শাহজাদপুর স্বজনদের ঈদ পূর্ণমিলনী উপলক্ষে যমুনা নদীতে আনন্দঘন নৌভ্রমণ

J-02.08

শাহজাদপুর সংবাদঃ শাহজাদপুর থেকে ঈদ পূর্ণমিলনী উদযাপন উপলক্ষে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ শাহজাদপুর উপজেলা শাখা ও পূরবী থিয়েটার যৌর্থ ভাবে ঈদের পরের দিন বুধবার বার যমুনা নদীতে নৌভ্রমনের আয়োজন করে। কাক ডাকা ভোরে স্বজন সদস্যরা বর্ণীল সাজে সুসজ্জিত হয়ে শাহজাদপুর শহরের করতোয়া ব্রীজ থেকে সিএনজি টেম্প যোগে আনন্দ উল্লাস ও গান বাজনা করতে করতে কৈজুরী বাজারের যমুনা নদীর ঘাটে পৌছে। সেখানে আগে থেকেই স্বজন বন্ধু রবীন মাস্টার একটি বড় ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকা ভাড়া করে রাখে। সবাই সেই নৌকায় উঠার আগে কৈজুরীর মাদ্রাসা ঘাটের তীর সংরক্ষণ ব্লক ব্রেঞ্চে বসে যমুনার জলে পা ডুবিয়ে জমিয়ে আড্ডা দেয়। সাথে বাদাম, চানাচুর, ঝাল মুড়ি, চাটনি, পিয়াজু, চিপস এর আস্বাদন নিতে কেউ ভুল করেনি। স্বজন সদস্য সবুজ মিয়া ও সারমিনদের পেয়ারা বাগানের গাছ গুলোর মগ ডালে চরে পেয়ারা খেতে বাদ দেয়নি কবির মির্জা, মিজান ও তাকিবুন্নাহার সহ অন্য সব স্বজনেরা। কেউবা বাদুর ঝোলা হয়ে গাছে চড়ে আবার কেউবা গাছের নীচে থেকে কাকুতি মিনতি জানিয়ে পেয়ারা সংগ্রহ করে খেতে বাদ দেয়নি। এসময়ে এদের কোলাহলে জয়পুরা গ্রামের বৌঝিরা উকিঝুকি দিয়ে তাদের কীর্তি কান্ড দেখে হাসিতে লুটোপুটি খায়। তাদের এই বাদরামির ফাকে সূর্য্যি মামা পূর্ব দিগন্ত ছেড়ে মাথার উপর কিরণ দিতে থাকে। এই দুপুরের খরতাপে সবারই পেটের ক্ষুধা তীর্ব আকার ধারণ করে। মুখে কিছু বলতেই সবুজের মায়ের ডাক পরে। সবাই হাত মুখ ধোয়ার কথা বেমালুম ভুলে মাটিতে বিছানো মাদুরে বসে পরে।যেন কারোরই তর সইছেনা বেরে দেওয়া। একে একে সবুজের মায়ের হাতের রান্না করা মুরগী পোলাও পৌছে যায় সবার পাতে।বিনা খবরে এমন একটি খাবার তারা হাতে পেয়ে জারপর নাই খুশি হয়ে পেট পুরে খেয়ে আনন্দের ঢেকুর তোলে। স্বজন উপদেষ্টা মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান ও তার নব পরিনীতা বধূ তাকিবুন্নাহার জাহান রবীন মাস্টারের বাড়িতে যমুনা নদীর চমৎকার বাচামাছ দিয়ে ভাত খেতে বাদ দেয়নি। এছাড়া স্বজন বন্ধু আব্দুল খালেকের বাড়ির দৃষ্টি নন্দন গোখামার পরিদর্শন করে নৌভ্রমণকারী স্বজন বন্ধুরা অভিভূত হয়ে পরেন। পরন্ত বিকালে ঝকঝকে সোনালি রোদ্দুর দক্ষিনা হাওয়ায় যখন যমুনার ঢেউয়ের সাথে খেলা করছিল ঠিক সেই মনোরম মূহুত্বে সবাই উঠে পরে নৌকায়। এবার নৌকা ছুটে চলে আপন গতিতে যমুনা বুক চিরে সামনের দিকে। এসময় যমুনার ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে দুলছিল স্বজনদের নৌকা।মাথার উপরে গাংচিল আর মাছরাঙার ঝাকের মাছ ধরার দৃশ্য আবলোকন করতে করতে ছুটে যায় সামনের দিকে যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালু চরে কাশবন গুলো বাতাসের দোলায় এমন ভাবে দুলছিল যেন ভ্রমণ বিলাসি স্বজনদের হাত নেরে স্বাগত জানাচ্ছে। সূয্যিমামা পশ্চিম আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় রক্তিম আভা ছড়িয়ে যখন বিদায় নিতে চলেছে তখন সবার হুশ ফিরলো বাড়ি ফেরার । হাক ছেরে রবীন মাস্টার বলে উঠলো মাঝি নৌকা ঘুরাও। চটজলদি মাঝি জালালপুর চর থেকে নৌকা ঘুরিয়ে কৈজুরী বাজার ঘাটের দিকে রওনা হল।সন্ধ্যা ডুবুডুবু অন্ধকার নেমে আসছে।মাথার উপরে পাখির ঝাঁক নীড়ে ফিরছে। এই অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে করতে হাত তালির ছন্দে গান কবিতা আওরাতে আওরাতে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে।সময় ফুরিয়ে যায় নৌকা ঘাটে এসে ভেরে ।কৈজুরী বাজারের খোলা চায়ের দোকানের শেষ চায়ে চুমুক দিয়ে সিএনজি যোগে সবাই বাড়ি ফেরে। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় স্বজন সমাবেশ ও পূরবী থিয়েটার আয়োজিত এবারের ঈদ পূর্ণমিলনীর যমুনা নদীর নৌভ্রমণ।

এ নৌভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন মোছাঃ তাকিবুন্নাহার, সারমিন খাতুন, মোঃ সবুজ মিয়া, মিজানুর রহমান, কবির মির্জা, মীর ইনাম আহমেদ রবীন, মঞ্জুয়ারা রবীন, প্রকৌশলী আসিক আল রাজিব, মিসেস মিলা রাজিব, আশিষ আল রাব্বি, অর্ক, মীর আলভীন, মীর বারিষা, মীর রঞ্জন, মেহেদী হাসান হিমু, স্বর্না, শুভজিৎ মদক, তানিন, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, মিসেস মিলি চৌধুরী, স্বজন উপদেষ্টা কবি ম, জাহান, সাংবাদিক আব্দূল আজিম মিয়া, প্রিন্স, মিসেস প্রিন্স, প্রমূখ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.