শাহজাদপুরে ইরি-বোরো রোপন শুরু, শৈত্যপ্রবাহের কারনে চিন্তিত কৃষক

কয়েকদফা বন্যার পর তীব্র শীত উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু করেছে।

উপজেলার প্রায় প্রতিটি কৃষি জমি এমনকি শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন খাল-বিল ও নদীর অববাহিকায় ইতোমধ্যেই বছরের প্রধান ইরি-বোরো আগাম জাতের ধান রোপন করা শুরু হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কৃষকরা ইরি-বোরো ধান চাষের জমি উপযোগী করছে।

ইঞ্জিন চালিত ট্রাক্টর দিয়ে মাটি আগলা করার পাশাপাশি সার দেওয়া ও শ্যালো মেশিন বসাতে শুরু করেছে। রবি সরিষা পাকলে তা উত্তোলন করার পরেই মূলত তারা ব্যস্ত হবেন প্রধান কৃষিশষ্য ধান চাষে।

নিম্নাঞ্চল হওয়ায় উপজেলার সবর্ত্র বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩-৪ মাস ফসলি মাঠ পানির নিচে থাকে। বন্যার পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রধান কৃষিশস্য রবি সরিষা চাষ শুরু হয়। এরপরেই বন্যার পানি প্রবেশের আগ পর্যন্ত চলে ধান চাষ। আর ১০-১৫ দিন পরেই মাঠে গড়াবে শ্যালো ও৷ বিদ্যুৎচালিত সেচ মেশিন।
তবে খাল-বিলের নিকটবর্তী জমিগুলোতে ইতোমধ্যেই ধান চাষ শুরু হয়েছে।

উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্ক দূর হয়েছে।

তবে ইতিমধ্যেই শৈত্যপ্রবাহের কারনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, এরকম আবহাওয়া বেশিদিন থাকলে ইরি-বোরো চাষে ব্যাঘাত ঘটবে। আর আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের মতো এবরেও ইরি-বোরো চাষাবাদ ভলো হওয়ার আশা করছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুস ছালাম বলেন, এ উপজেলার প্রধান কৃষি ফসল ধান হওয়ায় সর্বত্রই চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছে কৃষকরা। উপজেলার সব এলাকার কৃষকই ইরি-বোরো আবাদে নিজস্ব বীজতলা করেছেন। বীজতলায় চারার মানও ভালো আছে।

তিনি আরো জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ইরি-বোরো চাষে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। শৈত্যপ্রবাহ বেশি দিন স্থায়ী হবেনা বলে তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে শৈত্যপ্রবাহ ২/১ দিন থাকার পর আবহাওয়া অনুকুলে আশার সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহজাদপুরে দুই মেয়েকে বিষ পান করিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ইসলামপুর ডায়া নতুনপাড়া গ্রামে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে বিষপান করে মা ও দুই মেয়েসহ ৩ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, ডায়া নতুন পাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী লালু ফকিরের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সাথে রবিবার(১৭ জানুয়ারী) সকালে স্বামী লালুর সাথে ঝগড়া হয়। স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার পর লালু ফকির হাটে চলে যায়। পরে এ ঝগড়ার জের ধরেই সকালের কোন এক সময় লালু ফকিরের স্ত্রী জাহানারা বেগম নিজে ও তার দুই মেয়ে অন্তসত্বা রাজিয়া খাতুন (২০) ও লাবনী খাতুন (১১) কে জোর পূর্বক বিষ পান করায়। এ সময় ছোট মেয়ে লাবনী তাদের জোরপূর্বক বিষপান করানো হয়েছে বলে ফোনে বাবাকে জানালে তারা এসে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে শাহজাদপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হচ্ছে মা জাহানারা বেগম (৩৫) তার বিবাহিত ও গর্ভবতী কন্যা রাজিয়া বেগম (২২) এবং লাবনী (১১)। এঘটনায় স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান সহ থানা পুলিশের দল উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা শাহজাদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি জেনে আমরা দ্রুত হাসপাতালে আসি। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব না। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

