বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী থেকে তাড়াশের নিমাইচড়া পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকার ১ হাজার ২৫০ মিটার রিং বাঁধটি অবশেষে বন্যার পানির প্রবল চাপে ভেঙ্গে গেছে। ফলে বৃহত্তর চলনবিলাঞ্চলের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব অঞ্চলের হাজার হাজার গো-খামারে (বাথান) লালন পালন করা প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে খামারিদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরসহ চলনবিলাঞ্চলের খামারিরা তাদের গবাদীপশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় রোপিত উন্নতজাতের গো-খাদ্য ( কাঁচা ঘাস) ইতিমধ্যেই আকষ্মিক বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে গো-খাদ্য কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃস্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার আকষ্মিক বন্যার পানিতে বড়াল নদী তীরবর্তী রাউতারা-নিমাইচড়া চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রাউতারা অংশে ভেঙ্গে গেল মুহুর্তেই এ অঞ্চলের বিস্তৃত গো-চারণ ভূমি বানের পানিতে তলিয়ে যায়। এসব স্থানে প্রতিপালন করা গবাদীপশু শ্যালো নৌকার মাধ্যমে পরিবহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে খামারিরা। কাঁচা ঘাস বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলনবিল অঞ্চলে গো-খাদ্য ব্যবসায়ীরা গো-খাদ্য খড় নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানের খামারীদের সরবরাহ করছে। স্থানীয় গো-খামারিরা জানান, ‘হঠাৎ করেই রাউতারা স্লুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় রাউতারা-নিমাইচড়া রিং বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়াসহ চলনবিলাঞ্চলের প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদীপশু নিয়ে গো-খামারীরা চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় কালাতিপাত করছে। ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলের গো-খামারিরা তাদের গবাদীপশুকে নিরাপদ সরিয়ে নিচ্ছে। প্রায় দেড় যুগ ধরে ফি বছরই ফসল রক্ষার নামে এই বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে অস্থায়ীভাবে এ বাঁধ নিমার্ণ ব্যয় ৯৯ লাখ টাকা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যয় বেড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার হরিলুট হচ্ছে। স্থানীয়রা এ হরিলুটের সাথে সংশ্লিষ্টদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম স্থানীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ কাজে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের ১৪ উপজেলার ফসল রক্ষার্থে গত ২০ বছর ধরে অস্থায়ী ভাবে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ বছরও করা হয়েছে। এ বাধেঁর মেয়াদ কাল ধরা হয়েছিল ৩১ মে পর্যন্ত। এ অঞ্চলের জমি থেকে সব ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলেও কৃষকের কোন ক্ষতি হয়নি। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, এ বছর বাঁধটির নির্মাণ কাজ অনেক দূর্বল হলেও আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় তেমন কোন বড় ধরণের ফসলহানী হয়নি। বেশ কিছুদিন আগেই এ এলাকার সব ধান কাটা হয়ে গেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস এলাকায় আতংক

শাহজাদপুুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস এলাকায় আতংক

সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের শোক বার্তা

সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের শোক বার্তা

শাহজাদপুরে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ  ও মানববন্ধন

অপরাধ

শাহজাদপুরে শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অধ্যক্ষ হাজী এ্যাড. আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হাসান লিংকন বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খোকনসহ...

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জ জেলার সংবাদ

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

আরাফাত শাকিল ওই মহল্লার শওকত আলীর ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংক এসবি ফজলুল হক রোড শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।