বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারী আইন, কানুন, রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে ও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শাহজাদপুরে গড়ে উঠছে অসংখ্য ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠছে এসব ইটভাটা যেখানে আইন কানুনকে কোনরূপ তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ওই অঞ্চলে এসব ইটভাটায় প্রতিনিয়ত পোড়ানো হচ্ছে ফসলী জমির উপরের অংশের মাটি টপ সয়েল। ফলে ফসলী জমি ক্রমেই উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। শাহজাদপুরে ইটভাটায় টপসয়েল পোড়ানোর ফলে ফসলী জমির পিএইচ এর মাত্রা স্থানভেদে কমবেশী হচ্ছে যা কৃষিপ্রধান দেশের জন্য মারাত্বক হুমকিস্বরূপ বলে অভিজ্ঞ কৃষিবিদ অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। অন্যদিকে, যেখানে সেখানে ওইসব ইটভাটা গড়ে তোলা,টপ সয়েল কাট, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কারণে উপজেলায় প্রতি বছর কমছে আবাদী জমি ও বাড়ছে জনবসতি। ইটভাটা থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক হলেও সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে তেমন কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ, কায়েমপুর ও তালগাছী এলাকায় দিনের পর দিন ইটভাটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । এসব এলাকায় ভাটা স্থাপন, ইট শুকানোর স্থান, টপ সয়েল কর্তনকৃত জমিসহ বিপুল পরিমান আবাদী জমি চলে যাচ্ছে এসব ইটভাটার দখলে। আবাদী জমিতে ইটভাটা তৈরি করায় দিনে দিনে আবাদী জমির পরিমান কমছে। অন্যদিকে, টপসয়েল কাটার ফলে ফসলী জমিতে ফসল উৎপাদনের হারও আনুপাতিক হারে কমছে। অনেক স্থানে ইটভাটার কালো ধোয়া পার্শ্ববর্তী জমির ফসলকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। দরিদ্র কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে বিঘাপ্রতি নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময়ে ইটভাটার মালিকেরা ফসলী জমি থেকে আড়াই ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ওইসব ইটভাটার মালিকেরা বিঘাপ্রতি ২৬ থেকে ৩০ হাজার টাকায় আড়াই ফুট গভীর করে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে। অনেক স্থানে আবার তিন সাড়ে তিন ফুট গভীর করেও মাটি কাটা হচ্ছে যা ফসলী জমির জন্য হুমকিস্বরূপ। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি একর জমি থেকে মাত্র ৫৬ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা টপসয়েল ক্রয় করে নিচ্ছে। ফসলী জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরা শক্তি মারাত্বকভাবে হ্রাস পাওয়ায় ইতিমধ্যেই এলাকার জমিতে আউশ, আমন, ইরি, বোরোসহ নানা ফসলের উৎপাদনের হার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এ ব্যাপারে গতকাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খাইরুল আলমের (অবঃ) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,‘ উন্নত বিশ্বের ফসলী জমিতে বিভিন্ন ধরনের সুষম রাসায়নিক সার অতি মাত্রায় ব্যবহারে জমিতে পিএইচ এর মাত্রা নিউট্রালে না থেকে স্থানভেদে কম বা বেশী হচ্ছে যা জমির জন্য ক্ষতিকর। টপ সয়েল না কেটে জমিতে বেশী বেশী পরিমানে জৈবসাব ব্যবহার করা হলে পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষার পাশাপাশি জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাবে ও ফসল উৎপাদন বেড়ে যাবে। পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের পুষ্টিগ্রহনের ক্ষমতাও বেড়ে যাবে ও রোগবালাই অনেক কমে যাবে বলে। এজন্য অবিলম্বে ইটভাটাগুলোতে টপসয়েলের ব্যবহার নিষিদ্ধ অতীব জরুরী বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।’

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ

অপরাধ

শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযো...

শাহজাদপুরে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

অপরাধ

শাহজাদপুরে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বাঘাবাড়ী দক্ষিণপাড় গ্রাম থেকে রওশনআরা বেগম (৫৪) নামে...

সিরাজগঞ্জসহ ৪ জেলার জন্য জামালপুরে স্থাপিত হচ্ছে করোনা পরীক্ষা ল্যাব

সিরাজগঞ্জ জেলার সংবাদ

সিরাজগঞ্জসহ ৪ জেলার জন্য জামালপুরে স্থাপিত হচ্ছে করোনা পরীক্ষা ল্যাব

সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর ও কুড়িগ্রামের দেড় কোটি মানুষের কল্যাণে জামালপুরে স্থাপিত হতে যাচ্ছে করোনা পরীক্ষার ল্যাব। আ...

মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মন্ডল আর নেই

রাজনীতি

মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মন্ডল আর নেই

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল মজিদ মন্ডল (৭২) আর ন...

পত্রিকার অনলাইনে ভিডিও কনটেন্ট প্রচারে বিতর্কের কিছু নেই : সম্পাদক পরিষদ

বাংলাদেশ

পত্রিকার অনলাইনে ভিডিও কনটেন্ট প্রচারে বিতর্কের কিছু নেই : সম্পাদক পরিষদ

সংবাদপত্রের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল কনটেন্ট (আধেয়) প্রচারের বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করে সম্পা...

ডায়াবেটিস: কোন ধরনটার ঝুঁকিতে আছেন? লক্ষণ ও পরীক্ষার খুঁটিনাটি

জীবনজাপন

ডায়াবেটিস: কোন ধরনটার ঝুঁকিতে আছেন? লক্ষণ ও পরীক্ষার খুঁটিনাটি

চারদিকে অহরহ ডায়াবেটিসের কথা শোনা গেলেও এটা স্বাস্থ্যের জন্যে এক মারাত্মক অশনিসংকেত। যাদের ডায়াবেটিস হয়নি তাদের মাঝে মধ্...