বেঁচে থাকতে নেয়নি খোঁজ মরে যেতেই করছে শোক, মোদিকে মীর

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা করতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ব্যর্থ বলে, অনেকেই সমালোচনায় সরব হয়েছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ResignModi হ্যাশট্যাগ এর মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা তথা কৌতূকশিল্পী-সঞ্চালক মীর আফসার আলি যিনি মীর নামেই সুপরিচিত। দেশের অতিমারী পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি কটাক্ষ করলেন ফেসবুকে।

ফেসবুকে এক পোস্টে মীর লিখেছেন, “মাননীয় নরেন্দ্র মোদির কাছে আমার বিনীত নিবেদন, মানুষ মরে যাওয়ার পর কাঁদবেন না! বেঁচে থাকতেই দয়া করে তাঁদের জন্য কিছু করুন।”

ওই পোস্টে মীর হিন্দিতে একটি কবিতাও জুড়ে দিয়েছেন। যার বাংলা দাঁড়ায়ঃ

‘বেঁচে থাকতে নেয়নি খোঁজ,
মরে যেতেই করছে শোক।’

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলেরই পক্ষ নিলেন বাইডেন

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের পক্ষে সরাসরি বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একই সঙ্গে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতার দ্রুত সমাপ্তি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। ফিলিস্তিনে বিমান হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, আমি আশা ও প্রত্যাশা হলো দ্রুত এটি বন্ধ হবে। কিন্তু ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরাইলে হামাস ও অন্যান্য গ্রুপের রকেট হামলার নিন্দা জানান। ইসরাইলের নিরাপত্তায় বাইডেন তার সমর্থনে অটল রয়েছেন। ইসরাইল তার জনগণের সুরক্ষায় তার আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপের পর তিনি এসব কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।

খবরে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার বিষয়ে বাইডেন তার আশাবাদের কারণ সম্পর্কে আর কোনো ব্যাখ্যা করেননি। বাইডেন জানান, তার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইল, মিসর, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে তারা উদ্যোগ নিচ্ছে।

গত শুক্রবার জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে ইহুদিবাসী ইসরাইল হামলা চালায়।

গাজায় হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে চীন-রাশিয়ার আহ্বান

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বুধবারও (১২ মে) হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সেখানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এমন অবস্থায় অবিলম্বে ফিলিস্তিনে সব ধরনের দমনমূলক কার্যক্রম থেকে সরে আসতে আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। আর জানমালের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বিরত থাকতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৪টি শিশু ও তিনজন নারী রয়েছেন। গত কয়েকদিনে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক নিরীহ ফিলিস্তিনি।

এদিকে, গাজা উপত্যকায় এই আক্রমণ বন্ধের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ।

তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলা অব্যাহত রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ নীরবতা নিয়ে আসবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস বলেছেন, যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন তিনি।

হামাস যুদ্ধবিরতি চাইতে পারে এমন খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ ইসরায়েলি কমকর্তা বলেন, মনে হয় না আমার কমান্ডাররা এসব জানেন, অথবা এতে আগ্রহী।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বুধবার বলা হয়, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকা ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে জেরুজালেম, গাজা ও আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইসরায়েলকে থামাতে এবং ‘পাল্টা শিক্ষা’ দিতে হবে।

আঙ্কারা ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। ২০১৮ সাল থেকেই অবশ্য এই প্রস্তাব দিয়ে আসছে তুরস্ক।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

 

আল-আকসায় ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে গত কয়েকদিন তুমুল উত্তেজনা-সংঘর্ষ সত্ত্বেও পবিত্র আল আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি। দখলদারদের হুমকি-ধামকি ও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার মসজিদটিতে জামায়াতের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন কয়েক হাজার মুসল্লি।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা ও আল-আকসায় তাণ্ডবের জেরে এবারের ঈদুল ফিতরের সব আয়োজন বাতিল ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। কিন্তু এরপরও বৃহস্পতিবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদটিতে ঢল নামে মুসল্লিদের।

বৃহস্পতিবার ঈদের দিনও গাজায় বোমা বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এদিন ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েলের হামলায় হামাসের গাজা শহরের কমান্ডার বাসেম ইসাসহ বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চত করেছে সশস্ত্র সংগঠনটি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সেখানে ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ জন। এদের মধ্যে অন্তত ১৭টি শিশু ও আটজন নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯০ ফিলিস্তিনি। বর্বর এ হামলার জবাবে হামাসও ইসরায়েলে একঝাঁক রকেট হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে তাদের দিকে প্রায় দেড় হাজার রকেট নিক্ষেপ করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। ফিলিস্তিনিদের এ হামলা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ দাঙ্গায়ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। এর জেরে লড শহরে রাতভর কারফিউ জারি করা হয়েছিল।

সূত্র: স্পুটনিক নিউজ, মিডল ইস্ট আই

হিন্দুদের কুম্ভমেলা থেকে পুরো ভারতে ছড়িয়েছে করোনা

লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাত। আইন-শৃংঙ্খলাও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লাশ দাও না করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে জানা গেছে গতমাসে ভারতে যখন সেই দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে লড়াই করছে, তারই মধ্যে হিমালয় অঞ্চলের শহর হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ হিন্দু সমবেত হয়। যদিও সবাই বলেছিলেন, এই কুম্ভমেলা এক ‘সুপার-স্প্রেডার ইভেন্ট’ অর্থাৎ ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়ানোর এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা। আনুমানিক ৯১ লাখ বাস্তবে আরও বেশি মানুষ গিয়েছিলেন এবারের মেলায়। কুম্ভমেলা থেকে ফিরে আসা লোকজনকে পরীক্ষা করে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়ে। আর তাদের থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ভারতজুড়ে।

এদেরই একজন পুরোহিত মাহান্ত দাস। তিনি কুম্ভমেলায় যোগ দেন ১৫ মার্চ। তখন ভারতের অনেক স্থানেই দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার চারদিন পর, এপ্রিলের ৪ তারিখে ৮০ বছর বয়সী এই হিন্দু পুরোহিত করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর তাকে একটি তাবুতে ফিরে গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়।

কিন্তু একাকি আলাদা থাকার পরিবর্তে মাহান্ত শংকর দাস তার ব্যাগ গুছিয়ে একটি ট্রেন ধরলেন এবং প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বারাণসী পৌঁছালেন। সেখানে স্টেশনে তার ছেলে নগেন্দ্র পাঠক তাকে নিতে আসলেন এবং তারা আরও কিছু লোকের সঙ্গে একটি ট্যাক্সি শেয়ারে ভাড়া করে ২০ কিলোমিটার দূরের জেলা মির্জাপুরে তাদের গ্রামে পৌঁছালেন।

সেই পুরোহিত মাহান্ত দাস বেঁচে গেছেন ঠিকই। তবে তার মাধ্যমেই সংক্রমিত হয় তারই ছেলেসহ গ্রামের অনেকেই। যদিও ওই পুরোহিতের দাবি, তার কাছ থেকে কেউ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়নি। তার ছেলে নগেন্দ্র পাঠক জানান, তিনিও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে গ্রামে জ্বর এবং কাশির উপসর্গ নিয়ে ১৩ জন মারা গেছে।

এই গ্রামে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মাহান্ত দাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকতে পারে, আবার এটা নাও হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেছেন। যাত্রীর ভিড়ে ঠাসা একটি ট্রেনে ভ্রমণ করে, শেয়ারের ট্যাক্সিতে চড়ে তিনি হয়তো পথে পথে অনেক জায়গায় ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর এই পুরোহিতের মতো হাজারো মানুষ ছড়িয়ে পরেন পুরো ভারতজুড়ে।

রোগতত্ত্ববিদ ডা. ললিতকান্ত বলছেন, মাস্ক না পরে কাণ্ডজ্ঞানহীন তীর্থযাত্রীদের বড় বড় দল যখন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে গঙ্গার বন্দনা করছে, তখন আসলে তারা দ্রুত ভাইরাস ছড়ানোর এক আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা জানি যে গির্জায় কিংবা মন্দিরে যখন সমবেত মানুষ এক সঙ্গে কোরাসে গান গায়, সেটি তখন একটি ‘সুপার-স্প্রেডার ইভেন্টে’ পরিণত হয়

হরিদ্বারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেলা চলাকালেই কয়েক হাজার তীর্থযাত্রী কোভিড-পজিটিভ বলে ধরা পড়েছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতাও ছিলেন। উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এবং সাবেক রাণী কমল শাহ এই কুম্ভমেলা থেকে ফিরে আসার পর পরীক্ষা করে তারাও কোভিডে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।

বলিউডের সঙ্গীত পরিচালক শ্রাবণ রাঠোরও এই কুম্ভমেলা থেকে ফেরার কদিন পর মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে মারা যান। মেলায় যোগ দিতে যাওয়া আরেকটি দলের নয় জন হিন্দু ঋষি মারা যান।

এই গ্রামে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মাহান্ত দাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকতে পারে, আবার এটা নাও হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেছেন। যাত্রীর ভিড়ে ঠাসা একটি ট্রেনে ভ্রমণ করে, শেয়ারের ট্যাক্সিতে চড়ে তিনি হয়তো পথে পথে অনেক জায়গায় ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর এই পুরোহিতের মতো হাজারো মানুষ ছড়িয়ে পরেন পুরো ভারতজুড়ে।

রোগতত্ত্ববিদ ডা. ললিতকান্ত বলছেন, মাস্ক না পরে কাণ্ডজ্ঞানহীন তীর্থযাত্রীদের বড় বড় দল যখন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে গঙ্গার বন্দনা করছে, তখন আসলে তারা দ্রুত ভাইরাস ছড়ানোর এক আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা জানি যে গির্জায় কিংবা মন্দিরে যখন সমবেত মানুষ এক সঙ্গে কোরাসে গান গায়, সেটি তখন একটি ‘সুপার-স্প্রেডার ইভেন্টে’ পরিণত হয়।

সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব

নামাজরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের গুলি, আহত ১৮৪ (ভিডিও)

ছবি সংগৃহীত

আল আকসা মসজিদে নামাজের জন্য জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। নির্বিচার গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৮৪ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে ৮৮ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার জুমাতুল বিদার পর থেকেই ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করা হয় শেখ জাররাহ’সহ পূর্ব জেরুজালেমের বিভিন্ন স্থানে। ইফতারির পর রমজানের বেজোড় রাত্রিতে, লাইলাতুল কদর সন্ধানে নামাজ আদায়ের জন্য আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন ফিলিস্তিনিরা।

এসময়ই তাদের ওপর হামলে পড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এমনকি নামাজরতদের লক্ষ্য করেও চালানো হয় গুলি। মসজিদ থেকে পিটিয়ে বের করে দেওয়া হয় অনেককে। ছোঁড়া হয় টিয়ার শেল। বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটকও করা হয়। সূত্র: আল-জাজিরা

 

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

কোভিড: দিনে চার হাজারের বেশি মৃত্যু প্রথম দেখল ভারত

ভারতে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ফের ৪ লাখের বেশি কোভিড রোগী শনাক্তের খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এ নিয়ে এক সপ্তাহে চতুর্থবার দেশটিতে দৈনিক শনাক্ত ৪ লাখ ছাড়াল।

নতুন ৪ লাখ ১ হাজার নিয়ে ভারতের ভারতে মোট কোভিড শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৬। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ৪ হাজার ১৮৭ মৃত্যু যোগ করে দেশটিতে করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যাও দাঁড়াল ২ লাখ ৩৮ হাজার ২৭০ জনে।

শুক্রবার ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জোরালো পদক্ষেপ নিলে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ এড়ানো যেতে পারে।

পরবর্তী ঢেউয়ে শিশুদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু দেখা পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যটি এখন শিশুদের জন্য কোভিড কেন্দ্র বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শিশুদের জন্য কোভিডের কোনো ভ্যাকসিন ভারতের কাছে নেই।

সংক্রমণের চেইন ভাঙতে গত কয়েকদিনে দেশটির অনেকগুলো রাজ্যকে লকডাউন, কারফিউর মতো বিধিনিষেধ দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

তামিল নাড়ু, কর্ণাটক ও মনিপুরও এখন এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

কর্ণাটকে সোমবার থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের লকডাউন দিয়েছে তামিল নাড়ুও; মনিপুরে কারফিউ দেওয়া হয়েছে ১৭ মে পর্যন্ত।

ভারতে মার্চের প্রথমদিকেও দিনে ২০ হাজারের কম নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছিল; অথচ দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝাপটায় এপ্রিল মাসেই দেশটিতে প্রায় ৬৬ লাখ মানুষের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ভারত জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও এখন পর্যন্ত নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডোজ দিতে পেরেছে।

শুক্রবার দেশটিতে ২৩ লাখেরও কম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

দেশটির অনেকগুলো রাজ্য ভ্যাকসিনের ঘাটতির কথাও জানিয়েছে।

২৭ বছর দাম্পত্যের পর হঠাৎ কেন দুজনার পথ গেল বেঁকে?

