গিনা ও বসতবাড়িতে বালি ভরাটের নামে কৌশলে করতোয়া নদী তীর দখল করা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জরুরী ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা উচিৎ বলে বিজ্ঞমহল মনে করছেন।

শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুন পাড়া ও উরিরচরে হারুনর রশীদ (৬৫), গোলজার হোসেন (৭৫), সোহেল রানা (৩০)সহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, ‘গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার প্রভাবশালী হাফিজুর রহমান, ওমর ফারুক, আরিফুল ইসলাম, খবির মেম্বর, পাবনার রুবেল, রতনকান্দির রমজান ও বাঁশির ছেলের নেতৃত্বে উরিরচর এলাকার সাঈদের বাড়ি থেকে থানারঘাট করতোয়া সেতু সংলগ্ন রাসেলের বাড়ী পর্যন্ত করতায়া নদীর বুকে বালির বাঁধ দিয়ে দখল ভরাটের কাজ শুরু করেছে। প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে করতোয়া নদী তীরের এ অংশ নিজস্ব মালিকানাভুক্ত সম্পত্তি দাবী করা হলেও করতোয়া নদীর পশ্চিমের সীমানা কোথায়? বা কতদূর পর্যন্ত? এমন প্রশ্নের জবাব না প্রভাবশালীরা, না নতুন বসতি; এলাকার একজন মানুষও বলতে পারেনি।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে একই এলাকার মৃত নূর আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন বলেন,’আমরা নতুন বসতি। চৌহালী থেকে এসে বাড়ি করেছি। সবাই বলে এ জায়গা তো নদীর।’ একই এলাকার জয়নাল মুন্সীর ছেলে মোতালেব বলেন,’নদীর সীমানা জানি না। ভরাটের স্থানগুলো নদীর না ব্যক্তির ; তাও জানি না।’
দখল ও ভরাটের সাথে সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‌‌ঈদগাহ, কবরস্থান, স্কুল আঙ্গিনা ও বসতবাড়িতে বালি ভরাটের অন্তরালে কৌশলে করতোয়া নদী তীর দখল করছি। এর কিছু জায়গা আমাদের । বাকিটা নদীর।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাফিজুর রহমানের ভাই হাফেজ মাওঃ শামছুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘সামনে আমরা যারা আছি, তারাই আমরা বাড়ির জায়গা ভরাট করছি। পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ডিসির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দিয়েই এ কাজ করছি।’

শাহজাদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুম মিয়া বলেন,’শুনেছি জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানার। তবে আমরা ভরাটের কোন অনুমতি দেইনি।

এ বিষয় শাহজাদপুর উপজলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করে ভরাট করার কোন অনুমতি দেইনি। নদীর বা সরকারি জায়গা দখল করে ভরাট করল অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্যদিক, এ বিষয় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরেজমিন না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
আইন বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞমহলের মতে,’সিএস নকশায় ১৯৪০ সালে যেটা নদী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, পরবর্তীতে সেটার শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। নদী শিকস্তি ও নদী পয়স্তি আইনানুসারে মালিকানাভুক্ত জমি নদীগর্ভে বিলীন হলে এবং ৩০ বছর বলবৎ থাকলে সে জমি রাষ্ট্রের। এজন্য, উত্তরাঞ্চলের বুক চিরে বহমান করতোয়া’র মতো জনগুরুত্বপূর্ণ নদীর এ অংশের সীমানা নির্ধারণ অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামে সড়কের নামকরণের দাবী


‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত এফএফ-৫০৮৪; মোদের গোরব মোদের অহংকার!

শামছুর রহমান শিশির : ‘৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে নানা রণকৌশল গ্রহণ করতেন মুক্তিবাহিনী । তন্মদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামের বিশেষ ব্যবহার লক্ষনীয় । পাকবাহিনী ও রাজাকারের দল যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে না পারে বা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় স্বজনদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান জানতে না পারে, সেজন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামে ডাকা হতো। যেমন, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জাকে ‘স্বপন কুমার’ ছদ্মনামে ডাকা হতো। ছদ্মনামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের আসল নামে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও চিনতেন না। চিনতেন, ডাকতেন তাঁদের ছদ্মনাম ধরেই। ’৭১ এর রণাঙ্গণে ভারত থেকে স্পেশাল গেরিলা  ট্রেনিং নিয়ে যারা দেশে ফিরে জীবন বাজি রেখে অসংখ্য সন্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন তাদেরই অকুতোভয় এক বীর সৈনিকের নাম ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ ( ফ্রিডম ফাইটার নং-৫০৮৪)!

সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী (ছদ্মনাম) নিঃখাদ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তীক্ষ্ণ মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অমর অবদানে দেশ ও জাতি ধন্য হয়েছে। কিন্তু, দেশ স্বাধীনের পরপরই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর তিনি মনে চরম ক্ষোভ আর বুকভরা ব্যথা নিয়ে দেশ ত্যাগ করে সুইডেনে পারি জমিয়েছিলেন।
সুইডেনে অবস্থানকালে যারাই জানতে পারতেন ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’র বাড়ি বাংলাদেশে,  তারাই তাঁর কাছে জানতে চাইতেন, ‘তোমরা বিশ্ব প্রতিভা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলে কেন ? তিনি তো শুধু বাংলাদেশের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের সম্পদ ! নিশ্চই তোমরা বাঙালিরা ভালো লোক নও!’ সুইডিশদের এ ধরনের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারতেন না ’৭১ এর রণাঙ্গণের সাহসী বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী।
দেশ ও জাতির গর্বিত সন্তান সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সাথে আলাপকালে উদ্বেগ প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমানে আর বেঁচে নেই। অবশিষ্ট ২০ ভাগ হারে যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও জীবিত রয়েছেন, তারাও বয়সের ভারে নুব্জ  হয়ে পড়েছেন। আগামী ১৫/২০ বছরের মধ্যে হয়তো তারাও  বার্ধক্যজণিত কারণে মারা যাবেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশে অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওইসব অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সিংহভাগেরই বয়স ছিল ‘আন্ডার এজ’ বা শিশু-কিশোর! মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা চালুর পর থেকেই অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা শংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ইতিহাসকে কলুষিত করে চলেছে।’
বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ছোট বেলা থেকেই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ছিলো গভীর মমত্ববোধ। দেশ মাতৃকার প্রতি ভালোবাসা মমত্ববোধ আর বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে তিনি আত্মীয় স্বজন, ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্বল সবকিছু ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই স্পেশাল ট্রেনিং নিতে সূর্য্যকান্ত ভারতে চলে যান।  ভারতের বিহার প্রদেশের চাকুলিয়া এলাকায় প্রথম ব্যাচেই তিনি স্পেশাল ট্র্রেনিং নিতে শুরু করেন। সেখানে তিনি নির্দিষ্ট টার্গেটে নিখুতভাবে দুরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ট্রেনিং সফলতার সাথে করায়াত্ব করেন। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা আর দক্ষতায় অতি অল্প সময়েই তিনি দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ওপর স্পেশাল ট্রেনিং সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। ট্রেনিং শেষ করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্ট হিসেবে তিনি রণাঙ্গণে যোগ দিয়ে নিজ দক্ষতায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ রণাঙ্গণের ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বীর বীক্রমের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক ৭ নং সেক্টরের যেখানেই দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের প্রয়োজন হতো, সেখানেই চলে যেতেন সূর্য্যকান্ত । সেখানে গিয়ে নিখুতভাবে টার্গেটকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপ করতেন। এভাবে পাকহানাদার ও তাদের দোসরদের বিধ্বস্তে বিশেষ অবদান রাখতেন তিনি। ৭ নং সেক্টরে মুুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক অবস্থা তখন বেশ ভালো, এমন সময় ৬ নং সেক্টর থেকে খবর আসলো, পাকহানাদারদের হামলায় ৬ নং সেক্টরের বীর যোদ্ধারা ক্রমেই কোনঠাঁসা হয়ে পড়ছে। ওই সময় ৬নং সেক্টরে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র, রসদ ও গোলাবারুদসহ সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্টের স্বল্পতাসহ কিছু কারণে পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমন হামলা ক্রমাগত সফল হচ্ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল মুক্তিবাহিনী। এমতবস্থায় ৭নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীকে ৬ নং সেক্টরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও সূর্য্যকান্ত অদম্য মনোবল নিয়ে সাহসীকতার সাথে পাকহানাদারদের লক্ষ্য করে মর্টারশেল নিক্ষেপে অভাবনীয় সাফল্যের পরিচয় দেন। সেক্টর পরিবর্তন করলেও ৬নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক একই রণকৌশলে তিনি শত্রুদের হামলা ও পাল্টা হামলার সমুচিত জবাব দিতে থাকেন। একই সাথে তিনি ৬নং সেক্টরের বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিখুতভাবে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিপেক্ষের কলাকৌশলে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলেন। ফলে, অল্প সময়ের ব্যবধানে মুক্তিবাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় ও কোনঠাঁসা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এমতবস্থায়, ‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী প্রচুর গোলাবারুদ, রসদ, যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক সরঞ্জামসহ শতাধিক সহযোদ্ধাদের নিয়ে রংপুর এলাকা থেকে যমুনার নৌপথ ধরে সিরাজগঞ্জের দিকে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার সাথে তাদের সাক্ষাত হয়। পরে একত্রিত হয়ে তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে শুরু করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকবাহিনীর ঘাঁটিগুলো একে একে বিধ্বস্ত হতে থাকে ও পাকহানাদারেরা পরাস্ত ও পিছু হটতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষের দিকে চলনবিলের হান্ডিয়াল নামক স্থানে তাদের সাথে পাকবাহিনীর ভয়াবহ ও লোমহর্ষক এক সন্মুখ যুদ্ধ বেঁধে যায়। বর্ষাকালে সংগঠিত ওই সন্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হান্ডিয়ালে সংগঠিত সন্মুখ যুদ্ধ’র স্মৃতিচারণে সূর্য্যকান্ত বলেন,’পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার বহরে জনৈক এক কোরআনের হাফেজ ছিলেন। স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জা সূর্য্যকান্তকে বলেছিলেন যে জনৈক ওই কোরআনের হাফেজ আধ্মাতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কোরআনের ওই হাফেজ শত্রুদের নিয়ে আগের দিন যে ভবিষ্যতবাণী করতেন, পরদিন তা বাস্তবে ফলে যেতো। একদিন, স্বপন কুমার ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সম্মিলিত দু’বহরের প্রায় আড়াই’শ মুক্তিযোদ্ধার দল চলনবিলের ভেতর দিয়ে নৌপথে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের অবস্থান ছিলো হান্ডিয়াল এলাকায়।
এমন সময় ওই কোরআনের হাফেজ চিৎকার দিয়ে বহরের সকল নৌকা থামাতে বলেছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে হাফেজ সাহেব বলেছিলেন, ‘মুক্তিবাহিনীর পুরো বহরটি তীব্র ঝূঁকির মধ্যে পড়েছে।’ হাফেজের কথামতো থামানো হয়েছিলো পুরো নৌকার বহর। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা নৌকা থেকে বুক পরিমান পানির মধ্যে নেমে কচুরিপানা দিয়ে মাথা ঢেকে অতি গোপনে আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন, তাদের পুরো বহরটাই পাকবাহিনী ঘিরে ফেলেছে। মুক্তিবাহিনীর বহরে প্রচুর রসদ, গোলাবারুদ, যুদ্ধস্ত্র থাকলেও পাকবাহিনীর অবস্থান জানতে পেরে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মুক্তিবাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে পাকহানকদারদের চোখে ধুলো দিয়ে নৌপথ থেকে স্থলভাগে অবস্থান নিলেন। স্থলভাগে খোঁড়া হলো অসংখ্য বাংকার। তার মধ্যে সশস্ত্র অবস্থান নিলেন মুক্তিবাহিনী। বাংকারে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সুযোগ বুঝেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত  হামলা চালালেন। মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাইফেল থেকে মুহুঃমুহু গুলিবর্ষণ, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকলেন। বেঁধে গেলো ভয়াবহ সন্মুখ যুদ্ধ। পাকবাহিনীও পাল্টা জবাব দিতে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করতে থাকলো। ব্যাপক গোলাগুলি, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ, গ্রেনেড ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে চারিদিক প্রকম্পিত হতে থাকলো । নৌপথ ছেড়ে স্থলভাগে অবস্থানের রণকৌশল গ্রহণ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে মুক্তিবাহিনী হামলা চালানোয় অপ্রস্তুত পাকবাহিনী আতংকগ্রস্থ হয়ে এলোমেলোভাবে এদিক ওদিক লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছুঁড়তে লাগলো।
অবশেষে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার (আব্দুল লতিফ মির্জা) ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর ২ বহরের আড়াই’শ বীর বাঙালি যোদ্ধার দল জীবন বাজী রেখে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাক-হানাদারের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনলেন। শেষ হলো হান্ডিয়াল যুদ্ধ।
স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, ‘৭১ এর রণাঙ্গনে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূর্যসন্তান, আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার বীরমুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী নামটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ছদ্মনাম হলেও তাঁর প্রকৃত নাম গোলজার মিয়া (সুইডেন প্রবাসী)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লার প্রয়াত নূরুল হকের জ্বৈষ্ঠ্য সন্তান।
‘৭১ এর রণাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধার স্মৃতি চির অম্লান রাখতে সম্প্রতি তাঁর নিজ মহল্লার পাঁকা সড়কটি ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়া সড়ক’ নামকরণের জোরালো দাবী উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। এ যৌক্তিক দাবী পূরণ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাথা অবদানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও যথাযথ মূল্যায়ণ করবেন সংশ্লিষ্টরা-এমনটাই বিশ্বাস এলাকাবাসীর।

