রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এ যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭-ই মার্চ উদযাপিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭-ই মার্চ উদযাপিত হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন-১ এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ট্রেজারার প্রফেসর আব্দুল লতিফ। পরে একাডেমিক ভবন-১ প্রাঙ্গণের বঙ্গবন্ধু’র পতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরুণ চন্দ্র রায়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক শিবলী মাহবুব, সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল-মাসুদ, সহকারী পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সন্ধ্যা ৭ টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ এর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলী জানিয়েছেন।

শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী পলো উৎসবে মেতেছে বাউতের দল

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের করতোয়া নদীতে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো উৎসবে মেতে উঠেছে বাউত ও সৌখিন মৎস্য শিকারীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত তারা মাছ শিকারে মেতে ওঠে। বংশ পরম্পরায় বছরের পর বছর চলে আসা পলো উৎসবের আমেজে দেশীয় প্রজাতির মাছ যেমন কৈ, বোয়াল, শোল, গুজা, চিতল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে আনন্দে বাড়ি ফিরছেন তারা। এভাবেই একের পর এক নদীতে মাছ শিকারে মেতে থাকে তারা। করতোয়া, ফুলঝোড়, হুরাসাগর, গোহালা নদী বেষ্টিত শাহজাদপুর এবং চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিল ঝিলের মাছ শিকার করা এলাকার বাউত ও শৌখিন মাছ শিকারিদের রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদী-নালার পানি যখন কমে যায় তখন একটি দিন নির্ধারন করে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাউত ও শৌখিন মাছ শিকারিরা সমবেত হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। মূলত শাহজাদপুরের বিভিন্ন নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্যের কারণেই বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকার করতে আসা বাউতের দল জমিয়ে তোলে মাছ শিকারের ক্ষেত্রগুলো। মাছ শিকারের এ উৎসবই স্থানীয়ভাবে লোকজনের কাছে পলো বা বাউত উৎসব নামে পরিচিত। সুদূর অতীতে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই বিশেষ করে অগ্রহায়ণ- পৌষ মাসে বা শীতের কোনো এক সকালে বিভিন্ন জলাশয়ে দলবদ্ধ হয়ে গ্রাম বা এলাকাবাসী ছেলেমেয়েদের নিয়ে মাছ শিকার করতে যেতেন। মূলত একটি জলাশয়ে যখন গ্রামের কিংবা এলাকার শত শত লোকজন একই সঙ্গে একই স্থানে মাছ শিকারে নেমে পড়েন, তখন জলাশয়ের জল ঘোলা হয়ে যেত। আর এতে করে ওই জলাশয়ে থাকা মাছগুলো জেগে উঠত। আর তখনই মাছ শিকারিরা মনের আনন্দে মাছ শিকার করে খালই বা পাতিলে ভরে বাড়িতে ফিরতেন। এই ছিল বাউত বা পলো উৎসবের আনন্দ।

পলো উৎসবের জৌলুস আর আগের মতো নেই বললেই চলে। ‘মাছ পাওয়া যাক আর না যাক বাউত বা পলো উৎসব এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। তবে পলো বা বাউত উৎসব বর্তমান সময়ে আগের মতো সংখ্যায় বেশি না হলেও এটিকে অতীত-ঐতিহ্য হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। এখনো শাহজাদপুরের বিভিন্ন নদীতে পলো বা বাউত উৎসব চোখে পড়ে। আর নদীর দু’তীরে উৎসূক জনতা ভীড় জমিয়ে এ উৎসব উপভোগ করে।

ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি, মৎসসহ প্রকৃতি নীর্ভর বহুমূখী খাতগুলো


পানি নেই নদ-নদীর বুকে!

এক সময়ের প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা পদ্মা, যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদ-নদীগুলো পানি প্রবাহ এলাকা শুকিয়ে নদী বক্ষে মাইলের পর মাইল বিরাজ করছে ধুঁ-ধুঁ বালুচর। ভারতের মেরুকরণের প্রক্রিয়ার যাঁতাকলে নিঃষ্পেষিত হয়ে উত্তরাঞ্চলের অসংখ্য নদ-নদী বক্ষে বর্তমানে পর্যাপ্ত পানি নেই। আর শাখা নদীগুলোর অবস্থা আরও করুণ। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নীচে নেমে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের সেঁচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হবার শংকার সৃষ্টি হয়েছে। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৯৫৭ সালে জাতিসংঘের অধীনে ক্রুগ মিশন এর সুপারিশক্রমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্থান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইপিওয়াপদা এর পানি উইং হিসাবে দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রন, পানি নিষ্কাষন ও সেঁচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষি ও মৎস সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধান সংস্থা হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৫৯ মোতাবেক ইপিওয়াপদা এর পানি অংশ একই ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাইবো) সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা-২০০৪ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাপাউবো আইন-২০০০ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পানি পরিষদের মাধ্যমে বোর্ডের শীর্ষ নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

