দুই খ্যাতিমান – এইচ এস সরোয়ারদী

এইচ এস সরোয়ারদী
উত্তরবঙ্গের দুই খ্যাতিমান
হঠাত গেলেন চলে
কোথায় তারা পালিয়ে গেলেন
কোনো কিছু না বলে।
অসাধারণ মানুষ দু’জন
বলবো আর কত
তাদের দেখে পাহাড়-পর্বত
করতো মাথা নত।
নাসিম ছিলেন জননেতা
লোহানী ছিলেন গুণী
তাদের সুনাম এই বাংলার
পাখির কন্ঠেও শুনি।
তাদের শোকে যমুনার ঢেউ
বইছে এলোমেলো
তাদের ছাড়া উত্তরবঙ্গ
অন্ধ হয়ে গেল।
শাহজাদপুর,
০১৮২৭-৫০২২১৭।

“প্লাজমা থেরাপি” – রকীব আহমেদ

সঠিক সময়ে নিলে কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা,
বেড়ে যাবে বাঁচার আশা।
৯০% এর নীচে নামে যদি অক্সিজেন মাত্রা,
এক্সরে-তে ৫০% এর বেশী হয় যদি ফুসফুসের ক্ষতি,
তবেই নিবেন প্লাজমা থেরাপি।
সিরাম ফেরিটিন মাত্রা যদি ১০০০ (mg /dl) ছাড়ায়,
কাজ হবে না প্লাজমায়।
নিতে চান যদি কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা,
জেনে নিন রক্তের সিআরপি ও ডি-ডাইমার মাত্রা।
অযথা নিলে প্লাজমা, বৃথা হবে সকল চেষ্টা,
প্রয়োজন বুঝে প্লাজমা নিন, প্লাজমা অপচয় রোধে শপথ নিন।

রকীব আহমেদ
৩০ জুন, ঢাকা।

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিরেকে প্লাজমা থেরাপি নিষেধ।)
#প্লাজমাসাপোর্টসেন্টার হটলাইন : ০১৮৪১১৮৮০২৪-২৫

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৫)

♦।। জি বি এস ভাইরাস ক্যান্সাররের চাইতেও ভয়াবহ রোগ।।♦

#:GBS (Guillain Barr’e Syndorme)। এক ধরনের ভয়াবহ জীবনহানীকর ভাইরাস (নিরব ঘাতক)। এ রোগ ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ। ক্যান্সার প্রথমে শরীরের যে কোন স্থানে গ্লান্ড সৃষ্টি করে। ঐ গ্লান্ড থেকে শিকরের মাধ্যমে মানুষের শরীরে বিদ্যমান হাজার মৃত টিসু সেলগুলোকে তাজা বানিয়ে ধীরে ধীরে তার মাঝ দিয়ে বিস্তার লাভ করে। সে ক্ষেত্রে ঐ গ্লান্ড থেকে ব্যাথা অনুভূত হওয়ায় মানুষ সতর্তা অবলম্বণ এবং চিকিৎসা করার সুযোগ পায়। জি বি এস ভাইরাস তেমনটি নয়। এই ভাইরাস খাদ্যদ্রব্যের সাথে নিরবে মানুষের শরীরে ঢোকে। ঢুকেই প্রথমে মানুষের শরীরের মাঝে আপনাতেই তৈরী হওয়া এন্টিবডিকে ধ্বংস করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে সে সফল হয়। ধীরে ধীরে আক্রান্ত মানুষের শরীরের টিসু সেলগুলো বিকল করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে নিরব ঘাতক হিসেবে বিষয়টি আক্রান্ত মানুষের মস্তিস্ককেও জানতে দেয় না।

এই নিরব ঘাতক ভাইরাস মানুষের ফুসফুস ও হৃদপিন্ড পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেই তাকে চিকিৎসা দিয়ে রক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভবপর হয় না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ শারিরিক দূর্বলতা বোধ করলেও অনেক সময় আমলে নেয়না। বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করেই সে মানুষকে বিকলাঙ্গ করে ফেলে। এই রোগ সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের তেমন কোন ধারনা নেই। প্রচারও নেই। যারা একবার আক্রান্ত হন তারাই কেবল মাত্র এই ভয়াবহ রোগের বিষয়টি জানেন। এ রোগে আক্রান্ত বেশীরভাগ রোগী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করে, কিম্বা দীর্ঘ মেয়াদী পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকে। সারা বিশ্বে লাখে দুই একজন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। ঔষধও দূস্প্রাপ্য। আমাদের দেশে এ ঔষধ তৈরী হয়না। সমগ্র বিশ্বে এ ঔষধ উৎপাদন অনুমোদন প্রাপ্ত দেশগুলো হলো অষ্ট্রিয়া, জার্মানী, গ্রীস, ইটালী,পোল্যান্ড,পর্তুগাল। ঔষধগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
ক্যান্সারের চিকিৎসায় যেমন রেডিও থেরাপী ও ক্যামোথেরাপী দেয়া হয় তেমনি এ রোগে আক্রান্ত রোগীকেও এর একমাত্র ঔষধ হিউম্যান এন্ডিবডি ড্রাগ্স থেরাপী হিসাবে মানুষের রক্তনালীর মধ্য দিয়ে পুশ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি রোগীর হাত পা শরীরকে সচল করার জন্য দেয়া হয় দীর্ঘ মেয়াদী ফিজিওথেরাপী। সেটিও ব্যায়বহুল।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৩)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৪)

