সপ্তাহে ৩ দিন বাইরে প্রাকটিস করেও পৌরসভার ৬২ হাজার টাকা বেতন নিচ্ছেন


শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণির শাহজাদপুর পৌরসভার ডাঃ লিয়াকতের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার স্বাক্ষর বহিতে নিয়মিত স্বাক্ষর ক্েরই তিনি খেয়াল খুশি মতো বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখছেন। ফলে পৌরসভায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা পর ডাক্তারকে না পেয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরে ফিরছেন। দেখার কেউ নেই।

জানা গেছে, ডাঃ লিয়াকত আলী শাহজাদপুর পৌরসভায় চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই চরম অনিয়ম করে আসছেন। মাসের সিংহভাগ দিনেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও বেতন প্রদানের দিনে যথাসময়েই উপস্থিত হয়ে ৬২ হাজার টাকা বেতন তোলেন। পৌরবিধি মোতাবেক সপ্তাহের ৫ দিন অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত রোগীদের সেবা দেয়ার কথা থাকলেও পৌরবিধির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সপ্তাহের ২ দিন মাত্র ১ ঘন্টা করে দোর্ন্ডন্ড দাপটের সাথে তিনি অফিস করেন। নিয়মিত তিনি রোগী না দেখলেও স্বাক্ষর বহিতে নিয়মিতই স্বাক্ষর করেন। ডাঃ লিয়াকত স্থানীয় হওয়ায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।
পৌরসভায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী ও পৌরসভার স্টাফ সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে গত ২০১৬ সালের ৭ আগষ্টে ডাঃ লিয়াকত আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়। কাজে যোগদানের পর থেকেই ডাঃ লিয়াকত পৌরবাসীকে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত করে বাড়তি আয়ের আশায় কর্মস্থল ত্যাগ করে প্রায় ৫’শ গজের মধ্যের বেসরকারি বাঁধন হসপিটালে সপ্তাহের রোব, সোম ও মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা ও সন্নিকটে থানারঘাট এলাকার নিউ রংধনু হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক কনসালটেশন লিঃ এ প্রতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন।
শাহজাদপুর পৌরসভার চিকিৎসক হয়ে দায়িত্ব কর্তব্যে চরম অবহেলা করে পৌর এলাকার ২টি বেসরকারি প্রাইভেট ক্লিনিকে ৩ পূর্ণদিবস কিভাবে রোগী দেখেন?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ লিয়াকত আলী বলেন, ‘পৌরসভা ঠিকমতো বেতন না দেয়ায় বাধ্য হয়ে অনত্র ডিউটি করছি।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার সচিব মোঃ মনসুর আলম বলেন, ‘ডাঃ লিয়াকত আলীর অফিস ফাঁকির বিষয়ে জেনেছি। আমি বাইরের মানুষ, নতুন এসেছি। ডাঃ লিয়াকত আলী স্থানীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। তার পরেও মেয়রের সাথে কথা বলে ডাঃ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করার চেষ্টা করবো।’
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে জানান, ‘ডাঃ লিয়াকত আলীর এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়ে তাকে সতর্ক করে দিয়েছি। সেইসাথে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগহণের জন্য সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।