জাতীয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে রিজেন্টের অনুমতি

করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালে ও আরেক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছরের মার্চ-এপ্রিলে দেশে কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কভিড রোগী ভর্তি করতে চাইছিল না। এমন ক্রান্তিকালে রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উত্তরা ও মিরপুরে দুটি ক্লিনিককে কভিড হাসপাতাল ডেডিকেটেড করার আগ্রহ প্রকাশ করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগ তা অবহিত হয় এবং নির্দেশক্রমে ২১ মার্চ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। স্মারক স্বাক্ষরের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের সঙ্গে পরিচয় থাকা তো দূরের কথা, টক শো ছাড়া আগে কখনো দেখেননি। তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বেশ কয়েকবার তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৬ জুলাই অভিযান চলার প্রাক্কালে গোয়েন্দা ও অন্যান্য সূত্রে রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে কিছু অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গোচরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছিল। আকস্মিকভাবে যৌথ অভিযানটি এরই ফল। ৭ জুলাই আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। সমঝোতা স্মারকের আর কোনো মূল্য নেই।

একই বিবৃতিতে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার (জেকেজি) গ্রুপ নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ওভাল গ্রুপ লিমিটেড। কভিড সংকট শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আরিফুল হক জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার (জেকেজি) গ্রুপ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন নিয়ে আসেন। ওভাল গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার মডেলে বাংলাদেশে কিছু বুথ স্থাপন করতে চায়। ওভাল গ্রুপের সঙ্গে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় অনুমতি দেওয়া যায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনে হয়। পরে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেকেজি গ্রুপকে প্রদত্ত বুথ পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইদানীং কোনো কোনো স্বার্থান্ব্বেষী মহল কল্পিত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনাম নষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

তথ্য সুত্রঃ কালের কণ্ঠ

Related Articles

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: