সিরাজগঞ্জে ধান কাটতে আসতে শ্রমিকদের বাধা নেই

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ করোনা প্রভাবে থমকে আছে সিরাজগঞ্জের ধান কাটা। মাঠে ফসল ভালো হলেও কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে দিশেহারা কৃষক। আসচে আন তারা অনেকটাই দিশেহারা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কোন প্রকার বাধা নেই। তারপরও সংশয় কাটছেনা কৃষকের।

তাড়াশ উপজেলার তালম গ্রামে কৃষক আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বলেন, আমি এ বছর ৪০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এরমধ্যে রয়েছে ব্রি-৩৬, মিনিকেট ও কাটারিভোগ ধান। সব ধানই প্রায় একসঙ্গে পেকে যাবে। প্রতি বছর এসময় দেশের দক্ষিণ অঞ্চল হতে শত শত কৃষি শ্রমিক আসতো ধান কাটার জন্য। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি শ্রমিক পাওয়া নিয়ে সংশয়ের মধ্যে রয়েছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি অফিসার মো হাবিবুল হক জানান, এ বছরে সিরাজগঞ্জ জেলায় বোরো ধানের চাষ হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৮০হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আট লাখ ৮০ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বিরাট লোকসানের মুখে পড়বে এ অঞ্চলের কৃষক। একদিকে যেমন ঝড় শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে,পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও তাদেরকে বারবার ভাবিয়ে তুলছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নয়টি উপজেলায় ধান কাটা মৌসুমে শ্রমিকদের মনিটরিংয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির আলোকে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আসন্ন ধানকাটা মৌসুমে যে সকল শ্রমিক ধান কাটার জন্য আসবে তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবে। এবং জমির মালিক শ্রমিকদেও মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লোবস সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য সনদ (প্রাথমিক জ্বও,সর্দি,কাশি নেই মর্মে হাসপাতাল বা ডাক্তারের প্রত্যয়ণ) সংশ্লিস্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গণ যাচাই করবে এবং সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করবে।

কিন্তু এ ধরণের নির্দেশনায় ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশিষ্ট কৃষকেরা। উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, এমনিতেই কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের জন্যই পাওয়া যায় না। তার উপর যখন গণহারে ধানকাটা শুরু হবে তখন এ নির্দেশনা মানা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে।

স্থানীয় কৃষকেরা মনে করছেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং সহ প্রচারণা চালাতে হবে, গৃহস্থ্যরা যেন নিজ নিজ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সচেতনার বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ তাদেরকে বাড়ির বাইরে আলাদাভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। কেননা করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঝুঁকি এড়াতে তাদেরকেই প্রথম সতর্ক থাকতে হবে।