সংসদেও ছাত্রলীগের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব প্রতিকূলতা জয় করেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। তিনি বলেন, করোনার মধ্যে এলো আম্পান। আমরা ২৪ লাখ মানুষকে তাদের পশুপাখিসহ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের সম্পদের কিছু ক্ষতি হলেও মানুষের জান তো বাঁচাতে পেরেছি।

বুধবার (১০ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ। যারা ছোটখাট কাজ করতো তারা কর্মহীন হয়ে পড়ে। প্রতিটি মানুষের খোঁজ নিয়ে তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য দেয়া হয়েছে। কিছু জিনিস আছে, মানুষের নজরে আসে না। কিছু জনগোষ্ঠী সবার অগোচরে থেকে যায়। তাদের কষ্ট লাঘবেও আমি চেষ্টা করছি। তাদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। একজন মানুষও যেন না খেয়ে থাকে।

আমাদের দলের নেতাকর্মী যে যেখানে আছে প্রত্যেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আপনজন লাশ ফেলে যায় ভয়ে। পুলিশ কিন্তু তাদের জানাজা দাফান করেছে।

আমাদের ছাত্রলীগের ছেলেরা ধান কাটায় সহযোগিতা করেছে। প্রত্যেক কৃষকের কাছে গিয়ে ধান কাটার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ মারা যাওয়া সবার প্রতি শোক জানান। করোনাকালে মারা যাওয়া এসব ব্যক্তিবর্গকে দেখতে যেতে না পারার জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।

করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের সমাজের অনেকে মৃত্যুবরণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস আজ এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলেছে, যেসব ব্যক্তি মারা গেছেন আমরা তাদের দেখতে যেতে পারিনি। তাদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যাব সেই সুযোগটা নেই।’

শোক প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা নিজেরা শঙ্কিত। এজন্য হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ নিকটজনদের মৃত্যুর পর আমরা জানাজায় যেতে পারিনি। হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য বড় দুঃখের। ইনশাল্লাহ আমরাই করোনা যুদ্ধে জয়ী হবো।’

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আজ সারা পৃথিবী করোনার ঝাপটায় বিপর্যস্ত। সংক্রমণের কারণে নিকটজনদের মৃত্যুতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি। নিকটজনের মৃত্যুতে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো, কিন্তু দাফন-কাফন তো দূরের কথা তাদের কুলখানিতেও যেতে পারিনি। বাসায় বসে দোয়া করেছি।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার বিকাল ৫টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতেই সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন দেয়া হয়।

মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- মুহম্মদ ফারুক খান, ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম, মুহিবুর রহমান মানিক, কাজী ফিরোজ রশীদ ও মেহের আফরোজ চুমকি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা সংসদের বৈঠক পরিচালনা করেন।

এই অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। এটি হবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.