সিরাজগঞ্জে মসজিদ ই নওয়াজিশ হয়ে উঠছে দর্শনীয় স্থান

মসজিদ ই নওয়াজিশ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় মসজিদ ই নওয়াজিশ হয়ে উঠছে দর্শনীয় স্থান। ভবিষ্যতে ঐতিহাসিক মসজিদ হতে পারে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এ মসজিদটি।

সৌন্দর্যময় মসজিদটি নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন তৎকালীন সময়ের ডাঃ নওশের আলীর ছেলে শিল্পপতি জুলফিকার হায়দার লিটন।

কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে সিরাজগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লি ও দর্শনার্থী আসছেন এখানে।

মসজিদের সামনে রয়েছে পুরাতন জমিদার রাজবাড়ী পুকুর, পুকুরের চার পাশে রয়েছে ফুলের বাগান, দৃষ্টি নন্দন করা পুকুর ঘাট যা দেখে দর্শনার্থীদের মন জুড়িয়ে যায়। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে ও কড্ডার মোড় থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে মসজিদটির অবস্থান।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, আমাদের নিজ জেলায় এতো সুন্দর মসজিদ হয়েছে এটা আসলেই অনেক আনন্দের বিষয়। আমার কাছে মনে হয়েছে এটিই সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে সৌন্দর্যময় মসজিদ।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী জানান,
ঈদের সময়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ বিনোদনের জন্য এই মসজিদে এসেছি, এখানে জুম্মা নামাজ আদায় শেষে জায়গাটি ঘুরে দেখছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছি অনেক ভালো লাগছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম লিটন বলেন, ডাঃ নওশের আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অর্থায়নে তার ছেলে জুলফিকার হায়দার লিটন মসজিটি নির্মাণ করেছেন। পথচারী, অত্র গ্রামের মুসল্লি সহ দর্শনার্থীরা মসজিদটিতে নামাজ আদায় করে।

শাহজাদপুর কাপড়ের হাট বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়েছে শতকোটি টাকার ব্যবসা, বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক

বাবুল আকতার খানঃ গত বছর এই মুহূর্তে জমে উঠেছিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কাপড়ের হাট। বিক্রি ভাল, তাই খুশীর আমেজে ছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী ও তাঁতীরা।

সাধারনতঃ দুই ঈদকে সামনে রেখেই জমে ওঠে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ দেশীয় শাড়ী কাপড়ের হাট। এই অঞ্চলের তাঁতের শাড়ীর পাশাপাশি থ্রি পিস, লুঙ্গী, গামছাসহ থান কাপড়ও বিক্রি হয় এই হাটে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- এবার ঈদুল ফিতর প্রায় সমাগত হলেও মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন জনগনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গত ২৫ মার্চ, ২০২০ তারিখে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটসহ সকল দোকানপাট বন্ধ ঘোষনা করা হয়। শুধু মাত্র কাঁচাবাজার ও মুদিখানা সকাল থেকে দুপুর ১২ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

থ্রি পিস ও শাড়ী কাপড় প্রস্ততকারক মনি টেক্সটাইলের স্বত্ত্বাধিকারী আবু হাসান খান মনি বলেন, শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হলেও ঈদের হাটগুলোতে তা বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক গুনে। কিন্ত মহামারী করোনার কারনে হাট বন্ধ থাকায় শত শত কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। কয়েক লক্ষ তাঁতী বেকার হয়ে পড়েছে, মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বেশীরভাগ তাঁত মালিক ব্যাংক ঋন নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন, তাঁরা এবার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়বেন, ঋনের কিস্তি দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। করোনা পরবর্তী সময়ে স্বল্প সুদে ঋন সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে এই শিল্পকে ও এই শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে সকল কারখানা সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চালু রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের অনুমতি দরকার। এবার ঈদ সামনে হাট যদি না বসে, বিক্রিবাট্রা না হয় তাহলে শুধু শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কন্দ্রে করেই লেনদেন বন্ধ থাকবে কয়েক হাজার কোটি টাকার।

শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, বেড়া,সাঁিথয়া, পাবনা দোগাছিসহ সহস্রাধিক হ্যান্ডলুম, পাওয়ারলুম, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ডাইং, এমব্রয়ডারীসহ বিভিন্ন সহায়ক শিল্প কারখানার প্রায় কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে তাঁতীরা যেখানে তাদের পসরা সাজিয়ে বসে থাকার কথা, আর কাপড় কিনতে আসার কথা হাজার হাজার ব্যবসায়ীর- সেখানে এখন সুনসান নিরবতা, নেই কোন প্রাণচঞ্চল্য।

উল্লেখ্য, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট শুরু হওয়ার আগে কাপড় ব্যবসায়ীরা যেতেন ঘাটাবাড়ী হাট ও পাবনার আতাইকুলা হাটে। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা পায় শাহজাদপুর কাপড়েরর হাট। এ হাটে মূলতঃ পাইকারী বিক্রি হয় তাঁতের শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা, থ্রি পিছ, রং ও সুতা। সপ্তাহে চারদিন হাট বসে- শনি, রবি, মঙ্গল ও বুধবার। সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা ও থ্রি পিছ এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকার রং ও সুতা বিক্রি হয়। শাহজাদপুর পৌরসভা প্রায় এক কোটি টাকার উপরে পায় এই হাট ইজারা দিয়ে।


আরো খরব

বিরামহীন বৃষ্টিতে তাঁতশিল্পের কোটি টাকার ক্ষতি!
হরতাল অবরোধে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে ২’শ কোটি টাকা লোকসান

মাতৃভাষা ‘বাংলা’র মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে যাঁরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন, তাঁদের প্রথম দশ জনের একজন হলেন আলী আজমল


আলী আজমল একজন প্রচার বিমূখ ভাষা সৈনিক

শামছুর রহমান শিশির : আলী আজমল ঐতিহাসিক বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের একজন প্রচার বিমূখ ভাষা সৈনিক । মায়ের ভাষার ‘বাংলা’ ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি যাঁরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন, তাঁদের প্রথম দশ জনের একজন আলী আজমল । ১৯২৮ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলাধীন পাড়কোলা গ্রামে এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন আলী আজমল। গ্রামের বাড়ি শাহজাদপুরবাসীর কাছে তিনি ‘বুলবুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর পিতা মুহম্মদ সোলায়মান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। পিতার চাকুরী সুত্রে আজমলের লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহীতেই। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এই উভয় পরীক্ষাতেই তিনি অভিভক্ত বাংলায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যথাক্রমে ১৩তম এবং ১১ তম স্থান লাভের অসাধারণ গৌরব অর্জন করেন। অতঃপর ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান লাভ করে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন তিনি। তিনি যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি নেতৃত্ব দানের ছিল অসাধারণ যোগ্যতা। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে ১৯৪৮ সালে ছাত্র সমাজ ছিল বিক্ষুদ্ধ। সে বছর হরতাল চলাকালে ঢাকা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এবং ২ নং গেটে পিকেটিং করার সময় প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আজমল। সেই থেকে ৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট ১১ বার কারাবরণ করেন এবং ১৭ বার পুলিশের তালিকায় মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আসামি হিসাবে নাম ওঠে তাঁর। এসব কারণে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার করেন। ফলে তাঁর আর এমবিবিএস পাশ করা হয়নি। ১৯৫৪ সালে আলী আজমল নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি শাহজাদপুর পৌর এলাকার মণিরামপুর বাজারস্থ পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতে সর্বসাধারনের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত হন। আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই অত্যন্ত সাধারণ একটি টিনের বাড়ীতে একভাবে নামমাত্র ফি গ্রহন করে চিকিৎসার মাধ্যমে হৎদরিদ্রদের চিকিৎসায় নিরত থাকেন। সর্বসাধারণের কাছে তিনি ‘বুলবুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর যে অসাধারণ সাফল্য এবং সুনাম-সুখ্যাতি ছিল তাতে তিনি রীতিমত অর্থ-বিত্তের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু চিকিৎসাকে তিনি মানুষের সেবা হিসাবে গ্রহন করেছিলেন, অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসাবে নয়। তিনি খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৫২ সালে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই এমবিবিএস ডিগ্রি গ্রহণ করেন। কিন্তু আজমল তাঁর চারপাশের মানুষ এবং রোগীদের ছেড়ে আর কখনোও ডিগ্রি লাভের পেছনে ছোটেন নি। আজমল সব ধরনের বই এবং পত্রিকার নিষ্ঠাবান পাঠক ছিলেন। তিনি যা কিছু পড়তেন, তার মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যেতেন। বাংলা, ইংরেজি, অংক, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিষ্ময়কর। জনাব আজমলের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ ছিল নিজের চেয়ে বড়। তাইতো ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি দেশের মানুষের অধিকার ও দাবী আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। নিজের আরাম-আয়েশ ও স্বার্থ ত্যাগ করে সমাজের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। এভাবেই একদিন আজমল জীবন সায়াহ্নে চলে আসেন। তাঁর জীবনের সমস্ত কাজ কর্মের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী খুরশিদা আজমল পুতুল। সেই স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। ক্রমশ বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। শ্বাস কষ্টের সাথে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। ২০০২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শাহজাদপুরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনী (রহ.)’র মসজিদ ও মাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর কবরে পুষ্পার্পণসহ তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে আলী আজমল ছিলেন সবার বড়। মেঝ ভাই আহম্মদ আলী আজমল এম কম বিসিআইসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ছোট ভাই ব্যাবসায়ী আক্তার আলী আজমল বি,এ পৈত্রিক বাড়ীতেই আছেন। জীবিত তিন বোনের মধ্যে ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। আজমলের একমাত্র ছেলে এডভোকেট কবির আজমল বিপুল বি.এ (অনার্স) এমএ (ইংরেজি) এবং পুত্রবধূ নাছিমা জামান কলেজের অধ্যাপিকা। বড় মেয়ে ঢাকা শাহীন কলেজের শিক্ষক রওনক আজমল বন্যা বি.এ (অনার্স) এম.এ। তাঁর স্বামী জনাব আবু করিম সাবেক সচিব এবং দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত কবি। মেঝ মেয়ে ডা. ফেরদৌসী আজমল মেঘনা এবং তাঁর স্বামী ডা. আব্দুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ৷ মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ঐতিহাসিক বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের একজন প্রচার বিমূখ ভাষা সৈনিক আলী আজমলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

চলনবিলে অর্ধশত দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি’র পথে; জেলে পরিবারে চলছে দুর্দিন


‘চিরায়ত মাছে ভাতে বাঙালি’ কথাটি ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে কল্পবাক্যে

শামছুর রহমান শিশির, বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিল। এ বিলকে দেশের সর্ববৃহত মাছের খনি বলা হতো। নদী-নালা, খাল-বিলে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় বর্তমানে শাহজাদপুরহ চলনবিল অঞ্চলের নদীনালা, হাওর বাওর, খালবিল বর্তমানে প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। ‘চিরায়ত মাছে ভাতে বাঙালি’ কথাটি ধীরে ধীরে কল্পবাক্যে পরিণত হচ্ছে। শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলে বর্তমানে চলছে মাছের আকাল। এ অঞ্চলে বিলুপ্ত প্রায় হয়ে পড়েছে প্রায় ৫১ প্রজাতির দেশীয় মাছ।
সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার ১৪ টি উপজেলার নীচু এলাকা নিয়ে চলনবিল অঞ্চল গঠিত। ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার কু-প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীবক্ষে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় জেলেদের মৎস্য শিকারের স্থানের পরিধি একেবারেই কমে গেছে। নদ-নদী, খালবিলে যে টুকু পানি আছে তাতে শাহজাদপুরসহ এ অঞ্চলের জেলেরা দিনভর মেহনত করেও তেমন একটা মাছ ধরতে পারছে না। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মৎসজীবী পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না থেয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন।
প্রতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে চলনবিলের বিস্তৃর্ণ এলাকার নদীনালা, খালবীল, হাওর, বাওর ও জলাশয় শুকিয়ে যায়। ফলে কৃষি খাতে এর বিরুপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি মৎস খাতেও বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। ফলে এ অঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে দেখা দেয় মাছের দু:®প্রাপ্যতা। অথচ পুষ্টি চাহিদা পূরনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকের বিবেচনায়ও দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা অতীব জরুরী।
জানা গেছে, বিলুপ্ত হওয়া দেশীও প্রজাতির মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শংকর, ভেদা, পাশা, পানিরুই, বাটাকাতল, শিলং, দুই প্রজাতির টেংরা। স্থানীয় জেলেরা জানান,আগে দেশীয় প্রজাতিসহ বিভিন্ন প্রকারের মিঠা পানির মাছ চলনবিলাঞ্চল থেকে তারা সংগ্রহ করতেন। বোয়াল থেকে শুরু করে রুই কাতলা, টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রচুর পরিমানে পাওয়া যেতো। নদীগুলো শকিয়ে নদীবক্ষে ধুঁ-ধুঁ বালির চর পড়ায় বর্তমানে মাছের দু®প্রাপ্যতা দেখা দিয়েছে। এতে এ অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে পরিবারে বর্তমানে বিরাজ করছে কালো মেঘের ঘটঘটা। পিয়াজ, চাল, ডাল, আটা, তরকারি, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি বর্তমানে ওইসব জেলে পরিবারের ভরনপোষন প্রশ্নে তারা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। মৎস্য দু®প্রাপ্যতায় তাদের ভাগ্যাকাশে দেখা দিয়েছে দুর্যোগের ঘনঘটা। তাদের অন্য কাজ না থাকায় এ সময় তাদের শুয়ে বসে কাটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,নদ-নদীতে পলি ও বালি জমে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ বাধ নির্মান, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাষকের ব্যবহার , দেশীয় মাছ চাষে অনীহা, অসময়ে অতিরিক্ত মাছ ধরা, মৎস আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াসহ নানা কারনে চলনবিল অঞ্চল থেকে মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। সরকার দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করলেও নানা কারণে তা সফলতার মুখ দেখতে ব্যার্থ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘চলনবিল অঞ্চলে বিলুপ্ত হওয়া মাছকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হয়তো আগের মতো মাছ চলনবিলে পাওয়া যাবে না। তবুও যে কোন উপায়ে এ অঞ্চলকে মাছের অভয়াশ্রম হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের দেশে মাছের ও পুষ্টির চাহিদা পুরনের জন্য দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও মাছচাষ স¤প্রসারন অত্যন্ত জরুরী। এজন্য দেশীয় প্রজতির মাছ সংরক্ষন ও মাছ চাষ স¤প্রসারন অভিযানকে আরও জোড়দাড় করা উচিত।
মৎস বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সর্ববৃহত বিল চলনবিলে মাছ চাষ করে দেশের মাছের চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত অংশ বিদেশে রফতানি করা যেতে পারে। কেননা মিঠা পানির মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নোনা পানির মাছের চাইতে অনেক বেশী। পরিকল্পিতভাবে মৎচাষের মাধ্যমে শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের হাজার হাজার জেলেদের আয়ের পথ সুগম হওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর বিদেশে বিপুল পরিমান মিঠা পানির মাছ রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভীতকেও আরও সুসংগঠিত ও চাঙ্গা করে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য মৎসখাতে অপার সম্ভাবনাময় চলনবিল অঞ্চলে ব্যপকভিত্তিতে মাছচাষের উদ্যোগ হাতে নেওয়া উচিত বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।