১৯৮৭ সালে একটি নৈশভোজে চার চোখ প্রথম এক হয়েছিল। এরপর সাত বছর চুটিয়ে প্রেম। অতঃপর বিয়ে।

এভাবে কেটে গেছে ২৭ টি বছর। দুজনে মিলে যে প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে সেটি সোনা হয়ে গেছে। মাইক্রসফট, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম আজ দিগবিদিক ছড়িয়ে পড়েছে। এই সময়ে তাদের ঘর আলো করে এসেছেন তিন সন্তান। সেই সম্পর্ককে আর বয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না। বলছি ধনকুবের দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটসের কথা।

সোমবার দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিলেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতি। টুইটার বার্তায় তারা এই ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দম্পতির হঠাৎ এই বিচ্ছেদের ঘোষণা অবাক করেছে বিশ্ববাসীকে।

এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা মানবহিতৈষী জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে রয়টার্সের মঙ্গলবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক কি প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

বিল গেটস ও মেলিন্ডা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোর্টের দারস্থ হয়েছেন। তাদের সম্পতি ভাগাভাগির ভারও আদালতকে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে খুবই গোপনীয়তা অবলম্বন করেছেন বিল ও মেলিন্ডা। তাদের পরিবার কিংবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও কেউ মুখ খোলতে রাজি হয়নি।

কী কারণে দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেল সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গোপন থাকুক সেটিই চাওয়া তাদের পরিবারের। যেমনটি জানা গেল এই দম্পতির বড় মেয়ের পোস্টে।

বিচ্ছেদের পর ইনস্টাগ্রামে জেনিফার গেটস লিখেছেন, আমাদের পুরো পরিবারের জন্য একটা দুঃসময় ছিল।’ জীবনের পরবর্তী ধাপে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বোঝার জন্য সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ দেন গেটস দম্পতির বড় মেয়ে জেনিফার।

অনেকটা হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন দুজন। দুই সপ্তাহ আগেও মহামারি মোকাবিলায় লড়াইরত চিকিৎসাকর্মীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দুজন। সেখানে জানান, করোনা আক্রান্তদের সহায়তায় বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

সোমবার টুইটারে পোস্ট করা যৌথ বার্তায় গেটস দম্পতি বলেন, ‘ব্যাপক চিন্তাভাবনা করে আমরা বিয়ের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তারা আরও লেখেছে, আমরা এটা আর বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমাদের জীবনের পরের ধাপে দম্পতি হিসেবে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব।’

বিচ্ছেদ হলেও দাতব্য কার্যক্রম একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রত্যয়ী বিল ও মেলিন্ডা গেটস। টুইটবার্তায় লেখেন, ‘গত ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি। এমন একটা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যে ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। আমরা যে বিশ্বাস থেকে ফাউন্ডেশনটি চালু করেছি, সেটা থাকবে। এই ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাব।
বিল ও মেলিন্ডা মিলে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। বিশ্বব্যাপী এ ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে এই ফাউন্ডেশন।
বিল এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আর মেলিন্ডা কো-চেয়ার ও ট্রাস্টি।

সর্বশেষ হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে ফাউন্ডেশনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।

ওয়েবসাইটের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ১৯৯৪ ও ২০১৮ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী বিল ও ৫৬ বছর বয়সী মেলিন্ডা মিলে এই ফাউন্ডেশনে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন।
রয়টার্স বলছে, গেটস দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে কোনো জবাব মিলেনি।

হাসপাতালের পেছনে মিলল করোনা রোগীর লাশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি হাসপাতালের পেছন থেকে এক কোভিড রোগীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের নাম চিত্তরঞ্জন বেরা (৫৮)। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের কলাইকুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা।

হাসপাতালের চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আত্মহত্যার ঘটনায় হাসপাতালের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন নিহতের পরিবার।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন ওই রোগী। শনিবার সকালে হাসপাতালের পেছনে তার লাশ পাওয়া যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন চিত্তরঞ্জন। আশেপাশে খুঁজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। শনিবার সকালে হাসপাতালের পেছন দিকে তার লাশ মেলে।

কিন্তু তিনি ওয়ার্ড থেকে বের হলেন কীভাবে? তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হাসপাতালের চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি।

পরিবারের দাবি, চিত্তরঞ্জন নিখোঁজ থাকার কথা শুরুতে তাদের জানানো হয়নি। শুক্রবার চেষ্টা করেও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তারা। শনিবার সকালে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, রোগীকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর ঘণ্টা তিনেক পরে হাসপাতাল থেকে জানায়, রোগীকে পাওয়া গেছে। তবে মৃত অবস্থায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগী মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তবে নিহতের ভাইপোর দাবি, তার কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না।

করোনার ভারতীয় ধরন কতটা বিপজ্জনক

করোনার সংক্রমণে ভারতে মৃত্যু বেড়ে গেছে। শ্মশানে দিন-রাত জ্বলছে চিতা। ২৪ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি শ্মশানে। ছবি: রয়টার্স

করোনাভাইরাসের মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় নাকাল অবস্থা ভারতে। দিনে দিনে বাড়ছে রোগী, বাড়ছে মৃত্যু। শ্মশানে দিন-রাত জ্বলছে চিতা। হাসপাতালে শয্যার সংকট, অক্সিজেন সংকটসহ নানা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এর মধ্যেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (স্ট্রেইন)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শুক্রবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ভারতে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার। গত কয়েক দিন ধরেই ভারতে দৈনিক রোগী শনাক্তের সংখ্যা তিন লাখের ওপরে। দিনে দিনে এই সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ভারতে করোনা সংক্রমিত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯৭ জন। অর্থাৎ উপসর্গহীন, মৃদু, মাঝারি ও গুরুতর অসুস্থ- সব মিলিয়ে ভারতে গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন করোনা রোগী ছিলেন ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৪৮৪ জন।
করোনা রোগী বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শুক্রবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬২৪ জন। এ নিয়ে ভারতে করোনায় মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৪ জন মারা গেলেন।
ভারতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি এ ক্ষেত্রে কতটা দায়ী, তা অবশ্য নিরূপণ করতে পারেননি গবেষকেরা।

ভাইরাসের নতুন ধরনটি আসলে কী

যেকোনো ভাইরাসই প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়, নিজেদের নতুন নতুন সংস্করণ বা ধরন (স্ট্রেইন) তৈরি করে। তবে ভাইরাসের বেশির ভাগ পরিবর্তনই তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। কোনো কোনো পরিবর্তনে ভাইরাসটি দুর্বলও হয়ে পড়ে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবর্তনের পর ভাইরাস আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, প্রচলিত টিকায় সুরক্ষা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে।

ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ভারতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটির নাম গবেষকেরা দিয়েছেন ‘বি-ওয়ান-সিক্সসেভেনটিন’। গত অক্টোবরে এটি প্রথম শনাক্ত হয়। সে সময় সবে ভারত করোনার প্রথম ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠছে। তবে গত মার্চ থেকে দেশটিতে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। গবেষকেরা বলছেন, দেশটিতে এটি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

নতুন ধরনটি কতটা ছড়িয়েছে

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাসের নতুন ধরনটি কতটা ছড়িয়েছে, তা নির্ণয়ে ভারতে বড় পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো হয়নি। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সংগৃহীত ৩৬১টি নমুনার মধ্যে ২২০টিতেই নতুন এই ধরনটি শনাক্ত হয়েছে।

বৈশ্বিক তথ্যভান্ডার জিআইএসএআইডি-এর তথ্যমতে, করোনাভাইরাসের নতুন ওই ধরনটি এরই মধ্যে অন্তত ২১টি দেশে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ যুক্তরাজ্যে ১০৩ জনের শরীরে নতুন ওই ধরনটি পাওয়া গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভারতে যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ ভারতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ওই ধরনটিকে ‘অনুসন্ধানের আওতায় থাকা ধরন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে এই ধরনকে এখনো বিপজ্জনক বা উদ্বেগজনক হিসেবে ঘোষণা করেনি তারা।

করোনার নতুন ধরনটি কি আরও সংক্রামক

গবেষকেরা এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি, ভাইরাসের ভারতীয় ওই ধরনটি আরও বেশি সংক্রামক কি না। এমনকি করোনার যে টিকাগুলো দেশে দেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলো এই ধরনের বিরুদ্ধে কার্য কর কি না, তাও এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জেরেমি কামিল বিবিসিকে বলেন, ভারতে করোনাভাইরাসের যে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, তার মধ্যে দুটি পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে একটি পরিবর্তনের পর ভাইরাসটির প্রকৃতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের ধরনের সঙ্গে মিলে যায়। এই ধরনটি শরীরে করোনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হলেও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ভারতে ভাইরাসের নতুন ওই ধরনটি উল্লেখযোগ্য দুই পরিবর্তনের পর তৈরি হওয়ায় একে ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ বলছেন গবেষকেরা। তবে এই ধরনের চেয়ে যুক্তরাজ্যে তৈরি হওয়া করোনার ধরনটি বেশি সংক্রামক ও বিপজ্জনক কি না, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের এই ধরন ৫০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে লুজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জেরেমি কামিল বিবিসিকে বলেন, ‘ভাইরাসের ভারতীয় ধরনটি যুক্তরাজ্যের ধরনের চেয়ে বেশি সংক্রামক কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে আমাদের উদ্বিগ্ন হলে চলবে না।’

ভারতীয় ধরনটির সম্পর্কে এত কম তথ্য কেন

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া বেশির ভাগ তথ্যই অসম্পূর্ণ। ভাইরাসটির খুব কম নমুনাই তাঁরা হাতে পেয়েছেন। ভারত থেকে পাওয়া গেছে ২৯৮টি নমুনা। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া গেছে ৬৫৬টি নমুনা। পক্ষান্তরে যুক্তরাজ্যের ধরনটির নমুনা পাওয়া গেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি।

ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জেরেমি কামিল বলেন, ভারতে ভাইরাসের নতুন ধরনটি শনাক্তের পর বিশ্বজুড়ে এটি ৪০০টিরও কম নমুনা শনাক্ত হয়। এ কারণে গবেষকেরা নতুন এই ধরন নিয়ে সেভাবে কাজই করতে পারছেন না বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

ভারতে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ কি নতুন ধরন

ভারতে এখন প্রতিদিনই আগের দিনের চেয়ে করোনা রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছেন। মৃত্যুও বাড়ছে দেশটিতে। তবে এর জন্য করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি দায়ী কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট হতে পারছেন না গবেষকেরা।

এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক রবী গুপ্তা বিবিসিকে বলেন, ভারতের জনসংখ্যা অনেক। জনঘনত্বও অনেক। কাজেই করোনাভাইরাসের জন্য ছড়িয়ে পড়ার এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন ধরন তৈরির ‍উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে সেখানে।

তবে গবেষকেরা বলছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ কি না তা স্পষ্ট না হলেও ভারতে যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় অনেক ঘাটতি রয়েছে, তা পরিষ্কার। বড় জমায়েত এবং মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মেনে চলাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানায় ঘাটতির কারণেই হয়তো করোনা দ্বিতীয় দফায় এতটা প্রবলভাবে আঘাত হানতে পেরেছে।

যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষক জেফরি ব্যারেট বিবিসিকে বলেন, ভারতে সংক্রমণ ‍ও মৃত্যু বৃদ্ধির পেছনে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটিরও ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ খুব অল্পই রয়েছে হাতে। তিনি বলেন, ‘ভারতের ভাইরাসের নতুন ধরনটির উদ্ভব গত বছর। কাজেই এই ধরনের কারণে যদি সংক্রমণ বেড়ে থাকে, তাহলে বলতেই হয়, এটি ‍যুক্তরাজ্যের ধরনের তুলনায় কম সংক্রামক। কারণ এই অবস্থায় পৌঁছাতে ভাইরাসটির কয়েক মাস সময় লেগেছে।’

নতুন এই ধরনের বিরুদ্ধে কি টিকা কার্যকর

বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে এখন করোনার যে টিকাগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা ভারতে ভাইরাসের নতুন ওই ধরনটির বিরুদ্ধে কাজ করবে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে টিকাগুলো কাজ করবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
তবে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক রবী গুপ্তা ও তাঁর সহকর্মীরা মন্তব্য করেছেন, করোনাভাইরাসের কিছু ধরন অবধারিতভাবেই টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হওয়া সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেবে। কাজেই সর্বোচ্চ সুফল পেতে ভাইরাসের পরিবর্তনের সঙ্গে সময়ে সময়ে টিকায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।

তারপরও যে টিকাগুলো এখন প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার গতি ধীর করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জেরেমি কামিল বিবিসিকে বলেন, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এই টিকাগুলো সুরক্ষা দেবে। টিকা নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বা মৃত্যুঝুঁকি অনেকখানিই কমে আসবে। তিনি পরামর্শ দেন, ‘আপনার হাতের কাছে করোনার যে টিকা আছে, তা নিয়ে নিন। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগার এবং শতভাগ আদর্শ টিকার অপেক্ষা করার মতো ভুল করবেন না।’

সূত্রঃ প্রথম আলো