২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনরিনা খালের ওপর ৩৬ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতু ২০ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থেকে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।

বিরাট অংকের অর্থ ব্যায়ে নির্মিত ব্রীজটি আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে গেলেও গোড়ার দু’পাশে মাটি ভরাট না করায় সেতুতে ২০ বছরেও উঠতে পারেনি পথচারিরা। এরই মধ্যে সেতুটির রেলিং ভেঙে পড়েছে। অনেক জায়গার খোয়া বালি খসে পড়ছে। শ্যাওলা ও জঙ্গলে ছেয়ে গেছে সরকারি সেতু। এত বড় অপচয়ের পরও নির্মাতা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগও নির্বিকার এখনও!
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরুর দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চরনরিনা-নওকৈর ডিগ্রিরচর সড়কের ওপর ৪০ ফুটের কংক্রিট সেতুটি নির্মাণ করে। যা ২০ বছর ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। সরকারি এ অবকাঠামোটি কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয়দের।

সেতুটির দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভাবে ওই এলাকার ১৭ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গ্রামগুলো হলো নরিনা, চরনরিনা, টেপরী, চরটেপরী, বারইটেপরী, পুনারটেপরী, নবীপুর, বওশাগাড়ি, সাতবাড়িয়া, আগনুকালি, জয়রামপুর, চিলাপাড়া, ডিগ্রিরচর, কালিপুর, চরনবীপুর, নওকৈর ও রাজপুর।
স্থানীয়রা জানায়, চরনরিনা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নরিনা হাই স্কুল, সাতবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ, সাতবাড়িয়া কারিগরি কলেজ ও চরনরিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া চরনরিনা বাজার, নরিনা বাজার, সাতবাড়িয়া বাজার ও তালগাছি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিদিন ও সপ্তাহের দুদিন হাটবাজারে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শুষ্ক মৌসুমে সেতুটির নিচে পানি শুকিয়ে গেলে যাতায়াত নিচ দিয়ে করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে ও অনেক কষ্ট করে নৌকায় পার হতে হয়। এতে খরচ ও সময় দুটোই অপচয় হয়। তাই অতিবিলম্বে এ সেতুটির দু’পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে শাহাজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে মাটি ভরাটের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।