৮ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডবের মাঝে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রায় চার মাস পুরোপুরি বন্ধ থাকার পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে বাইশ গজের লড়াই। বুধবার (৮ জুলাই) সাউদাম্পটনে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটায় টস করতে নামবেন ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।এর মধ্য দিয়ে করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে ফিরতে চলেছে ক্রিকেট। সম্পূর্ণ দর্শকহীন গ্যালারিতে, বায়ো-সিকিউর পরিবেশে মাঠে গড়াবে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্রীড়াঙ্গনের মধ্যে সবার আগে মাঠে ফিরেছিল ইউরোপের ফুটবল। জার্মান বুন্দেশলিগার পর স্প্যানিশ লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ইতালিয়ান সিরি-আ, সবই ফিরেছে মাঠে।

ক্রিকেট ফেরানোর জন্য বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে ইংল্যান্ড। এ জন্য অন্তত ৫ সপ্তাহ আগে ইংল্যান্ড এসে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। এসেই তারা ছিল ১৪ দিনের আইসোলেশনে। এরপর তিন সপ্তাহ সময় পেয়েছে প্রস্তুতির জন্য। এরই মাঝে ইংল্যান্ড বাটলার একাদশ বনাম স্টোকস একাদশের মধ্যে একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন করে। ক্রিকেট ওই ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে ফিরবে বুধবার বিকেল ৪টায় ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের মধ্য দিয়ে।

মার্চে শেষবার ক্রিকেটের বাইশ গজে বল গড়িয়েছিল। এরপর থেকে করোনার দাপটে বদলে যায় ছবিটা। লকডাউন থেকে ধীরে ধীরে আনলক হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সুতরাং, ক্রীড়াঙ্গনেও সেই আনলক হওয়ার সুর। ক্রিকেটে সুরটা ছড়িযে দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড।

করোনার জেরে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে নামার আগে ফিটনেসই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুই দলের ক্রিকেটারদের সামনে। তবে ব্যাট-প্যাড নিয়ে ক্রিকেটাররা মাঠে নেমে পড়লেও বিশ্ব থেকে এখনও বিদায় নেয়নি মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস। তাই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই ম্যাচের আয়োজন হচ্ছে। তবে এই ‘ঐতিহাসিক’ ম্যাচে সাউদাম্পটনের স্টেডিয়ামের দর্শকাসন যাতে একেবারে ম্যাড়ম্যাড়ে না দেখায়, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।

সেটা কীভাবে? ব্যাটসম্যান চার কিংবা ছক্কা হাঁকালে অথবা বোলার উইকেট তুলে নিতে পারলে গ্যালারি থেকে ভেসে আসবে উল্লাসের শব্দ। বেজে উঠবে মিউজিক। মাঠের পরিবেশ যাতে আগেই মতোই স্বাভাবিক মনে হয়, সে জন্যই কৃত্রিমভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের এমন প্রস্তাবে আপত্তিও জানাননি ক্রিকেটাররা। তবে শুধু মাঠেই নয়, কৃত্রিমভাবে তৈরি দর্শকদের এই উচ্ছ্বাসের আওয়াজ টিভিতে চোখ রেখেও শুনতে পাবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

উল্লেখ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার করে গ্যালারিতে এভাবেই কৃত্রিম উল্লাসের আওয়াজ ব্যবহার করা হচ্ছে ফুটবল মাঠেও। লা লিগা এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ ছোটপর্দায় দেখলেও কানে আসছে সেই শব্দ। এবার ক্রিকেটেও কৃত্রিমভাবে পূরণ করা হবে দর্শকদের অভাব। ফাঁকা গ্যালারি, থুতু ছাড়া বোলিং, কোভিড পরিবর্তন- ইত্যাদি একাধিক নতুন নিয়ম নিয়ে করোনা পরবর্তী যুগে ক্রিকেটের চেহারাটা দেখতে মরিয়া ক্রিকেট বিশ্ব।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.