এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৬৮ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চার চিকিৎসকের মৃত্যু।বিএমএর কাছে আক্রান্ত চিকিৎসকের হালনাগাদ হিসাব থাকলেও তাঁদের মধ্যে কতজন চিকিৎসাধীন আছেন এবং কতজন সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন, তার সঠিক হিসাব নেই। তবে বিএমএ বলছে, আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন এবং তাঁদের প্রায় সবাই আবার কাজে যোগ দিয়েছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সেবা করার সময় গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে আক্রান্ত হয়েছিলেন হাসপাতালটির চিকিৎসক এ আর এম খায়রুল আলম সিদ্দিক। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন। চার চিকিৎসকের মৃত্যু বিএমএর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া চার চিকিৎসক হলেন ইউনুস আলী খান, ফিরোজা বেগম মিনু, এস এম সাইফুল ইসলাম ও শহীদুল আনোয়ার। তাঁদের মধ্যে বুধবার সকালে মারা যান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইউনুস আলী খান। ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ এই চিকিৎসক করোনায় সংক্রমিত হয়ে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে শাহজাদপুরের সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ফিরোজা বেগম গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোরে মারা যান। তিনি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এস এম সাইফুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর আল-মানার হাসপাতালের পরিচালক ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। অন্যদিকে গত বুধবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদুল আনোয়ার নামে আরেক চক্ষুবিশেষজ্ঞের মৃত্যু হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব শহীদুল আনোয়ার চট্টগ্রামের চান্দগাঁওতে বণি হাসান চক্ষু হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ছিলেন। নগরের জামালখান এলাকায় ব্যক্তিগত চেম্বারেও তিনি রোগী দেখতেন। তাঁর বাড়ি ফটিকছড়ি এলাকায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আফতাবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৬ মে শহীদুল আনোয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। এর আগে তিনি বাসায় চিকিৎসা নেন। চার দিন আগে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। চিকিৎসকদের মধ্যে সংক্রমণ রোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএমএর দপ্তর সম্পাদক মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন, এটি ধরে নিয়ে সব রোগীর চিকিৎসা দিতে হবে। হাসপাতালে যেসব রোগী আসবেন, তাঁদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। তিনি বলেন, সব চিকিৎসকের জন্য আসল এন–৯৫ মাস্ক ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পিপিই পরতে ও খুলতে হবে, প্রয়োজনে অনলাইনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ
সিরাজগঞ্জ জেলার সংবাদ
সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঔষধ রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের লক্ষ টাকা অর্থদন্ড
সিরাজগঞ্জ জেলার সিরাজগঞ্জ সদরের শিয়ালকোল বাজার এবং সলঙ্গা থানার অন্তর্গত হাটিকুমরুল নামক স্থানে এ অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্...
পড়াশোনা
করোনায় ভালো নেই টিউশন শিক্ষার্থীরা
দুটি টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতাম। ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনা মিলিয়ে সংসারের খরচ বেড়েছে। কিন্তু হঠাৎই মাথায় ব...
আন্তর্জাতিক
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য 'সাজাদপুর'
শামছুর রহমান শিশির : ঊণবিংশ শতাব্দির বাংলা সাহিত্য গগণে ও বিশ্বের জ্ঞান পরিমন্ডলে ভারস্যাটাইল জিনিয়াস খ্যাত (বহুমূখী প্র...
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শাহজাদপুরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা
শাহজাদপুর উপজেলা সংবাদদাতা : শাহজাদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে...
রাজনীতি
‘ক্ষেত পরিচর্যা করেছি, আগাছা তুলে ফসল বুঁনেছি; ৩০ তারিখে ঘরে তুলবো’- জননেতা এসএ হামিদ লাবলু
শামছুর রহমান শিশির, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর -২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা আজ শুক্র...
