বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা

ভারতে করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের সঙ্গে সব স্থলসীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

রোববার (২৫ এপ্রিল) এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন জানান, সোমবার (২৬ এপ্রিল) থেকে দুই সপ্তাহ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে লোকজনের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি চলবে।

ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৭৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩১১ জনে। এদিন আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ। গত ১০ দিনে দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে দুই হাজারের বেশি।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার স্থলসীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪ দিনের জন্য।

আবারো শতক ছাড়িয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু ১০১

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৫৩ জনের।

নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯২২ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩২২ জনে।

এর আগে গত ১৬-১৭ এপ্রিল দেশে করোনায় মারা যান ১০১ জন করে। এরপর গত ১৮ এপ্রিল একদিনে দেশে করোনায় মারা যান ১০২ জন। আর গত ১৯ এপ্রিল করোনায় মারা যান ১১২ জন। যা একদিনে দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু।
রোববার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৩০১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫২ জন। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৫০টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১২২টি, জিন এক্সপার্ট ৩৪টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ১৯৪ টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২১ হাজার ৪৪৮ টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ হাজার ৯২২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫০১টি।

এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ২১ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, সিলেট বিভাগে ৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, খুলনা বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন। এছাড়া রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে ২ জন রয়েছেন।

এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৬৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩২ জন।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে ৬৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন, শূন্য থেকে ১০ বছরের নিচে রয়েছেন ১ জন।

এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৬৭ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৮১ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন এক লাখ ২০ হাজার ১৯৬ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৭৫৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ৪৩৮ জন।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল দেশে একদিনে করোনা শনাক্ত হয় সাত হাজার ৬২৬ জন। যা দেশে একদিনে করোনা শনাক্তে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আর গত ৬ এপ্রিল একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ২১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।

শাহজাদপুরে জামায়াতের দুই নেতা আটক

নাশকতাসহ সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক করার সময় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে জামায়াতের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে শাহজাদপুর পৌর এলাকার পুকুরপার মহল্লায় জামায়াত নেতা মো. হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এ সময় হকিস্টিক, দেশীয় অস্ত্র, জিহাদী বই ও টাকা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- শাহজাদপুর পৌর জামায়াতের রোকন পুকুরপাড় মহল্লার মো. হোসেন আলী (৬৩) ও সদস্য দ্বারিয়াপুর মহল্লার সালমান ওরফে আলমাস আকন্দ (৩২)।

রোববার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কুমার দেবনাথ বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পুকুরপাড় মহল্লায় জামায়াত নেতা হোসেন আলীর বাড়িতে সরকারবিরোধী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গোপন বৈঠক চলছিল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে হোসেন আলী ও সালমানকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে হকি স্টিক, দেশীয় অস্ত্র, জিহাদী বই ও জামায়াতের টাকা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আটক জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর রোববার (২৫ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪

দ্বিতীয় টেস্টেও খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ

ফাইল ছবি

দ্বিতীয় টেস্টেও করোনা পজিটিভ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শনিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান এফএম সিদ্দিকী।

এর আগে, রাত ১০টা ৫ মিনিটে তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা ও আজকের করা পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে তার বাসায় যান। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে এফএম সিদ্দিকী, তিনি ভালো আছেন। তার ফুসফুসেও কোনো জটিলতা নেই।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক সবগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট ভালো এসেছে। করোনার দ্বিতীয় সপ্তাহের যে জটিলতা তিনি সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। আশা করছি পাঁচ-ছয়দিন পর আবার টেস্ট করলে নেগেটিভ আসবে।

খালেদা জিয়ার আরেক চিকিৎসক ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়াসহ বাসার চারজনের করোনার দ্বিতীয় রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। বাকি পাঁচজনের নেগেটিভ এসেছে।

১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। সে সময় থেকে গুলশানের বাসায় রয়েছেন তিনি।

সাপ্তাহিক উত্তর দিগন্তের ৯ম বর্ষপূর্তী উপলক্ষে আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত সাপ্তাহিক উত্তর দিগন্ত পত্রিকার নবম বর্ষপূর্তী উপলক্ষে আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার(২৪ এপ্রিল) বিকেলে শাহজাদপুর প্রেসক্লাবে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এম,এ, জাফর লিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলআমিন হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক মুমিদুজ্জামান জাহান, সাংবাদিক ও প্রভাষক গোলাম সারোয়ার, প্রেসক্লাব শাহজাদপুরের সাধারণ সম্পাদক এশিয়া টিভির সাংবাদিক ওমর ফারুক, শাহজাদপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক তাবিবুর রহমান কিরণ, দৈনিক খোলাকাগজের সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, দৈনিক তৃতীয়মাত্রার সাংবাদিক মির্জা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক শফিউল হাসান চৌধুরী লাইফ, দৈনিক সমকালের কোরবান আলী লাভলু, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের রাসেল সরকার, দৈনিক আলোকিত সকালের মিঠুন বসাক, দৈনিক আমার সংবাদের জহুরুল ইসলাম, মাইটিভির সাংবাদিক জাকারিয়া মাহমুদ, দৈনিক আজকালের খবরের মাসুদ মোশাররফ, দৈনিক ভোরের ডাকের জেলহক হোসাইন, দৈনিক গণমুক্তির জাহিদ হাসান, দৈনিক বাংলাদেশের আলোর টিটু হাসনাত প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মফস্বল থেকে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও উত্তর দিগন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, আগামীতে তা দৈনিকে পরিণিত হবে। পত্রিকার সংবাদের মান যেমনই হোক গত ৮ বছর ধরে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। উত্তর দিগন্ত শাহজাদপুরের অপমার জনগনের পত্রিকা। স্থানীয় সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দৈনিকের চাহিদা পূরণ করছে।

সভাপতির সমাপনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে সাপ্তাহিক উত্তর দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এম,এ,জাফর লিটন বলেন আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বুঝতে পেরেছি যে একজন সাংবাদিক কখোনো আর এক জন সাংবাদিকের বন্ধু হতে পারে না, এক একজন সাংবাদিকের ভিন্নমত থাকতেই পারে তবে কাজের ক্ষেত্রে সকলের সাথেই মিলেমিশে কাজ করতে হয়।

পরিশেষে বিশেষ মোনাজাত ও কেক কাটা হয়।

শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বিপ্লবীদের


আজ খাপড়া ওয়ার্ড গণহত্যা দিবস

১৯৫০ খৃস্টাব্দের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে সংঘঠিত একটি গণহত্যা। এই গণহত্যায় মোট ৭ জন জেলবন্দীকে হত্যা করা হযেছিল। এছাড়াও সেদিনের ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরো ৩২ জন।

যারা নির্মম হত্যা কান্ডের শিকার হয়েছিলেন তাঁরা হলেন, ১. বিজন সেন ( রাজশাহী) ২. কম্পরাম সিংহ ( দিনাজপুর) ৩. হানিফ শেখ ( কুষ্টিয়া) ৪. সুধীন ধর ( রংপুর) ৫. দেলোয়ার হোসেন ( কুষ্টিয়া) ৬. সুখেন ভট্টাচার্য ( ময়মনসিংহ) এবং ৭. আনোয়ার হোসেন ( খুলনা)।

নিহত বিপ্লবীদের মধ্যে সুধীন ধর এবং বিজন সেন ছিলেন রেল শ্রমিক। হানিফ শেখ ছিলেন কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের শ্রমিক নেতা। সুখেন্দ ভট্টাচার্য ছিলেন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের স্নাতক পরীক্ষার্থী। দেলোয়ার হোসেন ছিলেন রেলওয়ের লাল ঝান্ডা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা এবং আনোয়ার হোসেন ছিলেন খুলনার দৌলতপুর কলেজের ২ বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্র ফেডারেশনের নেতা।

এই হত্যাকান্ড সে সময়ে হিটলারের ফ্যাসিস্ট নীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। জেল হত্যা বললে আমরা সচরাচর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকেই বুঝিয়ে থাকি। কিন্তু ওই ৩রা নভেম্বর সম্পর্কে আমরা সকলেই কমবেশি অবহিত হলেও খাপড়া ওয়ার্ডের নিষ্ঠুর জেল হত্যা সম্পর্কে অতটা অবহিত নই।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫ দশক পাড় হলেও খাপড়া ওয়ার্ডের হত্যাকান্ডের ওই ৭ শহীদের আজও সম্মান দেখানো হয়নি। এ দিনটিকে জাতীয়ভাবে পালনের দাবী জানাই।

চাঁদপুরে নির্মিত হচ্ছে ৩৮ ফুট উচু আল্লাহর ৯৯ নাম সম্বলিত স্তম্ভ

আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক ৯৯ নাম নিয়ে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও সুবিশাল স্তম্ভ। উপজেলার কড়ইয়া ইউপির দক্ষিণ-পশ্চিম ডুমুরিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন এ স্তম্ভটি নির্মাণের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। স্তম্ভটির কারুকার্য শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উন্মোচন করা হলে ‘আল্লাহু চত্বর’ হিসেবে এটি পরিচিতি পাবে।
বর্গাকার স্তম্ভটির চার পাশে আল্লাহর গুণবাচক ৯৯ নাম আরবিতে ওপর থেকে নিচে লেখা হবে। নিচে রয়েছে বর্গাকার বেদি যা আবার দুই স্তরের গোলাকার বেদি দিয়ে পরিবেষ্টিত। কারুকার্য সম্পন্ন না হলেও অবয়ব ফুটে উঠায় এলাকার লোকজনরা স্তম্ভটি দেখার জন্য ছুটে আসছে।

মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফা কামাল মিয়াজীসহ এ মসজিদের ইমাম মো: রফিকুল ইসলাম মিয়াজীর বিশেষ প্রচেষ্টায় আল্লাহু স্তম্ভের নির্মাণ কাজ চলছে। স্তম্ভটি দুই ফুট বর্গাকার, যার উচ্চতা হবে ৩৮ ফুট। ৩৩ ফুটের মধ্য লিপিবন্ধ হবে আল্লাহর ৯৯টি নাম এবং ওপরে পাঁচ ফুটে থাকবে ‘আল্লাহু’ লেখা। আল্লাহর ৯৯ নামের স্তম্ভটির নির্মাণে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে হবে বলে মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানান। স্তম্ভটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

স্তম্ভটি নির্মাণের উদ্যোক্তা মো. মোস্তাফা কামাল মিয়াজী জানান, এ বছরের এপ্রিলে স্তম্ভটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতি থেকে স্তম্ভটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। আনুমানিক আগামী ২ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং এটিকে লাইটিং সিস্টেমের মধ্যে রাখা হবে।

মসজিদের ইমাম মো: রফিকুল ইসলাম মিয়াজী জানান, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আল্লাহর নাম মানুষের স্মরণে আসবে। দেখলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করবে। আমরা দেখেছি আরব দেশে সৌদি আরবের বিভিন্ন পথে পথে আল্লাহর নাম লেখা থাকে। এ থেকে মানুষের মনে আল্লাহর নাম স্মরণ হয়।

মহান আল্লাহর গুণবাচক ৯৯ নাম সংবলিত স্তম্ভটি নিমার্ণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানায়, মসজিদ কমিটির কাজ-কর্ম এবং চিন্তা-চেতনা অনেক উন্নত। তারা ধর্মীয় চিন্তা-ভাবনা থেকে এমন একটা স্তম্ভ নির্মাণ করছেন। এটি আমাদেরকে মুগ্ধ করছে। চাঁদপুর জেলার কোথায়ও আল্লাহর ৯৯টি নাম সম্বলিত স্তম্ভ নেই। যার কারণে আমাদের এলাকায় প্রতিদিন স্তম্ভটি দেখার জন্য দূর দূরন্ত থেকে মানুষজন আসবেন।

তিন সন্তানসহ মায়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়ে বরিশালের বানারীপাড়ায় এক বিধবা নারী তিন সন্তানসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এর আগে তার আরেক সন্তানও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলতা গ্রামের আবাসনে বসবাসরত প্রয়াত সতিশ চন্দ্র বৈদ্য’র স্ত্রী গিতা রানী বৈদ্য (৪০) তার তিন সন্তান নিয়ে সম্প্রতি বরিশালে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামায় নিজের নাম গিতা রানীর পরিবর্তে মুন্নি বেগম, মেয়ে সাথী বৈদ্য’র নাম পরিবর্তন করে সাথী আক্তার, ছেলে সৌরভ বৈদ্য’র নাম শুভ হাওলাদার ও সবুজ বৈদ্য’র নাম আরিফ আহমেদ রেখে ভালোবেসে ধর্মান্তারিত হন।

ধর্মান্তরিত মুন্নী বেগম গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত জানান, ‘আমি স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে কলেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছি। তাছাড়া কয়েক বছর আগে আমার বড় ছেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আমরা পরিবারের পাঁচজনই এখন মুসলমান।

কৃষকদের ধান কাটতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গতবারের মতো এবারও বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধান কাটতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা প্রদানকালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের অভিঘাত শুরু হয়েছে। এ সময় কৃষক লীগের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ধান কাটার বিষয়টিতে গতবার কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ অংশ নিয়েছিল। ঠিক এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আমাদের কৃষক লীগ ধান কাটার মৌসুম কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে। ধান কেটে প্রয়োজনে কৃষকদের বাড়িতে পৌঁছে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল কথা হলে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে ওবায়দুল কাদের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে এ ব্যাপারে নেত্রীর নির্দেশনা জানিয়ে দিচ্ছি।’

এ সময় ওবায়দুল কাদের কৃষকদের কল্যাণে কৃষক লীগের সবাইকে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কৃষকদের ধান কাটার ব্যাপারে নেত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। গতবারের মতো এবারও আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো ধান কাটার ব্যাপারে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে। সহযোগিতা করবে। এটাই আমি আশা করছি।’

করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যু

টানা চার দিন ধরে করোনায় মৃত্যু শতকের ঘরে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় দেশে ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ২৭১ জন। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ১৫২ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ২৩ হাজার ২২১ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ৪৯৭ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৩০০ জন।

গতকাল করোনায় ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৩ হাজার ৬৯৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে।

গত জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র । মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে।

কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো