শাহজাদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালকের বাড়ি থেকে ৩৫ মণ সরকারি চাল উদ্ধার

শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়ার শ্যালক রবিউল ইসলামের বাড়ির গুদামঘর থেকে ৩৫ মন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাতে প্রায় ১৪’শ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের রুপনাই গাছপাড়া গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহর ছেলে রবিউল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির চাল কেনাবেচা করে আসছেন। সোমবার রাতে এমন সংবাদ পেয়ে থানা শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদ হোসনের নেতৃত্বে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পরে রবিউলের বাড়ির গুদামঘর থেকে ১০ টাকা কেজি দরের প্রায় ১৪’শ কেজি চাল জব্দ করা হয়। এসব চাল সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও অন্যান্য বস্তায় ভরা ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন আগেই সটকে পড়েন।
এ ব্যাপারে খুকনী ইউপি চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন,‘এ চাল বেচাকেনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। ডিলার ও কার্ডধারীদের কাছ থেকে এসব চাল রবিউল কিনে ব্যবসা করে।’
এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীররাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ হোসেন নেতৃত্বে রবিউলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদ হোসেন বলেন, চাল উদ্ধারের ঘটনায় মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লাপাড়ায় ব্যবসায়ীর নিকট ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবিঃ গ্রেফতার ১

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ চাদাবাজী মামলায় শরিফুল ইসলাম বাবুকে গ্রফতার করে শুক্রবার আদালতে প্রেরন করেছে।

উল্লাপাড়া মডেল থানা সূত্রে জানাযায়, উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পাগলা গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম উপজেলার পাটধারির মেসার্স আনান ব্রিকসের মালিক আব্দুল আজিজের কাছে ২ লক্ষ টাকা চাদা দাবি করে। চাদার টাকা না দেওয়ায় আব্দুল আজিজকে মারধর করে ।

আব্দুল আজিজ এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা করলে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলাম বাবুকে গ্রফতার করে। উল্লাপাড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে শরিফুল ইসলাম বাবুকে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে ।

শাহজাদপুরে জুয়ার আসর থেকে ৯ জুয়ারি আটক

শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের শক্তিপুর মহল্লায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ৯ জুয়ারিকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হল- শাহজাদপুর উপজেলার মৃত রতি প্রামানিকের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৫ ), আরজান শেখের ছেলে বাবলু ওরফে গোরা (৪২), কাদের শেখের ছেলে মোঃ শাহান (৫৬), আনছার প্রামানিকের ছেলে মোঃ বাবু (৪৫), নজির উদ্দিনের ছেলে কন্নু (৪৬), মৃত গফুরের ছেলে খালেক (৩৮), ওজেদ শেখের ছেলে আউয়াল (৪০), নজু শেখের ছেলে মিনহাজ (৪০), বদিউজ্জামানের ছেলে শামিম (৩০)।

শাহজাদপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান নেতৃত্বে শাহজাদপুর থানার এসআই মোঃ এসলাম আলী, এএসআই মোঃ সুমন সাঈদ, এএসআই মোঃ নূর নবীসহ পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার পৌর সদরের শক্তিপুর মহল্লার শাহান আলী বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ৯ জুয়ারিকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং জুয়া খেলার সামগ্রী জব্দ করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান জানান, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে শাহজাদপুর পৌর সদরের জুয়ার আসর থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনে মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

রিফাত হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত ৩আসামীর জামিন

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনা জেলা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। রায়ে ৬ আসামিকে ১০ বছর করে, ৪ আসামিকে ৫ বছর করে এবং ১ আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ৩ আসামিকে খালাস দেন আদালত।

এ ছাড়া এ মামলায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনা জেলা দায়রা ও জজ মো. আছাদুজ্জামান। ১০ আসামির মধ্যে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ছিলেন এ মামলার প্রধান সাক্ষী।

এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ১ সেপ্টেম্বর মামলায় ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুভাগে বিভক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ হাইকোর্টের

মেয়েকে হত্যার দায়ে জামাই কাউসার গাজীকে এক মাত্র আসামী করে মামলা করেন জলিল দুয়ারী। আসামীর সাথে আপোষ করায় পরবর্তীতে তিনি বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন, তাই জামাই আসামী কাউসার গাজীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে তার কোনো আপত্তি নেই।

এমন ঘটনায় মামলার আসামিকে জামিন দিয়ে বাদী তথা মেয়ের বাবার বিরুদ্ধেই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মেয়ের বাবার বক্তব্য সম্বলিত এফিডেভিট দেখে জামিন আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ আসামি মোহাম্মদ কাউসার গাজীকে জামিন ও বাদীর বিরুদ্ধে মামলার আদেশ দেন।
মামলার বাদী জলিল দুয়ারী ঝালকাঠি সদর থানার নেহালপুর সাকিনের মৃত মোকসেদ আলী দুয়ারীর পুত্র।
হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলায় বাদী তথা মেয়ের বাবা জলিল দুয়ারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলা করতে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

আদালতে আসামীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসাদ মিয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।
এজাহারসুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঝালকাঠির মেয়ে সাথী আক্তারকে তার স্বামী পটুয়াখালীর মোহাম্মদ কাউসার গাজী হত্যা করেছেন বলে মামলা করেন সাথীর বাবা আঃ জলিল দুয়ারী।পুলিশ আসামি কাউসার গাজীকে গ্রেফতার করলে কারাগারে পাঠান আদালত।ভিকটিম সাথীর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ফারিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে বলে, ‘আম্মুকে আব্বু লাঠি দিয়ে মাথায় এবং দাদা শরীরে আঘাত করে মেরে ছাগলের রশি দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে।’ ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আঘাতের ফলে সাথীর মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে।
এই ঘটনার একপর্যায়ে মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করেন আসামি মোহাম্মদ কাউসার গাজী। সেই সঙ্গে জামিন আবেদনে মামলার বাদী তথা সাথীর বাবার বক্তব্য সম্বলিত একটি এফিডেভিট সংযুক্ত করা হয়। সে এফিডেভিটে সাথীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে সাথী আক্তারের দুটি সন্তান রয়েছে। আমার মেয়ে তার জামাইকে ভুল বুঝে তার সাথে রাগান্বিত হয়ে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে অন্যের দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই আত্মহত্যায় আমার মেয়ের জামাই ও তার বাবা-মা জড়িত নয়। কিন্তু কিছু কুচক্রি লোকের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে জামাই দুটি নাবালক সন্তানের পিতা। ওদের ভবিষ্যতের জন্য এই মামলাটি পরিচালনা করার আবিশ্যকতা নেই। তাই এই মামলা থেকে আসামিকে অব্যাহতি দিলে আমার কোনো আপত্তি নেই।

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে বেলাল হোসেন (৩৭) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল হোসেন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

জানা যায়, ২০১০ সালে জেলার চৌহালি উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর গ্রামের ফজল হক প্রামাণিকের মেয়ে বিলকিস খাতুনের (২০) সঙ্গে বেল্লাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত।

এরই জের ধরে ২০১৪ সালের ১৪মে রাতে বেলাল হোসেন তার স্ত্রী বিলকিস খাতুনকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় নিহতর বড় ভাই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে বেলকুচি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত এ দিন আসামি বেলাল হোসেনের উপস্থিতিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার নগদ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। বাকি তিন আসামিকে আদালত বেকসুর খালাস দেন।
এ বিষয়টি সরকারি পক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য এ মামলার বাদী ও আসামি দু’জনের নামই বেলাল হোসেন।

মাদ্রাসায় ভর্তির কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় আতিক

বাবা পেশায় শ্যালো মেশিনের মেকার। মা গৃহিনী। বাড়িতে আছে ছোট একটি বোন। গত ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের কথা না শুনেই এক প্রকার জোর করে ১৩০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় আতিক। বাড়িতে জানিয়েছিল, সে রাজশাহীর একটি বড় মাদ্রাসায় ভর্তি হবে। পরে মোবাইলে মাকে জানায় সে রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে।

আতিক শুক্রবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের শেরখালি উকিলপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান গ্রেপ্তার হওয়া ৪ জনের একজন। তার বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার শশরা শাহাপাড়া গ্রামে।

আতিকের পুরো নাম আতিউর রহমান আতিক (১৯)। গ্রামের মানিক হোসেনের ছেলে। এক ভাই এক বোনের মধ্যে আতিক বড়। সে গত বছর উপজেলার সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের কাশিপুর ডাঙ্গাপাড়া মিনহাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে। গত ৭ সেপ্টেম্বর এক প্রকার জোর করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। পরে ফোনে জানায়, সে রাজশাহীতে।

এ বিষয়ে জানতে আতিকের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মা ছোট বোনকে পাওয়া যায়। বাবা মানিক হোসেন পেশায় শ্যালো মেশিনের মেকার। বাড়িতে দুটি টিনের ঘর। আরসিসি পিলার দিয়ে চলছে নির্মাণের কাজ।

ছেলে সম্পর্কে জানতে চাইলে মা আসমিন আরা (৪০) জানান, প্রথমবার সে দাখিলে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও গতবার পাশ করে। তবে তার চলাফেরায় একটু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তারা। কারো সঙ্গে তেমন মেলামেশা করত না। প্রায় সময় ঘরে থাকত ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। এরপর সে রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য টাকা চাইতো। কিন্তু একমাত্র ছেলে বাইরে গিয়ে থাকুক এটা মা চাননি। কিন্তু ১৩০ টাকা নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর এক প্রকার জোর করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে জানায় রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হবার জন্য রাজশাহীতে অবস্থান করছে। কিন্তু সে কিভাবে চলছে তা তারা জানতেন না। মোবাইলে কল করলে অনেক সময় তাকে পাওয়া যেতনা। পরে সে জানাতো মাদ্রায় কোচিং এ আছে। সর্বশেষ কথা হয় বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর আর কথা হয়নি।

ছেলে ধরা পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তবে টিভিতে জঙ্গী ধরা পড়ার খবর শুনেছেন।

ছেলে কথায় যায় কি করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মা আসমিন আরা বলেন, মিনহাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর ইব্রাহীম খলিলুলতাহ তাকে প্রায় এসে বাসা থেকে নিয়ে যেত। অনেক সময় অন্য কাউকে পাঠিয়ে নিয়ে যেত পাগড়ি পরিয়ে দেয়ার জন্য।

আতিকের বোন নুরে জান্নাত জানায়, তার ভাই মোবাইল ফোনে ৩টি সিম ব্যবহার করত। বর্তমানে তার তিনটি সিমই বন্ধ। ভাইয়ের চলাফেরা নিয়ে তারও সন্দেহের কথা জানায় নুরে জান্নাত।

বাবা মানিক হোসেন পড়াশুনা জানেন না। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ফোনে আতিকের সঙ্গে তার কথা হয়। ফোনে শুধু টাকা চায় আতিক। জানিয়েছে রাজশাহীতে মাদ্রাসায় ভর্তি হবে।

এ ব্যপারে শনিবার দুপুরে মিনহাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর ইব্রাহীম খলিলুল্লার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানে দেখা করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আতিউর রহমান আতিক তার ছাত্র ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি লেবানন থেকে পড়াশুনা করে এসেছি। আমি সব সময় জঙ্গিবিরোধী। আমার সঙ্গে আতিকের জঙ্গি সম্পৃক্ততা কোনোভাবেই মেলেনা।’

সূত্র- সমকাল

ডেলিভারি বয় থেকে যেভাবে জঙ্গি শান্ত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের উকিলপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে আটক সন্দেহভাজন চার জঙ্গির মধ্যে আমিনুল ইসলাম ওরফে শান্তর (২২) বাড়ি তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নলতা গ্রামে। তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্য বজলুর রহমানের ছেলে।

তবে তালার দক্ষিণ নলতা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সাথে বসবাস করতেন তিনি। এছাড়া তিনি একই গ্রামের শরিফুল মোড়লের জামাতা।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জঙ্গি আস্তানা থেকে শুক্রবার সকালে র‌্যাবের অভিযানে আটক আমিনুল ইসলাম শান্তর বর্তমান ঠিকানা তালার দক্ষিণ নলতা গ্রামে। তিনি দক্ষিণ নলতা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও শিক্ষক জি.এম. মোস্তাফিজুর রহমান তিতুর ভাগ্নে।

আমিনুল ইসলাম শান্তর মামা মোস্তাফিজুর রহমান তিতু জানান, মনিরামপুর সদরের বজলুর রহমানের সঙ্গে তার বোন রোকসানা খাতুন বিথির বিয়ে হয় এবং তাদের একমাত্র সন্তান আমিনুল ইসলাম শান্ত। একাধিক বিবাহিত প্রতারক বজলুর রহমান বিয়ের পর সন্তান ও স্ত্রীর খোঁজখবর নেয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে বিথি তার সন্তান আমিনুল ইসলামকে নিয়ে আমাদের এখানে থাকতো।

মোস্তাফিজুর রহমান তিতু আরো বলেন, অনার্স পাস করার পর আমিনুল ইসলাম প্রেমের সূত্রে একই গ্রামের শরিফুল মোড়লের মেয়ে হাবিবা খাতুনকে বিয়ে করে। এই বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তার মা বিগত প্রায় ২ বছর ধরে আলাদা বসবাস শুরু করে। এ সময় আমিনুল ইসলাম শান্ত খুলনায় ফুড পান্ডা নামের একটি খাদ্য সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি বয়ের চাকরি শুরু করে। এখানে চাকরি করাকালে শান্তর ধর্মীয় রীতি পালনে পরিবর্তন আসে এবং মামা বাড়ির সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। খুলনায় চাকরি করাকালে সে বিপথগামী হতে পারে।

আমিনুলের স্ত্রী হাবিবা খাতুন জানান, তার স্বামী খুলনায় চাকরি করতেন। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না তার স্বামী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাম্মেল আলী শেখ বলেন, এলাকায় আমিনুলকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়নি। সাতক্ষীরায় পড়াশোনা করার সময় কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা তিনি বলতে পারবেন না।

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদি রাসেল বলেন, আমিনুলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা নেই।

সূত্র-ইত্তেফাক

সিরাজগঞ্জে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ) এর অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. শাহ্ জাহান (২২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।

আটককৃত মো. শাহ্ জাহান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার ঝিমং খালী গ্রামের মো. আবুর কাশেমের পুত্র।

বুধবার বিকাল ৩টার সময় এই তথ্য নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার হাসিবুর আলম বিপিএম এর দিকনিদের্শনায় এসআই মো. নাজমুল হকসহ সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স এর সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানাধীন কড্ডার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো. শাহ্ জাহান (২২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শাহজাদপুরে ৪০ কেজি গাঁজা সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জ র‌্যাব-১২এর এ্যাডজুটেন্ট (অপ্স অফিসার) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার ও সদর কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার, (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ এরশাদুর রহমান এর নেতৃত্বে র‌্যাব-১২ একটি আভিযানিক দল সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা থানাধীন বগুড়া টু নগরবাড়ী রোডের উপর বাঘাবাড়ী ওয়েল ডিপো এর সামনে অস্থায়ী চেকপোষ্ট বসিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে, বড় কাভার্ড ভ্যান তল্লাশী করে ৪০ কেজি গাঁজা, ০২ টি মোবাইল, ০২টি সিমসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দ ও ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে এবং উক্ত কাভার্ড ভ্যান জব্দ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাবনা ফরিদপুর উপজেলার সোহরাব আলী প্রমানিক ছেলে ফরিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার, জামাল উদ্দিনের ছেলে আলম হোসেন।

গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করত উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাদেরকে উক্ত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।