শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কে ৩০ বাঁক যাত্রীদের জন্য মৃত্যুফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর : শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কের ৩০ টি বাঁকে বাঁকে রয়েছে মৃত্যুফাঁদ। এসব বাঁকে বাঁকে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা।ফলে প্রানহানি ঘটার সংখ্যা ক্রমশই বেড়েই চলেছে। এসব বাঁকে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। দ্রুতগামী ঢাকা কোচ,ফিটনেস বিহীন কাটা মাইক্রো,অবৈধ নসিমন করিমন যাত্রীদের যানমালের তোয়াক্কা না করে এসব বাঁক উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালিয়ে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে ঘটে চলেছে। এ মহাসড়কের এসব ঝুঁকিপূর্ণ মৃত্যুফাঁদ নামের বাঁকে বাঁকের অধিকাংশ স্থানেই যানবাহন চালনার গতিবিধির বাধ্যবাধকতা ও দিক নির্দেশনামূলক সাংকেতিক চিহ্ন না থাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্ঘটনার হার,ঘটে চলেছে প্রাণহানী।এছাড়া এ মহাসড়কের প্রায় অধিকাংশ বাসষ্ট্যান্ড অবৈধ নসিমন-করিমন ও সিএনজি টেম্পুর দখলে থাকায় এবং মহাসড়কের বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডের বাজার এলাকায় মহাসড়ক দখল করে মাছ, গরু, পেঁয়াজ, পাট ও বিভিন্ন পন্যের হাট লাগানোয় সৃষ্ট তীব্র যানজটের কারনে একদিকে যেমন যাত্রী ভোগান্তি বেড়েই চলেছে অন্যদিকে এসব এলাকায় দ্রুতগামী যানবাহন অনেক সময় নিয়ন্ত্রন করতে না পাড়ায় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকায় অবৈধ শতশত নসিমন করিমন এ মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে এসব বাঁকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীদের যান ও মালামালের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় ও শংকিত অবস্থায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে।দেখার কেউ নেই।নেই প্রতিকার বা প্রতিরোধের ব্যাবস্থা।
শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী,বাস,মিনিবাস,মাইক্রোবাস,সিএনজি টেম্পু, ট্রাক, ট্যাংকলরী চালকরা জানিয়েছে, শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কের (শাহজাদপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত) ৩০ পয়েন্টে রয়েছে মৃত্যুফাঁদ নামের ২৯টি বাঁক। এ মহাসড়কে রয়েছে ৮টি মান্ধাতা আমলের আদলে তৈরি চাপা ব্রীজ। ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ চাপা ব্রীজ দিয়ে যানবাহন একসাথে যাওয়া ও আসার সময় প্রায়শই ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষ। শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার অবৈধ নসিমন করিমন ও ফিটনেস বিহীন যাত্রীবাহী কাটা মাইক্রে এবং অদক্ষ চালক কর্তৃক চালিত সিএনজি টেস্পু চলাচল করছে। এছাড়াএ মহাসড়কের অনেক স্থানের একপাশ দখল করে সারিবদ্ধভাবে গো-খাদ্য খড়ের বিশাল স্তুপ রাখা হয়েছে।ফলে একটি যানবাহন অন্য একটি যানবাহনকে সাইড দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনা ঘটছে ৯টি অত্যন্ত ঝূঁকিপূর্ণ বাঁকে।এসব এলাকায় যানবাহন চালনায় গতিবিধির বাধ্যবাধকতা,গতিরোধক ও অনেক স্থানে দিকনির্দেশনামূলক সাংকেতিক চিহ্ন না থাকায় এ মহাসড়কের এসব বাঁক বর্তমানে মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধ্য নসিমন করিমন মহাসড়ক দখল করে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে। ওই মহাসড়কের তালগাছী পার হয়ে সরিষাকোল আলিফ সিএনটি পাম্প ও কালিমন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি বাঁক রয়েছে।এখানে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। যুগনীদহ কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ব্রীজের একপাশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এ পয়েন্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। ইতিপূর্বে পাড়কোলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন মহাসড়কের পাশে সাইড দেওয়ার ব্যাবস্থা না থাকায় এখানে কয়েকমাস আগে যাত্রীবাহী একটি বাসের সাথে অবৈধ নসিমনের মুখোমুখী সংঘর্ষে ১১ জন ধানকাটা শ্রমিকের করুণ মৃত্যু ঘটে।এর কয়েশ’শ গজ দক্ষিনে স্থানীয় এমপি চয়ন ইসলামের বাড়ী পাবার একটু আগে রয়েছে একটি বাঁক।এখানেও মাঝেমধ্যে ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। শাহজাদপুরের বিসিক বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নসিমন করিমন ও সিএনজি টেম্পুর দৌরাত্বে তীব্র যানযট সৃষ্টি হওয়ায় এখানে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।দিলরুবা বাসষ্ট্যান্ডেরও একই অবস্থা। এখানে মহাসড়ক দখল করে বসে মাছের পাইকারী হাট।নুকালীর চাপা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায়শই ঘটে দুর্ঘটনা। বাঘাবাড়ী উত্তরপাড়ে নৌবন্দর থেকে,মিল্কভিটা থেকে,পদ্মা মেঘনা যমুনা ওয়েল কোম্পানী থেকে ও উত্তরবঙ্গ ট্যাংলরী সমবায় সমিতি থেকে ৪টি সড়ক একই স্থানে মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত রয়েছে।এখানে সবসময় চলে নানা ধরনের যানবাহন। কোন স্পিডবেকার না থাকায় ওই স্থানে প্রায়শই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।এছাড়া বাঘাবাড়ী দক্ষিন পার্শ্বের চৌরাস্তার মোড়ে মহাসড়কের ওপর যত্রতত্রভাবে অবৈধ নসিমন করিমন দাড় করিয়ে রাখায় ঘটে নানা দুর্ঘটনা। বাঘাবাড়ী থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিনে একটি মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় অত্যন্ত চাপা ও তীব্র ঝূঁকিপূর্ণ একটি ছোট ব্রীজ রয়েছে। এখানে মাঝে মধ্যেই যানবাহন নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। ওই এলাকার পশ্চিম পার্শ্বে মহাসড়ক দখল করে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে অসংখ্য গো-খাদ্য খড়ের বিশাল গাদা। এসব এলাকায় অনেক সময় যানবাহন অন্য যানবাহনকে সাইড দিতে না পারায় এখানে মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। পাটগারী এলাকার চাপা ও অত্যন্ত ঝূঁকিপূর্ণ ব্রীজে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সাঁথিয়া উপজেলার সরিষা নামক স্থানে রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁক। আর এ বাঁকের পরেই রয়েছে চাপা একটি ব্রীজ। এখানে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছে। এ মহাসড়কের বেড়া সিএনবি বাসষ্ট্যান্ড এলাকার চৌরাস্তা মোড়ে মহাসড়ক দখল করে বসে নানা পন্যসামগ্রীর বাজার। এছাড়া এ স্থানে অবৈধ নসিমন করিমন অপরিকল্পিতভাবে চলাচল করায় তীব্র যানযটসহ নিয়মিত নানা দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বেড়া থেকে একটু দক্ষিনে দুইটি অত্যন্ত চাপা ব্রীজে নানা দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। চালকদের ভাষ্যমতে,এর কারণ হিসাবে একপাশে একটু ভাঙ্গা ও অপরপাশে একটু দাবা (নীচু)। এ মহাসড়কের চাকলা নামক স্থানের বড় বীজের আগে ও পরে রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দুইটি বাঁক। এ বাঁক দুটি এ মহাসড়কের সবচাইতে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ মরণফাঁদ। এ দুটি বাঁক দিয়ে যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চালিয়ে যাওয়াই অত্যন্ত দূরহ হলেও এখানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তেমন কোন কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহন চোখে পড়েনা।