শাহজাদপুর তালগাছী হাটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা

প্রশাসনের নাকের ডগায় শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের তালগাছী হাটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা চলছে। ফলে এলাকা থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ কারেন্ট জালে ধরা পড়ছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

সয়লাব হয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে তালগাছী হাট। প্রশাসনের নাকের ডগায় আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার(৪সেপ্টেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার তালগাছী হাটের গরু হাটার পাশে কারেন্ট জালের বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এর ফলে উপজেলার খালবিলে নদীনালার ছোট প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। কারেন্ট জালে সব ধরনে মাছ বেশী ধরা পড়ায় উপজেলার মৎস্য শিকারীরা এ জাল ক্রয় করছে বলে জানাগেছে। বর্ষার শুরু থেকে এ জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে মৎস্য শিকারীরা। এ জাল ব্যবহার করে জেলেরা বিভিন্ন নদী ও খাল-বিলে দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতার কারনে পুরপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না মৎস সম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারীর নজদারীর অভাবে অবাধে এই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে হাট বাজারে। ফলে বিভিন্ন জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ২০০২ সালের সংশোধিত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল উৎপাদন, পরিবহন, রাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ আইনটি মানছে না এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে নিষিদ্ধ এ কারেন্ট জালের ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ বিজ্ঞমহলের।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, এ ব্যাপারে সবকিছু জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী বলেন, আপনাদের কাছে থেকে কারেন্ট জালের বিষয়ে জানলাম। উপজেলা মৎস্য অফিস খুব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করবে বলেও জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন করেন্ট জাল বিক্রয় এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিসিদ্ধ। তালগাছী হাটে যে কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে তা আমাদের জানা ছিল না, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেলাম। আমরা উপজেলা মৎস অফিসকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করবো এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।