সম্পাদকীয়


অসাম্যের পৃথিবীতে মানুষ বাঁচবে কতদিন?

করোনা ভ্যারিয়ান্ট দিচ্ছে ডাক,
পুঁজিবাদী বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাবস্থা
ধ্বংস হয়ে যাক,
বিশ্বব্যাপী মানুষ মুক্তি পাক।

করোনা ভ্যারিয়ান্টের বৈশ্বিক বাণিজ্য ধারা ক্রমাগত বিস্তার লাভ করেছে। সেটি মানুষ বাঁচানোর জন্য নয়। শুধুমাত্র লাভের জন্য। বিশ্ব সংস্থাগুলো পুঁজিবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় তাদেরই প্রেসক্রিপশেন অনুযায়ী নীতিমালা নির্ধারন করে বিশ্বব্যাপী এক বাণিজ্য প্রটোকল গড়ে তুলছে। স্বাধীন দেশগুলোতেও স্বাধীন রাজনৈতিক মতাদর্শ না থাকায়, পুঁজিবাদী অর্থনীতির লন্ঠুন বৃত্তির ধারার রাজনৈতিক ধ্যান ও জ্ঞানপুষ্ট শাসকরা দেশের সাধারন মানুষের জীবন রক্ষার জন্য চিকিৎসা সেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা দেবার মত কোন নিরাপত্তা বলয় রাষ্ট্রের মাঝে তৈরী করেন নি। বর্তমানে করোনা সঙ্কট মোকাবেলাতেও তাদের উল্ল্যেখযোগ্য ও দৃষ্টান্তমূলক কোন পদক্ষেপ নেই। রাষ্ট্র শাসকরা রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে তারা নিজেরাই এই বিশ্ব বাণিজ্য ধারায় যোগ দিয়েছেন। তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক সামর্থ গড়ে তুলবার জন্য।

বিশ্ব মহামারীর কালে ভ্যাক্সিন ভ্যক্সিন বলে বিশ্বব্যাপী প্রচার প্রপাকান্ডা বৈশ্বিক মূল সমস্যাকে আঁড়াল করে সুকৌশলে মালটি ন্যাশনাল কোম্পানীগুলোর বাণিজ্যিক ধারাকে প্রসারিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশ্বব্যপী কার্বণ ও মিথেন গ্যাসের বিরুপ প্রভাব ছড়িয়ে পরেছে। বাতাশেও মানুষের শ্বাস প্রশ্বাস নেবার মত স্বাভাবিক অক্সিজেন প্রবাহ নেই। বাতাশে অক্সিজেনের ঘাটতির কারনে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ফুঁস ফুুঁস ঠিকমত কাজ করছে না। পৃথিবী ক্রমাগত জীব ও অনুজীবের বাস অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আমরা সাধারনেরা অসাধারন হয়ে গা ভাসিয়ে চলছি। যেন আমাদের বলবার ও করবার কিছু নেই।

প্রকৃতি পরিবেশের স্বাভাবিক ধারা নষ্ট করে শিল্পায়ন ও উন্নয়নের নামে উন্নয়ন প্রতিবন্ধক ধারায় নষ্ট ও ধ্বংস করা হয়েছে, হচ্ছে উদ্ভীদ জগত। যে উদ্ভীদ জগত হলো অক্সিজেনের ভান্ডার। কৃষি এবং চাষাবাদের ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাভাবিধ ধারা রক্ষা করা হয়নি। নদী নালায় খাল বিলে পানি নেই। ভূতলের পানির স্তর অনেক নীচে। ক্রমাগত আরো নীচে চলে যাচ্ছে। বড় বড় নদীগুলোতে ধুসর বালু চর। তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মিলছে না নিরাপদ খাদ্য ও সুপেয় পানি, রোগে চিকিৎসা। নানা রোগ ও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষকে অকাতরে তাদের প্রাণ বিসর্জন দিতে হচ্ছে। প্রকৃতি পরিবেশকে শোধন ব্যতিত শুধুমাত্র ঔষধ ও ভ্যাক্সিন নির্ভর হয়ে এ অসাম্যের পৃথিবীতে মানুষ বাঁচবে কতদিন?

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
০৯ মে, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, রবিবার

শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০ সালের জানুয়ারী মাসে শাহজাদপুরে প্রথম এসেছিলেন। একই বছরের ২০ জানুয়ারী শাহজাদপুরের ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইয়ে কবির সহস্তে লেখা সন্তব্য এবং রবীন্দ্রনাথের অর্ডার বুক এ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করছে। নদীপথে বোটে চেপে কুঠিবাড়ির পূর্ব দিক ও দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল ও ফুলঝোর নদীর সংযোগ খাল (ছোট নদী) দিয়ে তিনি কুঠিবাড়ীতে আসতেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই ছোট নদীর এখন আর কোন অস্তীত্ব নেই। সেটি নানা পন্থায় এখন ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে। খালের পূর্বাংশে ভিড়তো কবিকে বহনকৃত বোট। খালের পাড়েই ছিল হলদে রঙের দোতালা বিরাট অট্টালিকা (নীলকরদের কুঠিবাড়ী-যা পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের আবাশস্থল ছিল)।