জানা গেছে, ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার ফলে শুষ্ক মৌসুমে যৌবন হারিয়ে যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অতীতের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে নীচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি শাখা নদী, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আগের তুলনায় আনেক নীচে নেমে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি ব্যহত হচ্ছে। এ কারণে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নদী নীর্ভর এ অঞ্চলে ভ-ূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ব্যবহার এবং সেঁচ কাজে পানির অপচয় রোধ করা না গেলে বাংলাদেশ এক মহাসংকটের মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারী উচ্চরণ করেছেন। এ অঞ্চলের এক সময়ের ভয়াল, উত্তাল অনেক নদী ও শাখানদী বক্ষে বর্তমানে পর্যাপ্ত পানি আর দেখা যাচ্ছে না। করতোয়ার পরিণতিও বর্তমানে একই পথে! নাব্যতা সংকট, বাস যোগ্য পানি ও প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী থেকে দেশীয় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি’র পথে! এসব কারণে এ অঞ্চলের নদী নীর্ভর কৃষক ও এলাকাবাসীর বুকভরা আশা ক্রমশঃ হতাশায় পরিণত হচ্ছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে এসব নদ-নদী বক্ষে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় একদিকে যেমন নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শংকার সৃষ্টি হয়েছে।
শাহজাদপুরের যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকাবাসী জানান, ‘ছোট বেলায় তারা ভয়াল-উত্তাল যমুনার এপাড় (পশ্চিম) থেকে ওপারে (পূর্ব) তাকালে চোখে পড়তো দিগন্তছোঁয়া পানি আর পানি । আর এখন চোখে পড়ে ধুঁ-ধুঁ বালু চর। বিজলী বাতি জ্বলা জাহাজ তো দুরের কথা! পানির অভাবে পাল তোলা নৌকাও আর দেখা যায় না। ফলে যমুনার বিস্তৃত জলসীমা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে ও বালির চরের পরিধি বাড়ছে। ভারতের মরুকরণের কু-প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের জীব বৈচিত্র হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে। মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছরের শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এ অঞ্চলের স্রোতস্বিনী যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী ও এর শাখা প্রশাখাসহ খাল-বিল শুকিয়ে যায়। ফলে নদ-নদী বিধৌত উত্তরাঞ্চলবাসীর শুরু হয় দুঃখ দুর্দশার পালা। প্রকৃতি নীর্ভর কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের বিস্তুর্ণ এলাকা কালের আবর্তনে সময়ের পরিধিতে ক্রমেই মিনি মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দু’চোখ নদী বক্ষের যেদিকে যায় সেদিকেই দেখা যায় ধূঁ-ধূঁ বালুচর। প্রতিবেশী দেশ ভারত নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক গতিপথ রূদ্ধ করে দেওয়ায় সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে মরু অঞ্চলে পরিণত হতে চলেছে। উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে নদীগুলো অবস্থান করায় মরুকরণের কু-প্রভাব এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশকে করছে ভারসাম্যহীন। এসব কারণে এ অঞ্চলের নদীগুলোর গতি প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটছে। আমরা হারাতে বসেছি আমাদের অনেক গ্রামীন ঐহিত্য। আবহমান কাল থেকে গ্রামীন জনপদের মানুষের প্রিয় সুস্বাদু দেশী মাছ এখন সোনার হরিণের মতো। এখন আর দেখা যায়না গ্রামীণ ঐহিত্যের অনুসঙ্গ নৌকা বাইচ, খরা জাল, সূতি ফাঁদ, সেঁচের মাধ্যম দাঁড়। মৎসভান্ডার সংকুচিত বা শুকানোর ফলে অনেক মৎসজীবী বর্তমানে বেকার। আবার অনেকেই পেশার পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
পানিসম্পদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার যমুনা, করতোয়া, বরাল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো নদীর পানির স্তর ভূগর্ভস্থ পানির স্তরেরও নীচে নেমে গেছে। সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অসংখ্য শাখা নদী ও নালা গুলোতে। এ দুরবস্থার আরও একটি কারণ হচ্ছে যমুনা নদী অববাহিকায় অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিমাত্রায় অগভীর নলকূপের ব্যবহার। এতে মরা খালে পরিনত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি, মৎসসহ প্রকৃতি নীর্ভর খাতগুলো ।

বিজ্ঞমহলের মতে, ‘উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বীল শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়া। দেশের পানি হিস্যা আদায়ে বহুমুখী পরিকল্পনা ও কর্মপন্থার কথা বলা হলেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি আজও। তাই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে যদি ২০০ ন্যাটিক্যাল মাইল সমুদ্রসীমা অর্জন সম্ভব হয়, তাহলে কৃষিপ্রধান এ দেশকে রক্ষায় কেন আসন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে দেশের নদ-নদীগুলোতে নদী বক্ষে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কেনো নিশ্চিত করা যাবে না !

দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামে সড়কের নামকরণের দাবী


‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত এফএফ-৫০৮৪; মোদের গোরব মোদের অহংকার!

শামছুর রহমান শিশির : ‘৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে নানা রণকৌশল গ্রহণ করতেন মুক্তিবাহিনী । তন্মদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামের বিশেষ ব্যবহার লক্ষনীয় । পাকবাহিনী ও রাজাকারের দল যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে না পারে বা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় স্বজনদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান জানতে না পারে, সেজন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত নামের অন্তরালে ছদ্মনামে ডাকা হতো। যেমন, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জাকে ‘স্বপন কুমার’ ছদ্মনামে ডাকা হতো। ছদ্মনামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের আসল নামে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও চিনতেন না। চিনতেন, ডাকতেন তাঁদের ছদ্মনাম ধরেই। ’৭১ এর রণাঙ্গণে ভারত থেকে স্পেশাল গেরিলা  ট্রেনিং নিয়ে যারা দেশে ফিরে জীবন বাজি রেখে অসংখ্য সন্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন তাদেরই অকুতোভয় এক বীর সৈনিকের নাম ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ ( ফ্রিডম ফাইটার নং-৫০৮৪)!

সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী (ছদ্মনাম) নিঃখাদ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তীক্ষ্ণ মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অমর অবদানে দেশ ও জাতি ধন্য হয়েছে। কিন্তু, দেশ স্বাধীনের পরপরই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর তিনি মনে চরম ক্ষোভ আর বুকভরা ব্যথা নিয়ে দেশ ত্যাগ করে সুইডেনে পারি জমিয়েছিলেন।
সুইডেনে অবস্থানকালে যারাই জানতে পারতেন ‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’র বাড়ি বাংলাদেশে,  তারাই তাঁর কাছে জানতে চাইতেন, ‘তোমরা বিশ্ব প্রতিভা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলে কেন ? তিনি তো শুধু বাংলাদেশের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের সম্পদ ! নিশ্চই তোমরা বাঙালিরা ভালো লোক নও!’ সুইডিশদের এ ধরনের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারতেন না ’৭১ এর রণাঙ্গণের সাহসী বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী।
দেশ ও জাতির গর্বিত সন্তান সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সাথে আলাপকালে উদ্বেগ প্রকাশ করে আক্ষেপের সাথে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমানে আর বেঁচে নেই। অবশিষ্ট ২০ ভাগ হারে যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও জীবিত রয়েছেন, তারাও বয়সের ভারে নুব্জ  হয়ে পড়েছেন। আগামী ১৫/২০ বছরের মধ্যে হয়তো তারাও  বার্ধক্যজণিত কারণে মারা যাবেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশে অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওইসব অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সিংহভাগেরই বয়স ছিল ‘আন্ডার এজ’ বা শিশু-কিশোর! মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা চালুর পর থেকেই অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা শংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ইতিহাসকে কলুষিত করে চলেছে।’
বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ছোট বেলা থেকেই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ছিলো গভীর মমত্ববোধ। দেশ মাতৃকার প্রতি ভালোবাসা মমত্ববোধ আর বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে তিনি আত্মীয় স্বজন, ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্বল সবকিছু ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই স্পেশাল ট্রেনিং নিতে সূর্য্যকান্ত ভারতে চলে যান।  ভারতের বিহার প্রদেশের চাকুলিয়া এলাকায় প্রথম ব্যাচেই তিনি স্পেশাল ট্র্রেনিং নিতে শুরু করেন। সেখানে তিনি নির্দিষ্ট টার্গেটে নিখুতভাবে দুরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ট্রেনিং সফলতার সাথে করায়াত্ব করেন। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা আর দক্ষতায় অতি অল্প সময়েই তিনি দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের ওপর স্পেশাল ট্রেনিং সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। ট্রেনিং শেষ করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্ট হিসেবে তিনি রণাঙ্গণে যোগ দিয়ে নিজ দক্ষতায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
‘সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী’ রণাঙ্গণের ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বীর বীক্রমের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক ৭ নং সেক্টরের যেখানেই দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপের প্রয়োজন হতো, সেখানেই চলে যেতেন সূর্য্যকান্ত । সেখানে গিয়ে নিখুতভাবে টার্গেটকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপ করতেন। এভাবে পাকহানাদার ও তাদের দোসরদের বিধ্বস্তে বিশেষ অবদান রাখতেন তিনি। ৭ নং সেক্টরে মুুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক অবস্থা তখন বেশ ভালো, এমন সময় ৬ নং সেক্টর থেকে খবর আসলো, পাকহানাদারদের হামলায় ৬ নং সেক্টরের বীর যোদ্ধারা ক্রমেই কোনঠাঁসা হয়ে পড়ছে। ওই সময় ৬নং সেক্টরে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র, রসদ ও গোলাবারুদসহ সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও দূরপাল্লার মর্টারশেল নিক্ষেপকারী স্পেশালিষ্টের স্বল্পতাসহ কিছু কারণে পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমন হামলা ক্রমাগত সফল হচ্ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল মুক্তিবাহিনী। এমতবস্থায় ৭নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীকে ৬ নং সেক্টরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও সূর্য্যকান্ত অদম্য মনোবল নিয়ে সাহসীকতার সাথে পাকহানাদারদের লক্ষ্য করে মর্টারশেল নিক্ষেপে অভাবনীয় সাফল্যের পরিচয় দেন। সেক্টর পরিবর্তন করলেও ৬নং সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক একই রণকৌশলে তিনি শত্রুদের হামলা ও পাল্টা হামলার সমুচিত জবাব দিতে থাকেন। একই সাথে তিনি ৬নং সেক্টরের বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিখুতভাবে দূরপাল্লার মর্টারশেল নিপেক্ষের কলাকৌশলে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলেন। ফলে, অল্প সময়ের ব্যবধানে