৪৯ দিন পর ভারতে পাচারকৃত শাহজাদপুরের গৃহবধূকে উদ্ধার করলো পুলিশ!

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর থেকে : বিউটি পার্লারে লোভনীয় বেতনে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে ভারতের ব্যাঙ্গালোর প্রদেশে পাচারের ৪৯ দিন পর অবশেষে শাহজাদপুরের এক গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। পাচারকারী সুমিসহ ঘটনায় জড়িত কুদ্দুস ও হানিফ নামের ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদিকে, গতকাল ওই গৃহবধুকে ৪৯ দিন পর ফেরৎ পেয়ে তার মা ও স্বামী পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আজ সোমবার বিকেলে গৃহবধুর মা মিনা খাতুন ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে শাহজাদপুর পৌরসদরের দ্বারিয়াপুর মহল্লার মৃত আবু শামার মেয়ে পাচারকারী সুমি তার মেয়ে ভিকটিম (১৬)কে ঢাকায় বিউটি পার্লারে মাসে ৪০/৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে ঢাকায় পাচারকারী চক্রের সদস্য বাবুর বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন ৩ মে ভারতে পাচারের জন্য আরেক পাচারকারী আজিমের হাতে ভিকটিম গৃহবধুকে তুলে দেয়া হয়। ওই দিনই ভারতের ব্যাঙ্গালোর প্রদেশে আজিমের বোনের বাড়িতে পাচারের জন্য ভিকটিমকে আজিম বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা মিনা খাতুন গত ১৬ মে সুমিসহ মোট ৬ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুমির ভাই হানিফ সেখ ও উপজেলার মাদলা গ্রামের ড্রাইভার কুদ্দুসকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তৈয়ব গত ২৯ মে ঢাকা থেকে সুমিকে আটক করে। এরপর তাকে দুই দফা ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তবেই সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার ভারতের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ৩০ হাজার টাকার বিনিময় ওই পাচারকারী চক্র গৃহবধূকে ফেরত দিতে রাজী হয় । একপর্যায়ে তাদেরকে ১৫ হাজার টাকা পাঠানোর পর পাচারকারী চক্র ভিকটিমকে শুক্রবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠায়। এ সময় এসআই তৈয়ব, এএসআই আফজাল সঙ্গীয় ফোর্সসহ বেনাপোল সীমান্ত থেকে তাকে উদ্ধার করে শাহজাদপুর থানায় নিয়ে আসে। গত শনিবার সকালে শাহজাদপুর আমলী আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হক ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে স্বজনদের হেফাজতে দেয় হয়। এ ব্যাপারে থানার ইন্সপেক্টর (ইনভেস্টিগেশন) কে.এম রাকিবুল হুদা জানান, ‘মামলাটি দায়েরের পর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম এর নির্দেশে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খাজা গোলাম কিবরিয়ার তত্বাবধানে এসআই তৈয়ব ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামীদের গ্রেফতার করা করেছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের জন্য জোর তৎপরতা চলছে।’