শাহজাদপুরে এসেই চার কামরা বিশিষ্ট ঐ দোতালায় কবি তাঁর সাময়িক আস্তানা গড়ে তুলতেন। ঐ খালের পাড়েই ছিল বিড়াট অশ্বত্থ গাছ ও খেয়া ঘাট। কবিগুরু খেয়াঘাট কবিতায় উল্লেখ করেছেন-‘খেয়া নৌকা পারাপার করে কত নদী স্রোত। কেহ যায় ঘরে কেহ আসে ঘর হতে’। বর্তমানে ঐ খেয়াঘাট ও অশ্বত্থ গছের কোন চিহ্ন নেই। কুঠি বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণে দুটি বাগান ছিল। ঐ বাগানে কৃত্রিমভাবে তৈরী হ্রদের মধ্যে ১২ মাস পদ্ম ফুল ফুটে থাকতো। পাকা পিলারের সাথে লোহাড় শিক দিয়ে বেড়া ঘেড়া উত্তরের বাগানে বড় বড় ঝাউ, লিচু, আম,দারুচিনি দক্ষিনে কামিনি ফুলের গাছসহ অন্যান্য দুস্প্রাপ্য গাছের অবস্থান ছিল।

ঐ বাগানের কথাই রবীন্দ্রনাথ ‘ছিন্নপত্র’ কবিতায় লিখে গেছেন-“দক্ষিণের বারান্দায় কেবল মাত্র কামিনী ফুলের গন্ধে মস্তিস্কের রন্ধ্র পূর্ণ হয়ে ওঠে”। এখন একমাত্র দুটি লিচু গাছ ছারা এর আর কোন গাছের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাগান পেড়িয়ে কুঠিবাড়ির উত্তর দিকের দরজা দিয়ে বারান্দায় উঠে ডানে দোতালায় উঠবার সিঁড়ি। উপরে উঠেই উত্তর পূর্বকোনে রবীন্দ্রনাথের স্নানের ঘড়। স্নান ঘড়ে স্নান করতে করতে তিনি অনেক গানের সুর দিয়েছেন। এর সামনের দরজা দিয়ে আরেকটি ঘড়ে প্রবেশ করা যায়।

রবীন্দ্রনাথ ‘ছিন্নপত্রে’ কুঠিবাড়ি সম্পর্কে লিখেছিলেন-‘আমি চারটি বড় বড় ঘড়ের মালিক’- তার মধ্যে এই কক্ষটিই বৃহত্তম। ঐটিই ছিল জমিদার রবীন্দ্রনাথের দরবার কক্ষ। ০৫-০৯-১৮৯৪ শাহজাদপুরে বসে চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন,‘অনেককাল বোটের মধ্যে বাস করে হঠাৎ শাহজাদপুরের বাড়িতে এসে উত্তীর্ণ হলে বড় ভালো লাগে।

বড় বড় জানালা,দরজা,চারিদিক থেকে অবারিত আলো এবং বাতাস আসতে থাকে। যেদিকে চেয়ে দেখি সেই দিকেই গাছের সবুজ ডাল চোখে পড়ে এবং পাখির গান শুনতে পাই। দক্ষিণের বারান্দায় বেরোবা-মাত্র কামিনী ফুলের গন্ধে মস্তিস্কের রন্ধ্রগুলি পূর্ণ হয়ে ওঠে। হঠাৎ বুঝতে পারি এতদিন বৃহৎ আকাশের জন্য ভিতরে ভিতরে একটা ক্ষুধা ছিল, সেটা এখানে এসে পেট ভরে পূর্ণ করে নেয়া গেল। আমি চারটি বৃহত ঘরের একলা মালিক- সমস্ত দরজাগুলি খুলে বসে থাকি। এখানে যেমন আমার মনে লেখবার ভাব এবং লেখবার ইচ্ছা আসে, এমন আর কোথাও না। রবীন্দ্রনাথ শাহজাদপুরে বসেই পোষ্টমাষ্টার গল্প লিখেছিলেন।

শাহজাদপুর থেকে ভ্রাতুস্পুত্রী ইন্দ্রিরা দেবীকে পোষ্টমাষ্টার সম্পর্কে একাধিক চিঠি লিখেছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ সালে লিখেছিলেন,‘আমাদের কুঠিবাড়ির একতলাতেই পোষ্ট অফিস। বেশ সুবিধা চিঠি আসবামাত্রই পাওয়া যায়। পোষ্টমাষ্টারের গল্প শুনতে আমার বেশ লাগে। বিস্তর অসম্ভব কথা বেশ গম্ভীরভাবে বলে যায়। পরে ২৯-০৬-১৮৯২ সালে লেখা অন্য এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,‘বাতিটা জ্বালিয়ে টেবিলের কাছে কেদারিটি টেনে যখন বেশ প্রস্তুত হয়ে বসেছি,হেনকালে কবি কালিদাসের পরিবর্তে এখানকার পোস্টমাস্টার এসে উপস্থিত।

মৃত কবির চেয়ে একজন জীবিত পোষ্টমাষ্টারের দাবি ঢের বেশি। অতএব পোষ্টমাষ্টারকে চৌকিটি ছেরে দিয়ে কালিদাসকে আস্তে আস্তে বিদেয় নিতে হল। এই লোকটির সাথে আমার একটু বিশেষ যোগ আছে। যখন আমাদের কুঠিবাড়ির এক তলাতেই পোষ্ট অফিস ছিল এবং আমি প্রতিদিন এঁকে দেখতে পেতুম, তখনি আমি একদিন দুপুর বেলায় এই দোতালায় বসে পোস্টমাস্টারের গল্পটি লিখেছিলুম। সে গল্পটি যখন হিতবাদীতে বেরোল,তখন আমাদের পোষ্টমাষ্টার বাবু তার উল্লেখ করে বিস্তর লজ্জামিশ্রিত হাস্য বিস্তার করেছিলেন।

