সিরাজগঞ্জে স্বপ্নের ধান কাটা শুরু

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপের মাঝেই বোরো ধানের ভালো ফলনে হাসি ফুটছে সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মুখে। চোখে স্বপ্ন ও বুকে আশা নিয়ে তারা কাটতে শুরু করেছেন নতুন ধান। এদিকে কৃষাণীরা ব্যস্ত ধান মাড়াই ও গোলায় ধান ভরার কাজে।

চলনবিল ও যমুনা নদী অধ্যুষিত জেলা সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশের জমিগুলোতে অধিকসময়ই বিলে পানি থাকায় কৃষকের প্রধান স্বপ্ন থাকে এ ধানকে ঘিরে।

এছাড়াও কাজিপুর, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর যমুনা নদী অধ্যুষিত হওয়ায় এখানেও কৃষকের স্বপ্ন থাকে এই বোরো ধান নিয়ে।

jagonews24

তেমন কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকার পাশাপাশি কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ও সরকারের প্রণোদনায় ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এখন ভালোভাবে ধান কেটে মাড়াই শেষে ঘরে তুলতে পারলেই যেন তাদের মনে স্বস্তি আসবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ বছর ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা প্রায়ই শতভাগই পূরণ হয়েছে। এ বছর এক লাখ ৪১ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এদিকে জেলায় এক লাখ ৪০ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে ধানচাষ হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও তাড়াশের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা উৎসবের আমেজে নতুন ধান কাটতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই তাড়াশের মাগুড়া, সগুনা, ঘরগ্রাম, ধামাইচ, শ্যামপুর, চর হামকুড়িয়া ও শাহজাদপুরের নদী তীরবর্তী নরিনা ইউনিয়নের চর-নরিনাসহ উপজেলার নিচুস্থানে ও বিভিন্ন নালায় রোপিত স্থানীয় ধান পেঁকে যাওয়ায় কৃষকেরা ধান কাটতে শুরু করেছেন। এবার ফলনও ভালো হয়েছে বলেও জানান কৃষকরা।

jagonews24

তাড়াশের মাগুড়া বিনোদ এলাকার কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়া না থাকায় এবং কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ ও যথাসময়ে বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়ায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এখন ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলেই বাঁচি।

তাড়াশের ঘরগ্রামের কৃষক কৃষ্ণপদ ঘোষ বলেন, এবার ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২৬-৩০ মণ হারে ধান পাওয়া যাচ্ছে। বিঘা প্রতি সার, বীজ ও কাটা বাবদ সব কিছু মিলিয়ে খরচ হয় ৮-১০হাজার টাকা। এখন প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমি থেকে ধানে কৃষকের আয় হচ্ছে প্রায় ২০-২২ হাজার টাকা।

শাহজাদপুরের নরিনা ইউনিয়নের চর-নরিনা গ্রামের শাহীনূর রহমানসহ বেশ কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক জানান, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ধান পেঁকেও গেছে। লকডাউনে কৃষকদের হাতে তেমন কোনো কাজ নেই। তাই শ্রমিকদের সঙ্গে তারা নিজেরাও ধান কাটছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিরাজগঞ্জ জেলা অফিসের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, দুর্যোগমুক্ত আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলন অতীতের চেয়ে বেশ ভালো হয়েছে। শেষপর্যন্ত এভাবেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধানের বাম্পার ফলন হবে আশা করছি।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, জেলার ধানের জন্য বিখ্যাত তাড়াশ উপজেলা। কিন্তু সেখানে ফসলি জমিতে যত্রতত্র পুকুর খননে যেমন জমি কমেছে তেমনি এর কারণে তৈরি হওয়ায় জলাবদ্ধতায় কমে গেছে ধানচাষ।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকিতে কৃষকদের মাঝে সার, বীজ দেয়াসহ প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বদা জমি পরিদর্শন করে সঠিক পরামর্শ ও ফসলে পোকার আক্রমণ রোধে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।

এবছর কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবেও বেশ লাভবান হবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