লেখক : সাংবাদিক।

ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি


এসএসসি পরীক্ষা জুনে এইচএসসি জুলাইয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২১ সালের জুন মাসে এসএসসি ও জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে। এ ছাড়াও জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি’র ফল প্রকাশ করা হবে।

বই উৎসবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি’র ফল নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হবে না। করোনার কারণে এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে ফলাফল দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হবে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সেই সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল নিয়ে যদি কোনো শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হন তাহলে তিনি নিজ শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করতে পারবেন। তবে আশা করছি রেজাল্ট নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হবেন না। এইচএসসি’র ফল তৈরি রয়েছে। আশা করছি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। অধ্যাদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই ফল প্রকাশ করা হবে। জেএসসি বা জেডিসি’তে কোনো মার্কিং করা হবে না। শুধুমাত্র সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

২০২১ সালে শ্রেণিতে কোনো রোল নম্বর থাকবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি নম্বর দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূরীকরণে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের শ্রেণিকক্ষে সহযোগিতামূলক আচরণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোল নম্বরের কারণে।

তাই ২০২১ সাল থেকে শ্রেণিকক্ষে থাকছে না কোনো রোল নম্বর। একজন শিক্ষার্থীর জন্য এই ইউনিক আইডি সারাজীবন থাকবে। এই আইডি সে সারাজীবন ব্যবহার করবে। এরমাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৬ই মার্চ থেকে প্রত্যক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময়কালে ক্লাসরুমে পড়ানোর উদ্যোগ নেবো, সেই চেষ্টা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্প পরিসরে খুলে দেয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চলমান থাকবে।

বই উৎসবের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১লা জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে না। ধারাবাহিকভাবে ১২ দিনে সব ক্লাসে বই বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের বই নিতে হবে।

গত ১০ বছর থেকে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়। এটি আমাদের একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। করোনা হানা দিয়েছে বলে এবার সেই উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

এরপর থেকে স্কুলে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাগে তিনদিন বই বিতরণ করা হবে। মোট ১২ দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. দীপু মনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আমরা দেখবো তারা সেটি পালন করে কিনা।

ভার্চ্যুয়াল এ সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

[ তথ্যসূত্র : যোগাযোগ বিডি ডটকম ]

উন্নত দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে সেনা সদস্যদের কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী,র

২০৪১ সালের উন্নত দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে সেনা সদস্যদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে যেন দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীকে দেশের উন্নতিতে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। নবীন সেনা সদস্যদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও কল্যাণে সর্বদা নিষ্ঠার সঙ্গে সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্যোগ দুর্বিপাকসহ সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের নিয়োগ দিয়েছে যা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশকে আরও এগিয়ে নিতে নবীন সেনাসদস্যদের আহবানের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভুয়া ডাক্তারের যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ভুয়া ডাক্তারের সাজা যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খাঁন রবিন পিটিশনার হয়ে জনস্বার্থে আজ সোমবার এ রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

রিটকারী আইনজীবী রবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ধারা ২৮(৩) ও ২৯(২) সংশোধন করে ভূয়া ডাক্তারের সাজা ৩ বছর ও জরিমানা ১ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডসহ জরিমানা বৃদ্ধিতে বিবাদীগণের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারির আর্জি পেশ করা হয়। একই সাথে কেন দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিবাদীগণকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ধারা ২৮(৩) ও ২৯(২) সংশোধন করে ভূয়া ডাক্তারের সাজা ৩ বছর ও জরিমানা ১ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডসহ জরিমানা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হবে না, সে মর্মেও নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটে সচিব, আইন ও সংসদীয় বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদীয় মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রেজিষ্ট্রার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে।

এডভোকেট জে আর খাঁন রবিন বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক) ও ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা ও জনস্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ থাকলেও অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। মানুষের এই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডাক্তারদের ভূমিকা অপরিসীম।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ভুয়া ডাক্তার নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। শুধু তাই নয় দেশের সাধারণ মানুষ এই সকল ভূয়া ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হয়ে প্রতিনিয়ত নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এমনকি শারীরিকভাবে স্থায়ী অক্ষমতাসহ অনেকেই মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে।

এই আইনজীবী আরও বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ধারা ২৮(৩) অনুযায়ী যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিবন্ধনকৃত একজন মেডিক্যাল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক বলে প্রতারণা করেন অথবা প্রতারণামূলকভাবে তার নাম বা পদবীর সঙ্গে নিবন্ধনকৃত মর্মে কোনো শব্দ, বর্ণ বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন তার মিথ্যা পরিচয় দ্বারা কোনো ব্যক্তি প্রতারিত না হলেও তার জন্য তিনি ৩ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে উক্ত আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী কেউ অনুমোদিত মেডিক্যাল কলেজ অথবা প্রতিষ্ঠান হতে এম.বি.বি.এস অথবা বি. ডি.এস ডিগ্রি অর্জন না করে তার নামের পূর্বে ডাক্তার উপাধি ব্যবহার করলেও অনুরূপ সাজার বিধান রয়েছে।

এডভোকেট রবিন আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (সি) ধারা অনুযায়ী খাদ্য ও ঔষধ তৈরি বা বিক্রির জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ জরিমানার বিধান রয়েছে।

রবিন বলেন, গত ২৯ অক্টোবর বিবাদিগণের বরাবরে একটি নোটিশ প্রেরণ করে উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র- একুশে টেলিভিশন

‘বঙ্গবন্ধু’কে অবমাননা করা বাংলাদেশকে অস্বীকার করার সামিল’ – প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্য বিনষ্ট ও অবমাননার প্রতিবাদে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র উপাচার্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে এক শ্রেণির ধর্মান্ধ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক চিন্তার মানুষেরা বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি বিনষ্ট তথা অবমাননার যে প্রয়াস দেখিয়েছেন তা মেনে নেয়ার মত নয়। বঙ্গবন্ধু’কে অবমাননা করা বাংলাদেশকে অস্বীকার করার সামিল। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করছি এবং এ সকল সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সকলকে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের পাশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র উপাচার্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে পালিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক মোঃ গোলাম সরোয়ার, রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ রওশন আলম, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরুণ চন্দ্র রায়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান শারমিন আক্তারসহ বিশ্বিবদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশ নেন ।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ্ আলী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন


রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

মহান বিজয় দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষ্যে বুধবার দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন-১ এ স্থাপিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতিতে সকাল পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে অন্যান্যের মধ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোঃ গোলাম সরোয়ার, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মোছাঃ শারমিন আক্তার, রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ রওশন আলম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরুণ চন্দ্র রায়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ শিবলী মাহবুব-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনের দ্বিতীয় প্রহরে সন্ধ্যা ৭:০০ টায় ভার্চুয়াল (ফেসবুক লাইভ) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করবেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ্ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ক্ষমতায় গেলে সব ভাস্কর্য অপসারণ করা হবে, মামুনুল হক

ক্ষমতায়  গেলে অপসারণ করা হবে বাহাত্তরের সংবিধান-সব ভাস্কর্য অপসারন করা হবে বললেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মামুনুল হকের দাবি অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। বাহাত্তরের সংবিধানের মাধ্যমে এসব চেতনা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা কোনদিন ক্ষমতায় যেতে পারলে অপসারণ করা হবে দেশের সব ভাস্কর্য।  প্রতিক্রিয়ায় লেখক-গবেষক মারুফ রসূল বলেছেন, ইসলামের দোহাই দিয়ে একাত্তরে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, একই কায়দায় কথা বলছেন মামুনুল।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা গড়িয়েছে ভাঙচুর পর্যন্ত। কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার চার মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকের বরাতে পুলিশ বলেছে, হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফয়জুল করিমের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে তারা।

