শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ৩ দিন ব্যাপী রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী শুরু হচ্ছে কাল

শরীফ সরকার,শামছুর রহমান শিশির, মামুন বিশ্বাস, তানিম তুর্য : আগামীকাল ২৫ শে বৈশাখ সোমবার ঊণবিংশ শতাব্দির বাংলা সাহিত্য গগণে ও বিশ্বের জ্ঞান পরিমন্ডলে বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন উজ্জ্বল তারকা রূপে আজও চির দেদিপ্যমান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬ তম জন্মবার্ষিকী । এ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচীর আলোকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ৩ দিন ব্যাপী রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর আয়োজন করা হয়েছে।
আগামীকাল ( সোমবার) সকাল ১০ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। এতে সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আব্দুল মজিদ মন্ডল ও সংরক্ষিত মহিলা আসন-৬ এর এমপি সেলিনা বেগম স্বপ্না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা। বিকেলে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃতি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করবে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির শিল্পীবৃন্দ। এছাড়া, রবীন্দ্রস্মারক প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন প্রফেসর ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী। এদিকে, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীকে ঘিরে কাছারিবাড়িকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী রবীন্দ্র মেলা। সুষ্ঠু, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমূখর পরিবেশে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে কাছারিবাড়ি চত্বরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্বা ব্যবস্থা জোরদাড় করা হয়েছে। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীকে ঘিরে কাছারিবাড়ি রবীন্দ্র ভক্ত অনুরাগীদের পদচারণায় মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে উঠেছে।
রবীন্দ্র জীবনে ও সাহিত্যের ভূবণে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাপুর এক অবিস্মরণীয় নাম। শাহজাদপুরের উন্মুক্ত উদার দ্বারে এসে নিখিল বিশ্বের সামনে কবিপ্রাণের গভীর বন্ধন সূচিত হয়। তাঁর চিত্তে ও কর্মবোধের সর্বোচ্চ সমন্বয় ঘটেছিলো শাহজাদপুরের অঙ্গণে এসে। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে ওই কাছারিবাড়িও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। আগে এই কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে যাতায়াত ও সাময়িকভাবে বসবাস করতেন।
এখানে অবস্থানকালে কবিগুরু রচনা করেন: -কাব্য: সোনারতরী , বৈষ্ণব কবিতা, দুটি পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার, যমুনা, হৃদয়, ভরা ভাদরে, প্রত্যাখ্যান ও লজ্জা। চিত্রা : চিত্রা, শীত ও বসন্তে, নগর সংগীত। চৈতালী : নদীযাত্রা, মৃত্যুমাধুরী, স্মৃতি বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ, প্রেয়সী, শান্তিময়, কালিদাসের প্রতি, কুমার, মানষলোক, কাব্যপ্রার্থনা, ইছামতী নদী, সুশ্রুসা,অশিক্ষাগ্রহন, বিদায়। করুনা : নববিবাহ, রজ্জিতা, বিদায়, হত্যভাগ্যের গান, গতোনিক, বঞ্চনা, সংকোচ, মানষ প্রতিভা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সম্পত্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি ইত্যাদি। ছিন্ন পত্রাবলী : ৩৮ টি ছিন্ন পত্রাবলী। প্রবন্ধ :পঞ্চভূতের অংশবিশেষ। নাটক : বিসর্জন।