সূত্রঃ জাগো নিউজ

করোনার ক্রান্তিকালে উৎসবের আমেজে ধান কাটছে শাহজাদপুরের কৃষকেরা

করোনার ক্রান্তিকালেও খোশ মেজাজে ধান কাটতে শুরু করেছেন শাহজাদপুরের কৃষকেরা। চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে না আসায় শাহজাদপুরে বোরো ধানের ফলন অতীতের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে । ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী নীচু স্থানে ও বিভিন্ন নীচু নালায় রোপিত স্থানীয় বোরো জাতের ধান (আগুর ধান) পেঁকে যাওয়ায় কৃষকেরা করোনার ক্রান্তিকালের মধ্যেও হাঁসি খুশি মনে ধান কাটতে শুরু করেছেন। এবার ধানের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শাহজাদপুর পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮’শ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে কৃষকেরা। ইতিমধ্যেই বোরো স্থানীয় জাতের ধান পেঁকে যাওয়ায় তা কাটা শুরু হয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে উফসী জাতের ধানও পেঁকে যাবে এবং ১ সপ্তাহ পর কৃষকেরা পুরোদমে ধান কাটার কাজে লেগে যাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ধান রোপন থেকে কৃষকের ঘরে তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেয়াসহ নানা ধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের চর-নরিনা গ্রামের কৃষক শাহীনূর রহমানসহ বেশ কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক জানান, ‘চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও চলতি বোরো মৌসুমে কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দেয়ায় স্থানীয় বোরো জাতের ধানের ফলনও খুব ভালো হয়েছে । ইতিমধ্যে এসব ধান পেঁকেও গেছে। লকডাউনে কৃষকদের হাতে তেমন কোন কাজ নেই। তাই শ্রমিকদের সাথেপাশে রেখে কৃষকেরাও উৎসবের আমেজে ধান কাটছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস সালাম জানান, ‘দুর্যোগমুক্ত আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলনও অতীতের চেয়ে বেশ ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এভাবেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধানের বাম্পার ফলন নিয়ে কৃষকেরা যে স্বপ্ন বুকে লালন করেছেন, তাদের সেই স্বপ্ন ও বুকভরা আশা এবার বাস্তবে রূপ নেবে। এতে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবেও বেশ লাভবান হবেন।

কৃষকের মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাঁপ


শাহজাদপুরে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত বীজতলা

শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা কোল্ড ইজনুরিতে আক্রান্ত হয়ে বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। এছাড়া অনেক স্থানের বীজতলায় জৈবসার প্রয়োগে তারতম্যতা, মাটি সঠিকভাবে পচাঁতে না পারা, নিয়মিত পরিচর্যা ও উর্বরা শক্তির অভাব এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বীজতলায় চারা রাখার ফলে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা ইরি-বোরো ধানের বীজতলা থেকে কুয়াশার পানি অপসারণ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে তা রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অনেকে আবার অন্যত্র থেকে ধানের চারা ক্রয় করে জমিতে রোপন শুরু করেছেন। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাঁপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা জোতপাড়া মহল্লার শহিদ আলী ফকির, পরশ শেখ, চরবাছরার হেকমত আলী, হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের মোক্তার হোসেন, ইসলামপুর ডায়ার আব্দুস সাত্তার, মজিবর রহমানসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, ‘বিগত বছরগুলোতে ৪০/৪৫ দিনেই তাদের বীজতলার চারাগাছ ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা ও সবুজ সতেজ হয়ে উঠলেও শীত ও কুয়াশার কারণে এবার চারাগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের ৬০/৬৫ দিন পর এমনকি ৯০ দিন পরও চারা উত্তোলন করতে হচ্ছে । অনেকের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাড়ে ৩’শ টাকায় ১’শ আটি (শতকরা হারে) ধানের চারা কিনতে হচ্ছে। কোল্ড ইনজুরিসহ নানা কারণে পোতাজিয়া, কায়েমপুর, পোরজনা, সোনাতুনীসহ উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নেই কমবেশি বীজতলার চারাগাছ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এলাকার কোথাও এখনও চারার সংকট সৃষ্টি হয়নি বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।’

উপজেলার সোনাতুনী ইউনিয়নের দুর্গম বাঙালা চরের তাহাজ ব্যাপারির ছেলে কৃষক আব্দুস সালাম জানান, ‘বাঙালা চরে ৩ বিঘা জমিতে ধান আবাদের জন্য ২০ কেজি ধানের চারা বুঁনেছিলাম। কিন্তু কুয়া’য় (কুয়াশা) সব নষ্ট করে দিলো। তাই বাইরে থেকে চারা কিনছি। বাঙালা চরের বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলাই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকেরা দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।’

এ বিষয়ে শাহজাদপুর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলার ১১’শ ৬০ হেক্টর জমিতে এবার বীজতলা তৈরি করেছে কৃষকেরা। কোল্ড ইনজুরিতে বীজতলার তেমন ক্ষতি হয়নি। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে।’

শাহজাদপুরে ইরি-বোরো রোপন শুরু, শৈত্যপ্রবাহের কারনে চিন্তিত কৃষক

কয়েকদফা বন্যার পর তীব্র শীত উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু করেছে।

উপজেলার প্রায় প্রতিটি কৃষি জমি এমনকি শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন খাল-বিল ও নদীর অববাহিকায় ইতোমধ্যেই বছরের প্রধান ইরি-বোরো আগাম জাতের ধান রোপন করা শুরু হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কৃষকরা ইরি-বোরো ধান চাষের জমি উপযোগী করছে।

ইঞ্জিন চালিত ট্রাক্টর দিয়ে মাটি আগলা করার পাশাপাশি সার দেওয়া ও শ্যালো মেশিন বসাতে শুরু করেছে। রবি সরিষা পাকলে তা উত্তোলন করার পরেই মূলত তারা ব্যস্ত হবেন প্রধান কৃষিশষ্য ধান চাষে।

নিম্নাঞ্চল হওয়ায় উপজেলার সবর্ত্র বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩-৪ মাস ফসলি মাঠ পানির নিচে থাকে। বন্যার পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রধান কৃষিশস্য রবি সরিষা চাষ শুরু হয়। এরপরেই বন্যার পানি প্রবেশের আগ পর্যন্ত চলে ধান চাষ। আর ১০-১৫ দিন পরেই মাঠে গড়াবে শ্যালো ও৷ বিদ্যুৎচালিত সেচ মেশিন।
তবে খাল-বিলের নিকটবর্তী জমিগুলোতে ইতোমধ্যেই ধান চাষ শুরু হয়েছে।

উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্ক দূর হয়েছে।

তবে ইতিমধ্যেই শৈত্যপ্রবাহের কারনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, এরকম আবহাওয়া বেশিদিন থাকলে ইরি-বোরো চাষে ব্যাঘাত ঘটবে। আর আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের মতো এবরেও ইরি-বোরো চাষাবাদ ভলো হওয়ার আশা করছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুস ছালাম বলেন, এ উপজেলার প্রধান কৃষি ফসল ধান হওয়ায় সর্বত্রই চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছে কৃষকরা। উপজেলার সব এলাকার কৃষকই ইরি-বোরো আবাদে নিজস্ব বীজতলা করেছেন। বীজতলায় চারার মানও ভালো আছে।

তিনি আরো জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ইরি-বোরো চাষে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। শৈত্যপ্রবাহ বেশি দিন স্থায়ী হবেনা বলে তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে শৈত্যপ্রবাহ ২/১ দিন থাকার পর আবহাওয়া অনুকুলে আশার সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহজাদপুরে বীজতলা তৈরীতে ব্যাস্ত কৃষক

সবচেয়ে ছোট ছেলেকে মইয়ের উপর উঠিয়ে অন্য ছেলের সাথে মইয়ের রশি ধরে টেনে ধানের বীজ ছিটানোর জন্য জমি সমান করছেন আব্দুল আলীম

জমি থেকে সমস্ত আবর্জনা ধুয়ে পরিষ্কার করে চলে গেছে বর্ষার পানি। ভোরের শিঁশিরের মত চকচকে জমিন জেগে আছে দিগন্ত জুড়ে। পলি মাটির থকথকে কাদা জানান দিচ্ছে উর্বরতার। লিকলিকে সবুজের থরোথরো কম্পন ধারণ করতে প্রস্তুত সমস্ত চরাচর। এমন সময় কৃষকই যে মাঠের প্রকৃত শিল্পী। তাইতো তারা ব্যাস্ত হয়ে উঠেছেন ক্যানভাসে রঙের আচড় দিতে।

