শাহজাদপুর মহিলা কলেজের বিবাহিত প্রভাষক ও বিবাহিতা ছাত্রীর অবৈধ বিয়ের গুঞ্জন ! অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত : ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ

শামছুর রহমান শিশির : প্রবাদে রয়েছে ‘ভাবেতে মজিলে মন, কী বা মুচি কী বা ডোম ? ’ বা প্রচলিত প্রেম মানে না কোন ধর্ম, বর্ণ, জাত, কূল, বংশ, ধন, সম্পদ ইত্যাদি। তবে লাইলী-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা, শিরি ফরহাদ, চন্ডীদাস-রজকীনি, দেবদাস-পার্বতী- এদের মহতী প্রেমের কথা সর্বজনবিদিত। তবে, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই যে, মহতী ওইসব প্রেমিক যুগলদের প্রেমকাহিনীর সম্পূর্ণ উল্টো প্রেমের (পরকীয়া) ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। প্রেম করে বিয়ে করে প্রায় ২ বছর প্রেমিক স্বামীর সাথে ঘরসংসার করাবস্থায় গোপনে স্বামীকে তালাক দিয়ে ওই স্ত্রী নামধারী প্রেমিকা তার কলেজের শিক্ষক দ্ইু সন্তানের জনকের সাথে বিয়ে করে দ্বৈত প্রেমের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ওই লম্পট কলেজ শিক্ষকের স্ত্রী’ এ খবর জানতে পেরে তাকেও তালাক দিয়েছে বলে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে গত শনিবার ওই বিশ্বপ্রেমিকা’র ১ম স্বামী বাদী হয়ে শিক্ষক-ছাত্রীর অনৈতিক ঘটনা ফাঁস করে শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে একটি লিখিত অভিযোগ কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর দাখিল করেছেন।
ওই অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ‘শাহজাদপুর মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক, দুই সন্তানের জনক লম্পট মো: নাজমুল আলম ওই কলেজের ১ম বর্ষের মানবিক বিভাগের বিবাহিতা ছাত্রী মোছা. জাকিয়া পারভীন ( ক্লাস রোল- ৭৩) এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রেমের মাধ্যমে পূর্বে বিয়ে হওয়া ওই কলেজ ছাত্রী জাকিয়া পরকীয়া প্রেমিক কলেজ শিক্ষক নাজমুলকে পেতে তার স্বামীকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি তালাকনামা প্রদান করে বিবাহ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জাকিয়া ও নাজমুল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এ ঘটনার মূল হোতা প্রভাষক নাজমুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাকিয়ার স্বামী শরিফুল ইসলাম (সাজিম) গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার বাদী হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পেশ করেন। ওই অভিযোগের অনুলিপি শাহজাদপুর মহিলা কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতিসহ সকল সদস্য বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে কলেজের অধ্যক্ষ মো: রুহুল আমিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ জাকিয়ার স্বামী শরিফুল ইসলাম (সাজিম) বাদী হয়ে গত শনিবার কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাজমুল আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে একটি অভিযোগ করেছিলেন। এ বিষয়ে আজ সকাল ১১ টায় ( সোমবার ) কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে জরুরী বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রভাষক নাজমুলকে অভিযুক্ত করে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং গৃহিত সিদ্ধান্ত কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতিসহ সকল সদস্যদের পত্র মারফত জানানো হয়েছে।’
শাহজাদপুর মহিলা কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি জার্জিস আহমেদ বিপু জানান, ‘ আজ সকালে এ বিষয়ে কলেজে অনুষ্ঠিত জরুরী বৈঠকে অভিযুক্ত প্রভাষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্যরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এ ব্যাপারে পরিচালনা পরিষদের বিদ্যুৎসাহী সদস্য (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ) এএম আব্দুল আজিজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওই পত্র প্রাপ্তির ঘটনা স্বীকার করে জানান, ‘এ ধরনের শিক্ষক, বিশেষ করে মহিলা কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত নয়। অচিরেই কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতিসহ সকল সদস্যদের সমন্বয়ে একটি মিটিং করা হবে এবং ওই মিটিংয়ে সাময়িক বহিষ্কৃত প্রভাষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞমহলের মতে,‘ বিবাহিত একজন প্রভাষক তারই কলেজের বিবাহিতা এক ছাত্রীর সাথে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা সর্বোচ্চ সন্মানিত পেশা ‘শিক্ষক’ সমাজকে কলুষিত করেছে। মহিলা কলেজের লম্পট, দুঃশ্চরিত্রবান ওই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ অতীব জরুরী। এর ব্যত্যয় ঘটলে শাহজাদপুরের শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্ত্বা ও নৈতিক মূলবোধ ভূলণ্ঠিত হবে এবং এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃতি ঘটার শংকা থেকেই যাবে।’
এ ব্যাপারে জাকিয়া পারভীন সংবাদকর্মীদের জানান,‘ তার ১ম স্বামী সাজিমকে তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন । এ ঘটনায় ভবিষ্যতে তার ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে সাজিম ও সাজিমের পরিবারের কাছে আর্থিক কোন দাবি করবে না এবং আইনগত কোন ব্যবস্থা নেবেন না মর্মে সুস্থ্য মস্তিষ্কে, কাহারো দ্বারা প্ররচিত না হয়ে স্বজ্ঞানে স্বহস্তে লিখিতভাবে একটি পত্র সাজিমকে প্রদান করেছে। কলেজের প্রভাষক নাজমুল আলমের সাথে তার কোন সম্পর্কই যেখানে নেই সেখানে বিয়ের কথা ওঠে কিভাবে- তা তার বোধগম্য নয় !’ অপরদিকে, অভিযুক্ত প্রভাষক নাজমুল আলমের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ( যাহার নং- ০১৭৬৫-৩৭০৮৩৭, ০১৯১৮-০৭৫০০২ ) বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে ওই কলেজের প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা এ নিয়ে চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।