৪র্থ শ্রেণির প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানীর দায়ে ৩ সন্তানের জনকের ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার ৪৫ বছর বয়সী ৩ সন্তানের জনক, লম্পট এক ভ্যান চালক কর্তৃক ৪র্থ শ্রেণী পড়ুয়া প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর (১৩) শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে। এলাকার প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতবররা দেনদরবার করে ভ্যানচালককে অভিযুক্ত করে, ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিবন্ধী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে লম্পট ভ্যানচালকের নিকট থেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতিবন্ধী পরিবারের হাতে কোন অর্থ পৌঁছেনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বরকে না জানিয়েই আইন বহির্ভূতভাবে আদায়কৃত ৮০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থের মধ্যে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে সাবেক মেম্বর ও গ্রামপ্রধাণদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার সকালে বর্বরোচিত ও ঘৃণিত এ ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জিগারবাড়ীয়া গ্রামে।
সরেজমিন পরিদর্শণকালে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী জানায়,‘গত সোমবার সকাল ৭ টায় উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জিগারবাড়িয়া গ্রামের কৃষক হাতেম মিয়ার প্রতিবন্ধী মেয়ে, জিগারবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী(১৩) ঘুম থেকে উঠে তাদের বাড়ির নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে একাকি অবস্থানের সুযোগে জোরপূর্বক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে প্রতিবেশী ৩ সন্তানের জনক, ভ্যানচালক, ৪৫ বছর বয়সী লম্পট কাদের স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানী করে। এক পর্যায়ে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করতে নিলে প্রতিবন্ধীর আত্মচিৎকারে তার দাদী দৌড়ে এসে ঘটনাটি দেখে ফেললেও লম্পট কাদের প্রতিবন্ধী’র মুখ চেপে ধরে রাখে। উপয়ান্ত না দেখে প্রতিবন্ধীর দাদী একটি লাঠি দিয়ে লম্পট কাদেরকে আঘাত করলে প্রতিবন্ধীকে ছেড়ে দিয়ে লম্পট কাদের সটকে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করে। এক পর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাবেক ইউপি মেম্বর মো: হারেজ, গ্রাম প্রধান ঠান্ডু মিয়া, পল্লী চিকিৎসক মান্নানসহ গ্রামের প্রধানবর্গ বিচার শালিষ শেষে কাদেরকে দোষী করে প্রতিবন্ধী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নামে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করেন।
আজ (বুধবার) রাতে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর দাদী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘শুনেছি কাদেরের ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে মাতবররা। তার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা আমাদের দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ওই অর্থ এখনও আমরা হাতে পাইনি।’ প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রী নিজে, তার পিতা পিতা হাতেম আলী ও দাদা মোতালেব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে আজ (বুধবার) রাতে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বর শামছুল বলেন,‘শালিষে তিনি ছিলেন না। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন,‘ইউনিয়ন পরিষদের আইনানুসারে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বর গ্রামের প্রধানবর্গদের নিয়ে নিজ ওয়ার্ডের মধ্যে গঠিত গ্রাম্য শালিষে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করতে পারেন।’
এদিকে, ঘটনার সত্যতা জানার জন্য গ্রাম প্রধান পল্লী চিকিৎসক মান্নানের সাথে সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে সটকে পড়েন। অপরদিকে, অন্যতম গ্রাম প্রধান ঠান্ডু মিয়ার সাথে তার মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। লম্পট কাদেরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে, ৪৫ বছর বয়সী ৩ সন্তানের জনক কর্তৃক ১৩ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় চরম উদ্বেগ, নিন্দা প্রকাশ করে অবিলম্বে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লম্পট কাদেরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়।