মুক্তিবাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় ও কোনঠাঁসা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এমতবস্থায়, ‘৭১ এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী প্রচুর গোলাবারুদ, রসদ, যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক সরঞ্জামসহ শতাধিক সহযোদ্ধাদের নিয়ে রংপুর এলাকা থেকে যমুনার নৌপথ ধরে সিরাজগঞ্জের দিকে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার সাথে তাদের সাক্ষাত হয়। পরে একত্রিত হয়ে তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে শুরু করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকবাহিনীর ঘাঁটিগুলো একে একে বিধ্বস্ত হতে থাকে ও পাকহানাদারেরা পরাস্ত ও পিছু হটতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষের দিকে চলনবিলের হান্ডিয়াল নামক স্থানে তাদের সাথে পাকবাহিনীর ভয়াবহ ও লোমহর্ষক এক সন্মুখ যুদ্ধ বেঁধে যায়। বর্ষাকালে সংগঠিত ওই সন্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হান্ডিয়ালে সংগঠিত সন্মুখ যুদ্ধ’র স্মৃতিচারণে সূর্য্যকান্ত বলেন,’পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জার বহরে জনৈক এক কোরআনের হাফেজ ছিলেন। স্বপন কুমার ওরফে আব্দুল লতিফ মির্জা সূর্য্যকান্তকে বলেছিলেন যে জনৈক ওই কোরআনের হাফেজ আধ্মাতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কোরআনের ওই হাফেজ শত্রুদের নিয়ে আগের দিন যে ভবিষ্যতবাণী করতেন, পরদিন তা বাস্তবে ফলে যেতো। একদিন, স্বপন কুমার ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর সম্মিলিত দু’বহরের প্রায় আড়াই’শ মুক্তিযোদ্ধার দল চলনবিলের ভেতর দিয়ে নৌপথে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের অবস্থান ছিলো হান্ডিয়াল এলাকায়।
এমন সময় ওই কোরআনের হাফেজ চিৎকার দিয়ে বহরের সকল নৌকা থামাতে বলেছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে হাফেজ সাহেব বলেছিলেন, ‘মুক্তিবাহিনীর পুরো বহরটি তীব্র ঝূঁকির মধ্যে পড়েছে।’ হাফেজের কথামতো থামানো হয়েছিলো পুরো নৌকার বহর। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা নৌকা থেকে বুক পরিমান পানির মধ্যে নেমে কচুরিপানা দিয়ে মাথা ঢেকে অতি গোপনে আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন, তাদের পুরো বহরটাই পাকবাহিনী ঘিরে ফেলেছে। মুক্তিবাহিনীর বহরে প্রচুর রসদ, গোলাবারুদ, যুদ্ধস্ত্র থাকলেও পাকবাহিনীর অবস্থান জানতে পেরে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মুক্তিবাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে পাকহানকদারদের চোখে ধুলো দিয়ে নৌপথ থেকে স্থলভাগে অবস্থান নিলেন। স্থলভাগে খোঁড়া হলো অসংখ্য বাংকার। তার মধ্যে সশস্ত্র অবস্থান নিলেন মুক্তিবাহিনী। বাংকারে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সুযোগ বুঝেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত  হামলা চালালেন। মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাইফেল থেকে মুহুঃমুহু গুলিবর্ষণ, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকলেন। বেঁধে গেলো ভয়াবহ সন্মুখ যুদ্ধ। পাকবাহিনীও পাল্টা জবাব দিতে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করতে থাকলো। ব্যাপক গোলাগুলি, দূরপাল্লার মর্টার শেল নিক্ষেপ, গ্রেনেড ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে চারিদিক প্রকম্পিত হতে থাকলো । নৌপথ ছেড়ে স্থলভাগে অবস্থানের রণকৌশল গ্রহণ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে মুক্তিবাহিনী হামলা চালানোয় অপ্রস্তুত পাকবাহিনী আতংকগ্রস্থ হয়ে এলোমেলোভাবে এদিক ওদিক লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছুঁড়তে লাগলো।
অবশেষে, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বপন কুমার (আব্দুল লতিফ মির্জা) ও সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তীর ২ বহরের আড়াই’শ বীর বাঙালি যোদ্ধার দল জীবন বাজী রেখে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাক-হানাদারের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনলেন। শেষ হলো হান্ডিয়াল যুদ্ধ।
স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, ‘৭১ এর রণাঙ্গনে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূর্যসন্তান, আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার বীরমুক্তিযোদ্ধা সূর্য্যকান্ত চক্রবর্তী নামটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ছদ্মনাম হলেও তাঁর প্রকৃত নাম গোলজার মিয়া (সুইডেন প্রবাসী)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লার প্রয়াত নূরুল হকের জ্বৈষ্ঠ্য সন্তান।
‘৭১ এর রণাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধার স্মৃতি চির অম্লান রাখতে সম্প্রতি তাঁর নিজ মহল্লার পাঁকা সড়কটি ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়া সড়ক’ নামকরণের জোরালো দাবী উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। এ যৌক্তিক দাবী পূরণ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার মিয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাথা অবদানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও যথাযথ মূল্যায়ণ করবেন সংশ্লিষ্টরা-এমনটাই বিশ্বাস এলাকাবাসীর।

লেখক : সাংবাদিক।

বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন


রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

মহান বিজয় দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষ্যে বুধবার দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন-১ এ স্থাপিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতিতে সকাল পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে অন্যান্যের মধ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোঃ গোলাম সরোয়ার, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মোছাঃ শারমিন আক্তার, রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ রওশন আলম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরুণ চন্দ্র রায়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ শিবলী মাহবুব-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনের দ্বিতীয় প্রহরে সন্ধ্যা ৭:০০ টায় ভার্চুয়াল (ফেসবুক লাইভ) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করবেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ্ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজ পাবনার সাথিঁয়া হানাদার মুক্ত দিবস

আজ ৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সাঁথিয়া থানা সম্পূর্ণ হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে পাবনার সাঁথিয়া থানা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের পতাকা হাতে নিয়ে এদিন বিজয় উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আহবানে সারা দিয়ে তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য আ’লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এর নির্দেশে সাঁথিয়া হাই স্কুলের তৎকালীন শিক্ষক রুস্তম আলী, তোফাজ্জল হোসেন, কাশিনাথপুর হাইস্কুলের শিক্ষক আয়েজ উদ্দিন প্রমুখ বিশিষ্ট্য ব্যক্তি বর্গ এলাকার ছাত্র সমাজ ও যুব তরণদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। যুদ্ধ অনিবার্য এটা আঁচ করতে পেরে এলাকার ছাত্র যুব তরুণরা সংগঠিত হতে থাকে। সাঁথিয়া হাইস্কুল মাঠে এরা প্রশিক্ষণ নিতেও শুরু করে। সেনাসদস্য কাজী মোসলেম উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন দেন। ২৭ মার্চ সাঁথিয়া পশু হাসপাতাল প্রাঙ্গনে যুদ্ধকালীন কমান্ডার নিজাম উদ্দিন রাবি’র ছাত্র নেতা ফজলুল হক, মকবুল হোসেন মকুল, লোকমান হোসেন, রেজাউল করিম, আলতাব হোসেন, আবু মুসা, আবু হানিফ, মোসলেম উদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল ওহাব, সোহরাব, রউফ, মতিনসহ যুব তরুণ’রা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৯ মাস সাঁথিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, নজরুল ইসলাম (চাদু), আব্দুস সামাদ, দারা হোসেন, শাহজাহান আলীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ শহীদ হন। এলাকার শত শত যুবতী ও মহিলারা সম্ভ্রম হারান। সাঁথিয়ায় পাকসেনারা এলাকায় বহু লোকের ঘর-বাড়ি জালিয়ে পুড়িয়ে দেয় ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। ৮ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার সকল মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে থানা সদর থেকে ২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে নন্দনপুরে পাক হানাদারদের সাথে চূড়ান্ত মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়। মুক্তিযুদ্ধাদের তুমুল আক্রমনে টিকতে না পেরে পাকসেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরদিন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে পাক হানাদাররা আবার সাঁথিয়া আক্রমনের উদ্দেশ্য আসতে থাকে। সেদিন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র বাধার মুখে পাক সেনারা আবার পিছু হটে চলে যায়। পরদিন ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা সাঁথিয়া থানা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে বিজয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সাঁথিয়া থানাকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা দেন। সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনটি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন।

বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম ১০ জনের একজন হলেন ডা. আলী


ভাষা সৈনিক ডা. আলী আজমলের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক ডা. আলী আজমল বুলবুল। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে যাঁরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন, তাঁদের প্রথম দশজনের একজন ডা. আলী আজমল বুলবুল। ১৯২৮ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলাধীন পাড়কোলা গ্রামে এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন আলী আজমল। তাঁর পিতা মুহম্মদ সোলায়মান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান। আজ শনিবার ছিল তাঁর ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মহান এই ভাষা সৈনিকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমের প্রধান সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শরীফ সরকার এবং বার্তা সম্পাদক শামছুর রহমান শিশিরসহ শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
জানা গেছে, পিতার চাকুরী সুত্রে আজমলের লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহীতেই। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এই উভয় পরীক্ষাতেই তিনি অভিভক্ত বাংলায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যথাক্রমে ১৩তম এবং ১১ তম স্থান লাভের অসাধারণ গৌরব অর্জন করেন। অতঃপর ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান লাভ করে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন তিনি। তিনি যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি নেতৃত্ব দানের ছিল অসাধারণ যোগ্যতা। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে ১৯৪৮ সালে ছাত্র সমাজ ছিল বিক্ষুদ্ধ। সে বছর হরতাল চলাকালে ঢাকা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এবং ২ নং গেটে পিকেটিং করার সময় প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আজমল। সেই থেকে ৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট ১১ বার কারাবরণ করেন এবং ১৭ বার পুলিশের তালিকায় মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আসামি হিসাবে নাম ওঠে তাঁর। এসব কারনে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার করেন। ফলে তাঁর আর এম.বি.বি.এস পাশ করা হয়নি।
১৯৫৪ সালে আলী আজমল নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি শাহজাদপুর উপজেলা সদরে মণিরামপুরে পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতে সর্বসাধারনের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত হন। আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই অত্যন্ত সাধারণ একটি টিনের বাড়ীতে একভাবে নামমাত্র ফি গ্রহন করে চিকিৎসার মাধ্যমে হৎদরিদ্রদের চিকিৎসায় নিরত থাকেন। সর্বসাধারণের কাছে তিনি ‘বুলবুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর যে অসাধারণ সাফল্য এবং সুনাম-সুখ্যাতি ছিল তাতে তিনি রীতিমত অর্থ-বিত্তের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু চিকিৎসাকে তিনি মানুষের সেবা হিসাবে গ্রহন করেছিলেন, অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসাবে নয়। তিনি খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৫২ সালে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই এম.বি.বি.এস ডিগ্রি গ্রহন করেন। কিন্তু ডা. আজমল তাঁর চারপাশের মানুষ এবং রোগীদের ছেড়ে আর কখনোও ডিগ্রি লাভের পেছনে ছোটেন নি।
আজমল সব ধরনের বই এবং পত্রিকার নিষ্ঠাবান পাঠক ছিলেন। তিনি যা কিছু পড়তেন, তার মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যেতেন। বাংলা, ইংরেজি, অংক, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিষ্ময়কর। জনাব আজমলের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ ছিল নিজের চেয়ে বড়। তাইতো ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি দেশের মানুষের অধিকার ও দাবী আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। নিজের আরাম-আয়েশ ও স্বার্থ ত্যাগ করে সমাজের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন।
এভাবেই একদিন ডা. আজমল জীবন সায়াহ্নে চলে আসেন। তাঁর জীবনের সমস্ত কাজ কর্মের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী খুরশিদা আজমল পুতুল। সেই স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। ক্রমশ বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। শ্বাস কষ্টের সাথে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। ২০০২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শাহজাদপুরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহ.)’র মসজিদ ও মাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর কবরে পুষ্পার্পণসহ তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে ডা. আলী আজমল ছিলেন সবার বড়। মেঝ ভাই আহম্মদ আলী আজমল এম,কম বিসিআইসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ছোট ভাই ব্যাবসায়ী আক্তার আলী আজমল বি,এ পৈত্রিক বাড়ীতেই আছেন। জীবিত তিন বোনের মধ্যে ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। আজমলের একমাত্র ছেলে এডভোকেট কবির আজমল বিপুল বি.এ (অনার্স) এম.এ (ইংরেজি) এবং পুত্রবধূ নাছিমা জামান কলেজের অধ্যাপিকা। বড় মেয়ে ঢাকা শাহীন কলেজের শিক্ষক রওনক আজমল বন্যা বি.এ (অনার্স) এম.এ। তাঁর স্বামী জনাব আবু করিম সাবেক সচিব এবং দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত কবি। মেঝ মেয়ে ডা. ফেরদৌসী আজমল মেঘনা এবং তাঁর স্বামী ডা. আব্দুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ৷

সিরাজগঞ্জে মসজিদ ই নওয়াজিশ হয়ে উঠছে দর্শনীয় স্থান

মসজিদ ই নওয়াজিশ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় মসজিদ ই নওয়াজিশ হয়ে উঠছে দর্শনীয় স্থান। ভবিষ্যতে ঐতিহাসিক মসজিদ হতে পারে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এ মসজিদটি।

সৌন্দর্যময় মসজিদটি নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন তৎকালীন সময়ের ডাঃ নওশের আলীর ছেলে শিল্পপতি জুলফিকার হায়দার লিটন।

কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে সিরাজগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লি ও দর্শনার্থী আসছেন এখানে।