কৃষকের আঙুল ফালাফালা করে প্রিয় হৃৎপিণ্ডের মত জমিনে আঁকবেন রঙবেরঙের চিত্র। রবি শস্যেরকাল শেষ হলেই শুরু হবে ধানের মৌসুম। সারা দেশের মত তাই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরেও বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

আধুনিকতার এ যুগেও প্রয়োজনের তাগিদেই অনেকে গতর খাটিয়েই হাল চাষ করে এই বীজতলার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। এরকমই একজন প্রকৃত কৃষক উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের আব্দুল আলীম। সামাজিক দায়িত্ব বোধ থেকেই করেন রাজনীতি। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর মনোনীত প্রার্থী হয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনও করেছেন। কিন্তু সবকিছুর উর্ধে তিনি সত্যিকারের একজন কৃষক।

তাই তো আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য আগাম বীজতলা তৈরী করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে। সবচেয়ে ছোট ছেলেকে মইয়ের উপর উঠিয়ে অন্য ছেলের সাথে মইয়ের রশি ধরে টেনে ধানের বীজ ছিটানোর জন্য জমি সমান করছেন আব্দুল আলীম।

তাঁর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কৃষিই আমাদের প্রধান পেশা। আমরা যে যা কিছুই হইনা কেন কৃষিকাজ আমাদের সত্তার সাথে মিশে আছে। মাটির মানুষ আমরা মাটির কাছাকাছিই থাকতে চাই। তাই নিজের সত্তাকে বাঁচিয়ে রেখে সন্তানদের সঙ্গে করে মাঠে নেমেছি বীজতলা তৈরীতে।’

এদিকে শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে বেড়েছে কৃষকদের ব্যস্ততা। আগাম ইরি-বোরো ধান চাষে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। শাহজাদপুর উপজেলাসদর বাজারসহ এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারে হরেক রকম হাইব্রীড জাতের বোরো ধান বীজ বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে দোকানগুলিতে বেড়েছে কৃষকদের বিভিন্ন উন্নত ফলনশীল জাতের বোরো ধান বীজ কেনার হিড়িক।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক বোরো ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলির মধ্য থেকে বর্তমানে কৃষকরা যে ধানবীজ থেকে ভাল ফলন ও যে বীজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি সেগুলি প্রহণ করছেন বলে জানা যায়। ইরি-বোরো ধান চাষ করে একদিকে নিজেদের পারিবারিক চাউলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেও আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন। এ লক্ষ্যে আগাম বীজতলা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

চাষীরা বলছেন, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বীজতলা তৈরিতে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না। তারা আরও জানান, আগাম বীজতলা থেকে খুব তাড়াতাড়ি ধানের চারা সংগ্রহ করে জানুয়ারিতেই জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা যাবে। ফসল পাওয়া যাবে এপ্রিলে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম আসার আগেই যেন বোরো ধান কেটে বাড়িতে তোলা যায় এজন্য অধিকাংশ কৃষকরা আগাম বীজতলা তৈরীর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

শাহজাদপুরে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৯’শ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এসব বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে সার ও বীজ বিতরণের সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে উপজেলার পোতাজিয়া ও গাড়াদহ ইউনিয়নের ১’শ ২০ জন কৃষকের মাঝে এসব সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।

পাটের দুটি নতুন শাকের জাত উদ্ভাবন

এবার শাকের সঙ্গে সোনালী আঁশ পাটের দু’টি নতুন জাত যুক্ত হলো। জাত দুটি হচ্ছে বাংলাদশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) কর্তৃক সদ্য অবমুক্তকৃত-বিজেআরআই দেশি পাটশাক-২ (ম্যাড়া লাল) ও বিজেআরআই দেশি পাটশাক-৩ (ম্যাড়া সবুজ)। দীর্ঘ ৫ বছরর গবেষণায় জাত দুটি উদ্ভাবন করেন বিজ্ঞানী মো. জ্যাবলুল তারেক। বুনো পাট থেকে শাকের এ দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়।জ্যাবলুল তারেক বলেন, স্বাদ তিতাহীন বলে এটি অধিক সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় মানুষের শাকের চাহিদা মেটানার পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। শাকটি মালভেসি পরিবারের, যার বৈজ্ঞানিক নাম (Corchorus capsularis)।  নতুন পাটশাকের জাত দুটিতে গড়ে প্রায় ক্যালসিয়াম (২.১৫%), পটাশিয়াম (১.৬৪%), আয়রন (৭৯০.৫ মিলিগ্রাম/কেজি), প্রোটিন (২০.৫০%), ভিটামিন-এ (১২৬.৪৫ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম) এবং ভিটামিন-সি (৭৫.১৭ মিলিগ্রাম/১০০গ্রাম) বিদ্যমান।

এ সম্পর্ক গবেষক মো. জ্যাবলুল তারেক বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পাট গবষণা ইনস্টিটিউটের বাস্তবায়নাধীন পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পে চাকরির সুবাদে প্রায়ই বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে গবেষণা মাঠ পরিদর্শন কিংবা মাঠ দিবসে যাওয়ার সময় এক ধরনের বুনো পাট দেখতে পেতাম। রংপুরের তৎকালীন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আইয়ুব খানের পরামর্শ নিয়ে গবেষণা শুরু করি। এই বুনো পাট থেকে উন্নত মানের আঁশ পাওয়া যায় কিনা সেটাই ছিল আমার গবেষণার লক্ষ্য। দেখা গেল, বীজ বপনের ৪০-৪৫ দিনের মধ্যই শাখা-প্রশাখা হয়ে ফুল-ফল আসতে শুরু করে। ফলে এ জাত থেক কোনা লাভজনক আঁশ পাওয়া সম্ভব হয় না। তব উক্ত প্রকল্পের আওতায় শাক হিসেবে ব্যবহারের লক্ষে নতুন করে গবেষণা চলতে থাকে। অবশেষে ৩ বছর ধরে গবেষণার পর এটি তিতাহীন সুস্বাদু সুমিষ্ট শাকের ন্যায় সকল পুষ্টিগুণ ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় অতি সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ম্যাড়া লাল ও ম্যাড়া সবুজ লাইন দু’টি শাকের জাত হিসেবে অনুমোদিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ কাজে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ড. মো. আইয়ুব খান, ড. মো. সামিউল হক এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবুল ফজল মোল্লা, ড. মো. শহিদুল ইসলাম। গবষণালব্ধ উপাত্ত বিজেআরআইয়ের প্রজনন বিভাগ কর্তৃক উপস্থাপনের মাধ্যমে জাত দু’টি পাটেরশাক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়া পুষ্টিমান ও অন্যান্য তথ্যসম্বলিত একটি গবষণা প্রবন্ধ Taylor & Francis গ্রুপের আমরিকান ভিত্তিক আন্তজার্তিক জার্নাল ‘International Journal of Vegetable Science’ এ ইতোমধ্য প্রকাশিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী দিনের আলো নিরপেক্ষ স্বল্প জীবনকাল উদ্ভিদ বলে এটি সব ধরণের জমিতে প্রায় সারা বছর চাষ করা যায়। এমনকি এটি অল্পমাত্রার লবণাক্ত এলাকাতেও আবাদ করা সম্ভব। পোকামাকড় ও রোগবালাই কম হয় বলে ভালোভাবে পরিচর্যা করলে এই শাকগাছ থেকে কয়েকবার শাকপাতা সংগ্রহ করা সম্ভব। বীজ বপনের ২৫-৩৫ দিনের ভেতরই শাকপাতা সংগ্রহ করা যায় এবং ফলন হেক্টরপ্রতি ৩-৪ টন পাওয়া সম্ভব। বুনাজাত থেকে বাছাইকৃত বলে বর্তমানে এ শাক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার প্রতিরাধী উপাদান এবং পরিমাণ নির্ণয়র উদ্দশ্য গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

