বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর : জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ৬নং পোরজনা ইউনিয়নে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-৩ এর প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির কাজে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর এ কাজে যে ব্যাপক দূর্নীতির প্রমান হলো, চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুলের দুইবার কমিশন কেটে নেয়ার তথ্য থেকে। এভাবে মোট বরাদ্দকৃত টাকা থেকে দুইবার কমিশন কেটে রেখে অবশিষ্ট টাকায় এলাকায় কতটুকুই বা উন্নয়নমূলক কাজ হবে এমন প্রশ্ন রেখেও এলাকাবাসী অভিযোগ করে চলেছে। তথ্যে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ‘এলজিএসপি-৩’ প্রকল্পে পোরজনা ইউনিয়নে প্রথম কিস্তিতে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ১৭ লাখ প্লাস টাকা বরাদ্দ আসে। বরাদ্দকৃত টাকা স্ব স্ব ইউনিয়নের নিজস্ব ‘এলজিএসপি’ নামীও চলতি ব্যাংক হিসেবে মাধ্যমে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ একাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়। সোনালী ব্যাংক, শাহজাদপুর শাখা মাদার ব্যাংক হিসেবে এ টাকা সরবরাহ করে থাকে। বিধিমতে প্রকল্প আকারে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু, বাস্তবে হয়েছে উল্টো। কারণ, চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল প্রথম কিস্তির ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা থেকে প্রথমেই ৩৫% তার চেয়ারম্যানই কমিশন কেটে রেখেছেন যার পরিমাণ ছয় লাখ ২৪ হাজার টাকা। পরবর্তীতে বাকী ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পিআইসি করে আলাদা আলাদা যে সকল প্রকল্প করে দিয়েছেন সেখান থেকে তিনি আবার প্রতি প্রকল্পের মোট টাকা থেকে কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাহলে দুইবারে কমিশনে চেয়ারম্যান নিলেন প্রায় অর্ধেক টাকা। এভাবে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা থেকে যদি চেয়ারম্যান অর্ধেক টাকা আত্মসাৎ করেন, তাহলে উন্নয়ন কাজের জন্য থাকে মাত্র বাকি অর্ধেক টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় কিস্তির ১৭ লাখ টাকা থেকে চেয়ারম্যানের প্রথম কমিশন ৩৩% হিসেবে প্রায় পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং পরের প্রকল্প থেকে কমিশন হিসেবে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। এখানেও দুইবারে মোট টাকার কমিশন প্রায় অর্ধেক টাকা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল কেটে নিয়ে আত্মসাৎ করলে মোট টাকার বাকী থাকে মাত্র অর্ধেক টাকা। এভাবে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ‘এলজিএসপি-৩’ এর প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির মোট ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকার মধ্যে চেয়ারম্যানই কমিশন আকারে কেটে রেখে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা। বাকী ১৯/২০ লাখ টাকার মধ্যে প্রতিটি প্রকল্প সভাপতি (পিআইসি চেয়ারম্যান) সহ অন্যান্য সদস্যরা কাজও করবে আবার তারাও তো দূর্নীতি করবেনই। এতে করে বোঝা যায়, পোরজনা ইউনিয়নে ‘এলজিএসপি-৩’ কাজে হয়েছে অর্ধেক ফাঁকি। আর তার সিংহ ভাগ টাকা উঠেছে চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুুকুলের পকেটে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল জানান, ‘আমি সব মিলে ৩৫% কমিশন নিয়েছি। যার মধ্যে ভ্যাট ট্যাক্সের টাকাও আছে।’ এলাকাবাসীর দাবি, চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল নৌকা মার্কা নিয়ে যেহেতু চেয়ারম্যান হয়েছেন, সেহেতু তার এ দূর্নীতির সাথে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের বিষয়টিও জড়িত রয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ

অপরাধ

শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযো...

শাহজাদপুুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস এলাকায় আতংক

শাহজাদপুুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস এলাকায় আতংক

শাহজাদপুরে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ  ও মানববন্ধন

অপরাধ

শাহজাদপুরে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অধ্যক্ষ হাজী এ্যাড. আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হাসান লিংকন বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খোকনসহ...

শাহজাদপুরে  বিএনপি নেতার ঈদ উপহার বিতরণ

রাজনীতি

শাহজাদপুরে বিএনপি নেতার ঈদ উপহার বিতরণ

ঈদ উপহারের মধ্যে ছিলো শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিছ, পাঞ্জাবি ও ম্যাক্সি

সাকিব থেকে গণমাধ্যমকে দূরে থাকার অনুরোধ আকরাম খানের

খেলাধুলা

সাকিব থেকে গণমাধ্যমকে দূরে থাকার অনুরোধ আকরাম খানের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিবের কাছ থেকে গণমাধ্যমকে দূরে থাকার অনুর...