১০ হাজার বেকার পেয়েছে কর্মসংস্থান

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ১৭টি।এ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কটন মিল, লবণ প্রসেজ কারখানা, সিলিকেট কারখানা, এ্যালুমনিয়াম কারখানা, সুতা প্রসেজ মিল, পাওয়ার লুম কারখানা ইত্যাদি । এ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু চালুর সুবাদে এখানে পাইপ লাইনে গ্যাস এসেছে। কম খরচে গ্যাস সংযোগ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এ বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ৭৬টি প্লটের সব গুলিতেই গড়ে উঠেছে ছোট বড় কারখানা। এর মধ্যে ১৭টি শিল্প কারখানা উৎপাদন শুরু করেছে । ১৯৮৭ সালে সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে সিরাজগঞ্জ নলকা বাইপাস সড়কের পাশে ১১.৭৬ একর জমির উপর এই বিসিক শিল্প নগরী গড়ে ওঠে । বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর আগে এখানে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর পরপরই সিরাজগঞ্জে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। গ্যাস ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝামেলা না থাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলি সার্বক্ষণিক ভাবে তাদের উৎপাদন অব্যহত রেখেছে। রাষ্ট্রায়ত্ব অনেক প্রতিষ্ঠান যেখানে লোকসান গুনছে সেখানে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলি দেখছে লাভের মুখ । এখানে উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও যাচ্ছে। তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, বেলকুচি , এনায়েতপুর ও চৌহালিতে সুতা সংকটের কারণে স্থানীয় তাঁত ফ্যাক্টরি গুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ বিসিক শিল্প নগরীতে কটন মিল মিল চালু হওয়ায় তাঁত শিল্পের সে সংকট দূর হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, এ শিল্পনগরীতে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। এখানে কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা হয়েছে প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষের। নতুন শিল্প প্লটের জন্য প্রচুর চাহিদা থাকা সত্বেও উদ্যোক্তারা প্লট না পাওয়ায় এখানে নতুন করে আর শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছেনা। শিল্প উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্কটি চালু হলে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে দেশের অর্থনীতিকে আরো বেগবান করে তুলবে। সেই সাথে সিরাজগঞ্জে বেকারত্বের হার অর্ধেক কমে যাবে, সিরাজগঞ্জ একটি শিল্প সমৃদ্ধ নগরীতে পরিনত হবে । এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা শ্রী জয় প্রকাশ শাহজাদপুর সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন, এই শিল্প নগরী এরিয়ায় কোন বাউন্ডারী ওয়াল নেই। তাই অবাধে অফিস ক্যাম্পাসে লোকজন ও গবাদি পশু ঢুকে সমস্যার সৃষ্টি করে। এছাড়া এখানে শিল্প বর্জ ফেলার কোন ব্যাবস্থা নেই । এখানে একটি পুকুর আছে যেটি বর্জ ফেলার জন্য যথেষ্ট নয় । তাই কারখানাগুলি বর্জ্য ফেলার জন্য আউট লাইন ব্যাবস্থা গড়ে তোলে তবে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। সেই সাথে এলাকাবাসী পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভাল হওয়ার কারণে সিরাজগঞ্জের নলকা ও কড্ডা এলাকার সড়কের পাশে আরো বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে । এই গুলির মধ্যে এম এ মতিম স্পিনিং মিল, মোনা ষ্টীল মিল প্রাইভেট লিঃ, ভদ্রঘাট এলাকায় এসিআই ও গোদরেজ যৌথ উদ্যোগে গবাদি ও হাস মুরগীর খাদ্য উৎপাদন কারখানা , গণস্বাস্থ্য টেক্সটাইল মিল, সৈয়দ স্পিনিং মিল উল্লেখযোগ্য । ফলে এখানে প্রায় ১০ হাজার বেকার নারী পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা হয়েছে।

0 thoughts on “১০ হাজার বেকার পেয়েছে কর্মসংস্থান

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.