লোকসানের মুখে শাহজাদপুরের চরের বোনা আমন ধান, বাদাম ও তিল চাষিরা


যমুনার চরাঞ্চলে সাড়ে ৩’শ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও প্রবল বর্ষণে যমুনা, করতোয়া ও বড়াল নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী, গালা ও জালালপুর এ ৩ ইউনিয়নের যমুনার চরে নিন্মাঞ্চলের রোপণ করা সাড়ে ৩’শ বিঘা জমির বাদাম, তিল, বোনা আমন ধান, শাক-সবজিসহ উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। নিমিষেই এসব ফসল ডুবে যাওয়ায় ফলে চরাঞ্চলের কৃষকেরা অপূরনীয় লোকসানের তোপের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে শাহজাদপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৮’শ ৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ইতিমধ্যে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ। কিন্তু চরের নিম্নাঞ্চলের কাঁচা, আধা-পাঁকা জামিতে রোপিত বোনা আমন ধান, বাদাম, তিল, সবজিসহ উঠতি ফসলের ক্ষেত হঠাৎ যমুনার বানের বানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের বুকভরা আশা বানের পানিতে হতাশায় পরিণত হয়েছে। একদিকে দ্রুত পানি বৃদ্ধি ও অন্যদিকে শ্রমিক না পাওয়ায় কাঁচা, অপরিণত ফসলও কেটে ঘরে তুলতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এসব এলাকার কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও যমুনার চরাঞ্চলবাসী সূত্রে জানা গেছে, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে ইতিমধ্যেই উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নের সোনাতনী, চামতারা, ছোট চামতারা, বানতিয়ার, বানিয়া সিংগুলী, বাঙালা, ভাটদিঘুলিয়া, শ্রীপুর চরের প্রায় ২’শ বিঘা বোনা আমন ধান, বাদাম ও তিল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। গালা ইউনিয়নের রতনদিয়ার, মোহনপুর, শিমুলকাদি চরের প্রায় ৮০ বিঘা বোনা আমন, বাদাম ও তিল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, পাকুড়তলা, ঘাটাবাড়ী এলাকায় রোপিত প্রায় ৭০ বিঘা জমির বোনা আমন ও তিল, সবজিসহ উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলের কৃষকদের অবর্ণনীয় সাধিত হওয়ায় কৃষকেরা বুক ফাঁটা আর্তনাদে হা-হুতাশ করছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আব্দুস সালাম জানান, ‘যমুনায় অকষ্মাৎ পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার সোনাতনী,গালা ও জালালপুর ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চল অধ্যুষিত নিম্নাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩’শ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে।

শাহজাদপুরে বোরো ধান সংগ্রহে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন

১ হাজার ৪'শ ১৫ জন

‘শেখ হাসিনা’র দর্শন কৃষকের উন্নয়ন’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে শাহজাদপুর উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা খাদ্য শষ্য সংগ্রহ মনিটরিং কমিটির আয়োজনে লটারির মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রান্তিক ১ হাজার ৪’শ ১৫ জন কৃষক নির্বাচন করা হয়।

জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৫’শ ১ জন কৃষকেরা সরকারের কাছে ধান বিক্রয়ের জন্য এ লটারিতে অংশ নেন। ২৬ টাকা কেজি দরে প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে ৩ মেট্রিকটন করে মোট ৪ হাজার ২’শ ৪৫ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, সিরাজগঞ্জের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মাসুদুর রহমান, শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম, রূপবাটি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার প্রমূখ।

শাহজাদপুর উপজেলা খাদ্য শষ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ইউএনও শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা জানান, ‘প্রকৃত কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্যে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারে, সেজন্যই স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে সরকারি বরাদ্দ মোতাবেক লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৪’শ ১৫ জন কৃষক নির্বাচিত করা হলো।

খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখতে চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী

করোনার কারণে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় উৎপাদন আরও অনেক বাড়াতে হবে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে খাদ্য উৎপাদনে যে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে এবং উৎপাদনের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা আরও বেগবান ও ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আউশের জন্য বীজ, সার, সেচসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আগামীর ফসল আমন ও রবি মৌসুমে বীজ, সার, সেচ প্রভৃতিতে যাতে কোন সমস্যা না হয় ও সংকট তৈরি না হয় সেজন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে।

সোমবার কৃষিমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে আমন ও রবি শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানদের সাথে অনলাইন সভায় এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে কোনো কোনো দেশে খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষও হতে পারে।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলানোর নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনার দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান ধারা শুধু অব্যাহত রাখা ও তা আরও বেগবান ও ত্বরান্বিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে।

সভায় জানানো হয়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে আমন আবাদের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৯ লাখ হেক্টর ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এক কোটি ৫৪ লাখ টন চাল।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো নাসিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো. মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, বাংলাদেশ কৃষি গবষেণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. এম. সাহাব উদ্দিনসহ অন্যান্য সংস্থাপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।