হাইকোর্টে নির্দেশনা : শাহজাদপুরে স্বাধীনতা বিরোধী মাওলানা ছাইফুদ্দিনের নাম মুছে ফেললো কলেজ শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : বৃহত্তর পাবনা জেলা পিস কমিটির চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন এহিয়ার নামে থাকা শাহজাদপুরে স্থাপিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা জারির পর গতকাল বুধবার সকালে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ওই কলেজে অবস্থিত মাও: সাইফুদ্দিন এহিয়া কলাভবনের নাম মুছে ফেলেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। নব্বই দশকে সরকারি জায়গা দখল করে স্বাধীনতাবিরোধী পাবনা জেলা পিস কমিটির চেয়ারম্যান সাইফউদ্দিনের নামে পৌর সদরে মাওলানা সাইফুদ্দিন এহিয়া কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তারই পুত্র ’৯১-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ কামরুউদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ সরোয়ার। বিএনপির ওই সাংসদ ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাজাকার ছিলেন।ওই কলেজটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় স্বাধীনতা বিরোধীর নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রচারপত্র বিলি করার কারণে স্থানীয় ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির আহব্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্লু বাশারকে হত্যার জন্য আক্রমন করা হয়। গভীর রাতে রাজাকার গংদের হামলায় তিনি মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে উন্নত চিকিৎসায় অবশেষে বেঁচে যান। কিন্তু সাংসদের নির্দেশে সে সময়ে এই নির্মম আক্রমনের ঘটনায় থানা মামলা পর্যন্ত গ্রহন করেনি। অবশেষে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুছে ফেলতে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার শাহজাদপুর সরকারি কলেজের ওই ভবনটির নামকরন মুছে ফেলে ওই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। এদিকে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সব স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। শিক্ষা সচিব ও স্থানীয় সরকার সচিবকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ ডিসেম্বর) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম রাস্তাঘাট, সড়ক ও স্থাপনা থেকে মুছে ফেলতে চেয়ে সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন। আগামী ১ মার্চ পরবর্তী আদেশের জন্য মামলাটি তালিকায় আসবে। একইসঙ্গে খান এ সবুরের নামে খুলনায় যেসব স্থাপনা আছে সেগুলো মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে আবেদনকারী ড. মুনতাসির মামুন ও শাহরিয়ার কবিরের পক্ষে শুনানি করেন ব্যরিস্টার এ কে রাশিদুল হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। আইনজীবী এ কে রাশেদুল হক বলেছেন, ‘২০ জন স্বাধীনতা বিরোধীর নাম সংবলিত একটি তালিকা যুক্ত করে সম্পূরক এক আবেদন করা হলে আদালত ওই আদেশ দিয়েছেন।’ এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতা খান এ সবুর সড়ক ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান মিলনায়তনের নাম পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশ ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে স্থাপনা নামকরণ প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবির একটি রিট করলে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে এই আদেশটি জারি করেন। এ ব্যাপারে যুদ্ধকালীন কমান্ডার আবুল বাশার বলেন,‘এটি আমার ব্যক্তিগত কোন আন্দোলন নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়। আজকে হাইকোর্ট রায় দিয়ে প্রমাণ করলো যে সারাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের অস্তিত্ব থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। ৪৫তম বিজয়ের মাসে এটি ইতিহাসের বিজয়ের অংশমাত্র।’

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.