২৩ টাকায় মিলছে এক হালি ডিম, ৪০ টাকায় এক লিটার দুধ

লকডাউন ও রমজান মাসকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ যানবাহনের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমে ৪০ টাকায় মিলছে এক লিটার দুধ আর ২৩ টাকায় এক হালি ডিম।

জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, এলডিডিপি প্রকল্প ও শাহজাদপুর ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ কার্যক্রম শুরু করেছে।

তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের দুধ পাওয়ায় উৎসাহ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে কিনছেন ক্রেতারা। শুধু তাই নয়, পৌর ও উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের গাড়িতে পাওয়া যাবে ৭০ টাকায় এক ডজন ডিম। এ কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খামারে উৎপাদিত দুধ সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পরিচালিত এ কার্যক্রমে খামারি ও ভোক্তা লাভবান হচ্ছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সমবায়ভিত্তিক মিল্কভিটার একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে ওঠে। মূলত সেটিকে কেন্দ্র করেই অঞ্চলটিতে হাজার হাজার গরুর খামার গড়ে ওঠে। সেখান থেকে মিল্কভিটা এখন প্রতিদিন ২ লাখ ২৫ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে। তরল দুধ, পাউডার দুধ, কনডেন্সড মিল্ক ও খাঁটি গাওয়া ঘি তৈরি করে দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করছে।

বর্তমানে শাহজাদপুর উপজেলায় সমবায়ভিত্তিক গো-খামার থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এখান থেকে প্রতিদিন মিল্কভিটা ৯০ হাজার লিটার, প্রাণ ৪০ হাজার লিটার, আড়ং ১০ হাজার লিটার ও ইগলু ১ হাজার লিটারসহ বিভিন্ন মিষ্টির দোকান বাকি দুধ কিনে থাকেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের ঘোষণা করা চলমান লকডাউনে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে উৎপাদিত দুধ এখন ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন দুটি ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে ১ হাজার লিটার দুধ পৌর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপশি ৪ হাজারের বেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক দুধ ও ডিমে দাম কম হওয়ায় দিন দিন বাজারেও দুধের চাহিদা বাড়ছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির সঙ্গে একজন খামারি ও প্রাণিসম্পদ অফিসের একজন কর্মচারী থাকেন।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে উৎপাদিত দুধ নিয়ে খামারিরা প্রথমে একটু বিপাকে পড়লেও মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ংসহ অন্যান্য কোম্পানিগুলো দুধ কেনা অব্যাহত রাখায় এখন তারা অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে। তবে মিষ্টির দোকান, চায়ের দোকান বন্ধ এবং হাটবাজারে লোক সমাগম কমে যাওয়ায় খোলাবাজারে খুচরা দুধের চাহিদা কমে গেছে। তবে রমজান মাস শুরু হওয়ায় দুধের চাহিদা আবার অনেকটাই বেড়ে গেছে।

মিল্কভিটার পরিচালক ও শাহজাদপুর ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সামাদ ফকির বলেন, লকডাউন শুরু হওয়ায় খামারিরা অনেকটা দুর্ভোগে পড়েছেন। বাজারে দুধের দাম ৬০ টাকা হলেও ৪০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে।

তিনি আরও বলেন, দুধ বিক্রির টাকা দিয়েও মিলছে না গো খাদ্য। গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। করোনার এই দুর্যোগে মিল্কভিটাসহ অন্যান্য কোম্পানি ন্যায্যমূল্যে উৎপাদিত দুধ কেনায় স্বস্তিতে রয়েছেন খামারিরা। যদি এই কোম্পানিগুলো দুধ না কিনতো তাহলে খামারিদের পথে বসতে হতো।