শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসের প্রশিক্ষণ দিবে নেটিজেন আইটি লিঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল ১৪ জুলাই সকাল ১১.০০টায় সিরাজগঞ্জ জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটির কারিগরি সহযোগিতা করেন নেটিজেন আইটি লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ। মতবিনিময় সভায় সভাপতি হিসেবে যুক্ত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফি উল্লাহ এবং অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা।

উক্ত সভায় নেটিজেন আইটি লিমিটেড এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, অনলাইন এক্সাম ও অনলাইনে ফিস পেমেন্ট সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্ত এই করোনাকালীন দিনে চুক্তিবদ্ধ ছাড়াই বিনামূল্যে স্কুল কলেজের শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস নেওয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, অনলাইন এক্সাম ও অনলাইনে ফিস পেমেন্ট এর বিষয়ে স্ক্রিন শেয়ারিং এর মাধ্যমে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়।

অনলাইন মতবিনিময় সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিউল্লাহ ও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা মতবিনিময় সভায় নেটিজেন আইটি লিমিটেড এর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নেটিজেন আইটি লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ।

বিভিন্ন স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের


সিরাজগঞ্জ জেলা ডিজিটাল মেলা’২০২০ এ ১ম হয়েছে শাহজাদপুরের ৭ম শ্রেণির ছাত্রের তৈরী সার্চ ইঞ্জিন

জেলা প্রশাসন, সিরাজগঞ্জ কর্তৃক আয়োজিত ডিজিটাল মেলা’২০২০ এ বিভিন্ন স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে শাহজাদপুরের ৭ম শ্রেণির ছাত্র আবির আবেদীন খানের তৈরী সার্চ ইঞ্জিন প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

আবির আবেদীন খান শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। আবির জানায়, বাবার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে তার কম্পিউটারে হাতে খড়ি। অনেক দিন হলো সে গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। এক সময় তার গুগল এর মতো একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরীর আগ্রহ হয়। সে জানায়, “ধীরে ধীরে এবিষয়ে জ্ঞান অর্জন করি এবং এক পর্যায়ে সফল হই।” এবছরের জানুয়ারী মাসেই সে সার্চ ইঞ্জিনটি অনলাইনে আপলোড করে। http://searchbd2020.blogspot.com এই লিংকে গিয়ে সার্চ ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা যাবে।

গত ২৭ থেকে ২৯শে জুন পর্যন্ত সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশে প্রথমবারের মতো অনলাইন প্লাটফর্মে ডিজিটাল মেলা’২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭টি প্যাভিলিয়নে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের ফলাফল ২ জুলাই,২০২০ সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে বিজ্ঞ বিচারকগণের বিচারে আবির আবেদীন খান এর তৈরী সার্চ ইঞ্জিনটি প্রথম স্থান অধিকার করে। আবির জানায়, ”আমার প্রজেক্টটি ১ম স্থান অধিকার করায় আমি অনেক খুশী। ভবিষ্যতে এটি নিয়ে আমি আরও কাজ করতে চাই।”

শাহজাদপুরের দিনমজুর মামুন এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫; উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার শংকা

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মেধাবী ছাত্র মামুন পারিবারিক অভাব অনটনে দিন মজুরী করে পড়াশুনা করে এবার এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার প্রাপ্ত মোট নম্বর ১১৪৭। তার পরিবারের পক্ষে উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার শংকা ।

জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার চরকাদাই গ্রামের দিনমজুর নাসির উদ্দিনের ছেলে মামুন। চার ভাইবোনের মধ্যে ২য় সন্তান সে। বাড়ী থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বেলতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থী ছিল মামুন। নিয়মিত পায়ে হেটে স্কুল করত সে। কোন দিন স্কুল ফাঁকি ছিল না তার। কোন কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোর সাধ্য তার বাবার ছিল না। নিজের চেষ্টা ও স্কুলের শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় তার এই সাফল্য। স্কুলের ছুটিতে সে তার বাবার সাথে দিনমজুরী করে থাকে। তার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনেও সে তার বাবার সাথে টাঙ্গাইলে ধান কাটার দিনমজুর হিসেবে চলে যায়। সেখান থেকেই সে তার পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারে। মামুনের মা একজন মানষিক প্রতিবন্ধী।

মামুন জানায়, বড় হয়ে সে একজন ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চায়। কিন্ত দিনমজুরী করে পরিবারকে সহযোগিতা করে সে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি ও পড়াশুনা চালিয়ে নিতে পারবে কিনা এ নিয়ে তার মনে চরম শংকা কাজ করছে। কারন বড় ক্লাসে পড়াশুনা করতে তার খরচও বাড়বে। এই বাড়তি খরচ দিনমজুরী করে তার বাবা ও সে যোগান দিতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয়বোধ করছে সে। তার ইচ্ছা যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি তার পড়াশুনার ভার বহন করতো তাহলে সে নিশ্চিন্তে তার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারতো। আরো জানা যায়, মামুন পিএসসি ও জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল।

শাহজাদপুর কাপড়ের হাট বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়েছে শতকোটি টাকার ব্যবসা, বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক

বাবুল আকতার খানঃ গত বছর এই মুহূর্তে জমে উঠেছিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কাপড়ের হাট। বিক্রি ভাল, তাই খুশীর আমেজে ছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী ও তাঁতীরা।

সাধারনতঃ দুই ঈদকে সামনে রেখেই জমে ওঠে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ দেশীয় শাড়ী কাপড়ের হাট। এই অঞ্চলের তাঁতের শাড়ীর পাশাপাশি থ্রি পিস, লুঙ্গী, গামছাসহ থান কাপড়ও বিক্রি হয় এই হাটে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- এবার ঈদুল ফিতর প্রায় সমাগত হলেও মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন জনগনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গত ২৫ মার্চ, ২০২০ তারিখে শাহজাদপুর কাপড়ের হাটসহ সকল দোকানপাট বন্ধ ঘোষনা করা হয়। শুধু মাত্র কাঁচাবাজার ও মুদিখানা সকাল থেকে দুপুর ১২ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

থ্রি পিস ও শাড়ী কাপড় প্রস্ততকারক মনি টেক্সটাইলের স্বত্ত্বাধিকারী আবু হাসান খান মনি বলেন, শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হলেও ঈদের হাটগুলোতে তা বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক গুনে। কিন্ত মহামারী করোনার কারনে হাট বন্ধ থাকায় শত শত কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। কয়েক লক্ষ তাঁতী বেকার হয়ে পড়েছে, মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বেশীরভাগ তাঁত মালিক ব্যাংক ঋন নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন, তাঁরা এবার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়বেন, ঋনের কিস্তি দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। করোনা পরবর্তী সময়ে স্বল্প সুদে ঋন সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে এই শিল্পকে ও এই শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে সকল কারখানা সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চালু রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের অনুমতি দরকার। এবার ঈদ সামনে হাট যদি না বসে, বিক্রিবাট্রা না হয় তাহলে শুধু শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কন্দ্রে করেই লেনদেন বন্ধ থাকবে কয়েক হাজার কোটি টাকার।

শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, বেড়া,সাঁিথয়া, পাবনা দোগাছিসহ সহস্রাধিক হ্যান্ডলুম, পাওয়ারলুম, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ডাইং, এমব্রয়ডারীসহ বিভিন্ন সহায়ক শিল্প কারখানার প্রায় কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে তাঁতীরা যেখানে তাদের পসরা সাজিয়ে বসে থাকার কথা, আর কাপড় কিনতে আসার কথা হাজার হাজার ব্যবসায়ীর- সেখানে এখন সুনসান নিরবতা, নেই কোন প্রাণচঞ্চল্য।

উল্লেখ্য, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট শুরু হওয়ার আগে কাপড় ব্যবসায়ীরা যেতেন ঘাটাবাড়ী হাট ও পাবনার আতাইকুলা হাটে। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা পায় শাহজাদপুর কাপড়েরর হাট। এ হাটে মূলতঃ পাইকারী বিক্রি হয় তাঁতের শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা, থ্রি পিছ, রং ও সুতা। সপ্তাহে চারদিন হাট বসে- শনি, রবি, মঙ্গল ও বুধবার। সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার শাড়ী, লুঙ্গী, গামছা ও থ্রি পিছ এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকার রং ও সুতা বিক্রি হয়। শাহজাদপুর পৌরসভা প্রায় এক কোটি টাকার উপরে পায় এই হাট ইজারা দিয়ে।


আরো খরব

বিরামহীন বৃষ্টিতে তাঁতশিল্পের কোটি টাকার ক্ষতি!
হরতাল অবরোধে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটে ২’শ কোটি টাকা লোকসান