বিরোধিতা করলেও ভাস্কর্য ভাঙচুর করতে বলেননি বলে মামুনুলের দাবি। তিনি বলেন, কেউ যদি আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে নেয় বা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বা পর্যালোচনা করে তাহলে তার দায় আমি নিবো না।
লেখক ও গবেষক মারুফ রসূল বলেন, ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা করার পর হত্যাকারীরা বক্তব্য দিয়েছিল যে জসীম রেহমানি এর বয়ান শুনে তারা তাকে হত্যা করেছে। আদালত কিন্তু তখন জসীম রেহমানিকে শাস্তি দিয়েছিল। তাহলে এই ক্ষেত্রে মামুনুল হকের বক্তব্যের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। এটাকে আমার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দুর্বলতা মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মামুনুল বলেন, কোনদিন ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশের সব ভাস্কর্য অপসারণ করা হবে। সংবিধান হবে ইসলামের ভিত্তিতে।

এ প্রসঙ্গে লেখক ও গবেষক মারুফ রসূল বলেন, তার একথার মানে কি তারা তাহলে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও ইসলামীকরন করবে। কিন্তু তারা চাইলেও তো তা পারবে না। কারণ তখন প্রত্যেকটা ইসলামী দল পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। তারা যদি কখনো ক্ষমতায় আসে তাহলে এদেশে কখনো শিল্প থাকবে না।

ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়ে মামুনুল বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার যে চেতনার কথা বলা হয় একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধেও আমরা সেই চেতনা খুঁজে পাইনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন একটি চেতনা দাঁড় করানো হয়েছে যেটা বাহাত্তরের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে গ্রহণ করতে রাজী না।

লেখক ও গবেষক মারুফ রসূল বলেন, মামুনুল হকের যে পারিবারিক ইতিহাস সেতা আমরা জানি। বিভিন্ন পত্রিকায় তার বাবার একটা সাক্ষাৎকার ছাপানো হয়েছিল যে আমরা নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছি।এই ধরণের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তারা দিতেই পারে কিন্তু পাকিস্তানের যে সাম্প্রদায়িক দর্শন সে সাম্প্রদায়িক দর্শনের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গ্রঠণের জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।

ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকারপ্রধানের সঙ্গে হেফাজতের আলোচনা করার আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে বৈঠক হবে।

এ বিষয়ে মারুফ রসূল বলেন, যে শফীপন্থীর সঙ্গে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, তাই বাবুনগরীর সঙ্গেও তারা সম্পর্ক তৈরি করতে চাচ্ছে। তারা চিন্তা করেছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলে রেলের জমি পাওয়া যায়। তারা দেখেছে এখন যদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় তাহলে তা অপরাজেয় বাংলাদেশ বা রাজু ভাস্কর্য দিয়ে সম্ভব না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দিয়েই সম্ভব।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এস আকৃতি ও রং ধুসর কেন?

 

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৪১টি স্প্যান তৈরি হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের শিংহুয়াংডাও শহরে। বাংলাদেশে এনে করা হয়েছে জোড়া লাগানো ও রং করার কাজটি। চীন থেকে আনার সময় স্প্যানের বিভিন্ন অংশের রং ছিল অনেকটা সোনালি।
চীন থেকে বিযুক্ত অবস্থায় আনার পর দেশে জোড়া দিলে একেকটি স্প্যানের ওজন দাঁড়ায় ৩ হাজার ২০০ টন। সেগুলো জার্মানির ক্রেন দিয়ে পদ্মা সেতুর পিলারের ওপর বসানো হয়।

পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর রং ধূসর। কেন এই রংটি বেছে নেওয়া হলো, তার পেছনে যুক্তি আছে। উদ্বোধনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পদ্মা সেতুতে আলোকসজ্জার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে আধুনিক শহর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সেতুর রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয় কাজ করেছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র বলছে, সাধারণ সব সেতুতেই সড়কবাতি বা স্ট্রিট লাইট দেওয়া হয়। পদ্মা সেতুতেও সেটা থাকবে। তবে বাড়তি হিসেবে এই সেতুর বিভিন্ন স্থানে নানা রঙের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। সেতু কর্তৃপক্ষ চাইলে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতো জাতীয় উৎসবে আলোকসজ্জার সুযোগ থাকবে। এটাকে বলা হচ্ছে আর্কিটেকচারাল লাইটিং। দুবাইয়ের সুউচ্চ ভবন বুর্জ আল খলিফা টাওয়ারে আলোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা ফুটিয়ে তোলা হয়। পদ্মা সেতুতেও একইভাবে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতু বিভাগের একজন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ধূসর রঙের মধ্যে আলো ফেললে বেশি ফুটে উঠবে। এ জন্যেই এই রং বাছাই করা হয়েছে। রং সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি। তিনি বলেন, এই রং ২৫ বছর স্থায়ী হবে বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতু দেখতে অনেকটা ইংরেজি বর্ণ ‘এস’-এর মতো। এর পেছনে কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতু সোজা হলে রাতে যানবাহনের চালকের ঝিমুনি আসতে পারে। তাঁরা যেন চলার সময় সতর্ক থাকেন, এ জন্য কিছুটা বাঁক দেওয়া হয়েছে। সাধারণত বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু একটু বাঁকানো আকৃতিতে তৈরি করা হয়। আরেকটি বিষয় হলো সৌন্দর্যবর্ধন। ‘এস’ আকৃতির হলে সেতু দেখতে সুন্দর দেখায়

স্বপ্নের বাস্তবায়ন


কাল বসবে পদ্মা সেতুর ৪১তম স্প্যান

কাল বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) পদ্মা সেতুতে বসছে সবশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান। এর মধ্যে দিয়ে পুরো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বসে প্রথম স্প্যান, ৪১টি বসাতে সময় লাগলো তিন বছর তিন মাস।

খরস্রোতা পদ্মা, ভরা বর্ষায় হয়ে ওঠে উত্তাল। প্রতি বছর নদী ভাঙনে যেমন সর্বশান্ত হয় মানুষ, তেমনি বয়ে আনে বিপুল পলিমাটি। সব ঝুঁকি মোকাবিলা করে বসছে ৪১ নম্বর স্প্যান। আর এর মাধ্যমে যোগ হবে জাজিরা ও মাওয়া প্রান্ত।

 

প্রকৌশলীরা বলছেন, নদীর বৈচিত্র্যময় গতি প্রকৃতি, তীব্র স্রোত ও পলি জমে যাওয়া, এসব ছিল স্প্যান বসানোর চ্যালেঞ্জ।

৪১ টি স্টিলের স্প্যান তৈরি হয়েছে চীনে। এসেছে স্প্যানের খণ্ড খণ্ড টুকরো। জোড়া দেয়া হয়েছে মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। রঙ শেষে বসানো হয়েছে পিলারে। তিন হাজার দুইশো টন ওজনের একেকটি স্প্যান বসাতে হয়েছে তীব্র স্রোত মোকাবিলা করে। চীনের তৈরি শক্তিশালী ক্রেনে করে বহন করা হয় স্প্যান।

২০১৭সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। তবে জুন, জুলাই ও আগস্টে ভরা বর্ষায় ক্রেন চলাচল করতে পারে না তীব্র স্রোতের কারণে।

প্রথম স্প্যান বসানোর চার মাস পর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বসে দ্বিতীয়টি। তৃতীয় স্প্যান বসে দেড় মাসের মাথায় মার্চে। এপ্রিলে বসে চতুর্থটি, পঞ্চম স্প্যান বসে জুনে। এরপর ২২টি পিলারের নকশা জটিলতায় থমকে যায় স্প্যান বসানো। যার কারণে ২০১৮ সালে মাত্র চারটি স্প্যান বসানো হয়। ছয় মাসের বিরতি দিয়ে ২০১৯ সাল থেকে একটি বা দুটি স্প্যান বসতে থাকে। ২০২০ সালে এসে গত দুই মাসে নয়টি স্প্যান বসানো হয়েছে।

 

বর্ষায় স্প্যান বসানো যতটা কঠিন, ঠিক ততটাই কঠিন শীতেও। কেননা ঘন কুয়াশার পাশাপাশি নাব্য সংকটে পড়তে হয়। নাব্যতা ফিরে পেতে ১০ থেকে ১২টি ড্রেজার কাজ করে। ড্রেজিং করে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ কোটি সিএফটি পলি সরাতে হয়।

তবে, আশার কথা হচ্ছে এত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও জয় হচ্ছে বিজ্ঞান আর মানুষের চেষ্টার। এখন শুধুই ১৭ কোটি মানুষের স্বপ্ন পুরণের অপেক্ষা।

মোট ৪২টি পিয়ারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সবকটি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) এবং নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।