স্বপ্নের পদ্মা সেতু এস আকৃতি ও রং ধুসর কেন?

 

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৪১টি স্প্যান তৈরি হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের শিংহুয়াংডাও শহরে। বাংলাদেশে এনে করা হয়েছে জোড়া লাগানো ও রং করার কাজটি। চীন থেকে আনার সময় স্প্যানের বিভিন্ন অংশের রং ছিল অনেকটা সোনালি।
চীন থেকে বিযুক্ত অবস্থায় আনার পর দেশে জোড়া দিলে একেকটি স্প্যানের ওজন দাঁড়ায় ৩ হাজার ২০০ টন। সেগুলো জার্মানির ক্রেন দিয়ে পদ্মা সেতুর পিলারের ওপর বসানো হয়।

পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর রং ধূসর। কেন এই রংটি বেছে নেওয়া হলো, তার পেছনে যুক্তি আছে। উদ্বোধনের দিন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পদ্মা সেতুতে আলোকসজ্জার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে আধুনিক শহর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সেতুর রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয় কাজ করেছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র বলছে, সাধারণ সব সেতুতেই সড়কবাতি বা স্ট্রিট লাইট দেওয়া হয়। পদ্মা সেতুতেও সেটা থাকবে। তবে বাড়তি হিসেবে এই সেতুর বিভিন্ন স্থানে নানা রঙের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। সেতু কর্তৃপক্ষ চাইলে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতো জাতীয় উৎসবে আলোকসজ্জার সুযোগ থাকবে। এটাকে বলা হচ্ছে আর্কিটেকচারাল লাইটিং। দুবাইয়ের সুউচ্চ ভবন বুর্জ আল খলিফা টাওয়ারে আলোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা ফুটিয়ে তোলা হয়। পদ্মা সেতুতেও একইভাবে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতু বিভাগের একজন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ধূসর রঙের মধ্যে আলো ফেললে বেশি ফুটে উঠবে। এ জন্যেই এই রং বাছাই করা হয়েছে। রং সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি। তিনি বলেন, এই রং ২৫ বছর স্থায়ী হবে বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতু দেখতে অনেকটা ইংরেজি বর্ণ ‘এস’-এর মতো। এর পেছনে কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতু সোজা হলে রাতে যানবাহনের চালকের ঝিমুনি আসতে পারে। তাঁরা যেন চলার সময় সতর্ক থাকেন, এ জন্য কিছুটা বাঁক দেওয়া হয়েছে। সাধারণত বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু একটু বাঁকানো আকৃতিতে তৈরি করা হয়। আরেকটি বিষয় হলো সৌন্দর্যবর্ধন। ‘এস’ আকৃতির হলে সেতু দেখতে সুন্দর দেখায়