সম্পাদকীয়


স্মৃতিপটে করতোয়া নদী

ফাইল ছবি

নদীর মৃত্যুর মাঝ দিয়ে আগাম ভবিষ্যৎ মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নদীগুলোর অকাল মৃত্যুর সাথে সাথে নাগরীক জীবনে পানি সঙ্কটসহ নানা সঙ্কটের মাঝ দিয়ে মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যু পথ যাত্রী হবে এটা না ভাবার কোন কারন নেই। এ ছারাও যেটকু নদী ও পানি ভূমিপৃষ্ঠে ভূগর্ভস্থে আছে শিল্প বর্জ্য ও মানব সৃষ্ট বর্জ্যে অবিরত অতি মাত্রায় দ্রুত দূষণের কারনে, কৃষিতে সার কীটনাশক প্রয়োগে,খাদ্যে ভেজালের কারনে, মানুষ ক্রমাগত নানা রোগ জীবানুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যু বরণ করছে। এখন চলছে করোনা সঙ্কট কাল। এরপর আগামীতে নতুন নতুন ভাইরাস জীবানু দ্বারা আমরা আক্রান্ত হতে পারি সেটি অস্বীকার করবার উপায় নেই। সারা বিশ্বের মৃত্যুর পরিসংখ্যান মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর,আশঙ্কাজনক ও হতাশা ব্যঞ্জক হলেও বিশ্ব রাজনৈতিক বাণিজ্যের ধারা মানুষের জীবন রক্ষায় নয়। বরঞ্চ বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা মানুষকে আশঙ্কিত ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এ সত্যবোধটুকু আমরা হাড়াতে বসেছি।

এবার করতোয়া নদী প্রসঙ্গে দু’টো কথা বলি। ৬০’র দশকে আমি শাহজাদপুর কলেজের ছাত্র ছিলাম। প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে আমার গ্রামের বাড়ী থেকে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেটে করতোয়া নদীপড়ে এসে শাহজাদপুর হজরত মখদুম শাহদৌল্লা খেয়া ঘাটে খেয়া নৌকায় নদী পাড় হয়ে কলেজে আসতাম আবার ফিরে যেতাম। এক খেয়া মিস করলে একঘন্টা পিছিয়ে পরতাম। রুটিন ক্লাস পেতাম না। তখনকার দিনে চৈত্র, বৈশাখ,জৈষ্ঠ মাসেও করতোয়া নদীতে স্রোত ও পানি চলমান থাকতো। এখন সেই নদীর পেটে পানি নেই। অনেক জায়গা দিয়ে হেটেও নদী পাড় হওয়া যায়। মাঝ খানে সময় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ বছর। এ অর্ধ শতাব্দীতেই এমন বৈরী চিত্র, বৈরী পরিবেশ আমাদের জাপিত জীবনেই দেখতে হবে এমনটা কখনও ভাবিনি। এখন আমাদের ভাবাচ্ছে। প্রশ্ন জাগছে আর ৫০ বছর পরে কোন দৃশ্য দেখবে আমাদের রেখে যাওয়া প্রজন্ম। তবে এটুকু বলতে পারি ভয়াবহ এক সঙ্কট কাল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তবুও বিশ্বজুড়ে সতর্ক হবার কোন বার্তাই মিলছেনা । তবে কি সত্যই পানি সঙ্কটের কারনে আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিযে চলেছি? অথবা প্রাকৃতিক বিপর্জয়ে আমরা নিজেরাই মৃত্যুমুখে ঢুকে যাচ্ছি। এমনটা আমি ভাবছি। আপনারাও ভাবুন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
তারিখ- ০৩ এপ্রিল, ২০২১ খৃষ্টাব্দ