যাত্রী দুর্ভোগ চরমে; যোগাযোগ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা


শাহজাদপুর-ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

বিশেষ প্রতিবেদক, শাহজাদপুর : সিরাজগঞ্জ জেলা মটর মালিক সমিতির অাওতাভূক্ত ৪টি বাসের স্টার্টিং পয়েন্ট শাহজাদপুর করার দাবী শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জেরে শাহজাদপুর – ঢাকা, শাহজাদপুর -বগুড়া -সৈয়দপুর-নীলফামারী ও শাহজাদপুর – রাজশাহী (ভায়া বনপাড়া নাটোর) ও শাহজাদপুর- সিরাজগঞ্জ রূটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের দুরপাল্লা ও লোকাল রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা মটর মালিক সমিতি ও জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। ফলে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এতে, একদিকে পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা আর্থিক দিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অন্যদিকে, শাহজাদপুর থেকে ঢাকা, উত্তরাঞ্চলসহ সিরাজগঞ্জগামী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সীমাহীন দুর্ভোগ- দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, “সিরাজগঞ্জ জেলা মটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের সমিতির অাওতাভূক্ত ৪টি যাত্রীবাহী বাসের স্টার্টিং পয়েন্ট একযোগে শাহজাদপুর করার দাবীতে গত ২৭ জুন শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেনন (সি/জে/বা/মি/কো/মা/স স্মারক নং-১৫৮-(ফা-১)। ২৯ জুন জেলা মটর মালিক সমিতি প্রেরিত পত্রের জবাবে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত শাহজাদপুরকে স্টার্টিং পয়েন্ট হিসেবে ট্রীপ না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মটর মালিক সমিতিকে ফিরতি পত্র প্রেরণ করেন। এক পর্যায়ে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদের দেয়া সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মটর মালিক সমিতি প্রতাপ আর প্রভাব খাটিয়ে আলোচনা ও অনুমোদন ছাড়াই গায়ের জোরে গত শনিবার জেরিন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস শাহজাদপুরে প্রেরণ করলে আলোচনা সাপেক্ষে বাসটি চালনার অনুরোধ জানিয়ে শাহজাদপুর থেকে রোববার বাসটি সিরাজগঞ্জ ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসিব খান তরুণকে মোবাইল ফোনে যাত্রীবাহী বাস চালনা করতে নিষেধ করলে ওইসব রূটে বাস চলাচল প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরদিন সোমবার সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মালিক সমিতি ও জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ শাহজাদপুর থেকে ঢাকার অভিমূখে ছেড়ে যাওয়া যাওয়া ‘শাহজাদপুর ট্রাভেলস’- নামের দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে বাসের স্টাফদের লাঞ্ছিতপূর্বক টাকা পয়সা কেড়ে নেয় ও শাহজাদপুর থেকে রাজশাহী গামী (ভায়া বনপাড়া নাটোর) ফাতেমা নামের অপর আরেকটি যাত্রীবাহী বাস শাহজাদপুরে ফেরত পাঠায়। এরপর থেকে উপরোক্ত সব রূটে চলাচলকারী স্বল্প ও দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ অভিযোগে আরও জানান,”বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হবার পর থেকেই সময়ে অসময়ে, কারণে অকারণে জেলা মটর মালিক সমিতি কর্তৃক নানাভাবে তাদের হয়রানী ও শোষণ করারা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী জানান,” রমজনের আগে রাজশাহী রুটে চেইন ছাড়াই ২ টি বাস ছাড়ে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি। তখন আমরা মেনে নিয়েছিলাম। ঈদের পর একই রুটে তারা আরও গাড়ি দেয়। এ নিয়ে দুই সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে দু’দিন আগে জেরিন নামের একটি বাস আটকে রাখে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাহজাদপুর রুটে আমরা কোন গাড়ি দিচ্ছি না, তাদের গাড়িও আসতে দেয়া হচ্ছে না।”
অপরদিকে, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের এ অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন,” ঈদের আগে ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি, তানভীর ঈমাম এমপি ও হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি’র উপস্থিতিতে দুই সমিতির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে রাজশাহী রুটে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতির এমএস পরিবহন ও উল্লাপাড়া মটর মালিক সমিতির উল্লাপাড়া ট্রাভেলস চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও বাস দু’টি চালনায় তারা নানাভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করায় সেটিও নিয়মিত চালনা সম্ভব হচ্ছে না।”
উদ্ভূত অচলাবস্থা নিরসনে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি ও শাহজাদপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জরুরীভাবে বিষয়টি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই অবহিত করা হয়েছে। সেইসাথে শাহজাদপুর মটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ ভূক্তভোগী যাত্রীসাধারণ সকল রূটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।”