রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
জিনের কাঠামো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের মূলে আছে ভাইরাসের তিনটি ধরন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা বিষয়ে এই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে মূলত জি ধরনের (জি ক্লেড) করোনাভাইরাস। অন্য দুটি ধরন হচ্ছে জিএইচ ও জিআর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলোর সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি কি না, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু হবেই—এমন নজির দেখা যাচ্ছে না।করোনাভাইরাসের জিনকাঠামোতে নিয়মিত পরিবর্তন বা মিউটেশন হচ্ছে। পরিবর্তনের ধরনকে চিহ্নিত করার জন্য করোনাভাইরাসকে এল, এস, ডি, ভি, জি—এ রকম নানা ভাগে ভাগ করেছেন অণুজীববিজ্ঞানীরা।বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য জানা-বোঝার জন্য এই তথ্য জরুরি। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এই তথ্য কাজে লাগবে। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে এ পর্যন্ত পূর্ণ জিনকাঠামো বিশ্লেষণ (ফুল জিনোম সিকোয়েন্সিং) হয়েছে ২৮৮টি। দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম পূর্ণ জিনকাঠামো বিশ্লেষণ হয়েছিল বেসরকারি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ল্যাবরেটরিতে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অধ্যাপক সমীর সাহা। সমীর সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশে জি ধরনের বা জি ক্লেডের ভাইরাসের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। মাত্র সাতটি ক্ষেত্রে ডি ধরন পাওয়া গেছে। এই সাতটি পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম এলাকার ল্যাবরেটরিতে।সমীর সাহা এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, জি ধরনেরই উপধরন বা প্রশাখা হচ্ছে জিএইচ ও জিআর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা করোনার জিনকাঠামো বিশ্লেষণের তথ্য নিয়মিতভাবে জমা দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেমে (জিআইএসআরএস)। ৪ আগস্ট পর্যন্ত এই দফতরে ৬৯ হাজার ৬৫৫টি পূর্ণ জিনকাঠামো বিশ্লেষণের তথ্য জমা পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোন দেশে করোনাভাইরাসের কোন ধরনটি বেশি সক্রিয়, তারও তালিকা প্রকাশ করছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে জি, জিএইচ ও জিআর ধরনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে কোন ধরনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন ইতালির বোলোগ্না বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক। তারা বলছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের আদি ভাইরাসটি ছিল এল ধরনের। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে জি ধরনের করোনা ভাইরাস। এরপর এই ভাইরাসের পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর নানা ধরন বা ক্লেড বা স্ট্রেইন দেখা গেছে। জি, জিএইচ ও জিআর হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াতে। জি, জিএইচ ও জিআর ধরনের ভাইরাসই এখন মূলত বিশ্বের নানা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, জি ধরনের ভাইরাসটি সম্ভবত ইউরোপ থেকেই এসেছিল। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডি ধরনের ভাইরাসের উৎস ছিল সম্ভবত চীন। ডেনিয়েল মার্সেটালি ও ফেডেরিকো জর্জিনামের গবেষকদের ওই বিশ্লেষণ বিজ্ঞান সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজিতে ছাপা হয়েছে। ৪৮ হাজার ৬৩৫টি জিনকাঠামোর তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা বলেছেন, বাংলাদেশ, ভারত, কঙ্গো ও কাজাখস্তানে ভাইরাসের পরিবর্তন বা মিউটেশন বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। সারা বিশ্বে প্রতিটি নমুনায় গড়ে সাতটি মিউটেশন দেখা গেছে। বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে মিউটেশন হয়েছে ৯ দশমিক ৮৩।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে ২৫টি গৃহহীন পরিবার পেল ঘর ও জমি

জাতীয়

শাহজাদপুরে ২৫টি গৃহহীন পরিবার পেল ঘর ও জমি

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলা হল রুমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘর ও জমি বিতরণের উদ্বোধন করেন

শাহজাদপুরে ডিলারের বাড়ী থেকে টিসিবির পণ্য উদ্ধার

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ডিলারের বাড়ী থেকে টিসিবির পণ্য উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর সদরের দ্বারিয়াপুর মোদকপাড়ার মহল্লায় মেসার্স বকতিয়ার এন্টারপ্রাইজের মালিক বখতিয়ারের বাড়ি থেকে...

শাহজাদপুরে ডোবায় পড়ে ৩ সন্তানের জননীর মৃত্যু

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ডোবায় পড়ে ৩ সন্তানের জননীর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে দিনে-দুপুরে বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে আছিয়া খাতুন(৩২) নামের ৩ সন্তানের জননীর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি’)-এর সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর

শাহজাদপুর

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি’)-এর সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর

প্রথম পর্যায়ে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে (২৮ আগস্ট) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আজ (২৯ আগস্ট) বাকি ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ...

রোগীর সেবা করলে যে সওয়াব পাবেন

ধর্ম

রোগীর সেবা করলে যে সওয়াব পাবেন

আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি নেয়ামত অসংখ্য ও অগণিত। তন্মধ্যে সুস্থতা অনেক বড় অনুকম্পা। অসুস্থতাও তার পক্ষ থেকে নিয়ামত...

বিয়ের সময় পাত্রীর নাম ভুল বললে বিয়ে হবে

ধর্ম

বিয়ের সময় পাত্রীর নাম ভুল বললে বিয়ে হবে

‘অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।’- (আহমাদ, বুলূগুল মারাম- হা/৯৭৬, বিয়ে অধ্যায়)