বিজিএমইএর সভাপতি ও সহসভাপতি হচ্ছেন যাঁরা

দীর্ঘ আট বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বড় জয় শেষে সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা ফারুক হাসান তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন, সেটি মোটামুটি নিশ্চিতই ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনিই সভাপতি হচ্ছেন। জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান এর আগে সংগঠনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজিএমইএতে সাতটি সহসভাপতির পদ রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম সহসভাপতি হচ্ছেন চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ওয়েল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়েল ডিজাইনারস লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হতে যাচ্ছেন সিহা ডিজাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম মান্নান। তিনি ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

বাকি পাঁচজন সহসভাপতি হচ্ছেন ঢাকা থেকে নির্বাচিত ক্ল্যাসিক ফ্যাশন কনসেপ্টের এমডি শহীদউল্লাহ আজিম, ডিজাইনটেক্স নিটওয়্যারের এমডি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মিসামী গার্মেন্টসের পরিচালক মিরান আলী, সাদমা ফ্যাশনওয়্যারের এমডি মো. নাছির উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত এইচকেসি অ্যাপারেল লিমিটেডের এমডি রকিবুল আলম চৌধুরী।

জানা যায়, নির্বাচিত ৩৫ পরিচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সাতজন সহসভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজ রোববার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। শেষ দিনে সভাপতি পদে ফারুক হাসান ও সাত সহসভাপতি পদে সাতজন মনোনয়ন দাখিল করেন। ফলে ১৬ এপ্রিল সভাপতি ও সহসভাপতি পদে আর ভোটের প্রয়োজন হবে না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফারুক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কাল সোমবার নির্বাচন বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি ও সহসভাপতি পদে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করতে পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন পর্ষদের কাছে কবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে, সেটি বর্তমান পর্ষদের ওপর নির্ভর করছে। সেটিও কাল চূড়ান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৪ এপ্রিলের বিজিএমইএর ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫ পরিচালক পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়। আর এ বি এম সামছুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফোরাম ১১ পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনে ১ হাজার ২০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক হাসান। তবে ফোরামের দলনেতা এ বি এম সামছুদ্দিন জিততে পারেননি। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯০৪টি। আর নয়টি ভোট পেলেই তিনি পরিচালক পদে বিজয়ী হতেন। দলনেতা হারলেও ফোরামের হয়ে নির্বাচন করা বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর ছেলে নাভিদুল হক ৯৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এতে করে প্রথমবারের মতো বিজিএমইএর পর্ষদে আসছেন মা-ছেলে।

বিজিএমইএর নির্বাচনে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ঢাকার র‌্যাডিসন হোটেল ও চট্টগ্রামে বিজিএমইএর আঞ্চলিক কার্যালয়ে ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ ঘণ্টায় ভোট গ্রহণ হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এতে সংগঠনটির ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৮৬ শতাংশ ভোটার বা ১ হাজার ৯৯৬ জন নিজেদের রায় দিয়েছেন। সেদিনই রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করে বিজিএমইএর নির্বাচন বোর্ড।

বিশ্ববাজারে তাঁতবস্ত্রের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি


শাহজাদপুরে নারী উদ্যোক্তাকে ৬ তাঁতী সংগঠনের সংবর্ধনা

ঐহিত্যবাহী তাঁতশিল্পের কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ ও বিন্দু শাহজাদপুরে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় নারী উদ্যোক্তা সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতিসহ ৬ তাঁতী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে লোপাকে এ সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, তাঁতবস্ত্র উৎপাদন ও বিপননকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা তার নিজের ডিজাইন ও প্রস্তুতকৃত গামছা, থ্রি-পিছ, শাড়িসহ সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিতকরণে তাঁতে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার দেশে ও বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে বাজার সৃষ্টিতে দীর্ঘদিন করে কাজ করে যাচ্ছেন । women and e-commerce forum (WE) এর সহযোগীতায় জান্নাত লোপা নিজস্ব ডিজাইনের তাঁতের থ্রি-পিছ, গামছা, শাড়িসহ শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লীতে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র সরবরাহ ও রফতানি করছেন। সেইসাথে তিনি ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নিয়ে কাজ করা নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন এবং করোনাকালীন সময়ে সংকটে পতিত তাঁতশিল্পের প্রসার ও পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতি, উপজেলা তাঁতবস্ত্র ব্যবসায় সমিতি, শাহজাদপুর কাপড় হাট কাপড় ব্যবসায়ী সমিতি, তাঁত শ্রমিক ইউনিয়ন, উপজেলা তাঁতী লীগ ও তাঁত বোর্ডের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড মাধ্যমিক তাঁতী সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

এদিন সকালে শাহজাদপুরে উপজেলা শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস এন্ড পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক কোরবান আলী লাভলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু, প্রেস ক্লাব, শাহজাদপুরের সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকি, তাঁতী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা আল মাহমুদ, আলমাছ আনছারী, টিপু সুলতান, আবু শামীম সূর্য্য, হায়দার আলী, খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘জান্নাত লোপা দেশে বিদেশে তাঁতবস্ত্রের বাজার সৃষ্টিতে যে ভূমিকা পালন করছেন যা ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের চরম সংকটময় মুহুর্তে প্রসংশার দাবী রাখে। তার এ কর্মপ্রচেষ্টা শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে বিশেষ ভুমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে women and e-commerce forum (WE) এর মেম্বার ও সাবসক্রাইবার সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা বলেন,‘ WEএর সহযোগীতা ও তার স্বামী সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোকের অণুপ্রেরণায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্র বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কাজে তিনি সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করেন।’

পরে ৬ তাঁতী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দ স্ব-স্ব সংগঠনের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।

শাহজাদপুরে স্যামসাং মোবাইলের শো-রুম উদ্বোধন

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র মনিরামপুর বাজারে স্যামসাং মোবাইলের শো’রুম উদ্বোধন করা হয়েছে । শো’রুমের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় এ শো’রুমের উদ্বোধন করেন কোম্পানির চ্যানেল সেলস ম্যানেজার রাশেদুল আহমেদ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উত্তরবঙ্গের এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ খান, শাহজাদপুর মনিরামপুর বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শেষে শো’রুমের ব্যবসায়ীক সফলতা কামনায় মোনাজাত করা হয়।

শাহজাদপুরের গালার বর্নিয়া বাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম উদ্ধোধন

জাহিদ হাসান, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ- সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের বর্নিয়া বাজারে  রোববার সকালে ইসলামী ব্যাংক শাহজাদপুরে শাখার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম উদ্ধোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সি ও জনাব মাহবুবুল আলম। ফিতাকেটে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম ভার্চুয়ালভাবে সারা দেশে ১২৭টি উদ্ধোধন করেন। এছাড়াও বর্নিয়াবাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রুপালী ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম জনাব আব্দুল হান্নান, বক্তব্য রাখেন, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সাংবাদিক এম,এ, জাফর লিটন, গালা ইউনিয়নের বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ আবু সাঈদ, ব্যাংকের কর্মকর্তা খসরু পারভেজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, এজেন্ট ব্যাংকের স্বত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম চঞ্চল।

অ্যামাজনের প্রায় ২০ হাজার কর্মী করোনা আক্রান্ত

মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮০০ জন অ্যামাজন কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে অ্যামাজনের পক্ষ থেকে।

আমেরিকার প্রায় ৬৫০ শহরে ছড়িয়ে রয়েছে অ্যামাজনের ব্যবসা। বিভিন্ন পরিষেবা মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার জন কাজ করেন ওই প্রতিষ্ঠানে।

সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের কিছু লজিস্টিক সেন্টারের কর্মীরা কোভিড নিয়ে নিরাপত্তা ব্যাপারে সংস্থার পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন। ওই কর্মীদের অভিযোগ, সহকর্মীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর ঠিক মতো জানানো হচ্ছে না তাদের। এরপরই বিবৃতি দিয়ে আক্রান্তের বিষয়টি জানানো হল অ্যামাজনের পক্ষ থেকে।
বিবৃতিতে অ্যামাজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘করোনার মহামারির শুরু থেকেই আমরা কর্মীদের সচেতন করে চলেছি। নতুন সংক্রমণের খবর পেলেই বিল্ডিংয়ের সকলকে সে ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।

তবে নিজেদের কর্মীদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার কম বলেই মনে করছে অ্যামাজন। তাদের মতো, আমেরিকার সাধারণ জনগণের মধ্যে যে সংক্রমণ হারে রয়েছে, তা থাকলে ৩৩ হাজারের বেশি কর্মী আক্রান্ত হতেন বলে জানিয়েছে তারা।

ওয়ালটনের ইউরোপ জয়

দেশের রপ্তানি খাতে একের পর এক চমক সৃষ্টি করে চলেছে ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোতে বাড়ছে ওয়ালটন পণ্যের রপ্তানি।

এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপের পঞ্চম জনবহুল দেশ পোলান্ডে টেলিভিশন রপ্তানি শুরু করলো ওয়ালটন। দেশটির জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘অপটিকাম’-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই পোলান্ডে টিভির প্রথম শিপমেন্ট পাঠিয়েছে ওয়ালটন। এর ফলে ইউরোপে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

জানা গেছে, ওয়ালটনের ইউরোপ জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকেই ছিলো ব্যাপক পরিকল্পনা। দেশের বাজারে শীর্ষস্থান অর্জনের পর ওয়ালটনের পরিকল্পনা ছিলো বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। পোল্যান্ডে টেলিভিশন রপ্তানির মধ্য দিয়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম আরো গতি পেল।

সম্প্রতি পোলান্ডের ব্র্যান্ড ‘অপটিকাম’-এর সঙ্গে এ বিষয়ে ওয়ালটনের একটি চুক্তি হয়। রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিটের প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম, ওয়ালটন টেলিভিশন বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন এবং ওয়ালটনের ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিজনেস হেড তাওসীফ আল মাহমুদ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পোলান্ড থেকে যোগ দেন ‘অপটিকাম’-এর সিইও রিচার্ড গ্র্যাবসহ প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওয়ালটনের ইউরোপিয়ান বিজনেস হেড তাওসীফ আল মাহমুদ বলেন, মধ্য ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত পোল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। ৩৮ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ পোল্যান্ড ‘নতুন’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে একক বৃহত্তম বাজার। এই রপ্তানির সুবাদে শুধু পোল্যান্ডই নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ওয়ালটনের পণ্য ব্যাপকভাবে ডিস্ট্রিবিউশন করা সহজ হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ পোল্যান্ডের বাজারে ওয়ালটনের তৈরি টেলিভিশন পাওয়া যাবে। এছাড়াও ‘অপটিকাম’ পোল্যান্ডে ওয়ালটন পণ্য অনলাইনে বিক্রয় কার্যক্রমেও পার্টনার হিসাবে ভবিষ্যতে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছে।

ওয়ালটন টেলিভিশন বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, পারস্পারিক ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে ‘অপটিকাম’ এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ওয়ালটন। এছাড়াও পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের মধ্যে ইউরোপের বাজারে ১ লাখ ইউনিট টেলিভিশন রপ্তানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়ালটন টেলিভিশনের গবেষণা ও উন্নয়ণ (জ্উ), বিভাগ গ্রাহকের আস্থা অর্জনে পণ্যের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সিই (ঈঊ) কম্পøায়েন্স নিশ্চিত করার জন্য সর্বাধুনিক ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও ইউরোপীয় নীতিমালা অনুযায়ী ওয়ালটন পণ্যে আরওএইচএস (জঙঐঝ), আরইএসিএস (জঊঅঈঐ) এবং ইকো ফ্রেন্ডলি ডিজাইন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের মাধ্যমে মান যাচাইয়ের পাশাপাশি ওয়ালটনের নিজস্ব ল্যাবে পণ্যের কোয়ালিটি এবং রিলায়েবিলিটি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ওয়ালটনের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিটের প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম বলেন, বর্তমানে আমরা ইউরোপের বাজারে ওয়ালটনের উপস্থিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে কাজ করছি।

এক সময় ওয়ালটনের স্মার্ট টিভি, রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারের মতো পণ্য ছাড়াও আইটি, কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও এলইডি লাইটিং পণ্যও পশ্চিম এবং পূর্ব ইউরোপ জুড়ে পাওয়া যাবে। এই দেশগুলোতে ওয়ালটন পণ্য পৌঁছাতে পোল্যান্ডকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এভাবেই ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ব্র্যান্ডের কাতারে উঠে আসার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে ওয়ালটন।

এর আগে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর জন্য স্মার্ট টিভি তৈরিতে গুগলের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে ওয়ালটন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনকারী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ডলবি’র লাইসেন্স পেয়েছে ওয়ালটন। এর ফলে ওয়ালটন টেলিভিশন বিশ্ববাজারে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ছাড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার

আগস্টে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ছাড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। হয়েছে ৩২৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ ডলার যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি।

গেল অর্থবছরের আগস্ট মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ২২৩ কোটি ৯লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিজিএমইএ সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই আশংকাজনক ভাবে কমতে থাকে তৈরি পোশাকের রপ্তানি।

মার্চে তা ২৭ শতাংশ কমার পর এপ্রিলেও কমে ৮৫ শতাংশ। আর মে মাসে প্রায় ৬৩ শতাংশ। তবে জুন থেকেই রপ্তানিতে কিছুটা ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত মেলে।

করোনা ও বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে তাঁতশিল্প; ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান জরুরী


শাহজাদপুরে তাঁতীদের ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি !

করোনা ভাইরাস ও সাম্প্রতিক বন্যায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাঁতীরা হারিয়েছে তাদের পুঁজি। আর বন্যায় তাঁত কারখানার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পোকামাকড় কেটেছে কাপড়, তেনাসহ সরঞ্জমাদি। এসব কারণে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পে প্রায় ৫’শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। গত ৫ মাস ধরে বন্ধ থাকা তাঁত পুঁজি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চালু করতে না পারায় ১ লাখেরও বেশী তাঁতী ও শ্রমিকের লোকসান দিনদিন বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুরে ১ লাখেরও বেশি পাওয়ারলুম ও ৫০ হাজারের বেশি হ্যান্ডলুম (চিত্তরঞ্জন) রয়েছে। করোনা ও বন্যার কু-প্রভাবে গত ৫ মাসে এলাকার প্রায় ৮০/৯০ হাজার তাঁতই বন্ধ রয়েছে। এতে ১ লাখেরও বেশি তাঁতী ও শ্রমিক বেকায় হয়ে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছে। এ মন্দাবস্থার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শাহজাদপুরের অন্য সকল ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ওপর। শাহজাদপুরের তাঁতপল্লীতে তৈরি উন্নতমানের বাহারি ডিজাইনে শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, থ্র্রি-পিছ এবং গামছা দেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে আসছে। ভারতসহ বহির্ঃবিশে^র বেশ কয়েকটি দেশেও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার তাঁতবস্ত্র রফতানি হয়ে আসছে। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে তাঁতবস্ত্রের আমদানিকারক, দেশি ক্রেতা, ব্যাপারী ও পাইকারের আগমন শুণ্যপ্রায় হওয়ায় করোনার ক্রান্তিকালের পূর্বে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের মজুদ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। নিরূপায় হয়ে অনেক তাঁতী মজুদকৃত তাঁতবস্ত্র সোহাগপুর, এনায়েতপুর, আতাইকুলা, পোড়াদহ, করটিয়া, বাবুর হাট ও গাউসিয়া হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে গিয়েও ক্রেতার অভাবে তা বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা পুঁজিশূণ্য হয়ে প্রতিনিয়ত হাঁ-হুতাশ করছে। নতুন করে কাঁচামাল ক্রয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত ও তাঁতকারখানা মেরামত, তাঁতী ও শ্রমিক পরিবারে জীবিকা নির্বাহ, ঋণের কিস্তি ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে দিনে দিনে অথৈ ঋণের মরণ জালে তাঁতীরা আটকা পড়ছে। ফলে দেশের সর্ববৃহৎ কুঁটির শিল্প ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে অস্তিত্ব সংকটাবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শকালে শাহজাদপুর পৌর এলাকার তাঁতপল্লী রূপপুর নতুন পাড়া ও উরির চর মহল্লার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে প্রান্তিক তাঁতী বৃদ্ধ রহমত আলী (৭০) কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ‘২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৪ সদস্যের পরিবারের জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলের উচ্চশিক্ষাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ৫ মাসে তার ১ লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় পুঁজিশুণ্য ও ঋণগ্রস্থাবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।’ একইভাবে গত ৫ মাসে এ মহল্লার মৃত আমান মুন্সীর ছেলে শফিকুল ইসলামের ১৬টি তাঁত বন্ধ থাকায় ১০ লাখ টাকা, রূহুল আমিনের ১২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৫ লাখ টাকা, নুরু মিয়ার ছেলে শাহান আলীর ১৪টি তাঁত বন্ধ থাকায় আড়াই লাখ টাকা, আলম কাজীর ১০টি হ্যান্ডলুম ও ৮টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ৬ লাখ টাকা, আব্দুর রহিমের ২টি পাওয়ারলুম বন্ধ থাকায় ১ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। হাতে টাকা না থাকায় এসব তাঁতী তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা ও তাঁত মেরামত ও কাঁচামাল কিনে তাঁত চালু করতে পারছেন না। এ করুণাবস্থা শুধু এসব তাঁতীদের নয়, শাহজাদপুরের সকল তাঁতীই অর্থ সংকটে পড়েছে। ফলে তাদেরও লোকসানের হার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে।

এসব বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে শাহজাদপুর হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের আহবায়ক তাঁতী নেতা হাজী নজরুল ইসলাম চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা প্রকাশ করে জানান, ‘ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও তাঁতীদের এমন করুণ দশা জীবদ্দশায় কখনও দেখিনি। এ দুরবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই শিল্পটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে ও সর্বশান্ত হয়ে যাবে এলাকার লাখ লাখ তাঁতী।’

এদিকে, বাংলাদেশ স্পেশালাইজ টেক্সটাইল এন্ড পাওয়ারলুম ইড্রাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশসের উত্তরাঞ্চলের পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি কেন্দ্রীয় তাঁতী নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এক সময়ে দেশিয় তাঁতে তৈরি মসলিন জগৎ জুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলো। মসলিন তৈরির পথকে চিরতরে রূদ্ধ করতে বৃট্রিশ বোনিয়ারা তাঁতীদের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করলেও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প তখনও টিকে ছিলো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও এবারের বন্যায় এলাকার তাঁতীদের ক্ষতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত ৫ মাসে শাহজাদপুরের তাঁতীদের কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিলুপ্তির হাত থেকে তাঁতশিল্পকে রক্ষায় প্রান্তিক তাঁতীদের মাঝে সরকারিভাবে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।’

স্যামসাং ব্রান্ডের সব ধরনের মোবাইল ফোনসহ নানা এক্সেসরিজ পাওয়া যাবে


শাহজাদপুরে স্যামসাং মোবাইল শো-রূমের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র মনিরামপুর বাজারের সিরাজ প্লাজা’য় ইন্টারন্যশনাল কোরিয়ান ব্রান্ড স্যামসাং কোম্পানির মোবাইল ফোনের শো-রূমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে৷ গতকাল সোমবার দুপুরে ‘স্যামসাং স্মার্ট জোন’ নামের এ শো-রূমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন সিরাজ প্লাজার মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি হাজী সিরাজুল ইসলাম। উদ্বোধনী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী হায়দার আলী, স্যামসাং কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ অাহমেদ, সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আল মামুন রানা, শাহজাদপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিন আকন্দ প্রমূখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্যামসাং স্মার্ট জোন শো-রূমের প্রোপাইটর মোঃ সেলিম রেজা।

জানা গেছে, এখন থেকে উক্ত শো-রূমে স্যামসাং ব্রান্ডের সব ধরনের মোবাইল ফোন ও ব্যাটারি, চার্জার, হেডফোন ও পাওয়ার ব্যাংকসহ নানা এক্সেস রিজ পাওয়া যাবে।