এখানে প্রায় প্রতিদিনই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।পাবনার কাশিনাথপুর পাবার একটু আগে রয়েছে একটি বাঁক। এখানে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। কাশিনাথপুর বাজারে মহাসড়ক দখল করে পেঁয়াজের ও পাটের হাট লাগায় অনাকাঙ্খিত ভাবে ঘটে নানা দুর্ঘটনা। এরপর দুলাই নামক দুইটি বাজারের আগে ও পরে দুইটি তীব্র বাঁক ও বাজার এলাকায় রয়েছে একটি বাঁক নামের মরণফাঁদ। এ তিনটি বাঁকে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ঘরে থাকে। চিনাখরা বাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর পেঁয়াজের হাট ও পাটের হাট বসায় এবং মহাসড়কে একটি তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় এবং সিএনজি টেম্পু ও অবৈধ নসিমন করিমনের দাপটে প্রয়শই এখানে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। বনগ্রাম বাজার পাবার আগে রয়েছে একটি মরনফাঁদ(বাঁক)। এ বাজারে মহাসড়কের ওপর পাটের হাট বসায় অনেক সময় নানা দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মহাসড়কের গাইগ্যাহাটি বাজার পাবার আগে কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে একটি বাঁক। ওই বাজার পাড়ি দিয়ে সামনেই রয়েছে আরও একটি মরণফাঁদ(বাঁক)।গাইগ্যাহাটি ক্লাব এলাকায় রয়েছে একটি বাঁক।মাধপুর বাজার পাবার আগে ও পরে রয়েছে দুইটি বাঁক। আতাইকুলা কলেজ পাবার আগে রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি মরণফাঁদ(বাঁক)। এখানে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে। আতাইকুলার কড়ইতলায় রয়েছে একটি বাঁক ও আতাইকুলা থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এরুপ আরও একটি বাঁক। পুষ্পপাড়া পাড় হয়ে যাবার পর রয়েছে একটি বাঁক। পুষ্পপাড়ায় মহাসড়কের ওপর গরুর ও পাটের হাট বসায় মাঝে মধ্যেই নানা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পাবনা ক্যাডেট কলেজ পাড় হয়ে টেলিকো মিলের গেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে একটি বাঁক। পাবনা সদর বাসষ্ট্যান্ডের ৩ কিলোমিটার অদূরে মালিগাছা নামক স্থানে রয়েছে অত্যন্ত ঝূঁকিপূণ একটি বাঁক। এখানে সড়ক দূর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় উপনীত হয়েছে। টেবুনিয়া বাজার পাড় হবার পরে রয়েছে একটি বাঁক।এর ৪-৫ কিলোমিটার দুরে রয়েছে আরও একটি বাঁক। দ্বাশুরিয়া সুগার মিল পাবার আগে রয়েছে চারটি বাঁক। দ্বাশুরিয়া বাজার পার হয়ে রয়েছে আরও একটি বাঁক। এসব বাঁকে বাঁকে একদিকে যেমন নেই কোন গতিরোধক, অপরদিকে দিকনির্দেশনামূলক সাংকেতিক চিহ্ন ও গতিবিধির ওপর কর্তৃপক্ষে কোন নিয়ন্ত্রর ও নীতিমালা না থাকায় শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কের ৩০ টি পয়েন্টের বাঁকগুলি পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। সেইসাথে অবৈধ হাজার হাজার নসিমন করিমনের মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ানো রোধসহ মহাসড়ক দখল করে মাছ, গরু, পেঁয়ার, পাটসহ বিভিন্ন হাট লাগানো বন্ধসহ মহাসড়কের এসব মরণফাঁদ নামের বাঁকে বাঁকে অনাকাঙ্খিত ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে এ মহাসড়কে চলাচলকারী লাখ লাখ যাত্রীসাধারণ।