মসজিদের সামনে রয়েছে পুরাতন জমিদার রাজবাড়ী পুকুর, পুকুরের চার পাশে রয়েছে ফুলের বাগান, দৃষ্টি নন্দন করা পুকুর ঘাট যা দেখে দর্শনার্থীদের মন জুড়িয়ে যায়। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে ও কড্ডার মোড় থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে মসজিদটির অবস্থান।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, আমাদের নিজ জেলায় এতো সুন্দর মসজিদ হয়েছে এটা আসলেই অনেক আনন্দের বিষয়। আমার কাছে মনে হয়েছে এটিই সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে সৌন্দর্যময় মসজিদ।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী জানান,
ঈদের সময়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ বিনোদনের জন্য এই মসজিদে এসেছি, এখানে জুম্মা নামাজ আদায় শেষে জায়গাটি ঘুরে দেখছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছি অনেক ভালো লাগছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম লিটন বলেন, ডাঃ নওশের আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অর্থায়নে তার ছেলে জুলফিকার হায়দার লিটন মসজিটি নির্মাণ করেছেন। পথচারী, অত্র গ্রামের মুসল্লি সহ দর্শনার্থীরা মসজিদটিতে নামাজ আদায় করে।

শাহজাদপুর কাপড়ের হাট বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়েছে শতকোটি টাকার ব্যবসা, বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক

বাবুল আকতার খানঃ গত বছর এই মুহূর্তে জমে উঠেছিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কাপড়ের হাট। বিক্রি ভাল, তাই খুশীর আমেজে ছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী ও তাঁতীরা।

সাধারনতঃ দুই ঈদকে সামনে রেখেই জমে ওঠে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ দেশীয় শাড়ী কাপড়ের হাট। এই অঞ্চলের তাঁতের শাড়ীর পাশাপাশি থ্রি পিস, লুঙ্গী, গামছাসহ থান কাপড়ও বিক্রি হয় এই হাটে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- এবার ঈদুল ফিতর প্রায় সমাগত হলেও মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন জনগনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গত ২৫ মার্চ, ২০২০ তারিখে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটসহ সকল দোকানপাট বন্ধ ঘোষনা করা হয়। শুধু মাত্র কাঁচাবাজার ও মুদিখানা সকাল থেকে দুপুর ১২ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

থ্রি পিস ও শাড়ী কাপড় প্রস্ততকারক মনি টেক্সটাইলের স্বত্ত্বাধিকারী আবু হাসান খান মনি বলেন, শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হলেও ঈদের হাটগুলোতে তা বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক গুনে। কিন্ত মহামারী করোনার কারনে হাট বন্ধ থাকায় শত শত কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। কয়েক লক্ষ তাঁতী বেকার হয়ে পড়েছে, মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বেশীরভাগ তাঁত মালিক ব্যাংক ঋন নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন, তাঁরা এবার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়বেন, ঋনের কিস্তি দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। করোনা পরবর্তী সময়ে স্বল্প সুদে ঋন সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে এই শিল্পকে ও এই শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে সকল কারখানা সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চালু রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের অনুমতি দরকার। এবার ঈদ সামনে হাট যদি না বসে, বিক্রিবাট্রা না হয় তাহলে শুধু শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কন্দ্রে করেই লেনদেন বন্ধ থাকবে কয়েক হাজার কোটি টাকার।

শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, বেড়া,সাঁিথয়া, পাবনা দোগাছিসহ সহস্রাধিক হ্যান্ডলুম, পাওয়ারলুম, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ডাইং, এমব্রয়ডারীসহ বিভিন্ন সহায়ক শিল্প কারখানার প্রায় কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে তাঁতীরা যেখানে তাদের পসরা সাজিয়ে বসে থাকার কথা, আর কাপড় কিনতে আসার কথা হাজার হাজার ব্যবসায়ীর- সেখানে এখন সুনসান নিরবতা, নেই কোন প্রাণচঞ্চল্য।

উল্লেখ্য, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট শুরু হওয়ার আগে কাপড় ব্যবসায়ীরা যেতেন ঘাটাবাড়ী হাট ও পাবনার আতাইকুলা হাটে। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা পায় শাহজাদপুর কাপড়েরর হাট। এ হাটে মূলতঃ পাইকারী বিক্রি হয় তাঁতের শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা, থ্রি পিছ, রং ও সুতা। সপ্তাহে চারদিন হাট বসে- শনি, রবি, মঙ্গল ও বুধবার। সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা ও থ্রি পিছ এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকার রং ও সুতা বিক্রি হয়। শাহজাদপুর পৌরসভা প্রায় এক কোটি টাকার উপরে পায় এই হাট ইজারা দিয়ে।


আরো খরব

বিরামহীন বৃষ্টিতে তাঁতশিল্পের কোটি টাকার ক্ষতি!
হরতাল অবরোধে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে ২’শ কোটি টাকা লোকসান