শাহজাদপুরে কমরেড আসাদ আলীর স্মরনসভা অনুষ্ঠিত

জনগনতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সগ্রামে আমৃত্যু লড়াকু নেতা কমরেড আসাদ আলীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে স্মরনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার(১৫ জানুয়ারী) সকালে শাহজাদপুর গার্লস হাইস্কুল প্রাঙ্গণে জাতীয় গনফ্রন্ট সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে এ স্মরনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গনফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক কমরেড টিপু বিশ্বাস।

জাতীয় গনফ্রন্ট সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এ স্মরনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক শাহ আলম, জাতীয় গনফ্রন্ট নেতা শুকুর মাহমুদ, মতিয়ার রহমান, সোনা মিয়া, বুদ্ধিস্বর সরকার ও কমরেড আসাদ আলীর ছেলে রাজীব আহমেদ প্রমূখ।

উক্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন জাতীয় গনফ্রন্ট নেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কাজী শওকত।

শাহজাদপুরে অনুমোদনহীন নিউ রংধনু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা! লাখ টাকা জরিমানা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নিউ রংধনু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় শাহজাদপুর পৌর শহরের থানার ঘাট নামক স্থানে অবস্থিত নিউ রংধনু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানের সময় হাসপাতালে বেশকয়েকজন সিজার করা রোগী ভর্তি ছিলো তবে আবাসিক অথবা দায়িত্বরত কোন চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। এসময় হাসপাতালের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের কোন ধরনের কাগজ দেখাতে পারেনি।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিউ রংধনু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডাঃ আয়েশা বেগমকে একলক্ষ টাকা ও ম্যানেজারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো: শামসুজ্জোহা, এসময় উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো: আমিনুল ইসলাম।

শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, এই হাসপাতালে গতকাল ২জন মহিলার অপারেশন হয়েছে। যিনি অপারেশন করেছেন তিনিই এ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছেন, সহকারী হিসেবে কোন ডাক্তার ছিলনা। এখানে কোন ডাক্তার বা পাশকরা কোন নার্স আমরা পাইনি। শাহজাদপুরে লাইসেন্স ছাড়া কোন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলবে না। আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো: শামসুজ্জোহা বলেন, এই নিউ রংধনু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার দির্ঘদিন যাবৎ অনুমোদন না নিয়ে চিকিৎসা কার্যজক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সিভিল সার্জনের নির্দেশে আমরা এই হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করি। হাসপাতালের মালিককে ১ লক্ষ টাকা এবং ম্যানেজারকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করি এবং হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

শাহজাদপুর ইব্রাহিম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ইব্রাহিম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় এক অনারম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহজাদপুর ইব্রাহিম মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (বি,এম)-এর আয়োজনে সহকারী শিক্ষক মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকির সভাপতিত্বে ও স্বাগত বক্তৃতায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান শিক্ষক আগত অতিথি ও সাংবাদিকদের মাঝে ডায়েরী ও ফুল অভ্যার্থনা জানান।

লটারি অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, নবনির্বাচিত পৌর মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান, বিদ্যালয়টির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আলহাজ্ব মাসুদ হাসান খান, উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম, শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম, শাহজাদপুর পৌর আঃলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুর ইসলাম এ্যাপোলো, অত্র স্কুলের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা, ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রীরা ও তাদের অভিভাবকবৃ্ন্দ।

লটারি অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা প্রত্যেকেই স্কুলের নতুন ছাত্রীদের বিভিন্ন রকম দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ভর্তি উচ্ছুক ৪১৬ জন ছাত্রীকে লটারির মাধ্যমে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও করতোয়া এই ৪টি শাখায় ভাগ্য নির্ধারণ লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে।

শাহজাদপুরে এমপি স্বপন সুস্থ্য হয়ে দেশে ফেরায় শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্প উপ-মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন দীর্ঘ ২ মাস তুরষ্কের ইস্তাম্বুলে চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে শাহজাদপুরে আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২জানুয়ারী) শাহজাদপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারন জনতার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ শাহজাদপুর উপজেলা শাখা, পৌর শাখা ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত এ শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া মাহফিলে রফিকুল ইসলাম বাবলার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে,এম, হোসেন আলী হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ লিয়াকত, শাহজাদপুর পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র মনির আক্তার খান তরুলোদী, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ আব্দুল হামিদ লাভলু, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু, উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক আশিকুর হক দিনার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রাসেল শেখ প্রমূখ।

উল্লেখ্য তিনি দীর্ঘদিন কিডনি জনিত রোগে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে, চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে শাহজাদপুরে ফিরে আসায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

হাসিবুর রহমান স্বপন সুস্থ হয়ে শাহজাদপুরে ফিরে আসায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারন জনতা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে।

শাহজাদপুরে অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে ভাটা পরিচালনা করার দায়ে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলায় দুইটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আরও দুইটি ইটভাটার মালিককে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ভাটা গুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ওই আদালত।

সোমবার(১১জানুয়ারী) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তার ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মঈন উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহের কথা ব্রিকস ও মকরকোলা এলাকার নাম ব্রিকস ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সময় মাকড়কোলা এলাকার রবিউল ইসলাম পরিচালিত এমএনসি ইটভাটা ও সৈকত ব্রিকস লিমিটেড এর মালিককে পরিবেশ ছাড়পত্র, বসতবাড়ি ও স্কুলের ২০০ মিটারের মধ্যে ইট ভাটা নির্মাণ এর অপরাধে ৪ লক্ষ টাকা করে মোট ৮ লক্ষ জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তার বলেন, এসব ইট ভাটায় লাইসন্সে ও পরবিশে অধদিপ্তররে ছাড়পত্র নাই। ভাটাগুলোতে পরবিশেবান্ধব ঝকিঝাক চমিুনী নাই। এছাড়া জ্বালানী কাঠ দিয়ে ইট পুড়িয়ে এসব ইটভাটা পরিবেশের  ক্ষতি করছে।

তিনি আরো বলনে, বসতবাড়ি ও স্কুলের পাশে ভাটা পরিচালনা, ইট পোড়ানোর লাইসেন্স না থাকায় অবৈধ ইটভাটা ধ্বংসে দেশব্যাপী অভিযান চলছে।এর অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার আজ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় শাহজাদপুর ফয়ার সার্ভিসের টিম, র‌্যাব-১২ এবং জেলা পুলিশের ১ টি করে চৌকস দল উপস্থিত ছিলেন।

গাড়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান পদে আ:লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সেলিম আক্তার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার উত্তরের করতোয়া নদীর তীরবর্তী ২নং গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও অবহলিত গ্রামীন অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে চান তরুন আ’লীগ নেতা সেলিম আক্তার। এজন্য তিনি তার দল আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রতীকের প্রত্যাশা করছেন।

সেলিম আক্তার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ গ্রামের মৃত আলহাজ্ব নওশের আলীর (মাষ্টার) সুযোগ্য পুত্র ও গাড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। কৃষক পরিবারের সন্তান সেলিম আক্তার গত ২ যুগের বেশী সময়কাল ধরে এলাকায় শুধু দলের ভিতরে নয় সাধারন মানুষের মন জয় করেছেন এই তরুন নেতা। তার বিশ্বাস গাড়াদহ ইউপি’র আওয়ামীলীগের বিজয় সুনিশ্চিত করতে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন দলের নিতিনির্ধারক গণ।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের ত্যাগী এ নেতা বলেন, তার জন্ম আওয়ামীলীগ পরিবারে। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ব হয়ে তরুন প্রজন্মকে সু-সংগঠিত করে গাড়াদহ ইউপি’তে নৌকা প্রতীকের বিজয় সুনিশ্চত করতে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গাড়াদহ ইউপি নির্বাচনী এলাকায় দ্বারে দ্বারে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা পৌছে দেওয়ার জন্য এলাকায় সার্বক্ষানিক দলের হয়ে কাজ করছেন।

তরুন এই নেতা নানামুখী প্রচারে নির্বাচনী শোডাউন, উঠোন বৈঠক, গণসংযোগ, ব্যানার, পোষ্টার, শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের লিফলেট ও নানা রংয়ের বিলর্বোড এর মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছেন। করোনাকালীন ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুযোগের সময় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে দুঃস্থ ও অসহায় হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।

শিক্ষিত ও ক্লীন ইমেজের করণে ইতিমধ্যেই তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। বিশেষ করে তাঁর বিনয়ী আচরণ দ্বারা স্থানীয় নেতা কর্মীসহ সর্ব সাধারনকে তিনি কাছে টানতে সক্ষম হয়েছেন। তাই এলাকার মানুষ তার উপরে দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে শুরু করছেন এবং এ ইউপি’তে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দল তাকেই গাড়াদহ ইউনিয়নের নৌকার কান্ডারী হিসেবে মনোনয়ন দিবেন বলে তিনি আশাবাদী।

প্রতিবেদককে সেলিম আক্তার বলেন, আমি দলের মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত গ্রাম হবে শহর এ ঘোষণা আমি বাস্তবে রূপদান করবো। সরকারি ত্রাণ, অনুদান, ভাতা উন্নয়ন কর্মকান্ডে সুষম বন্টন করবো। মাদক, সন্ত্রাস, ভিক্ষুক, দারিদ্র, বেকারত্ব মুক্ত ইউনিয়ন গড়োবা, কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করবো। বাল্যবিয়ে রোধকরা সহ একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ইউনিয়ন গড়ে তুলবো। জেলার মধ্যে গাড়াদহ ইউনিয়ন হবে দেশের শান্তির ও সুশীল সমাজের দৃষ্টান্তমূলক ডিজিটাল ইউনিয়ন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা আমার রক্ত বিন্দুর শিঁড়ায় প্রবাহিত, দলের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থেকেছি, দলের সাথে কখনো বেইমানী করি নাই। আশা করি সবকিছু বিবেচনা করে আওমীলীগ সভানেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাকে অবশ্যই মনোনয়ন দেবেন। আমি যদি মনোনয়ন পাই তাহলে অবশ্যই জয়লাভ করব। সেই সাথে ইউনিয়ন থেকে দুর্নীতির কালিমা মোচন করে জনগনের সমস্যা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব।

উল্লেখ্য, সেলিম আক্তার ১৯৭৮ সালের ১ জুন গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৯০ ইং সাল থেকে তালগাছি আবু ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়ণরত অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে ধারনা নিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭-১৯৯৮ শিক্ষাবর্ষে সরকারি আকবর আলী কলেজ, উল্লাপাড়ায় বি.এস.এস ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হয়ে উক্ত কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত বার্ষিকী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সেলিম আক্তার ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্য়ন্ত শাহজাদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১২ সালে গাড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের গরুর গাড়ী প্রতীক নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। পূনরায় ২০১৯ সালে গাড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শাহজাদপুরের হাবিবুল্লাহনগরে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নে অসহায় ৭৩ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও ৭০ প্যাকেট শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হলো। আজ সোমবার দুপুরে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই শীতবস্ত্র ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সচিব নাঈমূল ইসলাম উজ্জল, ইউপি সদস্য, আব্দুর রাজ্জাক, মো. মমিন, শফিকুল ইসলাম বাবু, জাহিদ হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. মঞ্জুয়ারা খাতুন, মুন্নি প্রমূখ।

শীতবস্ত্র ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণের সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, এখন সারাদেশে শীতের তীব্রতা বেশী। আমার ইউনিয়নে আমি উপস্থিত থেকে শতভাগ সুষ্ঠুভাবে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অসহায় দুস্থ্য ও শীতে কষ্ট করা মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে।

শাহজাদপুরে সংবাদপত্র এজেন্ট সন্তোষ সাহার মাতৃবিয়োগ

শাহজাদপুরের সংবাদপত্র এজেন্ট ও পুস্তক ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার সাহার মা মহামায়া সাহা (৯৫) বার্ধক্যজনিত কারণে আজ রোববার দুপুর দেড়টায় পৌর এলাকার চালা শাহজাদপুর মহল্লার নিজ বাসভবনে পরলোকগমন করেছেন।

এদিন সন্ধ্যায় শাহজাদপুর মহাশ্মশানে তাঁর অন্তেষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম এর প্রধান সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।