ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে এনায়েতপুরে থানা পুলিশের আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠান

এনায়েতপুরে ৭ই মার্চের ভাষণ ও বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চুড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তিতে আনন্দ উদযাপন করেন এনায়েতপুর থানা প্রশাসন। রবিবার ৩৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং গণভবন থেকে সম্পচারিত অনুষ্ঠান প্রজেক্টটর এর মাধ্যমে দেখানো হয়।

এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান এর সভাপতিত্বে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেত্রী বৃন্দদের উপস্থিতিতে কেক কাটা হয়, এবং অতিথিরা তাদের মুল্যবান বক্তব্য রাখেন।

এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ এর ভাষণ সম্পর্কে বলেন, এই ভাষণে নিপিড়ীত বাঙ্গালি জাতি মুক্তির আশা পায় এবং তিনি আরো বলেন এই বক্তব্য সুধু বক্তব্য না এটি বাঙ্গালী জাতির মুক্তির দলিল, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে।

এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সংবর্ধণা ও পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আজ এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সংবর্ধণা ও পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নানা আয়োজনে পরিপূর্ণ ছিল এদিন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্য্যক্রম শুরু হয়।

টি শার্ট বিতরণ ও খেলা-ধুলাসহ নানা প্রকার আয়োজন ছিল দিনের প্রথম ভাগে। পরে উপদেষ্টা ও সম্পাদক মন্ডলদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রধান করা হয়।

বিশিষ্ট শিল্পপতি ও টেক্সজেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সেখ আব্দুল সালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব আব্দুল মমিন মন্ডল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য সিরাজগঞ্জ ৫।

বক্তারা এনায়েতপুর থানার বিভিন্ন দাবি তুলে ধরাসহ এনায়েতপুর থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করার লক্ষে সকলকে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার জন্য আহবান করেন।

এছাড়াও যমুনা নদীর তীব্র ভাঙ্গনরোধে সরকারের দৃষ্টি গোচর করার লক্ষে নানা রকম কর্মসুচি হাতে নেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, এই সংগঠনের মধ্যে দিয়ে এনায়েতপুরের মানুষের দাবি উপলব্ধি হবে বলে আশা ব্যাক্ত করেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি জাকারিয়া তৌহিদ তমাল । অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, এনায়েতপুর থানা ইয়ূথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

যমুনার দুর্গম চরে আলোর ছোয়া

যেখানে মানুষের চলাচলের জন্য নেই ভাল যাতায়াত ব্যবস্তা, নেই চিকিৎসা ব্যবস্তা, সেখানে সোলার বিদ্যুৎ এর আলোয় আলোকিত হয়েছে যমুনা চরবাসী। এই অসাধ্য সাধন করেছে রহিম আফরোজ রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেড। তাদের এই মহৎ উদ্দেগের কারনে চরবাসী আজ আলোকিত হতে পেরেছে। অন্ধকার আচ্ছন্ন চরবাসী পেয়েছে আলোর দেখা।

রাতের অন্ধকার কাটাতে এক সময় কুপি কিংবা হারিকেনের আলোই ছিল চরবাসীর মূল ভরসা। কিন্তু এখন তা অতীত হয়েছে। কারণ, দুর্গম চরে পৌঁছে গেছে সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ সংযোগ। আর সেই সংযোগে ঘরে ঘরে জ্বলছে আলো। ছাত্র-ছাত্রীতাছারা লেখা পড়া করতে আরো বেশি উৎসাহ পাচ্ছে। চর বাসী ডাকাতের ভয়ে থাকত এখন সোলার বিদ্যুৎ এর কারণে গ্রামে গ্রামে বাতি হওয়ায় আলোকিত চরে পরিণত হয়েছে ফলে চোর ডাকাতের উপদ্রুপ অনেকটাই কমেছে।

এ বিষয়ে প্রজেক্টট ইনচার্জ মুজাম্মেল হক জানান আমাদের এই প্রজেক্টটি ৮০ কিলো ওয়াট পিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।এখানে ২৫০ টি প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় এবং তিনটি ফেজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ৬ কিলো মিটার বিস্তৃত ২২০ টি পরিবার এই সেবার আওতায় রয়েছে এবং ২৫ বছরের প্রজেক্ট নিয়ে কোম্পানিটি কাজ করছে।সেবার আওতার গ্রাম গুলো হলো বাইনতিয়ার চর,গোরজান,নওহাটা।গ্রাহকদের প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে হয় এবং প্রিপেইড মিটারের আওতাদিন সকল সংযোগ।

নওহাটার গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা মোল্লা বলেন এই বিদ্যুৎ আমাদের এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান আমুল পরিবর্তন এনেছে। আগে আমরা মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পারতাম না,চার্জের জন্য নদীপার দিয়ে মোবাইল চার্জ দিতে হতো।এখন মোবাইল চার্জ টিভি,ফ্রিজ সব চালাতে পারি কোন সমস্যা হয় না।আমাদের অনেক উপকার হয়েছে এবং এলাকার মানুষ খুবই আনন্দিত।

সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন; বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ


এনায়েতপুরে মুক্তিযোদ্ধা গাজী সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের ইন্তেকাল

মোঃ আসাদুর রহমান, এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী সরাফ উদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সোমবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন ।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। অনেকদিন যাবত তিনি ডায়াবেটিস সহ নানা রকম রোগব্যাধিতে আক্রন্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সোমবার বাদ আছর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

তার মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জ -৬ (শাহজাদপুর)আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপন, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ, ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ সহ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।