চুরি রোধের দাবী তাঁতীদের


শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে বিষ্ময়কর চুরির হার ও তাঁতীদের হাঁ-হুঁতাশ বাড়ছে!

শামছুর রহমান শিশির : গত প্রায় ২ মাসে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ দেশিয় তাঁতবস্ত্র বিক্রয়ের স্থান শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের ৫/৬ টি কাপড়ের আড়ৎ ও তাঁতবস্ত্র বিক্রয়ের দোকানে আশ্চার্যজনক বেশক’টি চুরির ঘটনা ঘটেছে! এসব প্রতিষ্ঠানের সার্টার ও তালা অক্ষত থাকলেও রাতের আধারে কেবল গায়েব হয়ে গেছে পেটি পেটি, থান থান তাঁতবস্ত্র। এসব ঘটনায় আড়ৎদার ও তাঁতীদের প্রায় ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকার তাঁতবস্ত্র খোয়া যাওয়ায় তারা জীবন-জীবিকার প্রশ্নে রীতিমতো চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছেন। সেইসাথে ঐতিহ্যবাহী এ কাপড়ের হাটের বিভিন্ন আড়ৎদার ও প্রান্তিক তাঁতীদের মাঝে অজানা এক আতংক নতুন করে দানা বাধছে।
তাঁতীরা জানায়, গত প্রায় ২ মাসে প্রথমে হাটের জামাত আলী কাপড়ের আড়ৎ থেকে ১১’শ ৫০ টাকা থানপ্রতি রেটের ৪০ থান লুঙ্গী রাতের আধারে গায়েব হয়ে যায়। একইভাবে কাশিনাথপুরের সাথিয়াখোলার তাঁতী মুনছুর মেম্বরের দোকান থেকে ৮’শ টাকা থানপ্রতি রেটের ৬৫ থান লুঙ্গি, রাবেয়া আড়ৎ এর পাশের লুঙ্গির দোকান থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের (৮৬ থান) লুঙ্গি, জামিরতার তাঁতী হাজী শাহাদতের দোকান থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার তাঁতবস্ত্র ও সর্বশেষ গত শুক্রবার আনিছের আমার দেশ কাপড়ের আড়ৎ থেকে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার তাঁতবস্ত্রসহ সর্বমোট প্রায় ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকার তাঁতবস্ত্র রাতের আধারে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে বলে তাঁতীরা চরম আক্ষেপ প্রকাশ আর হাঁ- হুঁতাশ করছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি আলমাছ আনছারি বলেন,” গত ২ মাসে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে যে’কটি বিষ্ময়কর চুরির ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। তালাও ঠিক থাকে আবার কাপড়ও উধাও হয়ে যায়- হিসাব মেলানো দায়! তবে আমরা উপজেলা তাঁত মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিষ্ময়কর চুরি রোধে দু’একের ভেতরেই সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জ মহোদয় ও শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো।”
অপরদিকে, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড পাওয়ারলুম এন্ড টেক্মটাইল মিলস ওনার্স এসোসিয়েশনের উত্তরাঞ্চলের ডাইরেক্টর, উত্তরবঙ্গের তাঁতী নেতা, সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী বলেন, “তাঁতবস্ত্রের বাজার এমনিতেই খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। তার পরেও মরার ওপর খারার ঘা’ এর মতোই তীব্র শীত পড়তে থাকায় তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের হারও বহুলাংশে কমে যাওয়ায় তাঁতীদের লোকসান গুঁণতে হচ্ছে। এত কিছুর পরেও শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের সুরক্ষিত স্থান থেকে এভাবে দিনের পর দিন একের পর এক ধারাবাহিকভাবে যদি তাঁতবস্ত্র হাওয়া হয়ে যায়, সেটি সত্যই কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। গৌরবোজ্জ্বল শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের ঐতিহ্য রক্ষার্থে, তাঁতীদের বাঁচাতে সংশ্লিষ্টরা জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে এলাকার লক্ষ লক্ষ তাঁতীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে বলেও তিনি অভিমত ব্যাক্ত করেন। “

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা


শাহজাদপুরের জনদরদী ভাষা সৈনিক ডা. আলী আজমল বুলবুল

শামছুর রহমান শিশির : বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক ডা. আলী আজমল বুলবুল। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী যাঁরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন, তাঁদের প্রথম দশজনের একজন ডা. আলী আজমল বুলবুল। ১৯২৮ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলাধীন পাড়কোলা গ্রামে এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন আলী আজমল। তাঁর পিতা মুহম্মদ সোলায়মান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মহান এই ভাষাসৈনিকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
পিতার চাকুরী সুত্রে আজমলের লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহীতেই। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এই উভয় পরীক্ষাতেই তিনি অভিভক্ত বাংলায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যথাক্রমে ১৩তম এবং ১১ তম স্থান লাভের অসাধারণ গৌরব অর্জন করেন। অতঃপর ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান লাভ করে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন তিনি। তিনি যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি নেতৃত্ব দানের ছিল অসাধারণ যোগ্যতা। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে ১৯৪৮ সালে ছাত্র সমাজ ছিল বিক্ষুদ্ধ। সে বছর হরতাল চলাকালে ঢাকা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এবং ২ নং গেটে পিকেটিং করার সময় প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আজমল। সেই থেকে ৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট ১১ বার কারাবরণ করেন এবং ১৭ বার পুলিশের তালিকায় মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আসামি হিসাবে নাম ওঠে তাঁর। এসব কারনে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেডিকেল কলেজ থেকে বহিস্কার করেন। ফলে তাঁর আর এম.বি.বি.এস পাশ করা হয়নি।
১৯৫৪ সালে আলী আজমল নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি শাহজাদপুর উপজেলা সদরে মণিরামপুরে পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতে সর্বসাধারনের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত হন। আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই অত্যন্ত সাধারণ একটি টিনের বাড়ীতে একভাবে নামমাত্র ফি গ্রহন করে চিকিৎসার মাধ্যমে হৎদরিদ্রদের চিকিৎসায় নিরত থাকেন। সর্বসাধারণের কাছে তিনি ‘বুলবুল ডাক্তার’ নামেই পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর যে অসাধারণ সাফল্য এবং সুনাম-সুখ্যাতি ছিল তাতে তিনি রীতিমত অর্থ-বিত্তের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু চিকিৎসাকে তিনি মানুষের সেবা হিসাবে গ্রহন করেছিলেন, অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসাবে নয়। তিনি খুব সহজ সরল জীবন যাপন করতেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৫২ সালে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই এম.বি.বি.এস ডিগ্রি গ্রহন করেন। কিন্তু ডা. আজমল তাঁর চারপাশের মানুষ এবং রোগীদের ছেড়ে আর কখনোও ডিগ্রি লাভের পেছনে ছোটেন নি।
আজমল সব ধরনের বই এবং পত্রিকার নিষ্ঠাবান পাঠক ছিলেন। তিনি যা কিছু পড়তেন, তার মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যেতেন। বাংলা, ইংরেজি, অংক, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিষ্ময়কর। জনাব আজমলের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ ছিল নিজের চেয়ে বড়। তাইতো ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি দেশের মানুষের অধিকার ও দাবী আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। নিজের আরাম-আয়েশ ও স্বার্থ ত্যাগ করে সমাজের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন।
এভাবেই একদিন ডা. আজমল জীবন সায়াহ্নে চলে আসেন। তাঁর জীবনের সমস্ত কাজ কর্মের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী খুরশিদা আজমল পুতুল। সেই স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান। ক্রমশ বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। শ্বাস কষ্টের সাথে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। ২০০২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৫ দিন অচেতন থাকার পর ৩ অক্টোবর পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শাহজাদপুরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহ.)’র মসজিদ ও মাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর কবরে পুষ্পার্পণসহ তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে ডা. আলী আজমল ছিলেন সবার বড়। মেঝ ভাই আহম্মদ আলী আজমল এম,কম বিসিআইসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ছোট ভাই ব্যাবসায়ী আক্তার আলী আজমল বি,এ পৈত্রিক বাড়ীতেই আছেন। জীবিত তিন বোনের মধ্যে ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। আজমলের একমাত্র ছেলে এডভোকেট কবির আজমল বিপুল বি.এ (অনার্স) এম.এ (ইংরেজি) এবং পুত্রবধূ নাছিমা জামান কলেজের অধ্যাপিকা। বড় মেয়ে ঢাকা শাহীন কলেজের শিক্ষক রওনক আজমল বন্যা বি.এ (অনার্স) এম.এ। তাঁর স্বামী জনাব আবু করিম সাবেক সচিব এবং দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত কবি। মেঝ মেয়ে ডা. ফেরদৌসী আজমল মেঘনা এবং তাঁর স্বামী ডা. আব্দুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ৷

ঈদের ছুটিতে কবিগুরু’র শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ঘুরে আসুন

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর থেকে : সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। তাদের মিলনমেলায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণ! বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুরের কবিগুরুর কাছাড়িবাড়ি দর্শনে এসেছে দর্শনার্থীর একবার দেখার জন্য তাঁর ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখে নিজের মনের তৃপ্তি লাভ করে ফিরছে বাড়ি। ঈদ পরবর্তীতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক ও রবীন্দ্র অনুরাগীরা কাছারিবাড়ি পরিদর্শনে শাহজাদপুরে প্রতিদিন আসছেন, দেখছে ঘুরে ঘুরে তার বাড়ি এবং ব্যবহৃত আসবাবপত্র। শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হলেও বিনোদন পিয়াসুদেরও ঢল কোন রকমই ফিরাতে পারেনি, বরং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে ঢল নেমেছে হাজারো দর্শনার্থীদের। মা-বাবা-ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন সবাই যেন হয়ে গেছে একাকার।
শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে ওই কাছারিবাড়িটি ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। আগে এই কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে সাময়িকভাবে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এই কারণেই শিলাইদহে তাঁর বাসগৃহ কুঠিবাড়ী নামে এবং শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত। শাহজাদপুরে কবিগুরু ঘুরে বেড়িয়েছেন পালকিতে, নৌকায় ও পায়ে হেটে। শাহজাদপুর শহরের প্রানকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাটের দক্ষিণ পাশে এক সবুজ শ্যামল পরিবেশে কবিগুরুর কাছারিবাড়ি অবস্থিত। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবন। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার এবং উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির দ্বোতলার সিড়ি ব্যতিত মোট সাতটি কক্ষ রয়েছে। ভবনটির উত্তর দক্ষিনে একই মাপের প্রশস্ত বাড়ান্দা, বাড়ান্দার গোলাকৃতির জোরামাপের খাম, উপরাংশে আছে অলংকরণ করা বড় মাপের দরজা, জানালা ও ছাদের ওপরে প্যারাপেট দেয়ালে পোড়ামাটির শিল্পকর্ম দর্শনাথীদের বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে। ভবনটির জানালা দিয়ে চারপাশের মনোরম, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ কবি উপলব্ধি করতেন। কাছারিবাড়িতে বসেই কবি প্রাণভরে ছোট নদী দেখতেন ও শুনতেন ছোটনদীর স্রোতধারার মিশ্রিত সুর।
শাহজাদপুরে এসে মানুষ ও প্রকৃতিকে কবি গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন। এখানে তিনি খুজে পেয়েছিলেন সাহিত্য সৃষ্টির নানা উপাদান। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন, সোনারতরী, বৈষ্ণব কবিতা, দুটি পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার,যমুনা, হৃদয়, ভরা ভাদরে, প্রত্যাক্ষান ও লজ্জা, চিত্রা, শীত ও বসন্তে, নগর সংগীত, নদীযাত্রা, মৃত্যুমাধুরী, স্মৃতি বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ,প্রেয়সী, শান্তিময়, কালিদাসের প্রতি, কুমার, মানষলোক, কাব্যপ্রার্থনা, ইছামতী নদী, সুশ্র“সা, অশিক্ষাগ্রহন, বিদায়, নববিবাহ, রজ্জিতা, বিদায়, হতভাগ্যের গান, গতোনিক, বঞ্চনা, সংকোচ, মানুষ প্রতিভা, রামকানাইয়ের নিবুর্দ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সম্পত্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি,ইত্যাদি। এছাড়া কবিগুরু এখানে অবস্থান করে ৩৮ টি বিভিন্ন ছিন্ন পত্রাবলী লিখেছেন, রচনা করেছেন পঞ্চভূতের অংশবিশেষ ও নাটক বিসর্জন ।
শাহজাদপুর কাছারিবাড়ির দ্বোতলার উত্তর পাশে লিচুগাছ ও শোভা বর্ধনের জন্য নানা ফুলের গাছে ঘেরা কবিগুরুর অপরূপ কাছারিবাড়িটি বহুদুরের পথিকেরও দৃষ্টি আকর্ষন করে। কাছারিবাড়ির চারদিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের আশেপাশে রয়েছে নানা দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষের বাগান। কাছারিবাড়ির ভিতরে একটি বকুলগাছ ছিল। কবি ওই গাছের নীচে বসিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। তাদের পদচারনায় ও মিলনমেলায় মুখরিত ও বসন্তের কোকিলের কলরব ফুঠে উঠেছে কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে। বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুরের কবিগুরুর কাছাড়িবাড়ি দর্শনে এসেছে দর্শনার্থীর একবার দেখার জন্য তাঁর ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখে নিজের মনের তৃপ্তি লাভ করে ফিরছে বাড়ি। ঈদ পরবর্তীতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক ও রবীন্দ্র অনুরাগীরা কাছারিবাড়ি পরিদর্শনে শাহজাদপুরে প্রতিদিন আসছেন, দেখছে ঘুরে ঘুরে তার বাড়ি এবং ব্যবহৃত আসবাবপত্র। শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হলেও বিনোদন পিয়াসুদেরও ঢল কোন রকমই ফিরাতে পারেনি, বরং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে ঢল নেমেছে হাজারো দর্শনার্থীদের। মা-বাবা-ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন সবাই যেন হয়ে গেছে একাকার।
শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে ওই কাছারিবাড়িটি ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। আগে এই কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে সাময়িকভাবে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এই কারণেই শিলাইদহে তাঁর বাসগৃহ কুঠিবাড়ী নামে এবং শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত। শাহজাদপুরে কবিগুরু ঘুরে বেড়িয়েছেন পালকিতে, নৌকায় ও পায়ে হেটে। শাহজাদপুর শহরের প্রানকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাটের দক্ষিণ পাশে এক সবুজ শ্যামল পরিবেশে কবিগুরুর কাছারিবাড়ি অবস্থিত। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবন। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার এবং উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির দ্বোতলার সিড়ি ব্যতিত মোট সাতটি কক্ষ রয়েছে। ভবনটির উত্তর দক্ষিনে একই মাপের প্রশস্ত বাড়ান্দা, বাড়ান্দার গোলাকৃতির জোরামাপের খাম, উপরাংশে আছে অলংকরণ করা বড় মাপের দরজা, জানালা ও ছাদের ওপরে প্যারাপেট দেয়ালে পোড়ামাটির শিল্পকর্ম দর্শনাথীদের বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে। ভবনটির জানালা দিয়ে চারপাশের মনোরম, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ কবি উপলব্ধি করতেন। কাছারিবাড়িতে বসেই কবি প্রাণভরে ছোট নদী দেখতেন ও শুনতেন ছোটনদীর স্রোতধারার মিশ্রিত সুর।
শাহজাদপুরে এসে মানুষ ও প্রকৃতিকে কবি গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন। এখানে তিনি খুজে পেয়েছিলেন সাহিত্য সৃষ্টির নানা উপাদান। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন, সোনারতরী, বৈষ্ণব কবিতা, দুটি পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার,যমুনা, হৃদয়, ভরা ভাদরে, প্রত্যাক্ষান ও লজ্জা, চিত্রা, শীত ও বসন্তে, নগর সংগীত, নদীযাত্রা, মৃত্যুমাধুরী, স্মৃতি বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ,প্রেয়সী, শান্তিময়, কালিদাসের প্রতি, কুমার, মানষলোক, কাব্যপ্রার্থনা, ইছামতী নদী, সুশ্র“সা, অশিক্ষাগ্রহন, বিদায়, নববিবাহ, রজ্জিতা, বিদায়, হতভাগ্যের গান, গতোনিক, বঞ্চনা, সংকোচ, মানুষ প্রতিভা, রামকানাইয়ের নিবুর্দ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সম্পত্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি,ইত্যাদি। এছাড়া কবিগুরু এখানে অবস্থান করে ৩৮ টি বিভিন্ন ছিন্ন পত্রাবলী লিখেছেন, রচনা করেছেন পঞ্চভূতের অংশবিশেষ ও নাটক বিসর্জন ।
শাহজাদপুর কাছারিবাড়ির দ্বোতলার উত্তর পাশে লিচুগাছ ও শোভা বর্ধনের জন্য নানা ফুলের গাছে ঘেরা কবিগুরুর অপরূপ কাছারিবাড়িটি বহুদুরের পথিকেরও দৃষ্টি আকর্ষন করে। কাছারিবাড়ির চারদিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের আশেপাশে রয়েছে নানা দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষের বাগান। কাছারিবাড়ির ভিতরে একটি বকুলগাছ ছিল। কবি ওই গাছের নীচে বসে কবিতা লিখতেন। ১৯৬৯ সালে প্রতœতত্ব্ অধিদপ্তর কর্তৃক অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় কাছাড়িবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ওই কাছাড়িবাড়ির মূল ভবনটির নান সংস্কার কাজ সমাপ্ত করে ভবনটিতে রবীন্দ্রভিত্তিক আলোকচিত্র ও এ বাড়িতে কবির ব্যবহৃত প্রাপ্ত আসবাপত্র নিয়ে একটি স্মৃতি যাদুঘরের রূপ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে ওই যাদুঘরে প্রবেশ করতে হয়। নিচতলা ও দ্বোতলার বিশাল হলরুমসহ যাদুঘরের সকল কক্ষ সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত। চারদিকে পাঁকা দেয়ালে বেষ্ঠিত কাছারিবাড়ির আঙ্গিনাটিও বেশ বড়।
এখানে রয়েছে রবীন্দ্র মিলনায়তন, কবির ব্যবহৃত সামগ্রীর মধে চৌকি, লেখার জন্য ডেস্ক, সোফাসেট, আরাম কেদারা, আলনা, আলমারী, সিন্দুক, ঘাস কাটার যন্ত্র, ওয়াটার ফিল্টার, ল্যাম্প, কবির স্বহস্তে আঁকা ছবি, দেশী বিদেশী রাষ্ট্রানায়ক, বিজ্ঞানীসহ গুণিজনদের সাথে কবির অগনিত ছবি।
ঈদান্তে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছাড়িবাড়িতে দর্শনার্থীরা এসে ভীড় করছেন এবং কবিগুরুর স্মৃতিধন্য কাছাড়িবাড়ি পরিদর্শণ করে তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন।
হে কবিগুরু তোমাকে জানাই আমার হৃদয় নিংড়ানো প্রনাম, পৃথিবীর চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন বেঁচে থাকবে তুমি। নব প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলবে তোমার কলমের লিখনিতে, জেগে উঠবে নব জাগরণ। কবিতা লিখতেন। ১৯৬৯ সালে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় কাছাড়িবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ওই কাছাড়িবাড়ির মূল ভবনটির নান সংস্কার কাজ সমাপ্ত করে ভবনটিতে রবীন্দ্রভিত্তিক আলোকচিত্র ও এ বাড়িতে কবির ব্যবহৃত প্রাপ্ত আসবাপত্র নিয়ে একটি স্মৃতি যাদুঘরের রূপ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে ওই যাদুঘরে প্রবেশ করতে হয়। নিচতলা ও দ্বোতলার বিশাল হলরুমসহ যাদুঘরের সকল কক্ষ সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত। চারদিকে পাঁকা দেয়ালে বেষ্ঠিত কাছারিবাড়ির আঙ্গিনাটিও বেশ বড়।
এখানে রয়েছে রবীন্দ্র মিলনায়তন, কবির ব্যবহৃত সামগ্রীর মধে চৌকি, লেখার জন্য ডেস্ক, সোফাসেট, আরাম কেদারা, আলনা, আলমারী, সিন্দুক, ঘাস কাটার যন্ত্র, ওয়াটার ফিল্টার, ল্যাম্প, কবির স্বহস্তে আঁকা ছবি, দেশী বিদেশী রাষ্ট্রানায়ক, বিজ্ঞানীসহ গুণিজনদের সাথে কবির অগনিত ছবি।
ঈদান্তে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছাড়িবাড়িতে দর্শনার্থীরা এসে ভীড় করছেন এবং কবিগুরুর স্মৃতিধন্য কাছাড়িবাড়ি পরিদর্শণ করে তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন

স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপনের নেতৃত্বে এক বিশাল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়


শাহজাদপুরে উৎসবমূখর পরিবেশে বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : উৎসবমূখর পরিবেশে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে গতকাল রোববার শাহজাদপুরে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারি কলেজ মাঠে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পান্তা ভোজ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ দিন সকাল ৭ টায় সরকারি কলেজ মাঠে নির্মিত বিশাল প্যান্ডেলে পান্তাভাত খাওয়ার মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণিপেশার প্রায় ৩ হাজার মানুষ অংশ নেয়। সকাল ৯ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে স্থানীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপনের নেতৃত্বে এক বিশাল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ীসহ নবর্বষের ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে রঙিন সাঁজে সজ্জিত হয়ে নৃত্যের তালে তালে অংশ নেয়। ফলে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখরিত হয়ে উঠে। বেলা ১১ টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কলেজ শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা আ.লীগ নেতা স্পেশাল পিপি এ্যড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীবৃন্দ। এছাড়া বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি কলেজ মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়।

শাহজাদপুরের সর্বত্রই জনমানুষের ঢল নামায় পুরো উপজেলায় মহাউৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে


নববর্ষে শাহজাদপুরে কবিগুরুর কাছারিবাড়ি ও বাণিজ্য মেলায় দর্শণার্থীদের ভীড় উপচে পড়ছে

শামছুর রহমান শিশির : আজ রোববার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ। এদিন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সংলগ্ন এলাকায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে বৈশাখী সাজে দেশী বিদেশী রবীন্দ্রভক্ত পর্যটকদের ঢল উপচে পড়েছে। বর্ণাঢ্য বৈশাখী সাজে তাদের পদচারনায় ও মিলনমেলায় মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে ওঠে বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণসহ আশপাশের অঞ্চল। বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়িতে এসে ভক্তরা কবিগুরুর ব্যবহৃত বসতবাড়ি, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখে তৃপ্তি ঢেঁকুর ফেলে ঘরে ফিরছেন। অতীতের তুলনায় এদিনের পহেলা বৈশাখে কবিগুরুর কাছারিবাড়িতে রেকর্ড পরিমান রবীন্দ্রভক্ত দেশী-বিদেশী নারী, পুরুষ, শিশু কিশোর, যুবক-যুবতীর সমাগম ঘটে।
পহেলা বৈশাখে কবিগুরুর কাছারিবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায় কাছারিবাড়িতে তিল ধারনের যায়গা নেই এমন অবস্থা। প্রচন্ড ভীড় উপেক্ষা করেও সুশৃংখলভাবে ভক্তবৃন্দ কবিগুরুর ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছবি দিয়ে সাজানো রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করেন। জানা যায়, প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়িতে অসংখ্য দেশী বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পহেলা বৈশাখে এখানে বৈশাখী সাজে এদিনও জনমানুষের ঢল পরিলক্ষিত হয়। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সাথে শাহজাদপুর হাইস্কুল মাঠে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা চলমান থাকায় পুরো শাহজাদপুর পর্যটন শহরে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে ওই কাছারিবাড়িও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। আগে কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাঠ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে সাময়িকভাবে আসা যাওয়া ও বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এই কারণেই শিলাইদহে তাঁর বাসগৃহ কুঠিবাড়ি নামে এবং শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত। শাহজাদপুরে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন পালকিতে, নৌকায় ও পায়ে হেটে। শাহজাদপুর পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের দক্ষিণ পাশে এক সবুজ শ্যামল পরিবেশে কাছারিবাড়ি অবস্থিত। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িটি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবন। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার এবং উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির দ্বো-তলার সিড়ি ব্যাতিত মোট সাতটি কক্ষ রয়েছে। ভবনটির উত্তর দক্ষিণে একই মাপের প্রশস্ত বারান্দা, বারান্দার গোলাকৃতির জোরামাপের খাম ও উপরাংশে আছে অলংকরণ করা বড় মাপের দরজা, জানালা ও ছাদের ওপরে প্যারাপেট দেয়ালে পোড়ামাটির শিল্পকর্ম পর্যটক ও ভক্তদের বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়ে থাকে। ভবনটির জানালা দিয়ে চারপাশের মনোরম, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ কবিগুরু উপলব্ধি করতেন। কাছারিবাড়িতে বসেই রবি কবি প্রাণভরে ছোট নদী দেখতেন ও শুনতেন ছোটনদীর স্রোতধারার মিশ্রিত সুর।
শাহজাদপুরে এসে মানুষ ও প্রকৃতিকে গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন কবিগুরু। এখানে তিনি খুজে পেয়েছিলেন সাহিত্য সৃষ্টির নানা উপাদান। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন, সোনারতরী , বৈষ্ণব কবিতা, দুটি পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার, যমুনা, হৃদয়, ভরা ভাদরে, প্রত্যাক্ষান ও লজ্জা, চিত্রা, শীত ও বসন্তে, নগর সংগীত, নদীযাত্রা, মৃত্যু মাধুরী, স্মৃতি বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ, প্রেয়সী, শান্তিময়, কালিদাসের প্রতি, কুমার, মানষলোক, কাব্য প্রার্থনা, ইছামতী নদী, সুশ্রুসা, অশিক্ষাগ্রহন, বিদায়, নববিবাহ, রজ্জিতা, বিদায়, হত্যভাগ্যেও গান, গতোনিক, বঞ্চনা, সংকোচ, মানষপ্রতিভা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সম্পত্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি ইত্যাদি। এছাড়া কবিগুরু এখানে অবস্থান করে ৩৮ টি বিভিন্ন ছিন্ন পত্রাবলী। পঞ্চভূতের অংশবিশেষ ও নাটক বিসর্জন রচনা করেছিলেন।
শাহজাদপুরে কবিগুরুর কাছারিবাড়ির দ্বো-তলার আশপাশে শোভা বর্ধনের জন্য নানা ফুলের গাছে ঘেরা কবিগুরুর অপরূপ কাছারিবাড়িটি বহুদুরের পথিকেরও দৃষ্টি আকর্ষন করে। কাছারিবাড়ির চারদিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের আশেপাশে রয়েছে নানা দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষের বাগান। কাছারিবাড়ির ভিতরে একটি বকুলগাছ ছিল। কবি ওই গাছের নীচে বসে কবিতা লিখতেন। ১৯৬৯ সালে প্রতœতত্ব্ অধিদপ্তর কর্তৃক অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় কাছাড়িবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এরপর কাছাড়িবাড়ির মূল ভবনটির নানা সংস্কার কাজ সমাপ্ত করে ভবনটিতে রবীন্দ্রভিত্তিক আলোকচিত্র ও কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা আসবাপত্র তৈজসপত্র সরঞ্জামাদি নিয়ে একটি রবীন্দ্রস্মৃতি যাদুঘরের রুপ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে ওই যাদুঘরে প্রবেশ করতে হয়। নিচতলা ও দ্বো-তলার বিশাল হলরুমসহ যাদুঘরের সকল কক্ষ দেশি বিদেশি পর্যটকসহ সর্বসাধারনের দর্শণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। চারদিকে পাঁকা দেয়ালে বেষ্ঠিত কাছারিবাড়ির আঙ্গিনাটিও বেশ বড়। এখানে রয়েছে রবীন্দ্র মিলনায়তন, কবিগুরুর ব্যবহৃত সামগ্রীর মধে চৌকি, লেখার জন্য ডেস্ক, সোফাসেট, আরাম কেদারা, আলনা, আলমারী, সিন্দুক, ঘাস কাটার যন্ত্র, ওয়াটার ফিল্টার, ল্যাম্প, কবির স্বহস্তে আঁকা ছবি, দেশী বিদেশী রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানীসহ গুণীজনদের সাথে তোলা কবিগুরুর অগনিত ছবি। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এসব স্মৃতিচিহ্ন নিজ চোখে এক নজর দেখার জন্য পহেলা বৈশাখে শাহজাদপুরে কবিগুরুর কাছারিবাড়িতে বৈশাখী সাজে রবীন্দ্রভক্তদের উপচে পড়া ঢলে কাছারিবাড়িসহ আশপাশের অঞ্চল মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, মণিপুরী তাঁতী শিল্প জামদানী ও বেনারশী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মাসব্যাপী মেলা পরিচালিত হচ্ছে। এবারের শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় দেশি বিদেশি ১’শ টি স্টল নানা পসরা নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া এ মেলায় ৫টি প্যাভিলিয়ান, শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য নাগর দোলা, স্লিপার ওয়াটার বল, ওয়াটার বুট, টুইষ্টার নৌকা, প্রাইভেট কার খেলা, মেরিগোসহ নানা ধরনের ব্যাতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে বলে মণিপুরী তাঁতী শিল্প জামদানী ও বেনারশী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমির হোসেন জানিয়েছেন। এছাড়া স্বপরিবারে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘দি লায়ন সার্কাস’ দেখারও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকবৃন্দ। মেলার সার্বিক নিরাপত্বা ব্যবস্থা জোরদার করতে মেলার আশপাশে ৩২ টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্বার মনিটরিং করা হচ্ছে। চলমান এ শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় বিনোদন পেতে ও বৈশাখী উৎসব উদযাপন করতে পুরো শাহজাদপুরের সর্বত্রই জনমানুষের ঢল নামায় পুরো শাহজাদপুর উপজেলায় মহাউৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়।

ঢোল, তবলা, ফুল, ফল, লতাপাতা, একতারা, বাশি, পালকির ছবি সম্বলিত বৈশাখী শাড়ি বিক্রি হয়েছে বেশি


