সেলফিতে বন্দি উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু মূহুর্তের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মানুষের মৃত্যু অবধারিত একটি সত্য, যে কোন ধরণের মৃত্যুই কষ্টদায়ক। আপনজনের কাছে তো তা বটেই। তবে দূর্ঘটনা জনিত মৃত্যু মেনে নেওয়া বড়ই কঠিন। আর সেই দূর্ঘটনার মুহূর্ত যদি কারো ক্যামেরাবন্দি হয়ে যায় তাহলে সেটা আপন পর সবাইকেই শোকে বিহ্বল করে তোলে আরো বেশি করে।
গত ১লা জুন শুক্রবার দুপুরে এ রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ছোট লক্ষিপুর গ্রামে ঢোকার মুখে রেল লাইনের উপর।
উল্লাপাড়া চক্ষু হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স গাড়ির ড্রাইভার গোলাপ হোসেন ওই সময় রেল লাইনের পাশে দাড়িয়ে শখের বসে মোবাইল ফোনে ট্রেনসহ নিজের একটি সেলফি তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে পঞ্চক্রেশী গ্রামের আব্দুল মোতালেব নামের একজন বয়বৃদ্ধ রেল লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ওই ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনা স্থলেই মারা যান। আর এই ট্রেনের ধাক্কা লাগার পূর্ব মূহুর্তের একটি বিরল ছবি তার সেলফিতে বন্দি হয়ে যায়।
ড্রাইভার গোলাপ হোসেন জানান, ওই দিন তার বস ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সহ ৮/১০ জনকে তার গাড়িতে নিয়ে ওই স্থানে নামিয়ে দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। একটি ট্রেন আসতে দেখে তিনি সখের বসে ট্রেন সহ নিজের সেলফি তুলছিলেন। এ সময় ট্রেনের ধাক্কা লেগে এক বৃদ্ধ তার উপর আছড়ে পরে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার পর দেখা যায় ওই বৃদ্ধটি এরই মধ্যেই মারা গেছেন। তিনি ওই বৃদ্ধর মৃতদেহের একটি ছবি তোলেন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি যে, তার অজান্তেই ওই সেলফিতে বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেবের মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তের ছবি ধারণ হয়েছে। বাসায় ফিরে পরিচিতদের ওই নিহত ব্যক্তির মৃতদেহের ছবি দেখাতে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার সেলফিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, মৃত আব্দুল মোতালেব হোসেন পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের পঞ্চক্রোশী গ্রামের তাবলিগ জামাতের জিম্মাদার ছিলেন। তিনি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ছোট লক্ষিপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ নামের তার এক সহকর্মীর কবর জিয়ারতে অংশ নিতে দ্রুত রেল লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এ মর্মান্তক মুত্যুর ঘটনাটি ঘটে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার এক সহকর্মী পোষ্ট দিলে তা মূহুর্তে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিহত আব্দুল মোতালেব হোসেনের তাবলিগের সাথী ভাই মাহমুদুল হাসান সোহেল নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনার পরপরই তিনি নিহতর বাড়িতে ছুটে যান এবং আর্থিক সহযোগীতা করেন। তিনি তার স্ত্রীর নামে একটি বিধবা কার্ড ও তার দুটি এতিম সন্তানের লেখাপড়ার খরচের জন্য আরো কিছু অর্থ সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন।