৩ দিনে যমুনার কড়াল গ্রাসে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি : জনমনে আতংক

অনলাইন ডেস্ক : সিরাজগঞ্জে রাক্ষুসী যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বর্না মৌসুম শুরু না হতেই গত ৩দিন যাবৎ সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি সামন্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার বাহুকা ও কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা পয়েন্টে প্রচন্ড শ্রোত ও ঘুর্নাবর্তের সৃষ্টির ফলে বড় বড় ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। ৩দিনে ৩টি গ্রামের দেড়শতাধিক ঘরবাড়ি ও শতাধিক বিঘা ফসলী জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। বাহুকা পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে আশ্রিত মানুষ জন আতকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। অনেক দরিদ্র মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। বাহুকা পয়েন্টে বর্না নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল ধরেছে যে কোন মূহুর্তে বাঁধ ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে।
সরেজমিনে ভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় অসহায় শত শত মানুষ তাদের ঘরবাড়ি জমিজমা হারিয়ে আহাজারী করছে। শুভগাছা বাহুকা এর চরবাহুকা গ্রামের বাঁধের বাইরে থাকা দেড়শ ঘরবাড়ি গত ৩দিনে নদীগর্ভে চলে গেছে। বড় বড় ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। ভাঙ্গনের ভয়াবহতায় মানুষ জন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বাহুকা গ্রামের টুটুল মোড়ের শফিকুল ইসলাম, চায়না খাতুন, সুফিয়া খাতুন, শহিদুল ইসলাম সহ অনেক নারী পুরুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তারা বলেন গত ৩দিন যাবৎ এই এলাকায় যেন দানব তান্ডব চালাচ্ছে। আকস্মিক বড় বড় ফাটল ধরে নদীতে ধসে পড়ছে। অতীতে এরুপ ভয়াবহ ভাঙ্গন তারা দেখেননি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে । এলাকাবাসী আরও জানায়, ভাঙ্গনের খবর শুনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী এসে ঘুরে দেখে গেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন ভাঙ্গন রোধে জরুরী কাজ করবেন কিন্তু কোন কাজই শুরু হচ্ছেনা। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান এই এলাকায় ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে জরুরী বরাদ্দের জন্য বোর্ডে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে এই এলাকায় ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু হবে।( তথ্যসূত্র : সিরাজগঞ্জ কন্ঠ )