যাই হোক, এই লোকটিকে আমার বেশ লাগে। নানা রকম গল্প করে যায়, আমি চুপ করে শুনি । পোষ্টমাষ্টার গল্পের শেষটা অনেকটা বেদনা বিধুর।‘পোষ্টমাষ্টার’ চলে যাচ্ছেন, বেদনাভারাতুর রতন আর বিষন্ন পোষ্টমাষ্টারের মনোভঙ্গি ও মনোবেদনা বোঝানোর জন্য রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- “যখন নৌকায় উঠিলেন এবং নৌকা ছাঁড়িয়া দিল, বর্ষাবিস্ফোরিত নদী ধরণীর উচ্ছলিত অশ্রুরাশির মতো চারিদিকে ছলছল করিতে লাগিল, তখন হৃদয়ের মধ্যে অত্যন্ত একটা বেদনা অনুভব করিতে লাগিলেন- একটি সামান্য গ্রাম্য বালিকার করুণ মুখচ্ছবি যেন এক বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অব্যক্ত মর্মব্যথা প্রকাশ করিতে লাগিল।

একবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল,‘ফিরিয়া যাই,জগতের ক্রোড়বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসি’-কিন্তু তখন পালে বাতাশ পাইয়াছে,বর্ষার স্রোত খরতর বেগে বহিতেছে, গ্রাম অতিক্রম করিয়া নদীকূলের শ্মশান দেখা দিয়াছে। নদীপ্রবাহে ভাসমান পথিকের উদাস হৃদয়ে এই তত্ত্বের উদয় হইল, জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ,কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কি ! পৃথিবীতে কে কাহার। কিন্তু রতনের মনে কোনো তত্ত্বের উদয় হইল না।

সে সেই পোষ্ট অফিসের গৃহের চারিদিকে কেবল অশ্রুজলে ভাসিয়া ঘুরিয় ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল। বোধ করি তাহার মনে ক্ষীণ আশা জাগিতেছিল, দাদাবাবু যদি ফিরিয়া আসে। রবীন্দ্র নাথের অর্ডার বুক/হুকুমনামার স্বাক্ষর অনুযায়ী তার শেষ হুকুম নামা স্বাক্ষর করেছিলেন বাঙলা ১৩০৩ সালের ১১ ফাল্গুন অর্থাৎ ১৮৯৭ সালের ২১ ফেবরুয়ারি। এ থেকে বলাযায়, ১৮৯০ এর জানুয়ারী থেকে ১৮৯৭ ফেবরুয়ারী পর্যন্ত রবীন্দ্র শাহজাদপুরে এসেছেন।

১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথদের যৌথ জমিদারি ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের অংশ রবীন্দ্রনাথের মেঝকাকা গিরীন্দ্রনাথের বংশধরদের হাতে গেলে তখন থেকে কবি শাহজাদপুরে আসা ছেরে দেন। শাহজাদপুরের অংশ গিরীন্দ্রনাথদের হাতে চলে যাওয়ার কয়েকমাস পরে ১৩০৪ সালের ৮ আশ্বিন রবীন্দ্রনাথ পতিসর যাওয়ার পথে তাঁর প্রিয় শাহজাদপুরে আর একবার এসেছিলেন। সেদিন তাঁর শাহজাদপুরের বিচ্ছেদ স্মরণ করে এখানে বসেই বৈষ্ণম কবিদের বিরহ-বিচ্ছেদের গানের অনুসরণে তাঁর বিখ্যাত সেই ‘যাচনা’ কবিতাটি বা গানটি লিখেছিলেন-‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে-আমার নামটি লিখিয়ো- তোমার মনের মন্দিরে।

পোষ্টমাষ্টার গল্পে পোষ্টমাষ্টারের বিদেয় রতনের মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের বিদেয় বেলাতেও রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রভক্তদের অনুভূতি কেমনতর ছিল সেটি যুক্তিশাস্ত্রের বিবেচনায় অনুধাবন করা যেতে পারে।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
শনিবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বর্তমানের রবীন্দ্র মিউজিয়াম


নীলকরদের কুঠিবাড়ী থেকে রবীন্দ্রনাথের কাছারি বাড়ি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রাণের কবি। আমাদের প্রাণের স্বজন। বাঙালির জীবন-যাপন,সংস্কৃতি সবকিছু জুড়ে আছে রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্র নাথ জমিদারী তদারকির কাজে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে অনেক বার শাহজাদপুরে এসেছেন, অবস্থান করেছেন তাঁর কাছারি বাড়িতে।

শাহজাদপুর কাছারি বাড়ির তাঁর শোবার ঘড়ের দক্ষিনের বারান্দা এবং তাঁর প্রিয় বকুল তলার বেদীতে বসে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে থেকে রচনা করেছেন অসংখ্য মূল্যবান কবিতা, গান ও ছোট গল্প। লিখেছেন তার প্রিয়জনদের কাছে অসংখ্য চিঠি। সে কারনেই শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ঐতিহাসিক মর্যাদা নিয়ে এখনও বাঙলা,বাঙগালি, বাঙলা ভাষা ও জাতীয় চেতনার ঐক্যতান বহন করে চলেছে। তাইতো প্রানের একান্ত অনুভূতি থেকেই আমরা সকলে মিলে গেয়ে উঠি “আমার সোনার বাঙলা আমি তোমায় ভালবাসি”।

রবীন্দ্র নাথের এ হৃদয়স্পর্শী গানটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। তবে এ কাছারি বাড়ি প্রতিষ্ঠা পাবার অনেক পূর্বে এর আরও একটি ইতিহাস রয়েছে। এখনকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যমন্ডিত রবীন্দ্র কাছারি বাড়িটি পূর্বে ছিল নীল কুঠি। শতশত বছরের শাসক ও শোষক গোষ্ঠি ইংরেজদের পতন ঘটেছে বহু আগেই। তবে তাদের শোষণের নানা স্মৃতিচিহ্ন অস্তিত্ব আজো বহন করে চলেছে এ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার মধ্যে শাহজাদপুর নীলকুঠি (রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি) অন্যতম।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে শাহজাদপুর এলাকা নীল চাষের জন্য তৎকালিন সময়ে উপযুক্ত এলাকা হিসেবে ইংরেজদের কাছে বিবেচিত ছিল। ফলে এখানে প্রত্যক্ষভাবে আগমন ঘটে ইংরেজদের। বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠে নিলকুঠি। সে সময়ে এলাকার নদী তীরবর্তী কৃষিমাঠ জুড়ে নীল চাষ করা হতো। আজো সেসব স্থান নীল চাষের সাক্ষ্যবহন করছে। এই নীল চাষের জন্য শ্রমিক হিসাবে বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র দিনমজুরদের জোর করে কাজে লাগানো হতো। এলাকার কৃষদের নানা ভয়ভীতি ও নির্যতনের মাধ্যেমে নীল চাষে বাধ্য করা হতো।

পরবর্তীতে ব্যাপক কষ্টদায়ক ও নির্যাতন মূলক নীলচাষ করতে কৃষকেরা একপর্যায়ে অনাগ্রহ প্রদর্শন শুরু করে। শুরু হয় নীল চাষের বিরুদ্ধে নির্যাতিত কৃষকদের বিদ্রোহ। এরপর থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়। নীলচাষ বন্ধে নীলকুঠিতে কৃষকেরা অক্রমন করে। একসময়ে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ কৃষকদের চাপ ও ঘেড়াও আন্দোলনের মুখে ছোট লাট গ্রান্ট নীল চাষ বন্ধের ঘোষণা দেন।

পরে বৃটিশ সরকার নীলচাষ বন্ধে নীল কমিশন গঠন করে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে নীলচাষ বন্ধ হয়ে যায়। পরে এতদাঞ্চল নাটোরের রানী ভবানীর কাছে হস্তান্তর হয়। পরে ১৮৪০ সালে তিন তৌজির অন্তর্গত এ ডিহি শাহজাদপুরের এ অংশ নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন।

সেই থেকে এটি ছিল রবীন্দ্র নাথের পারিবারিক জমিদারীর অংশ। পরে পূর্ববাংলার জমিদারীর অংশ কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, শাহজাদপুরের কুঠিবাড়ী ও নওগার পতিসর কাছারিবাড়ী এলাকার জমিদারী তদারকি করার দায়িত্ব পরে রবীন্দ্রনাথের উপর। জমিদারী দেখাশোনার কাজে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ কুঠিবাড়ী থেকে নদী পথে তার প্রিয় পদ্মা ও চিত্রা বোটে চেপে শাহজাদপুরে আসতেন।

নদীপথে যাতায়াত ও বিভিন্ন স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোহিত হতেন রবীন্দ্রনাথ। এভাবেই কবিগুরু তার শহুরে বৃত্তাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলার প্রকৃতি,জনমানুষ,সমাজ-সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে রচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের বিশেষ ভান্ডার। রবীন্দ্র জমিদারির শাসনামলে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ীর আশেপাশে বাগদি সম্প্রদায়ের জনগোষ্টিকে বসানো হয়েছিল। তারা জমিদারবাড়ীর নানা কাজকর্ম করতো পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের পালকির বাহক হিসেবে কাজ করতো। ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হিসেবে বাগদি সম্প্রদায়ের একটি জনবসতি এখনো রয়েছে।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
০৭ মে, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, শুক্রবার

তাকে কি বিবেক বলা যায়?

সুবিধাবাদীদের বাইরে সাধারণ মানুষ রুটি রুজির প্রশ্নে কারো সাথে আপোষ করে চলেনা। নিজেদের আত্ম সম্মান বিসর্জন দেয়না। তারা শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে রুটি রুজির সন্ধান করে। অক্ষম হলে সাম্য প্রতিষ্টায় রাষ্ট্র ও সমাজের অসাম্য, অন্যায়, অবিচারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হয়। আর আমরা সাংবাদিকরা লুটেরা ধনিক বনিকের কাছে নিজেদের মান ইজ্জত আত্মসম্মান বিক্রি করে ক্রীতদাস হয়ে নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিতার দাবী করি। আমরা সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ, জাতির বিবেক? রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। যে বিবেক তালাবদ্ধ থাকে। অন্যের কাছে বন্ধক দেয়া থাকে। তাকে কি বিবেক বলা যায়?

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
০৩ মে, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, সোমবার

সব কাপুরুষের দল

মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন দেশ স্বাধীন হওয়ায় আমরা কি পেলাম? কিছুই পাইনি। চোর, ডাকাত, লুটেরা পেয়েছি। বিবেকীহীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব পেয়েছি। সবই ঠিক আছে। এর জন্য কি মুক্তিযোদ্ধারা দায়ী? আমি বলি- আমরাতো রক্তের বিনিময় দেশটা স্বাধীন করে দিয়েছি। চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি, দাবী ও আন্দোলন করে তোমরা একটু আদায় করে নাও। সে ক্ষমতা নেই। শুধু এটা পেলামনা। ওটা পেলাম না। সব দোষ মুক্তিযোদ্ধাদের। পাকিস্তান ভালো ছিল। হা তাতো বটেই। পাকিস্তানীরা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে অপারেশান সার্চ লাইটের নামে ক্রাকডাউন করে নিরীহ বাঙালিদের ওপর শুরু করে গণহত্যা অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট। যুদ্ধের নয় মাস ধরে তারা এগুলো করেছে। তখন টুপি মাথায় দিয়ে মুসুলমান সেঁজে ইসলাম রক্ষায় গনিমতের মাল হিসেবে তোমরা মা বোনকে ধরে খান সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছো। তাদের সেই নৃসংশ হত্যা নির্যাতন বিবেহীন অমানবিক কর্মকান্ডের কথা এতো তারাতারী ভুলে গেলে কেমনে? তাহলে কি ধর্মের নামে তোমাদের মনোজগতে এখন পেয়ারে পাকিস্তান রয়েছে। এখনো সেই স্বপ্নই দেখছো। তোমরা অমানুষ।

তখন আমাদের পরনের কাপড় ছিলনা। পায়ে একটা স্যান্ডেল কিম্বা চটি জুতাও ছিলনা। তিন বেলা খাবার মেলেনি। ভুখা মিছিল করতে হয়েছে। রাস্তাঘাট ছিলনা। বিদ্যুৎ ছিলনা। স্কুল কলেজ ছিলনা। অনেক কিছুই ছিলনা। এখন সেগুলো মিলেছে। তবে শাসনে শোষণ,বৈষম্য পূর্বের চেয়ে অনেকগুন বেড়েছে। মানুষ বিবেকহীন হয়েছে। রাজনীতিতে গণতন্ত্র নেই। আর্থিক সাম্যতা নেই। লুটপাট হচ্ছে। দেশে বঞ্চনা বেড়েছে। খুনখারাবী বেড়েছে। ধর্ষণ বেড়েছে। ধনীক, বণিক, আমলা, রাজনীতিবিদরা দেশের টাকা বিদেশে পাঁচার করছে। তাদের ছেলে মেয়েদের বিদেশে রেখেছে। সেখানে সেকেন্ড হোম,থার্ড হোম,বেগম পাড়া বানিয়েছে। এগুলো সবই দৃশ্যমান। শিক্ষা সংস্কৃতি,প্রকৃতি,পরিবেশ সব কিছুকে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আইন ও শাসনে ন্যায়পরায়নতা নেই। এর সবই সত্য। তাহলে কি করতে হবে?

মুক্তিযোদ্ধারা আবার জীবন দিয়ে তোমাদের জন্য সোনার হরিন এনে দেবে? তোমরা ঘরে বসে বসে মোবাইলে গেম খেলবে। মাদক ব্যবসা করবে। মাদক সেবন করবে। টাউট রাজনীতিবিদদের পিছে পিছে শ্লোগান দিয়ে তাদের কাছ থেকে উচ্ছিষ্ট খাবে। বাপের গরু,ছাগল,হাস,মুরগী,জমি জিরাত বিক্রী করিয়ে ঘুষ দিয়ে চাকরী নিবে। চাকরীতে যাগদান করে আবার ঘুষ দূর্নীতি করবে। নিজেদের মেধাবী বলে দাবী করবে। এর পর আর বাবা মাকে চিনবে না। আবার বাবা মাকে চাপ দিয়ে দামী মোবাইল ফোন কিনবে। প্রেম পীরিতি করবে। ঘরে বসে সারাদিন গেম খেলবে। এরপর এদিক সেদিক কিট ক্যাট করে ঘুরে বেড়াবে। নিজেরা কিছু করবেনা। এরপর বলবে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করে ভুল করেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ায় আমরা কিছুই পেলাম না। পাকিস্তানিরা তোমাদের জন্য মধুর হাড়ি রেখে ছিল। সে মধু তোমরা পেলেনা। আরে বেটা সে সময়তো তোমাদের জন্মই হয়নি।

চাইলেই কিম্বা ইচ্ছে করলেই কি সব কিছু পাওয়া যায়? আপনাতেই নিজের অধিকার আদায় হয়না। অধিকার আদায় করে নিতে হয়। না কাঁদলে মা দুধ দেয়না। সেটিও তোমরা ভুলে গিয়েছো। মুক্তিযোদ্ধারাই তোমাদের সব এনে দেবে। কত মজা। পরের ধনে পোদ্দারী। যদি মনে কর কিছুই পেলাম না। তবে নিজেদের না পাওয়ার বিষয়গুলোর অধিকার আদায়ের প্রশ্নে মাঠে নেমে দাবী আদায় করে নাও। মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদের সাথে আছে, থাকবে। সে মুরোদ নেই। শুধু চাই আর চাই। লুটেরেরা তাদের লুটের মাল তোমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসবে না। লুটের মাল ধরতে হলে মাঠে নামতে হবে। নিজের অধিকার নিজেদের আদায় করে নিতে হবে। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের মত জীবন বিসর্জন দেয়ার মত মানষিক শক্তি অর্জন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ কি এবং কেন ছিল? সে মর্ম কথাগুলো জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীনতা শব্দের মঝেই লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। স্বাধীনতা শব্দটিও প্রশ্নবিদ্ধ।

সবই মুক্তিযোদ্ধা বাপেরা করে দিয়ে যাবে না। বাবারা এখন মৃত্যুপথ যাত্রী সে হুশটাও তোমাদের নেই। শুধু তাঁদেরকেই দায়ী করছো। সব কাপুরুষের দল।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
০১ মে, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, শনিবার।

লাল কার্ড সবুজ কার্ড দেখানো মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ নয়


বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানানো যাবেনা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই একেকটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। লালকার্ড সবুজ কার্ড দেখিয়ে তাঁরা কাউকে ক্ষমতায় উত্তোলন ও অবতরণের দর্শন লালন করেন না। একবার জীবন বাজী রেখে স্বশস্ত্র যুদ্ধ করে অন্ততঃ সে অভিজ্ঞতা টুকু তাঁরা অর্জন করতে পেড়েছেন।

বাংলাদেশে বিগত ৫০ বছরের বিরাজনীতি করণের মাঝ দিয়ে রাজনীতিতে ও সমাজে যে আগাছা তৈরী হয়েছে, সেই আগাছাগুলো নিজেদের রক্ষায়, নতুন প্রজন্মের মাঝে রাজনীতিহীনতার সুযোগে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে তারা ধর্মের খোলসে বঁধে ফেলার অপ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এর পৃষ্টপোষকতায় রয়েছে অবৈধ পুঁজি অর্জনকারী লুটেরা গোষ্টি ও বিদেশী দাতারা। ওরা গাছেরটা খয়েছে তলারটাও কুড়াতে চায়। তারা নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে আখেরে বেহস্ত দোজখের স্বপ্ন দেখিয়ে আফগানিস্তানের মত ইসলামি বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। দেশকে আফগানিস্তান, দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাতে চায়।

কার লেজ কার সাথে বাঁধা আছে একটু পশ্চাতে হাত দিলেই বোঝা যায়। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের মানুষ এমিনেতই বিগত ৫০ বছর ধরে শোষিত বঞ্চিত ও নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এর পরেও ক্ষমতার রুটি ভাগাভাগিতে দেশটা শিয়াল কুকুরের হাতে চলে যাক মুক্তিযোদ্ধারা ও তাঁদের প্রজন্মরা কোনদিন সেটি হতে দেবে না। যারা ইসলামি বিপ্লবের ঘারে চেপে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছেন। সেটিও কখনো হবেনা। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলীম। তবে উগ্র ধর্মান্ধ নয়। ইসলামী বিপ্লব জিয়াউর রহমানের শাসনামলে হয়নি,এরশাদ গুটি চালিয়ে ছিলেন হালে পানি পায়নি,পালে বাতাশ লাগেনি,পতন ঘটেছিল। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে হয়নি,জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে হবে এটি কখনো সম্ভব নয়। মোট কথা বাংলাদেশকে যারা দ্বিতীয় পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখছেন,গুটি চালছেন, সেটি কখনো হবার নয়। সময় থাকতে লাইনে ফিরুন।

মুক্তিযোদ্ধারা জনগনের অতন্ত্র প্রহরী। ১৯৭১ সালে জাতীয় সঙ্কটকালে তারা দেশের মানুষের মুক্তির পক্ষে ছিলেন, এখনও দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের সাথেই আছেন। চিন্তা চেতনায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য রক্ষায় তাঁরা তাঁদের নিজেদের শ্রেণি চরিত্র পরিবর্তন করেন নি। প্রয়োজনে এই বৃদ্ধ বয়সেও মানুষকে অহিংস মুক্তির লড়াইয়ে যোগদানের জন্য গণস্বচেতনতা বৃদ্ধি করবার প্রয়াসে আবারও মুক্তিযোদ্ধারা জনসাধারণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। মানুষের কাঙ্খিত মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনার কথা বলবেন। সুবিধাবাদীদের মুখোস উন্মোচন করবেন।

এই মহুর্তে দেশপ্রেমিক জনতা ও মুক্তির চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মের ঐক্যটা জরুরী। কারন দেশের রাজনীতি এখন দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। লুটেরা ধনিক বণিক শ্রেণির হাতে চলে গেছে। যারা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের মানুষকে নিঃশ্ব ও নিরাপত্তাহীন করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা লুটেরাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই ভুলের খেসারত দেশের জনগণ এখনও দিয়ে চলেছে। এবার আপনাদের পালা। প্রকৃতির ন্যায় বিচার সেদিকেই এগিয়ে চলেছে। এখনও ঘুড়ে দাঁড়াবার সময় আছে। সাধারণ মানুষের বাঁচা মরার অহিংস লড়াইয়ে, মানব কল্যাণে যোগদিন। দেশের মানুষের বাঁচার পথ সুগম করুন। নিজে বাঁচুন।

যে সকল মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা এবং সন্তানেরা শুধুমাত্র নিজেদের মুক্তির চেতনাকে ভাতা কোটা ভোগের সুবিধার মাঝে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ সুবিধার লোভে মুক্তিযুদ্ধ না করে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধারণ না করে,যারা নতুন করে নাক ফুটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেঁজেছেন। সবাইকে দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। কারন তাদের মুক্তি পাবার প্রশ্নটির হিসেব নিকেশের ভগ্নাংশ রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার মাঝ দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছেনি। এ ছারাও শুধুমাত্র ভাতা কোটা সুযোগ সুবিধা লোভ ও লাভের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেন নি। তাঁরা নিজেদের রক্তে গড়া স্বাধীন রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছিল যথাযোগ্য সম্মান, মর্যাদা ও স্বীকৃতি। রাষ্ট্র সেটিও বিগত ৫০ বছরেও করেনি। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য। সেটিও হয়নি। অপরদিকে রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার দূর্বলতার সুযোগে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা গোপনে ধর্মীয় লেবাসে সাধারন মানুষকে তাদের পক্ষে নিয়েছে, নেয়ার জন্য তৎপর রয়েছে। এখন তারা আঘাত হানতে শুরু করেছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর ওপর। আপনি যতই গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করুন না কেন শত্রু এখন আপনার চারিপাশে ওৎ পেতে বসে আছে, আঘাত হানার জন্য। চিন্তা চেতনার জগতকে প্রসারিত করুন। সাধারন মানুষের কাঁতারে গিয়ে দাঁড়ান । আমরাও আছি আপনাদের সাথে পাশে। জয়বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
৩০ এপ্রিল, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, শুক্রবার।

মুক্তিযোদ্ধা শব্দের কলঙ্ক


এ লজ্জা রাখি কোথায়?

জান্নাত আরা ঝর্না ও মুনিয়াদের চরিত্র হননকারী মামুনুল হক এবং সায়েম সোবহান আনভীরদের গোত্রকে আলাদা করে ভাববার কিছু নেই। উভয় ক্ষেত্রেই মুক্তিযোদ্ধা নামক শব্দটিকে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। (ঝর্না,মুনিয়া উভয়ের পিতা আসল নাকি নকল মুক্তিযোদ্ধা সেটিও বিবেচ্য বিষয় নয়)। ধরে নিলাম মেয়ে দুটি নষ্টা চরিত্রের। কিন্তু আপনারা পাক পবিত্র মানুষ হয়ে নষ্টাদের সাথে জড়ালেন কি ভাবে? আপনারই তাদের প্ররোচিত করেছিলেন নাকি তারাই আপনাদের প্ররোচিত করেছিল সেটি জানবার অবকাশ কি সাধারন মানুষের নেই?

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খান সেনারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে ব্যবহার করতো বিনা অর্থে জোর পূর্বক রাজাকার আলবদরদের সহায়তায়। এখন স্বাধীন দেশে আইন কাঠামোর মাঝে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের মধ্যস্ততাকারী কিম্বা স্বয়ং নিজেরাই কেউ চুক্তিভিত্তিক,কেউ কাবিন ছারা বিবাহ, কেউ মুতা বিবাহ দেখিয়ে লুকিয়ে পর্দার অন্তরালে নারী ভোগ করছে অর্থের বিনিময়ে। এর দু’একটি ফাঁস হচ্ছে। বেশীরভাগ রয়েছে অন্ধকারে আঁড়ালে।

এর জন্য নারীকে নারী সমাজকে আমরা দায়ী করছি পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা চরিত্রের কারনে, পাশাপাশি তাদের হিজাব এ বোরকার আড়েলে রাখার চেষ্টা করছি । অনেক নারীও ভিকটম নারীর দোষগুন খুঁজতেই ব্যস্ত রয়েছেন। প্রকৃত দায় দািয়িত্ব নির্ধারন ও দোষীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন না। কিম্বা নূন্যতম প্রতিবাদ জানাতেও সাহস পাচ্ছেন না। তাহলে কি ধরে নিতে পারি আমরা সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর্বেই আমরা রয়ে গেছি। মাঝখানে আর্শীবাদ হিসেবে আমাদের ভাগ্যে জুটেছে স্বাধীনতা নামক শব্দ ও স্বতন্ত্র পতাকা। আমাদের চিন্তার জগত রাষ্ট্রের আইন কাঠামোর মাঝে কোন পরিবর্তন আসেনি।

মুক্তিযুদ্ধের পর্বেও পাকিস্তানের আইন আদালত ছিল লুটেরা গণহত্যা, গণধর্ষণকারীদের পক্ষে। স্বাধীন দেশটাতেও অনুরুপ ও বদ অসামাজি কর্মকে আলাদা করে নির্ধারন করতে পারেনি রাষ্ট্র। বাস্তবতাই সেটি প্রমান করছে। তবে গুনগত পরিবর্তন হলো এই যে, তখন ছিল ভিনদেশী ভিন্ন ভাষার লুটেরা ধর্ষক। এখন স্বগোত্রীয় একই ভাষার মানুষ। রাষ্ট্র, আইন, মিডিয়া তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ লজ্জা রাখি কোথায়?

রানাপ্লাজা থেকে বাঁশখালী, শুধুই হচ্ছে বাবা মায়ের বুক খালি

২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল সকালে সাভারে আট তলা রানা প্লাজা ভেঙে পড়ে ১১শ’র বেশি পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ছিল শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব-ইতিহাসেরই অন্যতম ভয়াবহ শিল্প-দুর্ঘটনা।

কিন্তু একে কেন্দ্র করে করা মামলাগুলোর একটি ছাড়া বাকি প্রায় কোনটিরই আজ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

সম্প্রতি বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে ১৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গত ১৭ এপ্রিল, ২০২১ শনিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ‘এস আলম’ গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, শুক্রবার অর্ধদিবস কাজ ও ইফতারের জন্য বিরতির যৌক্তিক দাবিতে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হবার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ আরো ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। পঞ্চাশ জন মানুষকে আহত এবং পাঁচজনকে হত্যা করতে কত রাউন্ড গুলি বর্ষণ করতে হয়েছে তার খবর এখনও পাওয়া যায় নি। এস আলম কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হাতের নিশানা এত নিখুঁত নয় যে এক গুলিতে একজনকে আহত করতে বা হত্যা করতে পারে। ধারণা করা যায় শতাধিক রাউন্ডের বেশি গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ছোটখাট একটা যুদ্ধ হয়েছে বাঁশখালি গণ্ডামারা কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এ এক অসম যুদ্ধ। একদিকে অস্ত্রধারী সরকারি, আধা সরকারি এবং প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী এস আলম কর্তৃপক্ষ নিয়োজিত বেসরকারি বাহিনী, অন্যদিকে নিরস্ত্র শ্রমিক। তাঁরা সবাই ছিল বঞ্চনা জনিত ক্ষোভের অস্ত্রে সজ্জিত।

এর আগেও ২০১৬ সালেও গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এহেন হত্যাকান্ড কাদের স্বার্থ রক্ষায় ঘটছে? বার বার একই ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটছে বিষয়টি মানুষেকে ভাবিয়ে তুলেছে। শাসকরা ধীরে ধীরে জনতার কাতার থেকে অনেক দূরে সরে গেছে সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

সম্পাদকীয়


অহিংস আন্দোলন সংগ্রাম করা নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার

স্বাধীনভাবে নাগরিকদের অহিংস আন্দোলন সংগ্রাম করা ও স্বাধীন মতামত পেশ করার সুযোগ দানই হলো গণতান্ত্রিক রাজনীতির রীতিনীতি ও সাংবিধানিক অধিকার। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সেটি হারিয়ে গেছে। এখন রাষ্ট্রের মাঝে দুটি পক্ষ বিদ্যমান। এক পক্ষ হচ্ছে- রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলারা। দ্বিতীয় পক্ষ হচ্ছ-দেশের সাধারণ নাগরিকগণ।

রাষ্ট্র পক্ষ নাগরিক সাধারণকে অধিকার বঞ্চিত করলেও সে কথা প্রকাশ করবার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি সেটিরও অবশিষ্ট বাংলদেশে আছে বলে মনে হয়না। নিরস্ত্র অহিংস আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্রের বিশেষ অঙ্গগুলো যখন শসস্ত্র বল প্রয়োগ করে তখন রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলে।

১৯৭০ সালের পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের ২২ পরিবারের শাসন ও শোষণ থেকে বাঙালির জাতীয়, সাংস্কৃতিক, অর্নৈতিক মুক্তি ও গণতন্ত্র কায়েমের জন্য শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে রক্তের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হলেও মুক্তিযোদ্ধারা যেমন মূল্যায়িত, সম্মানীত হতে পারেননি, তেমনি গনতন্ত্রও আজ অন্ধাকার পথে যাত্রা শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চরিত্র, মুক্তিযুদ্ধের চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্খা, মুক্তিযুদ্ধর মুল চেতনা এখন উল্টো পথে, উল্টো রথে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কলঙ্কিত। বাংলাদেশের নাগরীক সাধারণেরা পাকিস্তানের ২২ পরিবারের শাসন ও শোষণ মুক্ত হয়ে এখন ২২ হাজার ধনিক বণিকের শাসন শোষণের বেড়াজ্বালে বন্দী। স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী ৫০ বছর পূর্তিতে এসে এটি জাতির জন্য এক ভয়ঙ্কর অশুভ বার্তা বহন করছে।

এখন মুক্তির উপায় নিয়ে নতুন প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে হবে। তথাকথিত রাজনৈতিক দলের সাথে গা ভাসিয়ে দিয়ে দেশকে, দেশের জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার কো যৌক্তিকতা নেই। এমন অপরাজনীতে কারো মুক্তি মিলবেনা। রাষ্ট্রের মাঝে এধরনের অসাঞ্জস্যমুলক আঁচরণ ও অব্যবস্থাপনার মাঝ দিয়ে ধর্মান্ধ পাকিস্তান পন্থীরা এখন রাজধানী শহর নগর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত তাদের শিকড় বাকর গজিয়ে শিরদাঁড়া উচু করে দাঁড়িয়েছে। যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে শুধু অন্ধকার পথেই ঠিলে নিবে না। রাষ্ট্রের মূল চরিত্র ও কাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উপসংহারে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শুধু এটুকু বলতে চাই, আমরা এমন একটি স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য যুদ্ধ করিনি। যেখানে শোষণ বঞ্চনা বৈষম্য চিরস্থায়ী হবে। নিপিড়ন বাড়বে। দেশ স্বাধীন করাও আমাদের ভুল কিম্বা অপরাধ ছিলনা। বাংলাদেশ স্বাধীন পরবর্তী সাধারণ মানুষের মুক্তির মাঝ দিয়ে আমার মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে তাহলে কি আমরা হেরে গেছি, হেরে যাচ্ছি? নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে বলিয়ান হবার আহ্বান জনাই। এখনই ঘুড়ে দাঁড়াবার উপযুক্ত সময়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
২২ এপ্রিল, ২০২১ খৃষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার।

 

করোনা আমাদের মাঝে কি শিক্ষা দিচ্ছে?

চেনাজানা মানুষগুলো একের পর এক বিদেয় নিয়ে পরপাগে চলে যাচ্ছেন। আমরা মুখবন্ধ পাঠ করে চলেছি। করোনা আমাদের মাঝে কি শিক্ষা দিচ্ছে? সেটিও ভাববার অবকাশ নেই।

রাজনীতি ও উন্নয়নের নামে মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির উচ্চাভিলাশী চিন্তা, ভোগবিলাশিতার নিমিত্তে তারা প্রকৃতি পরিবেশকে নষ্ট করে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অর্থ সস্পদ আহরন করার ফলে মানুষ সহ সকল জীব উদ্ভীদের স্বাভাবিক জীবনধারা বদলে গেছে। তারা মানুষের বেঁচে থাকার সকল পথ রুদ্ধ করে পৃথিবীকে নরক বানিয়ে ফেলেছেন।

করোনাকালীন সময়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন

 

মানব ধর্মের বাইরে নানা ধর্মের খোলসে মানুষকে বন্দী করে এখন তারা নিজেরা বেহস্ত স্বর্গ প্রত্যাশা করছেন এবং বঞ্চিতদেরও তারা বেহস্ত স্বর্গ নরক দেখাচ্ছেন। যুগের পর যুগ এভাবেই তারা নিজেদেরকে প্রতারিত করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানুষকে প্রতারণার জ্বালে আটকে দিয়েছেন।

এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত এখন বিশ্বব্যাপী মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। অথচ আমাদের বিকল্প চিন্তা ও মত প্রকাশ করবার উপায় নেই। একদিকে ক্ষমতাসীনরা অপরদিকে ধর্মান্ধরা এখন মূল শত্রু। অথচ তাদের মাঝে যথেষ্ট মিতালী রয়েছে। তারাই আমাদের মাথার উপড় বসে ঘুড়ির নাটাই ঘুরাচ্ছেন। আমাদের রাজনীতি, রাজনীতির ধর্ম,ধর্মের রাজনীতি,মানব সেবা ইত্যাদি শিক্ষা দিচ্ছেন। কি সেলুকাস!

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
১৮ এপ্রিল, ২০২১ খৃষ্টাব্দ,রবিবার।