শাহজাদপুরে উৎপাদিত শাড়ি দেশে বৈশাখী শাড়ির চাহিদা মেটাচ্ছে

শামছুর রহমান শিশির: পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুর, বিন্দু সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লী ও বিভিন্ন স্কিন প্রিন্ট কারখানাগুলোতে উৎপাদিন ছোট, বড়দের বৈশাখী বস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আবহমান গ্রাম বাংলার নানা ঐহিত্যের প্রতিক ঢোল, তবলা, ফুল, ফল, লতাপাতা, একতারা, বাশি, পালকির ছবি সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন ও বাহারী ডিজাইনের বৈশাখী তাঁতবস্ত্র তৈরি, প্রক্রিয়াকরণ, মোড়কজাত ও বিপনণে সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও তাঁত শ্রমিক এবং স্কিন প্রিন্ট কারখানার মালিক ও শ্রমিকেরা বর্তমানে মহাব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। দেশীয় গ্রে-তাঁতের কাপড়ের ওপর বৈশাখী উৎসবে নতুন আমেজ যুক্ত করতে তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ শাহজাদপুর,সিরাজগঞ্জ ও পাবনার পাশাপাশি টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, নরসিংন্দী, যশোর, ঢাকার মিরপুরসহ তাঁতপল্লীগুলোতে ও গ্রে-তাঁতের কাপড়ে প্রিন্ট করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কর্মচাঞ্চ্যলতা আর তাঁতের খট্খট্ শব্দে মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে উঠেছে তাঁতসমৃদ্ধ জনপদ। পহেলা বৈশাখে দেশে বৈশাখী তাঁতের কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা ও কদর থাকায় তাঁতী ও শ্রমিকেরা বৈশাখী পোশাক উৎপাদনে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশে হস্তচালিত তাঁতে উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার মোট চাহিদার সিংহভাগই শাহজাদপুর সহ পাবনা-সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নরসিন্দী জেলায় উৎপাদিত হয়ে থাকে। এখানে উৎপাদিত তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছার ব্যাপক কদর রয়েছে দেশ ও বিদেশে। সারা বছরের এ সময় বৈশাখী দেশীয় তাঁত ও প্রিন্ট বস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। আর সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাঁতী ও শ্রমিকরা নিত্যনতুন ডিজাইনের বৈশাখী কাপড় উৎপাদনে কোমড় বেঁধে কাজ করছেন।
উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ তাঁতবস্ত্র বিক্রয়ের শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের বিভিন্ন বস্ত্র বিপনন কেন্দ্র ও মণিরামপুর বাজারস্থ ইউসুফ প্লাজার বৈশাখী কাপড় পাইকারী বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান রাবেয়া বস্ত্র বিতান, মেরাজ বস্ত্র বিতান, হাজী বস্ত্রালয়, সেলিনা বস্ত্রালয়, ইউসুফ বস্ত্রালয় ঘুরে ও বিক্রেতা মেরাজ সরকার, রফিকুল ইসলাম রুবেলসহ বৈশাখী পোশাক তৈরি ও বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তারা বৈশাখী শাড়ি কাপড়ের যে মজুদ গড়ে তুলেছিলেন তা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ছোটদের কাপড়ের। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি, কামারখন্দ, চৌহালী, সিরাজগঞ্জসদর এবং পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর ও পাবনা সদরের জালালপুরের শত শত সচল তাঁতকারখানায় পুরোদমে বৈশাখী তাঁতবস্ত্র উৎপাদন ও প্রিন্ট কারখানায় দ্রুতগতিতে বস্ত্র উৎপাদনের কাজ চলছে। তাঁতীদের তাঁত কারখানা ও প্রিন্টের কারখানায় উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র দুই ঈদ, দুর্গাপূজা ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে বৈশাখী কাপড় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে শাহজাদপুর, পাবনা-সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংন্দীসহ দেশের তাঁতসমৃদ্ধ এলাকার অসংখ্য তাঁত মালিক ও শ্রমিক দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ঈদ, পূঁজা ও নববর্ষ এলেই আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠার জন্য তাঁতীদের খরচ বৃদ্ধি পায়। আর ওই বর্ধিত খরচের টাকার যোগান দিতেই তাঁতীরা কোমড় বেধে কাজ করে থাকেন। কারণ অতিরিক্ত আয়ের অর্থ দিয়ে ঈদ ও দুর্গাপূঁজার মতোই বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে তাদের পরিবারের সদস্যসহ স্বজনদের নতুন জামা কাপড় কিনে দেন। সেইসাথে ঈদ, পূঁজা মতো পহেলা বৈশাখের দিনটিতে পায়েশ, পোলাও, ফিরনি, নাড়–, খৈ, চিড়া, দই, মিষ্টিসহ সবাইকে নিয়ে একটু ভালো খাবারের আয়োজনে বাড়তি আয়ের এ অর্থ ব্যয় হয়। তারা জানায়, এতেই তাদের সুখ, এতেই তাদের শান্তি। এই সুখ শান্তি পরিবারের সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে তাঁতী ও শ্রমিকেরা এই বাড়তি পরিশ্রমে মেতে উঠেছে। প্রতিবছর দেশে ও বিদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ছাড়াও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরী বাহারী ডিজাইনের ও মনকাড়া রঙের তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছাসহ নানা ধরনের তাঁত বস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় তাঁতবস্ত্রের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়েও দ্বিগুণ হয়ে থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই শাহজাদপুর, পাবনা-সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিন্দী, ঢাকা, মিরপুরের বেনারসী পল্লীসহ দেশের তাঁতপল্লীতে উৎপাদিত তাঁতের শাড়ি লুঙ্গি দেশের তাঁতবস্ত্রের চাহিদার সিংহ ভাগ পূরণ করে আসছে। এ চাহিদা পূরণে শুধুমাত্র শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসদরসহ ১৩ টি ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ গ্রামে ছোট বড় অসংখ্য সচল তাঁত কারখানা ও প্রিন্টের কারখানাগুলোতে বৈশাখী কাপড় তৈরিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যতিবস্ত সময় কাটছে। তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা বিক্রির জন্য উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে দেড় শতাধিক কাপড়ের আড়ৎ ও প্রায় দশ সহস্রাধিক তাঁতের শাড়ি ও লুঙ্গি বিক্রির পাইকারি, খুচরা দোকান ও শো-রুম রয়েছে। সপ্তাহের দুই দিন, রোববার ও বুধবার উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে তাঁতের শাড়ি লুঙ্গির হাট বসে। এ হাটে দেশের প্রায় সকল স্থান ও ভারত থেকে পাইকার আসছে বৈশাখী কাপড় ক্রয় করতে। ফলে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পাবনা-সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লীর অগণিত নারী পুরুষ বৈশাখী কাপড় তৈরিতে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁতের কাপড়ের ধরন, মান ও বর্ণানুয়ায়ী ছোটদের তাঁতের কাপড় পাইকারী ১শ’ ৫০ টাকা থেকে ২শ’ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড়দের বৈশাখী কাপড় ধরন, মান ও রকম ভেদে ২শ’৫০ টাকা থেকে সহ¯্রাধিক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বড়দের চেয়ে ছোটদের বৈশাখী কাপড়েরই চাহিদা বেশী বলে প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।