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৪)

♦রোগ সনাক্ত করণ শেষ ♦
।।শুরু হলো রোগের সাথে যুদ্ধ।।

# ২৯ আগষ্ট বুধবার। সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটি ডাক্তার এলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে RESPIROMETER (Respiratory Exerciser) Three ball practice শুরু করার নির্দেশ দিলেন, জিজ্ঞাসা করলেন মন খারাপ লাগছে? বললাম সেটাইতো স্বাভাবিক। তিনি বললেন, হঠাৎ ঝড়ে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। আপনার যে রোগ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আপনার শরীরের ঘড়বাড়ী সব ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। মেরামত হতে সময় লাগবে। আমরা আজ থেকেই মেরামত করার কাজ শুরু করবো যদি ঔষধটা পেয়ে যাই। সুতরাং ঘাবরানোর কিম্বা হতাশ হবার মত কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবেন।

গতদিন ভর্তির পরপরই আমার ডানহাতে ক্যানোলা পরানো হয়েছিল। দেয়া হয়েছিল স্যালাইন। স্যালাইন খোলা হলেও ক্যানোলাটি হাতে রয়েই গেছে। অস্বস্তিকর অবস্থা। ৬৭ বছর বয়সে এই প্রথম শরীরে ক্যানোলা ঢোকানো হয়েছে।

সকাল ১০ টার দিকে উত্তরা থেকে বড় ছেলে এলো। তার কাছ থেকে জানা গেল আমার রোগ সনাক্ত করণ হয়েছে যার নাম- GBS (Guillain Barr’e Syndorme)। এক ধরনের ভয়াবহ জীবনহানীকর ভাইরাস (নিরব ঘাতক)। এখন শরীরের ওজন অনুযায়ী ঔষধ নির্ণয় করে ( ইনজেকশন) পুশ করা হবে। এই ইন্জেকশনটি সাধারণত Human anty body drugs হিসেবে পরিচিত। এ ইন্জেকশান আমাদের দেশে তৈরী হয়না। ঔষধের মূল্য এতোটাই বেশী যে ধারনা করাই কঠিন। সর্বমহলের নাগালের বাইরে। আমাদের নাগালেরও বাইরে তবে ঔষধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকেলের দিকে পেয়ে যাবো। সারা বিশ্বে এ ঔষধ উৎপাদন অনুমোদন প্রাপ্ত দেশগুলো হলো অষ্ট্রিয়া, জার্মানী, গ্রীস, ইটালী, পোল্যান্ড, পর্তুগাল।

KEDRION BIO PHARMA- Italy কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ইনজেকশন ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঔষধের আমদানী কারক ZAS নামক একটি কোম্পানী। যার ৫ গ্রাম/১০০ মিলিঃ এক ভয়েল ইন্জেকশনের বাজার মূল্য- ৩৫,০০০/- (পয়ত্রিশ হাজার) টাকা। প্রতিদিন ৬ টি ভয়েল ইন্জেকশন ৬ ঘন্টায় একটানা পুশ করতে হবে। প্রতিদিন ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ইন্জেশন নামক হিউম্যান এন্টিবডি থেরাপী শরীরে পুশ করা হবে। এভাবে ৫ দিন থেরাপী দিতে হবে। এর পরেও রয়ে গেছে ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি। ঔষধের পার্শ প্রতিক্রিয়া শুরু হলে, কিংবা শরীর ঔষধ ধারনক্ষম না হলে, কিংবা রক্তচাপ কমে গেলে যে কোন সময় রোগীকে আই সি ইউতে ঢোকানোর প্রয়োজন হতে পারে। সেটি দীর্ঘ অথবা স্বল্প সময়ের জন্যও হতে পারে। রোগীর শারিরিক অবস্থার ওপর সেটি নির্ভর করবে। শুনে অনেকটাই হতাশ হয়ে গেলাম।

দুপুরে হাসপাতালে দেখতে এলেন মুক্তিযোদ্ধা তৌসিফুল বাড়ী ভাই এবং ভাবী। তাঁদের দেখে দু’চোখ এলো পানি। সামলিয়ে নিয়ে উভয়ের মাঝে কৌশলাদি বিনিময় হলো। তাঁরা সান্তনা দিলেন। আমি অনেকটা চাঙ্গা হলাম। এরপর এলেন মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ভাই। এর পর এলো মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা, এলেন আমার বন্ধুর বোন জামাই আক্তার হোসেন। এলো আমাদের স্নেহাস্পদ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষক লীলা ফেরদৌস হিমেল, এলেন মুক্তিযোদ্ধা সামাদ তালুকদার, মতিউর রহমান। সবাইকে পাশে পেয়ে মনের জোর বেড়ে গেলো। বিকেলে আইস ব্যাগে করে ঔষধ এলো। শুরু হলো ইন্জেকশন পুশ। ভয়ে ভয়ে আছি  পার্শ প্রতিক্রিয়া হয় কিনা। আল্লার রহমতে প্রথম ডোজটা নির্বিগ্নে পুশ হয়ে গেল। মনের জোর আরো বেড়ে গেল।

♦।।মোঃ আবুল বাশার।।♦
তাং- ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৮ সেপ্টম্বর ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

 

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৩)

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-৩)

♦।।এ্যাপোলো হাসপাতালের পথে যাত্রা।।♦

# ২৮ আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উত্তরা ৬ নং সেক্টর থেকে বসুন্ধরা এলাকার এ্যাপোলো হাসপাতালের উদ্দ্যেশে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। এর আগে ৪ জন মিলে আমাকে ধরে তিন তলা থেকে নীচে নামিয়ে গাড়ীতে উঠানো হয়েছিল। তখন হাত পায়ে কোন শক্তি না থাকলেও ধরাধরি করে গাড়ীতে বসিয়ে দিলে কিছু সময়ের জন্য বসে থাকার মত অবস্থা ছিল। যথা সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। গাড়ী থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে আমাকে ৪ তলায় ডাক্তারের সামনে নিয়ে বসিয়ে রাখা হলো। বসে থাকা অবস্থায় আমাকে দেখতে আসলেন সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার। তিনি পার্শবর্তী গুলশান এলাকায় থাকেন। তাঁকে দেখে অনেকটাই উদ্দীপ্ত হলাম। মনোবলটা ধরে রাখার চেষ্টা শুরু করলাম।

প্রায় আধাঘন্টা পরে আমাকে ডাক্তারের চেম্বারে নেয়া হলো। ডাক্তার সাহেব নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা পর প্রাথমিকভাবে GBS (Guillain Barr’e Syndorme) রোগ সনাক্ত করলেন। এর জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিলেন। বড় ছেলে এ্যাপোলো হাসপাতপালে ভর্ত্তী করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বললেন, রোগীর নানা মুখী রোগের কারনে নানা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং আইসিইউ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি লিখে দিলে রোগী ভর্ত্তী করে নেবে কিন্তু সব সাপোর্ট এখান থেকে পাওয়া যাবেনা। পাওয়া গেলেও সেটি হবে অত্যান্ত ব্যায়বহুল লক্ষ লক্ষ টাকা চলে যাবে পরবর্তীতে এর হিসেব মেলাতে পারবেন না। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরীভাবে ভর্ত্তী করে চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিলেন। বললেন, এমনিতেই বেশকটা দিন দেরী হয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একজন সাংবাদিক বন্ধুর রেফারেন্স থাকায় ডাক্তার সাহেব কোন ফি নিলেন না। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক আমাকে আবার গাড়ীতে তোলা হলো। যাত্রা শুরু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্বিবদ্যালয়ের উদ্দ্যেশে।

অনেক যানজট পেড়িয়ে সকাল ১১ টা ২৫ মিনিটে। গাড়ী নিয়ে এই গেট সেই গেট করতেই বেশ কিছুটা সময় পার হয়ে গেল। শত শত রোগী এবং তাদের পরিবার পরিজনের পদযাত্রায় মুখোরিত হাসপাতাল। মনে হলো যেন রোগীর হাট বাজার। কারো মুখে হাঁসি নেই। সবারই উদাস নয়ন। কেউ ফিরে যাচ্ছে, কেউ অপেক্ষমান। নানা ধরনের রোগীর কাঁতরানী দেখে মনটা দূর্বল হয়ে গেল। দুই ছেলে ছুটাছুটি করছে। প্রায় দুই ঘন্টা দৌড়াদৌড়ির পর যে খবরটি পাওয়া গেল, সেটি অত্যান্ত হতাশা ব্যঞ্জক। অনেক চেষ্টা করেও আমাকে নামানোর জন্য হাসপাতালের একটি হুইল চেয়ার পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি হুইল চেয়ারে রোগী বহনকারী কোন ব্যক্তিকে। এক যায়গায় হুইল চেয়ার থাকলেও তা ছিল তালা মারা। হতাশ হয়ে ছেলেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বললো এখানে সময় ব্যায় করা অনর্থক।

