অপরাধআইন-আদালতদিনের বিশেষ নিউজপাঠক প্রতিক্রিয়া

শাহজাদপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিনের আসামি হয়েও দায়িত্ব পালন; এলাকায় নানা গুঞ্জন

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, বিশেষ প্রতিবেদক, ৯ আগষ্ট ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : ফৌজাদারী মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে শাহজাদপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল মেয়র-২ নাসির উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে বিজ্ঞ আদালতে। এসব বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক কালের কন্ঠ, দৈনিক মানবজমিনসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, গত ২৮ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের ( স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর ১ শাখা) উপ-সচিব মোঃ আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক পত্রে (স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০. ০৬৩. ২৭. ০০২.১৭- ৬৮৫) শাহজাদপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে প্যানেল মেয়র-১ হিসেবে দায়িত্ব বুঝে দেয়ার জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসককে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা আজও বাস্তবায়িত না হওয়ায় এ নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
দৈনিক কালেরকন্ঠ প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে প্রকাশ, যদিও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯-এর ৩১ (১) ধারায় (ফৌজদারী) মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হলে কর্তৃপক্ষ মেয়র/কাউন্সিলরকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারেন। আরো অভিযোগ রয়েছে, এই দুটি মামলার একটি মামলা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় স্থগিত হলেও অপর মামলাটি শাহজাদপুর কোর্টে সচল রয়েছে। শাহজাদপুর কোর্টের মামলার বিপরীতে সরকার পক্ষের কৌশলী মতামত দিয়েছে যেহেতু মামলার অভিযোগ আদালত আমলে নিয়েছে, সেক্ষেত্রে প্যানেল মেয়র-২ এর দায়িত্বে নাসির উদ্দিনের থাকার আর কোনো আইনগত ভিত্তি নাই। তবে স্থগিতাদেশ দেয়া মামলার কপি জমা দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে প্যানেল-২ দায়িত্বে থাকার অপকৌশল তিনি নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্যানেল মেয়র-১।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এবং জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মতামতসহ পত্র প্রেরণ করলেও অজ্ঞাত কারণে সেখান থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরু’র বাড়িতে হামলা ও আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সমকাল সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল মারা যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ায় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ও প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর প্যানেল মেয়র-২ নাসির উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয় ।
এ অবস্থায় বসতবাড়িতে হামলা ও মারপিটের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র হালিমুল হক মিরু’র স্ত্রী লুৎফুন নেছা পিয়ারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত শেষে সকল আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। এরপর মামলার বাদী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দিয়ে মামলাটির জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি করেন। এ অবস্থায় জুডিশিয়াল তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিস্ফোরক ও মারপিট আইনের ২টি ধারায় আদালতে চার্জশিট গঠন করা হয়। বিস্ফোরক আইনের চার্জশিটটি ০১/২০১৮ নম্বর মামলা হিসাবে সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতে (১) বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামিপক্ষ ১১/০৩/২০১৭ইং তারিখে রিট করায় হাইকোর্ট ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আর মারপিটের চার্জশিটটি সি,আর ১৮১/১৭ (শাহ:) (দ্বিতীয়) মামলা হিসাবে শাহজাদপুর আমলী আদালতে এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, সাময়িক বরখাস্তকৃত প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাক জামিনে মুক্ত হয়ে রিট করায় ৩০/১১/২০১৭ইং তারিখে তার কাউন্সিলর পদ ও প্যানেল মেয়র-১ এর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাইকোর্ট। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিনের দায়িত্ব খর্ব করার দাবি করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাক।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দায়ের হওয়া মামলায় বিচারিক রায়ে শাস্তি হলে দায়িত্বে থাকতে পারবো না। কিন্তু চার্জশিট হওয়ার পর মামলা চলমান অবস্থায় দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই বিধায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে রয়েছি।’

একই বিভাগের সংবাদ

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: