মৎস্যজীবি ও নৌকা চালকরা কেঁটে দিল রাউতারা রিং বাঁধ


শাহজাদপুর সহ চলনবিলের বির্স্তর্ণ এলাকা প্লাবিত; পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেড় কোটি টাকা জলে

মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানঃ শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা নবনির্মিত রিং বাঁধটি গত শনিবার সকাল ও দুপুরে দু‘দফায় দু‘স্থানে কেটে দিয়েছে স্থানীয় মৎস্যজীবি ও নৌকা চালকরা। ফলে শাহজাদপুর উপজেলার পশ্চিম এলাকার ৩টি ইউনিয়ন সহ চলনবিল অঞ্চলের ৯ উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
এ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে এ এলাকার বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ ও গো-বাথান। ফলে কৃষকরা তাদের গবাদি পশু বাড়িতে নিয়ে রেখেছে। কাঁচা ঘাসের মাঠ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এ এলাকায় গো-খাদ্যের দাম বস্তা প্রতি ২/৩‘শ টাকা করে বেড়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের গো-খামার মালিক ও গবাদি কৃষকেরা তাদের গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা গুলি হল,শাহজাদপুর,উল্লাপাড়া,তাড়াশ,ভাঙ্গুড়া,চাটমোহর,ফরিদপুর,গুরুদাসপুর,সিংড়া ও বড়াইগ্রাম। অপরদিকে এ বাঁধ কেটে দেয়ায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দেড় কোটি টাকা জলে চলে গেছে।
গত ১ মাস আগে পওর বিভাগের আওতায় ১ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮১.৯৬ টাকা ব্যায়ে শাহজাদপুর উপজেলার পেতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইচগেট সংলগ্ন ১২‘শ মিটার দৈর্ঘ্য এ রিং বাঁধটির নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর বন্যার হাত থেকে এ অঞ্চলের কৃষকদের জমির পাকা ধান রক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এটি নির্মাণ করে। আর প্রতি বছরই এ এলাকার মৎস্যজীবি ও নৌকা চালকরা তাদের সুবিধার জন্য এ বাঁধ কেটে দেয়। এ বছর বন্যা দেরিতে আসায় কৃষকরা আগে ভাগেই জমি থেকে পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তারপরেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিপুল অংকের টাকা ব্যয়ে এ বাঁধটি নির্মাণ করেন।
এলাকাবাসি জানায়,সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের মাধ্যমে এ বাঁধ নির্মাণের নামে গত ৩৭ বছরে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা এ ভাবে হরিলুট করেছেন। এ বছরও তাই করলেন। এলাকাবাসি আরো জানায়,১৯৯৪ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে ধান কাঁটা হয়ে গেলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পায়। এতে কোন ফসলহানী হয় না। তারপরেও সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ফসল রক্ষার নামে প্রতি বছরই এ বাঁধ নির্মাণ করে। এ বাঁধ নির্মণের ফলে এ অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ জমি ও জলাশয়ে দেরিতে বন্যা হয়। এতে মৎস্যজীবিরা আশানুরূপ মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হন।
অপরদিকে এ এলাকায় বন্যা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। দেরিতে বন্যা হলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নৌকা মালিকরা লোকশানে পড়েন। তাই তারা এ লোকশানের হাত থেকে রেহাই পেতে ধাঁন উঠে যাওয়ার পরপরই বালু দিয়ে তৈরী নি¤œমানের ও দায়সারা এ বাঁধ কেটে দেয়। এ বছরও তারা সেই কাজটিই করলেন। শনিবার তারা এ বাঁধ কেটে দিয়েছে তারা। ফলে গত ২৪ ঘন্টায় শাহজাদপুর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের কায়েমপুর,রূপবাটি ও পোতাজিয়া ইউনিয়নের সকল গ্রাম সহ চলনবিল অঞ্চলের ৮ উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমি ফসলি জমি বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নিচু অনেক কাঁচা রাস্তা-ঘাটও এ বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে এ অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ মানুষ বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছে।
এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী জানান,আমাদের এখানকার কৃষকেরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই নি¤œমানের বালু দিয়ে তৈরী লোÑহাইড রিং বাঁধ নির্মাণে খুবই ক্ষুব্ধ। নদীতে পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে কৃষকের বুক কাঁপে। তাই তারা আর এই নি¤œমানের বালু দিয়ে তৈরী রিং বাঁধ চায় না তারা স্থায়ী ভাবে বাঁধ নির্মাণ চায়।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বাঁধ যারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে কেটে দিয়েছে,তাদের খুজে বেক করে আইন প্রয়োগের মাধ্যেমে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।