সিন্ধান্ত হলো ধানমন্ডির আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তী করার। এরপর যে গাড়ীতে ছিলাম ঐ গাড়ীতেই আবার ধানমন্ডির উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু হলো। এবার খুব বেশী একটা যানজটে পরতে হয়নি। দ্রুতই হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম। হাসপাতালের রোগী বহনকারীরা আমাকে ধরাধরি করে গাড়ী থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ইমারজেন্সীতে নিয়ে গেল। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হলো। এর পর ভর্ত্তীর প্রস্তুতি পর্ব শেষে আমাকে নেয়া হলো হাসপতালের এ ব্লকের ৪ তলার ৭ নং কেবিনে। গত তিন দিন আমার পায়খানা প্রশ্রাব একদম বন্ধ। স্ত্রী বেড প্যানে প্রশ্রাব করানোর চেষ্টা চাললো কিন্তু কোন লাভ হলোনা। কিছুক্ষণ পরে এলেন, নিউরো সার্জন ফিরোজ আহমেদ কোরেশী। তিনি নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। তাঁর কথা বলার ভাষা দেখে ছেলে জিজ্ঞাসা করলো আপনার বাড়ী বোধহয় রাজশাহীর দিকে। তিনি বললেন হ্যা। আলাপ চারিতায় জানাগেল তিনি পূর্ব পরিচিত। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার সাহেব সবাই ডেকে বলে দিলেন, আমার আত্মীয় লিখে দেয়া নির্দেশমত দ্রুত রোগীর সকল টেষ্ট সম্পন্ন করে সন্ধ্যার মধ্যে তাঁকে জানাতে। একের পর এক টেষ্ট শুরু হলো। পরে রাতে রোগ সনাক্ত হলো। ছেলেরা কেমন যেন গোপনীয়তা রক্ষা করে চললো। রাতে আমার পাশে রইলো ছোট ছেলে ও স্ত্রী। অন্যরা বাসায় ফিরে গেল।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-২)

♦।।শুরু হলো পর নির্ভর জীবন যাত্রা।।♦

# ২৫ আগষ্ট শনিবার। শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকলো। সকালে ধরে নিয়ে কমোটে বসিয়ে দেয়া হলো। এরপর স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রাতক্রিয়া সম্পন্ন শেষে ধরে নিয়ে আবার বিছানায় শোয়ানো হলো। এরপর থেকে পানি পানসহ সকালের নাস্তা দুপুরের রাতের খাবার স্ত্রীর হাতে চলতে থাকলো। বাসার সবাই চিন্তিত। আমার নাতনি অর্শা শুধু বিছানার পাশে এসে ঘুর ঘুর করে। সে গল্প করতে চায়, শুনতে চায়। সব সময় হাসিখুশী মুখ। মনের কষ্টটা মনে চেপে রেখেই ওর সাথে হাসতে গল্প করতে চেষ্টা করি। ছেলেরা তৎপর। কি করা যায় এ নিয়ে সবাই চিন্তিত।

অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ধানমন্ডি থেকে ছুটে এলো মুক্তিযোদ্ধার এক সন্তান ঢাকা হাইকোর্ট বারের এ্যডভোকেট সাইফুল আলম। ৯০’র দশক থেকে আজকের কাগজ নামক পত্রিকার সাথে আমরা যুক্ত ছিলাম। আজকের কাগজ বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পরি। কিন্তু আপদে বিপদে যোগাযোগের সূত্রটা কখনো ছিন্ন হয়নি।

বিকেলের দিকে এলেন পুরান ঢাকা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আজিজউদ্দিন আহমদ। আমরা “একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা” সংগঠনের সহযোদ্ধা সহকর্মী। সবার জন্য সব ক্ষেত্রে আজিজ ভাইয়ের সহমর্মিতা মনে রাখার মত। সবাই চিন্তিত কি করা যায়। ছেলেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞজনদের সাথে পরামর্শ করতে থাকে। পরিশেষে এ ধরনের রোগ নির্ণয়ের জন্য দুইজন নিউরো সার্জনের কাছে যাবার পরামর্শ পাওয়া যায়।

তাঁদের একজন হলেন এ্যাপোলো হাসপতালের সাথে সংশ্লিষ্ট নিউরো সার্জন ডাক্তার উত্তম কুমার সাহা, অপরজন হলেন আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরেশী। তাদের এপয়েন্মেন্ট এর জন্য প্রস্তুতি চলতে থাকে। পাশাপাশি দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলতে থাকে। এভাবেই নানা দুঃশ্চিন্তার মাঝেই কেটে যায় ২৬ ও ২৭ আগষ্ট রোববার-সোমবার দু’দিন। আমার শারীরিক অবস্থার অারো অবনতি ঘটে। দেশের বাইরে নেবার চিন্তা বাদ হয়ে যায়। ২৭ আগষ্ট রাতে এ্যাপোলো হাসপাতালের নিওরো সার্জন ডাক্তার উত্তম কুমার সাহার সাথে রোগী দেখানোর সময় মেলে ২৮ আগষ্ট সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

 

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

এটি শুধু গল্প নয়। নিরব ঘাতক ব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ববোধ থেকেই এ গল্পের অবতারণা মাত্র


জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার গল্প (পর্ব-১)

২৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পেড়িয়ে ২৪ আগষ্ট শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের অভ্যাসমত সূর্যোদয়ের আগেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রাতক্রিয়া সম্পাদনের জন্য উঠতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। বোধদয় হলো দেহের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেমন যেন অচল হয়ে গেছে। অনুভব করছি অসাড় দেহের সাথে মস্তিস্কের সম্পর্কটা যেন অনেকটাই ছিন্ন।

হঠাৎ করেই মস্তিস্কের মাঝে কেমন একটা ঝড় শুরু হয়েছে। ভাবছি এই বোধ হয় আমার জীবনের শেষ যাত্রা শুরু হলো। চোখ বন্ধ করে পরে আছি। দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরছে শুধু পানি। কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। আমার ৬৭ বছর বয়সের যাপিত জীবনরাজ্যের হাজারো অতীত কর্মের সকল স্মৃতিকথা মনের পর্দায় একের পর এক ভেসে উঠছে। শৈশব, কৈশর, যৌবন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর সাথে সন্মুখ যুদ্ধে আহত, শহীদ, সহযোদ্ধাসহ, নদীর পানিতে ভেসে থাকা হাজারো বাঙালি নারী পুরুষ ও শিশুর লাশ (যা সে সময়ে ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ দেশের অন্যান্য নদীতে ভাসতে দেখে ছিলাম) এবং মৃত বাবা-মা আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবের ছবিগুলো বন্ধ চোখের পর্দায় এক নিমিশে ধারাবাহিকভাবে ফুটে উঠলো।

জীবন্ত মৃত স্বপ্নের ঘোর কেটে যখন সম্বিত ফিরে পেলাম। নিজের ঘাড়টি কাঁত করে বিছানায় স্ত্রীকে একবার দেখবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘাড়টিকেও নাড়াতে ব্যর্থ হলাম। অবশেষ জোরে চিৎকার করে সবাইকে ডাকতে শুরু করলাম। দেখতে পাচ্ছি ছেলেমেয়ে স্ত্রী সবাই পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সবার প্রশ্ন কি হয়েছে? আমি নিরব, বোবা। চোখের কোন দিয়ে গড়িয়ে পরছে শুধু পানি। বোবা কান্নাটাই যেন ছিল আমার সে সময়ের ভাষা। অবশেষে অতি কষ্টে বললাম তোমরা আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করো। সবাই বলাবলি করছে ঘুমের মাঝে আমার নাকি মাইনর ষ্ট্রোক হয়ে গেছে। সে কারনে হাত-পা অচল। এমন প্রেক্ষাপটে সেটা ভাবাই স্বাভাবিক। কারন আমার হৃদপিন্ডের একটি নালার ৮০ ভাগ ব্লক হওয়ার কারনে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে (১০ বছর আগে) ন্যাশনাল হার্ড ফাউন্ডেশন মিরপুর-২, হৃদপিন্ডে রিং পরানো হয়েছিল। এর পর থেকে প্রতিবছরই চলছিলো নিয়মিত চেকআপ, ঔষধ সেবন। এর পাঁচ বছর পর হই ডায়বেটিক্স আক্রান্ত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ি হার্ট এবং ডায়বেটিক্স এর ঔষধ সেবন চলমান ছিল।

আমার অবস্থান ঢাকা মিরপুর-১ চিড়িয়াখানা রোড এলাকায়। মেঝো ছেলে আমার সাথে থাকে। সে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডশনে নেয়ার জন্য উদ্যোগী হলো। কারন হাসপাতালটি আমাদের বাসার কাছাকাছি। আমি মানষিকভাবে প্রস্তুত। হঠাৎ মনে হলো যাবার আগে গোছলটা সেরে নেই। জীবন্ত অবস্থায় এটাই হয়তোবা শেষ গোছল হতে পারে। এদিকে গাড়ীর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলো। আমাকে ধরাধরি করে বাথরুমে ঢুকিয়ে গোছল সম্পন্ন করে গাড়ীতে উঠানো হলো হাসপাতালে নেয়ার জন্য। আমি মত পরিবর্তন করে বললাম ঢাকার উত্তরায় অবস্থানরত আমার বড় ছেলের বাসায় আমাকে নিয়ে যেতে। সেখানে সবাই মিলে বসে চিকিৎসার বিষয়ে সিন্ধান্ত নিতে হবে। সেটাই করা হলো। সকাল ১০ টার দিকে উত্তরায় পৌঁছালাম। তখন পর্যন্ত হাতপায়ের কিছুটা অনুভূতি ছিল।

বিকেলে উত্তরা ৬ নং সেক্টরে অবস্থিত ল্যাব এইডের ডাক্তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আহমেদ সাহেবের এর চেম্বারে আমাকে নেয়া হলো। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য দু’মিনিট সময় ব্যয় করলেন। বললেন, কার্ডিয়াক সমস্যা নয়। (১) ভিটামিন ট্যাবলেট “নিউরো-বি” দুই মাস এবং (২) ঘুমের ঔষধ ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫০ মিলিগ্রাম, অর্ধেক ট্যাবলেট ১ মাস খাবার পরামর্শ দিয়ে নিজ প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলেন। ফি নিলেন ৮০০ টাকা। গুরুত্বহীন রোগীদেখার বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত পীড়া দিল। রাত ১০ টায় একই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারের কাছে আমাকে নেয়ার জন্য সিরিয়াল দেয়া ছিল। ছেলেরা সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগি হলে আমি অনিহা প্রকাশ করলাম। ছেলেরা তখন আমাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য নেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে আমার পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের এপোয়েন্টমেন্ট ও চিকিৎসা ব্যায় জানার জন্য ব্যাঙ্ককের বামরুডগ্রান্ড ও ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ম্যাসেস পাঠালো বড় ছেলে।

চলবে…..

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম

তাং- ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ,
০৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা,এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

সাত সকালে টুনুরা দল বেঁধে এসেছে তাদের দাদু, মোসলেহ উদ্দীনের বাড়িতে। সাত সকাল বললে অবশ্য কম বলা হয় সকাল বাজে ছয়টা। মাত্র নরম আলো ছড়াতে শুরু করেছে সূর্যের এখনও দেখা পাওয়া যায়নি।

শীত বিদায় নিয়েছে, তবে এখনও হিম হিম গন্ধ। ফাগুনের আরাম বাতাসের সঙ্গে আজ যোগ হয়েছে সামান্য কুয়াশাও হয়েছে। এত সকালে পাড়ার রাস্তা-ঘাট ঘুমিয়ে থাকলেও মোসলেহ উদ্দীনের সকাল হয়েছে আরও এক ঘণ্টা আগে। এই বছরের শীত থেকে তিনি বাচ্চাদের সঙ্গে নতুন নিয়ম করেছেন। সবাইকে সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে এক ঘণ্টা তার বাসায় কাটাতে হয়। বাচ্চারা এই সময়ে খেলাধুলা করে, পত্রিকা পড়তে চাইলে পরে। মোসলেহ উদ্দীন নিজে খবরের কাগজ পড়েন। বাচ্চাদের সঙ্গে টুকটাক বিষয় নিয়ে আলাপ করেন।

আজকের দিনটা অন্য সব দিনের মতো না। আজ ৭ই মার্চ। বাচ্চারা সবাই জানে আজকে অন্য দিনগুলোর চেয়ে আলাদা। আজকে একটা বিশেষ দিন।

টুনু আর নীলা বাড়িতে ঢুকল শ্লোগান দিতে দিতে, জয় বাংলা! জয় বাংলা!!

মোসলেহ উদ্দীন বাগানেই বসে ছিলেন, তিনিও বুক টান করে হাত তুলে গলা মিলালেন। তিনজনে কিছুক্ষণ জয় বাংলার শ্লোগান দেওয়ার পরে আরাফ, বিন্তি আর কাজল ঢুকল। নীলা বলল, জয় বাংলা আরাফ, বিন্তি, কাজল। বাকিরা কই?

আরাফ বলল, জয় বাংলা নীলা। বাকিরা প্ল্যাকার্ড বানাচ্ছে।

দাদাই ওদের তাড়া দিলেন, তোদের কিন্তু আবার স্কুলে যেতে হবে। জলদি কর।

নীলা হাসতে হাসতে বলল, কোনো চিন্তা নেই দাদাই, দেখো না আজ স্কুলের জন্য রেডি হয়েই বের হয়েছি। এখান থেকেই স্কুলে চলে যাবো।

সবাই কথা বলায় ব্যস্ত এদিকে টুনুর যে কী হয়েছে সে এক কোণায়। দাদাই হাতছানি দিয়ে ডেকে বললেন, এই টোনাই পণ্ডিত। কী ভাবছিস একা একা? আয় সবাই মিলে ভাবি, তোর চিন্তার বোঝা একটু কমাই।

যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিক সেখানে দাড়িয়েই টুনু বলল, আচ্ছা দাদাই, আমরা কেন ‘জয় বাংলা’ বলি? এই জয় বাংলা শ্লোগানটা কোথা থেকে আসলো।

আরাফ কপালে চাপড় দিয়ে বলল, হে খোদা! টুনু তুই আবার এত ভেবেছিস? কেন ভাই তোকে কে বলেছে এত ভাবতে? তুই একটু কম কম ভাবতে পারিস না? পরে একদিন

তোর মাথা ফটাস করে ফেটে যাবে সে খবর আছে?

আরাফের কথা বলার ঢং এ সবাই হো হো করে হেসে দিলো। টুনু বেশ বিরক্ত হলো। এ জন্যই সে কারও সঙ্গে কথা বলতে যায় না, দাদাইটা শুধু শুধু বকায়!

দাদাই অবশ্য ওদের হাসিতে যোগ দেননি। তিনিও কী যেন ভাবনায় ডুবে গেলেন। সবার হাসি আর টুনুর রাগ করার এক পর্যায় বললেন, তোরা কি আসলেই জানতে চাস ‘জয় বাংলা’ কোথা থেকে এলো?

টুনু তো বুঝল বাকিরাও বুঝল এখন আর হাসাহাসি রাগারাগি করা যাবে না, এখনই ইতিহাসের পাতা থেকে বের হয়ে আসবে দারুণ কিছু ঘটনা।

ভারী গলায় দাদাই শুরু করলেন, তোরা তো জানিস আমাদের দেশ স্বাধীনের গল্পটা শুধু ১৯৭১ এর না। এটা অনেক লম্বা দিনের গল্প। আমাদের এই সংগ্রাম চলছে সেই ১৯৪৭ থেকে যখন আমাদের অযাচিতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এরপর ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন সর্বশেষে ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। এ দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামে আমাদের যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি করে ভাবতে হয়েছিল টা ছিল আমাদের জাতি স্বত্বা। আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের অবস্থান। পাকিস্তানিদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল আমাদের এইসব নিজস্ব বিষয় কেড়ে নিয়ে যাওয়া, যেটা আমরাও মানতে পারছিলাম না।

তখন কি আমরা রেগে গিয়ে জয় বাংলা বলে চিৎকার করে উঠলাম দাদাই? চোক বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো কাজল।

কাজলের সরল প্রশ্নে দাদাই হেসে দিলেন। বিষয়টা অনেকটা এমনই রে কাজল। আমরা তখন খুব রেগে যেতাম। আমাদের এই রাগ বুকের মধ্যে কুড়েকুড়ে খেতো কিন্তু আমরা কোন ভাষায় সেই কথা প্রকাশ করবো তা বুঝে উঠতে পারতাম না।

নীলা বলল, কেন আমাদের বাংলা ভাষা তো ছিলই।

দাদাই বললেন, হ্যাঁ বাংলা ভাষা তো আমাদের ছিলই। তবে ভেবে দেখ পাকিস্তানীরা আসার আগেও আমাদের শাসন করেছে ইংরেজরা দুইশ বছর। এর আগে ছিল মোঘল আফগানরা, তার আগে ছিল পর্তুগিজ ওলন্দাজ। আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের সঙ্গে তখন তারা মিশে গিয়েছে অনেকটা নিজেদের মতো করেই। আমাদের নিজেদের খুঁজে বের করতে তখন একটা যুদ্ধ আমাদের নিজেদের সঙ্গেও চলছিল যে।

এরপর কী হলো দাদাই? আগ্রহ নিয়ে বলল আরাফ।

আমাদের আন্দোলন চলছিল, ৫২ তে, ৬৬ তে, ৬৯ এ। আমরা নানাভাবে স্বাধীন বাংলার কথা বলতাম। ছয় দফাতেও আমরা আলাদা অস্তিত্ব তৈরি করতে চেয়েছি। কিন্তু একদম আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা সেখানে ছিল না। কিন্তু ছয় দফার পরে যখন আমাদের উপর অত্যাচার বেড়ে যেতে থাকলো তখন থেকে আমাদের মনে হতে থাকলো, অনেক হয়েছে আর না।

এই আর না চিন্তাটা থেকেই একটা স্বাধীন বাংলার প্রচেষ্টা তৈরি হয়েছে। তখন নেতারা শ্লোগান দিতেন। বাংলা কথাটা বার বার নানাভাবে আসতো। বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বর্ষীয়ান নেতা তখন মাওলানা ভাসানী। তিনি শ্লোগান দিতেন “স্বাধীন বাংলা জিন্দাবাদ” মধ্যে মধ্যে বলতেন “আযাদ বাংলা জিন্দাবাদ” এগুলো দিয়েও তিনি স্বাধীন বাংলার ইঙ্গিতই করতেন।

টুনু ফস করে বলে উঠলো, ইশ এগুলো তো উর্দু শব্দ!

দাদাই হাসতে হাসতে বললেন, ঠিক এই কথাটা আমিও তখন ভাবতাম। শুধু আমি কেন? আমার মতো যারা তরুণ ছিল তারা সবাই ভাবতো।

এরপর কী হলো দাদাই? তর আর সইছে না বিন্তির।

এরপর যে কী হল বিন্তি সেটা সঠিক করে কেউ বলতে পারবে না। আমি সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম না। দিনটা ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটা সভা ছিল। কথা ছিল সামনে ১৭ মার্চে শিক্ষা দিবস আমরা কীভাবে পালন করব তা নিয়ে আলোচনা হবে। সেদিন নাকি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের দুই ছাত্র আফতাব আহমেদ আর চিশতী হেলালুর রহমান সর্ব প্রথম “জয় বাংলা” শ্লোগান দেয়। পরে আমি অবশ্য অনেক খোঁজ করেছই তবে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি কে এটা শুরু করেছিল। তবে কেউ না কেউ করেছিল। তারা এমন যোদ্ধা ছিল যারা শুধু যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধকেই সত্য জানে। দেশকে ভালোবেসে যুদ্ধ করে, বীর খেতাব পাওয়া বা পদবীর বলে কিছু আদায় করা তাদের উদ্দেশ্য থাকে না। তো যেই করে থাকুক তাদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি।

আমি তো ভেবেছিলাম, এটা প্রথম বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন। বলল নীলা।

সে সময়ের সবচেয়ে মজার বিষয় কী ছিল জানিস? সবাই যার যার মতো করে কাজ এগিয়ে নিতেন। বঙ্গবন্ধু শেষ অনুমোদন দিতেন। এরপরই সেটা হয়ে যেত। তো সিরাজুল আলম খান বলে একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল গঠন, সিপাহী জনতার গণ- অভ্যুত্থান ইত্যাদি তিনি পরিচালনা করেছিলেন এমন কথিত আছে। তার অনুসারীরা দাবী করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার রহস্যময় অবস্থান আছে।

সিরাজুল আলম খান ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০ ঢাকার পল্টনে একটা ভাষণ দেন তখন তিনি জয় বাংলা শ্লোগানটা উচ্চারণ করেন। বাংলা শব্দ। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, এই শ্লোগান সকলের বেশ মনে ধরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এই শ্লোগানটা মনে ধরে। তিনি এই শ্লোগান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন ৭ জুন ১৯৭০ রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায়।

এভাবে এই শ্লোগান আমাদের হয়ে যায়। অবশেষে আসে ৭ই মার্চ। বলতে পারিস আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা আসে সেদিনই। ৭০র নির্বাচন বাতিল হয়ে গিয়েছেই বলা চলে, বিরাট জলোচ্ছ্বাসে পশ্চিম শাসকরা আমাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি। অনেক অনেক অনেক অবজ্ঞা সঙ্গে নির্বিচারে ক্ষুব্ধ জনতাকে হত্যা করা হচ্ছে। সবাই বসে আছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা পেতে। সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে। লাঠিসোটা হাতে সবাই দলে দলে মিছিল করে রেসকোর্সের দিকে আসছে। রেসকোর্স কোনো ময়দান নেই আর। সেদিন রেসকোর্স একটা মহা সমুদ্র। মানুষের স্লোগানে উত্তাল সমুদের মতো গর্জন করছে।

অবশেষে বঙ্গবন্ধু আসেন, তার দীর্ঘ সুঠাম শরীর নিয়ে দাঁড়ান মঞ্চে। তার ঐতিহাসিক ভাষণটি দেন।

ছেলে মেয়েরা উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠে। এই শ্লোগান ওদের মুখস্থ। এক আঙ্গুল তুলে ওরা বলে উঠে, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

ওদের আলাপ উচ্ছ্বাসের মধ্যেই দাদাই দরাজ গলায় আবৃত্তি শুরু করেন, কবি নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতাটি, স্বাধীনতা,এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো,

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে

লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে

ভোর থেকে জন সমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি’?

এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,

এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না।

তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?

তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে

ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হৃদয় মাঠখানি?

জানি, সেদিনের সব স্মৃতি মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত

কালো হাত। তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ

কবির বিরুদ্ধে কবি,

মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,

বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,

উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,

মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ…।

হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,

শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে তুমি

একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে

লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প।

সেদিন এই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর।

না পার্ক না ফুলের বাগান, – এসবের কিছুই ছিল না,

শুধু একখণ্ড অখণ্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত

ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়।

আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল

এই ধু ধু মাঠের সবুজে।

কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে

এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,

লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,

পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক।

হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,

নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে

আর তোমাদের মতো শিশু পাতা- কুড়ানিরা দল বেঁধে।

একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্য কী ব্যাকুল

প্রতীক্ষা মানুষের: ‘কখন আসবে কবি?’ ‘কখন আসবে কবি?’

শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,

রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে

অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।

তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল

হৃদয়ে লাগিল দোলা, জন সমুদ্রে জাগিল জোয়ার

সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?

গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতা খানি:

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।

 

Source: bangla.bdnews24.com

শাহজাদপুরে কবি আলহাজ্ব হেদায়েত আলী বাশুরীর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও গুণীজন সম্মাননা প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কবি আলহাজ হেদায়েত আলী বাশুরী রচিত ‘ রহমাতুল্লিল আলামিন ’ নামক কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও গুণীজন সংবর্ধনা শীর্ষক এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ‘শাহজাদপুর সাহিত্যমেলা’ সংগঠনের উদ্যোগে উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা ডিগ্রি কলেজে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জামিরতা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলীর সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত ‘রহমাতুল্লিল আলামিন ’ নামক কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আব্দুল জলিল। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচক ছিলেন, কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক খ,ম আসাদ, কবি গাজী শুকুর মাহমুদ, জামিরতা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাহেব আলী, কবি হাসান রেজা মানিক প্রমূখ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আব্দুল জলিল ও বিশেষ অতিথি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি আলহাজ্ব হেদায়েত আলী বাশুরী রচিত ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ কাব্যগ্রস্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দ কবি আলহাজ্ব হেদায়েত আলী বাশুরীকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ঈমামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের প্রধান সম্পাদক “বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ সাহিত্য গ্রুপের” ‘সহ- সভাপতি’ মনোনীত

বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ (একটি সাহিত্য গ্রুপ) শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের ‘প্রধান সম্পাদক’ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার সাহেবকে “বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ সাহিত্য গ্রুপের” ‘সহ- সভাপতি’ মনোনীত করায় শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচালক পর্ষদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাহিত্য অঙ্গনে সহযোদ্ধা হিসেবে ‘শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম’ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

শরীফ সরকার
নির্বাহী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম।