২১ জেলায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১৯ জনের মৃত্যু

বন্যার পানি মাড়িয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছেন বানভাসিরা/ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২১ জেলার ১৮০ উপজেলার মধ্যে ৭৬টি উপজেলাকে দুর্গত উপজেলা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে দুই দফা বন্যার শিকার দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ২১ জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ।

প্রকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ২১ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়া, আরটিআই, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, সাপে কাটা, পানিতে ডুবে, বন্যাজনিত কারণে যেকোনো আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ও শ্বাসনালীর প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৬৮৪ জন। এছাড়া পানিতে ডুবে, ডায়রিয়ায়, সাপের কামড়ে ও বজ্রপাতে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তেরর মুখপাত্র ডা. আয়শা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ২১ জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ পানিবন্দি আছেন। বন্যা কবলিত জেলাগুলোর মধ্যে ডায়রিয়া, আরটিআই, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, সাপে কাটা, পানিতে ডুবে, বন্যাজনিত কারণে যেকোনো আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ও শ্বাসনালীর প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মাদারীপুরে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৪১৩ জন। এছাড়া টাঙ্গাইলে এক হাজার ৫১৪ জন, নেত্রকোনার এক হাজার ৩৪ জন, সিরাজগঞ্জের ৯৬৫ জন ও কুড়িগ্রামে ৭৮৭ জন।

২১ জেলার মধ্যে জামালপুর জেলায় মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২১ জনের, কুড়িগ্রামে ২০ জন, টাঙ্গাইলে ১৬ জন, লালমনিরহাটে ১১ জন, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধায় ১০ জন করে ২০ জন রয়েছেন।

অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বন্যা দুর্গত এলাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের মধ্যে চার হাজার ৬২১ জন ডায়রিয়া রোগী। এছাড়া আরটিআইএ এক হাজার ২৪৩ জন, চর্মরোগে দুই হাজার ৭২৬ জন, বাকিরা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতান নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার প্রকোপ বেড়ে গেছে। বন্যার কারণে সাপের কামড়ে মৃত্যু একটি সাধারণ ঘটনা। শিশুসহ বাড়ির সবাইকে এ ব্যাপারে তিনি সতর্ক থাকতে বলেন। পানি বাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পানি ফুটিয়ে পান করা অথবা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংগ্রহ করে নিরাপদ পানি পান করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, জেলার বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে সিভিল সার্জন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সবসময় তদারকি করছেন। এছাড়া মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও অন্যান্য ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে বন্যা পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যা দুর্গত এলাকার আক্রান্তদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম