করোনায় মারা গেলেন শাহজাদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কাজল

শাহজাদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার তাহিরা হাসান কাজল (৫৩) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মারা গেছেন। তিনি রাজবাড়ি জেলার সদর পৌর এলাকার সজ্জনকান্দা মহল্লার প্রফেসর আজাদ হাসানের স্ত্রী ও একই এলাকার এ্যাডভোকেট খন্দকার আবুল বাশারের মেয়ে। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, তিনি বেশ কিছুদিন হল ঠান্ডা জনিত রোগে ভুগছিলেন। তার অবস্থার চরম অবনতি হলে তাকে ১ সপ্তাহ আগে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় এ দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শাহজাদপুরের সরকারি হাই স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তি

শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে এ লটারি অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ভর্তি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক এস.এম সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার আমিনুল ইসলাম খান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম শাহাদৎ হোসেন, সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল ইসলাম, সহকারি প্রধান শিক্ষক শামীমা নাহার প্রমুখ।

লাটারি বাছাইকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, সবার উপস্থিতিতে লাটারির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে বাছাই করেই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হলো। যাদের ভাগ্যে ভর্তির সুযোগ এসেছে তাদেরকে জানাই অভিনন্দন এবং যারা সুযোগ পায় নি, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ভালোভাবে লেখাপড়া করার জন্য আহবান করছি। উল্লেখ্য, মোট ৭ শ’ ৪৯ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আবেদন করেন, তার মধ্যে লটারির মাধ্যমে ১ শ’ ১০ জন এবং ১০ জনকে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্দ্বী, সরকারি কর্মচারী কোটায় ভর্তি করা হয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের মহতী উদ্যোগ


শাহজাদপুরে ৬’শ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

শাহজাদপুর উপজেলার দুর্গম অঞ্চল কুলিয়ারচর গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ ৬’শ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল ও সোয়েটার) বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের কুলিয়ারচর মাদরাসা মাঠে নিজস্ব অর্থায়নে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন, দেশের বিশিষ্ট ব্যাংকার অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি তার নিজ গ্রামের দুঃস্থদের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক গোলাম সাকলাইন সেলিম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান এসএম জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অগ্রণী ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ এসএস রোড শাখা ম্যানেজার ফরিদুল ইসলাম, উল্লাপাড়া শাখা ম্যানেজার এসএম কামরুজ্জামান ও শাহজাদপুর শাখা ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উপজেলা তালগাছি শাখা ম্যানেজার আবু বক্কার সিদ্দিক।

শীতবস্ত্র বিতরণকালে ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পর্যায়ক্রমে এলাকার অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।

শাহজাদপুরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও গেজেট থেকে বজলুর রশিদকে বাদ দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

শাহজাদপুর উপজেলা জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের পিস কমিটির সদস্য দলিল লেখক জয়নাল আবেদীনের ছেলে বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত বজলুর রশিদকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ও গেজেট থেকে বাদ দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের মুলকান্দি বাজারের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সুলতান মাহমুদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বজলুর রশিদের পিতা জয়নাল আবেদীন জালালপুর ইউনিয়নের শান্তি কমিটির ৪ নং সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জয়নাল আবেদীন পাকবাহিনীর ও রাজাকারদের সহযোগিতায় এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যক্তিদের উপরে নানা অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছিলো। এ কাজে বজলুর রশিদও তার বাবাকে সহযোগিতা করেছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করেও ভূয়া তথ্য ও কাগজপত্র দেখিয়ে বজলুর রশিদ ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভুক্ত হন। যার গেজেট নং- ১৭৯৪, ক্রমিক নং- ১৫৫, সনদ নং- ম-৭৬২৩, ভাতা বই নং- ৩২৮। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বজলুর রশিদের ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এফএফ সনদ নেই। এমনকি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান তালিকা মুক্তিবার্তা (লাল বই) তেও তার নাম নেই। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে গঠিত বে-সরকারি বাহিনী পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবির (পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চল) এর তালিকায় তার নাম নেই।

লিখিত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, বজলুর রশিদ একজন অপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হয়ে মাসিক ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অথচ, বাস্তবে সে তার রাজাকার পিতার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বজলুর রশিদের ক্লাসমেট মজিবর রহমান, ভাগ্নে গোলজার হোসেন, প্রবীণ প্রতিবেশী বন্দেজ আলী, আনছার আলী মোল্লা, গোপাল দাসসহ অনেকেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বজলুর রশিদ কোনদিনই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন নি। বরং যুদ্ধের সময় নিজ এলাকায় থেকে সে তার রাজাকার বাবাকে সহযোগিতা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেমে এলাকাবাসী বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য তদন্তপূর্বক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকালে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ও গেজেট থেকে তার নাম বাদ দেয়ার দাবীসহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে বজলুর রশিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।’

শাহজাদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারানো স্ত্রী প্রতিবন্ধী ২ ছেলে নিয়ে বিপাকে

‘একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ ঠিক এমনটাই বাস্তবায়িত হলো শাহজাদপুরের অসহায় একটি পরিবারের উপর। শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিসিক রোড সংলগ্ন শক্তিপুর মহল্লার অটল দাস (৩০) নামে এক রিকশাচালককে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক পৃষ্ট করে রেখে যায়। তার মৃত্যুতে গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২ টি ছেলে সন্তান ও তার স্ত্রী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেনু দাস জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ৭ টা নাগাত আমার স্বামী অটল দাস রিকশা চালিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে আসার সময় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুরের হালুয়াঘাটি নামক স্থানে তাকে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক তাকে পৃষ্ট করে চলে যায়। কোন ঘাতক এ কাজটি করলো আমরা জানি না। আমার ২ টি ছেলে লাল (১৩) ও উদ্দোব দাস (১০) অনেকটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এখন আমি কি করে এই সংসার চালাবো। আমার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছে। আমার স্বামী অন্যের বাড়ীতে থাকে। বাড়ীর মালিক বুদ্ধুবালা দাস জানান, আমি ছোটবেলা থেকে অটলকে নিজের সন্তানের মত করে মানুষ করেছি। আমার ছেলে সন্তান না থাকায় অটলই ছিল আমার একমাত্র সন্তান। আটলের বয়স যখন ৬ মাস উপজেলার নরিনা গ্রাম থেকে তখন আমি তাকে দত্তক এনেছিলাম। ওর বাবা-মা কে সেটাও আমার এখন মনে নাই। ঘাতক পরিবহন তার প্রাণ কেড়ে নেয়ায় সে সন্তানটাও আমি হারালাম। এখন আমি কি করবো। কে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দায়ভার বহন করবে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি আনন্দ কুমার দাস জানান, অটল দাস নিহত হওয়ায় আমরা তার শ্রাদ্ধ করার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলছি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনয় কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর আমরা তার পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এই পরিবারটা একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো। এই পরিবারের দিকে তাকালে অনেকেই তাদের দৃশ্য দেখে তারা যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলে। কে করবে এই পরিবারকে তাদের জীবন-জীবিকার সহযোগিতা।