রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এ যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭-ই মার্চ উদযাপিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭-ই মার্চ উদযাপিত হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন-১ এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ট্রেজারার প্রফেসর আব্দুল লতিফ। পরে একাডেমিক ভবন-১ প্রাঙ্গণের বঙ্গবন্ধু’র পতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে রেজিস্ট্রার মোঃ সোহরাব আলী, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বরুণ চন্দ্র রায়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক শিবলী মাহবুব, সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল-মাসুদ, সহকারী পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সন্ধ্যা ৭ টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ এর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলী জানিয়েছেন।

দেশের নদ-নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনার কাজ করে যাচ্ছে সরকার —- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের বাঙালা-করতোয়া-ফুলজোড়, হুরাসাগর নদী খনন প্রকল্প কাজ পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি বলেন, ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার বহুমূখী প্রকল্প হাতে নিয়ে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। খননের মাধ্যমে দেশের নদ-নদীগুলো প্রাণ ফিরিয়ে আনার কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শাহজাদপুরের বাঙালা-করতোয়া-ফুলজোড়, হুরাসাগর নদী খনন প্রকল্পকাজ চলছে। এ কাজ সমাপ্ত হলে এসব নদী ফিরে পাবে প্রাণ। ফলে শাহজাদপুরের এসব নদী তীরবর্তী জনমানুষ উপকৃত হবে।’

এদিন দুপুরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বাবারিয়া গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাধারন সম্পাদক আল আমিন হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সেখানে নদী খনন প্রকল্প পরিদর্শণ শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি পৌর এলাকার দরগাহপাড়াস্থ করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন ও করতোয়া নদী তীর পরিদর্শণ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ-দৌলা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম অহেদ চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক একেএম শফিকুল হক, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদ হোসেন উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক আশিকুল হক দিনার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাসেল শেখসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী পলো উৎসবে মেতেছে বাউতের দল

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের করতোয়া নদীতে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো উৎসবে মেতে উঠেছে বাউত ও সৌখিন মৎস্য শিকারীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত তারা মাছ শিকারে মেতে ওঠে। বংশ পরম্পরায় বছরের পর বছর চলে আসা পলো উৎসবের আমেজে দেশীয় প্রজাতির মাছ যেমন কৈ, বোয়াল, শোল, গুজা, চিতল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে আনন্দে বাড়ি ফিরছেন তারা। এভাবেই একের পর এক নদীতে মাছ শিকারে মেতে থাকে তারা। করতোয়া, ফুলঝোড়, হুরাসাগর, গোহালা নদী বেষ্টিত শাহজাদপুর এবং চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিল ঝিলের মাছ শিকার করা এলাকার বাউত ও শৌখিন মাছ শিকারিদের রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদী-নালার পানি যখন কমে যায় তখন একটি দিন নির্ধারন করে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাউত ও শৌখিন মাছ শিকারিরা সমবেত হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। মূলত শাহজাদপুরের বিভিন্ন নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্যের কারণেই বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকার করতে আসা বাউতের দল জমিয়ে তোলে মাছ শিকারের ক্ষেত্রগুলো। মাছ শিকারের এ উৎসবই স্থানীয়ভাবে লোকজনের কাছে পলো বা বাউত উৎসব নামে পরিচিত। সুদূর অতীতে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই বিশেষ করে অগ্রহায়ণ- পৌষ মাসে বা শীতের কোনো এক সকালে বিভিন্ন জলাশয়ে দলবদ্ধ হয়ে গ্রাম বা এলাকাবাসী ছেলেমেয়েদের নিয়ে মাছ শিকার করতে যেতেন। মূলত একটি জলাশয়ে যখন গ্রামের কিংবা এলাকার শত শত লোকজন একই সঙ্গে একই স্থানে মাছ শিকারে নেমে পড়েন, তখন জলাশয়ের জল ঘোলা হয়ে যেত। আর এতে করে ওই জলাশয়ে থাকা মাছগুলো জেগে উঠত। আর তখনই মাছ শিকারিরা মনের আনন্দে মাছ শিকার করে খালই বা পাতিলে ভরে বাড়িতে ফিরতেন। এই ছিল বাউত বা পলো উৎসবের আনন্দ।

পলো উৎসবের জৌলুস আর আগের মতো নেই বললেই চলে। ‘মাছ পাওয়া যাক আর না যাক বাউত বা পলো উৎসব এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। তবে পলো বা বাউত উৎসব বর্তমান সময়ে আগের মতো সংখ্যায় বেশি না হলেও এটিকে অতীত-ঐতিহ্য হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। এখনো শাহজাদপুরের বিভিন্ন নদীতে পলো বা বাউত উৎসব চোখে পড়ে। আর নদীর দু’তীরে উৎসূক জনতা ভীড় জমিয়ে এ উৎসব উপভোগ করে।

বিশ্ববাজারে তাঁতবস্ত্রের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি


শাহজাদপুরে নারী উদ্যোক্তাকে ৬ তাঁতী সংগঠনের সংবর্ধনা

ঐহিত্যবাহী তাঁতশিল্পের কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ ও বিন্দু শাহজাদপুরে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় নারী উদ্যোক্তা সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতিসহ ৬ তাঁতী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে লোপাকে এ সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, তাঁতবস্ত্র উৎপাদন ও বিপননকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা তার নিজের ডিজাইন ও প্রস্তুতকৃত গামছা, থ্রি-পিছ, শাড়িসহ সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিতকরণে তাঁতে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার দেশে ও বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে বাজার সৃষ্টিতে দীর্ঘদিন করে কাজ করে যাচ্ছেন । women and e-commerce forum (WE) এর সহযোগীতায় জান্নাত লোপা নিজস্ব ডিজাইনের তাঁতের থ্রি-পিছ, গামছা, শাড়িসহ শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জের তাঁতপল্লীতে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র সরবরাহ ও রফতানি করছেন। সেইসাথে তিনি ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নিয়ে কাজ করা নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন এবং করোনাকালীন সময়ে সংকটে পতিত তাঁতশিল্পের প্রসার ও পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপাকে সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতি, উপজেলা তাঁতবস্ত্র ব্যবসায় সমিতি, শাহজাদপুর কাপড় হাট কাপড় ব্যবসায়ী সমিতি, তাঁত শ্রমিক ইউনিয়ন, উপজেলা তাঁতী লীগ ও তাঁত বোর্ডের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড মাধ্যমিক তাঁতী সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

এদিন সকালে শাহজাদপুরে উপজেলা শহিদ স্মৃতি সম্মেলন কক্ষে জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস এন্ড পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক কোরবান আলী লাভলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, ওসি শাহিদ মাহমুদ খান, শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু, প্রেস ক্লাব, শাহজাদপুরের সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকি, তাঁতী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা আল মাহমুদ, আলমাছ আনছারী, টিপু সুলতান, আবু শামীম সূর্য্য, হায়দার আলী, খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘জান্নাত লোপা দেশে বিদেশে তাঁতবস্ত্রের বাজার সৃষ্টিতে যে ভূমিকা পালন করছেন যা ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের চরম সংকটময় মুহুর্তে প্রসংশার দাবী রাখে। তার এ কর্মপ্রচেষ্টা শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে বিশেষ ভুমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে women and e-commerce forum (WE) এর মেম্বার ও সাবসক্রাইবার সোনার তরী’র স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপা বলেন,‘ WEএর সহযোগীতা ও তার স্বামী সবুজ বিপ্লবের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান হিরোকের অণুপ্রেরণায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্র বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কাজে তিনি সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা কামনা করেন।’

পরে ৬ তাঁতী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দ স্ব-স্ব সংগঠনের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তা জান্নাত লোপার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে হতাশা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার


শাহজাদপুরে প্রখ্যাত ২ বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর সংস্কারে অধ্যক্ষের বাধা

আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)  : অধ্যক্ষের বাধায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দুই সংগঠক, শাহজাদপুরে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলক ও রৌমারী যুব শিবিরের মুক্তিযুদ্ধের রিক্রুটিং ক্যাম্প ইনচার্জ, শাহজাদপুর কলেজ ছাত্র সংসদের তৎকালীন জিএ ও থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শাহিদুজ্জামান হেলাল এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ফরহাদ হোসেনের কবর সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে মাননীয় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্বেও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমতির দোহাই দিয়ে অধ্যক্ষ সরাসরি এ সংস্কার কাজ নাকচ করে দেয়ায় প্রখ্যাত দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে হতাশা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭২ সনের ৯ জুন শাহজাদপুর কলেজে একটি কৃষক সমাবেশ চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে দুষ্কৃতিকারীদের সশস্ত্র হামলায় ছাত্র নেতা ওই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৬ জন নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। হত্যাকান্ডের পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতার দাবির মুখে কলেজ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিদুজ্জামান হেলাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ হোসেনকে শাহজাদপুর কলেজে (বর্তমান সরকারি কলেজ) অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে সমাহিত করা হয়। সেই সময়ে ওই কবর দু’টি ইট-সিমেন্ট দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। এর প্রায় দীর্ঘ ৪৯ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় কবর দু’টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিদুজ্জামান হেলাল’র পরিবারের পক্ষ থেকে কবর দু’টি পূনঃনির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তারের নিকট অনুমতি চাওয়া হলে প্রথমে স্টাফ কাউন্সিলের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রæতি দিলেও পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংস্কারের বিষয়ে অসম্মতি জানান। এমতবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একটাই প্রশ্ন, দু’জন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার কবর দু’টি কী পূনঃনির্মাণ করা আদৌও সম্ভব হবে না?

এ বিষয়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘যেহেতু সরকারি কলেজ, সেহেতু সংস্কারের অনুমতি দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমতি ছাড়া আমার পক্ষে কবর সংস্কারের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়।’
এ বিষয়ে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আজাদ রহমান জানান, ‘এখানে তো নতুন কোন কবর দেয়া হচ্ছে না। কবর তো আছেই। কবরটি জরাজীর্ণ হওয়ায় তা সংস্কারে তো বাধা থাকার কথা নয়! যখন এই দুই মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়, তখন কলেজটি সরকারি ছিলো না। এখন কলেজটি সরকারি হলেও কবর দু’টি সংস্কারে বাধা দেয়া সমীচীন বলে মনে করি না। এটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।’

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন


শাহজাদপুরে মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর ওরশ সোমবার

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শাহজাদপুরের দরগাহপাড়ায় হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) ও হযরত মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী (রহ.) এর মহান ওস্তাদজী শাহানশাহে তরিকত আউলিয়াকুল শিরমণি জগৎ বরেণ্য সুফী সাধক হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী উক্ত ওরশ শরীফে প্রধান অতিথি করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, শাহজাদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন ছাহেবকে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে উক্ত ওরশ শরীফে প্রধান বক্তা হিসেবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ওয়াজ নসিহত করবেন হযরত মাওলানা হাফেজ জুনায়েত হোসেন ফারুকী ছাহেব, ময়মনসিংহ। ছদরে মাহফিল খাদেমে মিল্লাত সৈয়দ গোলাম ওয়ারেছ শাহ্ ওয়ারেছী পীর ছাহেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান স্পেশাল পিপি এসএ হামিদ লাবলু, পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নাজমুল হোসেন প্রমূখ।

উক্ত ওরশ শরীফ উপলক্ষে কাল রোববার বাদ আছর গিলাফ মিছিল ও বাদ এশা গিলাফ চড়ানো অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, মহান ওস্তাদজী হযরত শাহ শামসুদ্দীন তাবরেজি (রহ.) এর উক্ত বাৎসরিক ওরশ শরীফে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান করবেন মখদুমিয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর ছাহেব, সহকারী ইমাম মাওলানা সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক ছাহেব, হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম ছাহেব, হাফেজ মাওলানা শাহাদৎ হোসেন মুক্তারী ছাহেবসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগন।

মহান ওস্তাদজীর উক্ত বাৎসরিক ওরশ শরীফের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ওরশ শরীফ এন্তেজামিয়া কমিটি। ইতমধ্যেই উক্ত ওরশ শরীফ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তগন শাহজাদপুরে আসতে শুরু করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি, মৎসসহ প্রকৃতি নীর্ভর বহুমূখী খাতগুলো


পানি নেই নদ-নদীর বুকে!

এক সময়ের প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা পদ্মা, যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদ-নদীগুলো পানি প্রবাহ এলাকা শুকিয়ে নদী বক্ষে মাইলের পর মাইল বিরাজ করছে ধুঁ-ধুঁ বালুচর। ভারতের মেরুকরণের প্রক্রিয়ার যাঁতাকলে নিঃষ্পেষিত হয়ে উত্তরাঞ্চলের অসংখ্য নদ-নদী বক্ষে বর্তমানে পর্যাপ্ত পানি নেই। আর শাখা নদীগুলোর অবস্থা আরও করুণ। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নীচে নেমে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের সেঁচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হবার শংকার সৃষ্টি হয়েছে। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৯৫৭ সালে জাতিসংঘের অধীনে ক্রুগ মিশন এর সুপারিশক্রমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্থান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইপিওয়াপদা এর পানি উইং হিসাবে দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রন, পানি নিষ্কাষন ও সেঁচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষি ও মৎস সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধান সংস্থা হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৫৯ মোতাবেক ইপিওয়াপদা এর পানি অংশ একই ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাইবো) সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা-২০০৪ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাপাউবো আইন-২০০০ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পানি পরিষদের মাধ্যমে বোর্ডের শীর্ষ নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

জানা গেছে, ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার ফলে শুষ্ক মৌসুমে যৌবন হারিয়ে যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অতীতের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে নীচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি শাখা নদী, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আগের তুলনায় আনেক নীচে নেমে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি ব্যহত হচ্ছে। এ কারণে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নদী নীর্ভর এ অঞ্চলে ভ-ূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ব্যবহার এবং সেঁচ কাজে পানির অপচয় রোধ করা না গেলে বাংলাদেশ এক মহাসংকটের মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারী উচ্চরণ করেছেন। এ অঞ্চলের এক সময়ের ভয়াল, উত্তাল অনেক নদী ও শাখানদী বক্ষে বর্তমানে পর্যাপ্ত পানি আর দেখা যাচ্ছে না। করতোয়ার পরিণতিও বর্তমানে একই পথে! নাব্যতা সংকট, বাস যোগ্য পানি ও প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী থেকে দেশীয় বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি’র পথে! এসব কারণে এ অঞ্চলের নদী নীর্ভর কৃষক ও এলাকাবাসীর বুকভরা আশা ক্রমশঃ হতাশায় পরিণত হচ্ছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে এসব নদ-নদী বক্ষে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় একদিকে যেমন নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শংকার সৃষ্টি হয়েছে।
শাহজাদপুরের যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকাবাসী জানান, ‘ছোট বেলায় তারা ভয়াল-উত্তাল যমুনার এপাড় (পশ্চিম) থেকে ওপারে (পূর্ব) তাকালে চোখে পড়তো দিগন্তছোঁয়া পানি আর পানি । আর এখন চোখে পড়ে ধুঁ-ধুঁ বালু চর। বিজলী বাতি জ্বলা জাহাজ তো দুরের কথা! পানির অভাবে পাল তোলা নৌকাও আর দেখা যায় না। ফলে যমুনার বিস্তৃত জলসীমা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে ও বালির চরের পরিধি বাড়ছে। ভারতের মরুকরণের কু-প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের জীব বৈচিত্র হুমকির সন্মুখীন হয়ে পড়েছে। মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছরের শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এ অঞ্চলের স্রোতস্বিনী যমুনা, পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী ও এর শাখা প্রশাখাসহ খাল-বিল শুকিয়ে যায়। ফলে নদ-নদী বিধৌত উত্তরাঞ্চলবাসীর শুরু হয় দুঃখ দুর্দশার পালা। প্রকৃতি নীর্ভর কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের বিস্তুর্ণ এলাকা কালের আবর্তনে সময়ের পরিধিতে ক্রমেই মিনি মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দু’চোখ নদী বক্ষের যেদিকে যায় সেদিকেই দেখা যায় ধূঁ-ধূঁ বালুচর। প্রতিবেশী দেশ ভারত নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক গতিপথ রূদ্ধ করে দেওয়ায় সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে মরু অঞ্চলে পরিণত হতে চলেছে। উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে নদীগুলো অবস্থান করায় মরুকরণের কু-প্রভাব এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশকে করছে ভারসাম্যহীন। এসব কারণে এ অঞ্চলের নদীগুলোর গতি প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটছে। আমরা হারাতে বসেছি আমাদের অনেক গ্রামীন ঐহিত্য। আবহমান কাল থেকে গ্রামীন জনপদের মানুষের প্রিয় সুস্বাদু দেশী মাছ এখন সোনার হরিণের মতো। এখন আর দেখা যায়না গ্রামীণ ঐহিত্যের অনুসঙ্গ নৌকা বাইচ, খরা জাল, সূতি ফাঁদ, সেঁচের মাধ্যম দাঁড়। মৎসভান্ডার সংকুচিত বা শুকানোর ফলে অনেক মৎসজীবী বর্তমানে বেকার। আবার অনেকেই পেশার পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
পানিসম্পদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার যমুনা, করতোয়া, বরাল, হুরাসাগর, নন্দকুজা, বেশানী, আত্রাই, গুমানী, গুর, ফকিরনী, শিববারনই, নাগর, ছোট যমুনা, মুসাখান, নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো নদীর পানির স্তর ভূগর্ভস্থ পানির স্তরেরও নীচে নেমে গেছে। সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অসংখ্য শাখা নদী ও নালা গুলোতে। এ দুরবস্থার আরও একটি কারণ হচ্ছে যমুনা নদী অববাহিকায় অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিমাত্রায় অগভীর নলকূপের ব্যবহার। এতে মরা খালে পরিনত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি, মৎসসহ প্রকৃতি নীর্ভর খাতগুলো ।

বিজ্ঞমহলের মতে, ‘উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বীল শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়া। দেশের পানি হিস্যা আদায়ে বহুমুখী পরিকল্পনা ও কর্মপন্থার কথা বলা হলেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি আজও। তাই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে যদি ২০০ ন্যাটিক্যাল মাইল সমুদ্রসীমা অর্জন সম্ভব হয়, তাহলে কৃষিপ্রধান এ দেশকে রক্ষায় কেন আসন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে দেশের নদ-নদীগুলোতে নদী বক্ষে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কেনো নিশ্চিত করা যাবে না !

কৃষকের মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাঁপ


শাহজাদপুরে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত বীজতলা

শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা কোল্ড ইজনুরিতে আক্রান্ত হয়ে বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। এছাড়া অনেক স্থানের বীজতলায় জৈবসার প্রয়োগে তারতম্যতা, মাটি সঠিকভাবে পচাঁতে না পারা, নিয়মিত পরিচর্যা ও উর্বরা শক্তির অভাব এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বীজতলায় চারা রাখার ফলে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা ইরি-বোরো ধানের বীজতলা থেকে কুয়াশার পানি অপসারণ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে তা রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অনেকে আবার অন্যত্র থেকে ধানের চারা ক্রয় করে জমিতে রোপন শুরু করেছেন। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাঁপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা জোতপাড়া মহল্লার শহিদ আলী ফকির, পরশ শেখ, চরবাছরার হেকমত আলী, হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের মোক্তার হোসেন, ইসলামপুর ডায়ার আব্দুস সাত্তার, মজিবর রহমানসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, ‘বিগত বছরগুলোতে ৪০/৪৫ দিনেই তাদের বীজতলার চারাগাছ ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা ও সবুজ সতেজ হয়ে উঠলেও শীত ও কুয়াশার কারণে এবার চারাগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের ৬০/৬৫ দিন পর এমনকি ৯০ দিন পরও চারা উত্তোলন করতে হচ্ছে । অনেকের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাড়ে ৩’শ টাকায় ১’শ আটি (শতকরা হারে) ধানের চারা কিনতে হচ্ছে। কোল্ড ইনজুরিসহ নানা কারণে পোতাজিয়া, কায়েমপুর, পোরজনা, সোনাতুনীসহ উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নেই কমবেশি বীজতলার চারাগাছ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এলাকার কোথাও এখনও চারার সংকট সৃষ্টি হয়নি বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।’

উপজেলার সোনাতুনী ইউনিয়নের দুর্গম বাঙালা চরের তাহাজ ব্যাপারির ছেলে কৃষক আব্দুস সালাম জানান, ‘বাঙালা চরে ৩ বিঘা জমিতে ধান আবাদের জন্য ২০ কেজি ধানের চারা বুঁনেছিলাম। কিন্তু কুয়া’য় (কুয়াশা) সব নষ্ট করে দিলো। তাই বাইরে থেকে চারা কিনছি। বাঙালা চরের বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলাই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকেরা দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।’

এ বিষয়ে শাহজাদপুর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলার ১১’শ ৬০ হেক্টর জমিতে এবার বীজতলা তৈরি করেছে কৃষকেরা। কোল্ড ইনজুরিতে বীজতলার তেমন ক্ষতি হয়নি। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে।’

সুস্থ রয়েছে গাভী ও বাছুর


শাহজাদপুরে ৬ পা বিশিষ্ট বাছুরের জন্ম

আবুল কাশেম ও শামছুর রহমান শিশির : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি গাভী ৬ পা বিশিষ্ট একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। এই অদ্ভুদ বাছুরটি দেখতে প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছে শত শত মানুষ। গত মঙ্গলবার উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বড় ধুনাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জনৈক আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেনের পালিত একটি গাভী ৬ পা বিশিষ্ট একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক জনতা বাছুরটি দেখার জন্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে ভীড় করছে। স্থানীয় ডা: কোরবান আলী জানান, বাছুরটি জন্মের পর থেকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক রয়েছে। বাছুরটির মালিক আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন জানান, আমার পালিত একটি গাভী গত ১৫ জানুয়ারী অদ্ভুদ এ বাছুর প্রসব করেছে। প্রসবের সময় বাছুরটির একে একে ৬টি পা বেড়িয়ে আসে। আমি সহ উপস্থিত সবাই ঘটনাটি দেখে অবাক হয়ে যাই। এখন পর্যন্ত গাভী ও বাছুর সুস্থ্য রয়েছে।

শাহজাদপুরে ডিবি’র অভিযানে ২২ জুয়াড়ি আটক 

শাহজাদপুরে ডিবি’র অভিযানে ২২ জুয়াড়ি আটক হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র এসআই আরিফুল ইসলাম ও এসআই শহীদ আখতার সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিরাজগঞ্জের শাহাজদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বড় মহারাজপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় মোঃ মকবুল (৩৫), মোঃ রেজাউল (৩০) ও মোঃ খোকন ফকির (৩৫) সহ ২২ জন জুয়াড়িকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে থেকে নগদ ১লাখ ১১ হাজার ১’শ ২০ টাকা জব্দ করা হয়।

পরে ডিবি’র এস আই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ধৃত ২২ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার সকালে তাদের শাহজাদপুর উপজেলা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

ডিবি’র এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।